বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিঙ্গেল

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sehjad Ahmed (০ পয়েন্ট)



X বাংলাদেশরই কোন এক গ্রাম। ভোরের সূর্য সবেমাএ পূর্বাকাশে উদয় হয়েছে। গ্রামের আকাবাকা পাকা সড়কের ধার ঘেষে হেটে চলেছে একটি ছেলে নাম তার বাবলু। বয়স কত আর হবে এই, ১৯। দূরন্ত এই ছেলে প্রকৃতিকে সে খুব ভালোবাসে। গ্রাম ছায়া এই রাঙা মাটির পথ, আমার মন ভোলায় রে। কবিদের এমন ভাবার্থকের সব কিছুই যেন সে খুজে পায় এই গ্রামে। প্রতিদিনকার মতো আজকের সব কিছু যেন কেমন একটা অদ্ভুদ। মনে মনে একথা ভাবছে বাবলু। প্রতিদিন সকাল হতে না হতেই কত ছেলে-মেয়েরা ছুটে চলত স্কুলের দিকে। আজকেও যাচ্ছে তবে অন্যদিনের তুলনায় পার্থক্য অনেক। অন্যান্য দিন মেয়েরা মেয়েদের সাথে হেটে যেত ছেলেরা ছেলেদের সাথে। অথচ আজ প্রত্যেক মেয়ের সাথে একজন করে ছেলে হেটে যাচ্ছে। দেখেই মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবথেকে খুশি তাদের মধ্যে রয়েছে। অনেকক্ষণ রাস্তায় দাড়িয়ে এসব দৃশ্যে অবলোক করল বাবলু অবাক দৃষ্টিতে। এই পর্যন্ত সে একটা মেয়ে বা ছেলেকেও একা যেতে দেখেনি শুধু সেই যা একা একা রাস্তায় দাড়িয়ে আছে। নিজেকে যেন বন্য জগৎতের প্রাণী মনে হচ্ছে বাবলুর। কিছু না বুঝেই সে বাড়ি চলে এলো। এসেই তার প্রিয় ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলল শুভ সকাল ভাইয়া। তার ভাই তখন ফোন টিপাটিপিতে ব্যাস্ত। ফোনের উপর থেকে চোখ না সড়িয়েই তার ভাইয়া বলল শুভ সকাল।যাও এখন আমি বিজি আছি একটু পরে কথা হবে। বাবলুর মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। কারণ যে ভাই তাকে এতো ভালোবাসে সে ও পরে আসতে বলছে বিজি নাকি এখন। বাবলুকে সবাই ভালোবাসে তাই সে গেল তার বোনের কাছে। সেখানেও সেইম কাহিনী। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে ফিরে এলো বাবলু। সে ভাবছে সবার কী হলো? কিছুই বুঝতে পারছে না বাবলু। তাই সে তার ফোন হাতে নিয়ে এক বন্ধুকে কল দিলো। কল দেওয়ার সাথে সাথেই কেটে দিল। এভাবে পরপর কয়েক বার কয়েক জনকে ফোন দিলো বাবলু। কেউই কল ধরলো না৷কিছুই বুঝতে পারছে না বাবলু। এর আগে তো এমন হয়নি। ফোনের wifi অন করে massengere ডুকলো বাবলু। ডুকতেই তো সে অবাক। আজ দেখে তার ফ্রেন্ড লিস্টের প্রতিটা ব্যাক্তি এ্যাক্টিব। কিন্তুু আশ্চার্য কেউই তাকে ম্যাসেজ দিচ্ছেনা। তার রিয়েল লাইফের বন্ধুরাও এ্যাকটিব।তারাও ম্যাসেজ দিচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে এক বন্ধুকে ম্যাসেজ দিল বাবলু। কিন্তুু অনেকক্ষণ কেটে গেলেও ম্যাসেজ সিন করছে না তার বন্ধু অথচ অন্য সময় কখনও ম্যাসেজ দিলে সাথে সাথেই সিন করত। বাবলু আর কিছু না ভেবে ম্যাসেন্জারে কল দিলো তার বন্ধুকে। রিং হওয়ার সাথে সাথেই কেটে দিলো। কিন্তুু বাবলুও এবার ছাড়ছে না সে ভাবছে কী হলো আজ সবার? কেমন অদ্ভুদ ব্যবহার করছে সবাই। বিষয়টা বুঝতে না পারলে পাগল হয়ে যাবে বাবলু। তাই সে তার বন্ধুকে বারবার ফোন দিতে লাগলো। অবশেষে তার বন্ধু ফোন রিসিভ করল। ঐপাশ থেকে দ্রুততার সাথে আওয়াজ আসল- ধুরর বারবার কল দিচ্ছিস কেন ভাই? বিজি আছি পরে কথা বলি। বাবলু সাথে সাথেই বলল দাড়া একটা কথা বল তো? ঐপাশ থেকে তার বন্ধু বলল কী রে কী ব্যাপার? সবাই আজ এমন অদ্ভুদ ব্যবহার করছে কেন? ঐপাশ থেকে তার বন্ধু বলল কেন তুই জানিস না কিছু? কাল রাতে সরকার দেশে আইন করেছে প্রেম করা বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ কথা বলতে পারা gf/bf দের সরকার প্রতিদিন পুরস্কৃত করবে। দেখ ভাই কোন মেয়ে তো সিঙ্গেল নাই-ই এখন কোন ছেলেও নাই। আর তুই এখনো জানিসই না। দেখ তবু খুজে পাস নাকি একটা। আমাকে আর ভাই ফোন দিস না এখন gf এর সাথে কথা বলছি। তোর সাথে পরে কথা হবে বাই। এই বলে তার বন্ধু ফোন কেটে দিলো। ফোন কেটে যাবার পর বাবলু ভাবছে এটা কেমন আইন? সবার একটা করে gf/bf থাকাই লাগবে। বাবলু একা একা কী করবে এই ভেবে সে ফেইসবুকে ডুকলো। ফেইসবুকে ডুকতেই দেখলো নতুন কোন পোস্ট নেই। নিউজ ফিডে আগের পোস্টগুলোই ঘুরাঘুরি করছে। বাবলু নিজের টাইম লাইনে চলমান বিষয় নিয়ে একটা পোস্ট করে চলে এলো। ২ ঘণ্টা পর বাবলু আবারও ফেইসবুকে ডুকলো। কিন্তুু গিয়ে যা দেখলো এতে সে খুব একটা অবাক হলো না। বাবলু দেখলো ২ ঘণ্টা আগে করা পোস্টে কোন রিয়েক্ট নেই কমেন্ট নেই। বাবলু অবাক হলো না এই ভেবে সবাই তার gf/bf এর সাথে কথা বলায় ব্যাস্ত রিয়েক্ট কমেন্ট করবে কে? কেউই তো আর এখন টাইম লাইনে আসে না। বাবলু ভাবলো যাই কোন গ্রুপে একটা পোস্ট করে আসি। যেই ভাবা সেই কাজ। বাবলু একটা ফেইসবুক গ্রুপে যেয়ে এই বিষয় নিয়ে পোস্ট করল। যথারীতি পোস্ট পেইন্ডিং। পোস্ট করার পর ১ দিন ২ দিন করে ৭ দিন কেটে গেল। তার পোস্ট সেই পেইন্ডিং ই আছে এপ্রোপ করার কেউ নেই। কারণ এ্যাডমিন, মডারেটর সবাই প্রেম করা নিয়ে ব্যাস্ত। রাগে দুঃখে অভিমানে বাবলু ফেইসবুক আইডি ডিলিট করে চলে এলো। বাবলু তার মাকে খাবার দিতে বলল। তার মা গর্জে উঠে বলল সারা দিন তো খালি খাই খাই। সরকার নাকি প্রেম করা বাধ্যতামূলক করেছে। আবার দিনশেষে পুরস্কারও দেয়। যাও আজই একটা gf বানিয়ে পরে ঘরে ফিরবে। মায়ের মুখে একথা শুনে বাবলু অবাক হয়ে গেল। এইতো সেদিন পর্যন্ত প্রেম তো দূরের কথা কোন মেয়ের দিকে তাকাতেও না করত সবাই আর আজ তার মা ই তাকে প্রেম করতে বলছে? বুকের ভিতর সব কষ্ট যেন জমে বরফ হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় বের হলো বাবলু। কিন্তুু gf যোগার করবে তো দূরে থাক রাস্তায় কোন মেয়ে পড়ে খাবার জন্যেও নেই। টেনশনে এই শীতের মধ্যেও গরম লাগছে বাবলুর। একটা আইসক্রিম খাবার উদ্ধেশ্যে দোকানে গেল সে। গিয়ে বলল মামা আইসক্রিম দেন তো একটা। দোকানদার মামা মুচকি হেসে বলল আজকে আর কোন আইসক্রিম নাই মামা সব ছেলে-মেয়েগুলো এসে খেয়ে নিয়েছে। আর বইলেন না মামা মেয়েগুলো এসে ছেলেদের কাছে এটা যাচ্ছে ঐটা চাচ্ছে। তো আপনার কোন gf নেই মামা? দোকানদারের কথা শুনে টাসকি খেয়ে গেল বাবলু। কোন প্রকার মান-সম্মান নিয়ে বের হয়ে এলো সে। হাটতে হাটতে পা ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে বাবলুর। রিকশা নিবে তারও উপায় নেই। প্রতিটি রিকশা একটা ছেলে আর একটা মেয়ে দিয়ে ভর্তি। সিগন্যাল দিলেও থামছে না। এদিকে হাটতে হাটতে পায়ে ব্যাথা তীব্রতর হচ্ছে বাবলুর। বাবলু ভাবছে এটা কোথায় আছে সে? একদিনে পৃথিবী এতটা বদলে গেল কী করে? বাবলু মনে মনে ভাবছে নাহ এবার হিমুই হয়ে যেতে হবে। হিমুর কোন রিকশার দরকার নেই সে অবিরাম হেটেই চলে রোদ, ঝড় বৃষ্টিতে। হিমুরা এসব প্রেম-ভালোবাসায় গা ভাসিয়ে দেয়না। পরক্ষণেই যা মনে হলো বাবলুর তাতে বুক ফেটে কান্না আসলো তার। কারণ সে তো হিমুও হতে পারবে না কারণ হিমুদের তো একটা রুপা থাকে আর তার? আর কতো ঘুমাবে? সারাক্ষণ শুধু পরে পরে ঘুমানো আর খাওয়া। আর কয়েকটা দিন পরেই যে পরীক্ষা সেই খেয়াল আছে? মায়ের এমন চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল বাবলুর। চোখ খুলতেই লাফ দিয়ে উঠে পরল বাবলু। বাবলু ভাবছে তাহলে এটা কী স্বপ্ন ছিলো????? উফ যাক বাবা বাচা গেল। এমন পৃথিবীতে কোন মানুষ বাচতে পারে? বাবলু বলল পৃথিবীতে সত্যিই সিঙ্গেল মানুষদের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি নাহয় পৃথিবীটাই কেমন হয়ে যেত! ভাবা যায়? অনেকদিন পর গল্পে দেখা হলোgj কেমন লাগলো? পরীক্ষা বাদ দিয়েgj এমন অসাধারণ চিন্তার জন্যে নোবেল একটা দেওয়াই উচিৎgj Sehjad Ahmed *হ্যাপি রিডিং*


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিঙ্গেল টু মিঙ্গেল
→ "সিঙ্গেল থাকুন সুস্থ থাকুন"
→ সিঙ্গেল মেয়ে-১
→ সিঙ্গেল_প্যারেন্ট
→ যে কারণে আমি সিঙ্গেল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...