বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

" অজান্তে "

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RAHAT (১৪২ পয়েন্ট)



X রাতের অন্ধকারে তরুণী মেয়েরা কিডন্যাপ হচ্ছে একেরপর কিন্তু কে কিডন্যাপ করছে আর কিভাবেই বা করছে তা সবারই অজানা! রংপুরের একটি ছোট গ্রাম! হঠাৎ করেই প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টিতে গ্রামটি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন হয়ে পড়ে! গ্রামটি একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়াতে বিদুৎ অফিসের লোকেরা জানায় তারা আগামীকাল সকালে বিদুৎ ঠিক করতে আসবে,আজ প্রচুর বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ এবং রাত হয়ে গেছে! গ্রামবাসী ভাবে একটি রাতেরই তো ব্যাপার তারা হারিকেন কিংবা কুপি দিয়ে মানিয়ে নিবে! ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে সাথে পুরো গ্রাম অন্ধকার! সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমে এলো! এই অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত যে গ্রামবাসীর জীবনে এক বিশাল অন্ধকার নামিয়ে আনবে সেটা গ্রামবাসী বুঝতেই পারে নি! বাহিরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ,হঠাৎ আজিম মিয়া পাশের রুমে থাকা তার মেয়েকে বার বার ডাকলেও সাড়া না পেয়ে পাশের রুমে গিয়ে দেখে তার মেয়ে রুনা(২৩) নেই! রুম খালি! অথচ কিছুক্ষণ আগেই আজিম মিয়া এবং রুনা একসাথে বসে ভাত খেয়েছে! তারপর রুনা তার নিজের রুমে চলে গেল কিন্তু রুনা নেই! এদিকে রুনার রুমের জানালা ভাঙা! আজিম মিয়ার একটাই মেয়ে! রুনার মা মারা গেছে অনেক আগেই! মেয়ের চিন্তায় আজিম মিয়া চিন্তিত হয়ে পড়ে! ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মাঝেই হারিকেন নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন আজিম মিয়া মেয়েকে খুজতে! ---রুনা...রুনা...রুনা মা কই তুই? (কোন জবাব নেই) .. জব্বার মিয়া; আরে আজিম ভাই এই রাইতের বেলা হারিকেন নিয়া বাইরে কি কর? আজিম মিয়া; রুনারে পাইতাসি না! জব্বার মিয়া; কি কও? আমার মাইয়া নিশি(২২) তোমগো বাইত্তে যায় নাই? আজিম; না তো! জব্বার; নিশিরে ঘরে না পাইয়া আমি ভাবসি নিশি রুনার কাছে গেছে! আজিম; জব্বার আমার মাইয়া এই অন্ধকারে একলা একলা কই যাইবো? জব্বার; রুনা আর নিশি দুজন বান্ধবী! ওরা বাহিরে কোথাও হয়তো বইসা কথা বলতাসে! আজিম; এই অন্ধকারে? সারা গ্রাম অন্ধকার! (আব্বাস নামের একজনের প্রবেশ) আব্বাস; আরে আজিম ভাই জব্বার ভাই তোমরা আমার মাইয়া রিমি(১৭) রে দেখেছ? আজিম; না তো! কি হইসে রিমির? আব্বাস; হঠাৎ করে ঘরে পাইতেসি না! জব্বার; রিমি কিন্তু রুনা আর নিশির বান্ধবী না! আজিম ভাই আমাদের মাইয়ারা বিপদে পড়ছে! গ্রামবাসীরে ডাকতে হইবো! আজিম এবং জব্বার পুরো গ্রামবাসীকে ডাকে এবং রুনা,নিশি আর রিমির নিখোঁজ হওয়ার কথা জানায়! গ্রামবাসী হাতে চাকু,ছুরি,লাঠি আর টর্চ আর হারিকেন নিয়ে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে! "রুনা...রুনা...নিশি...রিমি" বলে ডেকে খুজতে থাকে কিন্তু কাউকেই খুজে পাওয়া যায় না! অনেকক্ষণ পুরো গ্রামের আনাচকানাচে খোজাখুজির পর গ্রামবাসী যখন যে যার বাড়ি ফিরে আসে! তখন শুরু হয় আসল খেলা! ... প্রতিটি বাড়িতে চিতকার চেচামেচি শুরু হয়! কান্নার রোল পড়ে যায়! প্রতিটি বাড়িতে যত তরুণী মেয়ে ছিল সবাই নিখোঁজ! বাড়িতে মেয়েদের মায়েরা ছিল কিন্তু তারা কিচ্ছু দেখে নি কিভাবে মেয়ে গুলো উধাও হলো! এর সবচাইতে বড় কারন অন্ধকার! ... গ্রামবাসী কাদতে কাদতে গ্রামের হাইস্কুলের হেডমাস্টারের কাছে যায় এবং সব ঘটনা খুলে বলে... ... হেডমাস্টার; প্রথম কথা হচ্ছে যে বা যারাই মেয়েদের কিডন্যাপ করছে তারা এখনো গ্রামের ভিতরেই আছে কারন বৃষ্টিতে গ্রামের রাস্তার বেহাল দশাত এতগুলো মেয়ে নিয়ে পালানো সম্ভব না! গ্রামবাসী; কেউ কেন আমাদের সাথে এমন করছে? হেডমাস্টার; তোমরাই সুযোগ দিয়েছ! তোমরা সব পুরুষরা বেরিয়ে গেছ ৩ জন মেয়েকে খুজতে আর ও এদিকে ১৩ জন মেয়েকে কিডন্যাপ করে নিয়েছে! (গ্রামবাসী কাদছে) হেডমাস্টার; যারা কিডন্যাপ হয়েছে তারা সবাই ১৫-২৫ বছর বয়সী তরুণী মেয়ে! তাই গ্রামে এই বয়সের অন্য যেই মেয়েরা আছে তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখো! বাকি ভোরের আলো ফুটুক প্রশাসন দেখবে! (গ্রামবাসী চলে যায় এবং বাকি মেয়েদের খুব কঠোর নজরদারিতে রাখে এবং গ্রামবাসী প্রচন্ড ভয়ের মধ্যে সময় অতিবাহিত করতে থাকে) রাত তখন ২টা... ঝিরিঝিরি বৃষ্টিটাও কিছুটা কমেছে শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে গ্রামে! গ্রামবাসীর কপালে চিন্তার ভাজ আর নির্ঘুম গ্রামবাসী! হঠাৎ গ্রামের পাহাড়াদার চিতকার করে পুরো গ্রামবাসীকে একত্রিত করে,পাহাড়াদার হাপাচ্ছে! . গ্রামবাসী; কি হইসে? পাহাড়াদার; (হাপাতে হাপাতে) স্কুল মাঠে আমি ওকে দেখেছি! গ্রামবাসী; কাকে? পাহাড়াদার; যে মেয়েদের কিডন্যাপ করছে! আমি ওই রাস্তা ধরেই আসছিলাম হঠাৎ দেখি স্কুল মাঠে কিসের যেন আওয়াজ! আমি লাইট মারতেই দেখি রক্ত আর রক্ত! আমি পালিয়ে আসি! .. পুরো গ্রামবাসী পাগলের মতো স্কুলের দিকে ছুটে চলে! স্কুল মাঠে গিয়ে গ্রামবাসী কান্নায় ফেটে পড়ে! "স্কুল মাঠে রুনা,নিশি,রিমি সহ বাকি ১৩ জন মেয়ের লাশ সারিবদ্ধ ভাবে ফেলে রাখা হয়েছে! লাশ দেখেই বুঝা যাচ্ছে প্রচুর শারিরীক নির্যাতন এবং ধর্ষণ এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে ১৬ জনকেই" হঠাৎ একজন লক্ষ্য করে লাশগুলোর পাশেই একটি ব্ল্যাকবোর্ড রাখা এবং ব্ল্যাকবোর্ডে কিছু একটা লিখা! একটি ছেলেকে ডেকে গ্রামবাসী বলে কি লিখা আছে পড়তে! লিখা ছিল "তোমাদের পাপের শাস্তি" .. গ্রামে কান্নার রোল পড়ে যায়! বাকি রাতেও আরও ৪ জন মেয়েকে কিডন্যাপ করা হয়! তাদেরকেও এভাবেই ধর্ষণ এবং খুন করা হয়! গ্রামের ২০ জন তরুণী মেয়ে ছিল সবাই এই কিলারের হাতে খুন হয়! গ্রামবাসী কান্না করছে! ভোরের আলো ফুটতে শুরু করে কিন্তু গ্রামে অন্ধকারই ছিল! সকালে গ্রামে পুলিশ আসে এবং ২০টা মেয়ের লাশ নিয়ে যায়! গ্রামে শোকের ছায়া! . সকাল ৭টা... ঢাকা মিরপুরের একটি বাড়ি! নাফিজ ৩ দিন পর বাড়ি ফিরলো! ৩ দিনের জন্য ট্যুরে গিয়েছিল সে! বাড়িতে ফিরে ফ্রেশ হয়েই টিভির সামনে বসে নিউজ চ্যানেল দিল! নিউজে বলছে "রংপুরের সুজাতপুর নামের একটি গ্রামে এক রাতে ২০টি তরুণী মেয়ে ধর্ষণ এবং খুন হয়েছে! খুনিকে কেউ দেখে নি!" . নাফিজ; বাবা ফারিয়াকে দেখছি না..কলেজে গেছে নাকি? (ফারিয়া নাফিজের ছোট বোন) নাফিজের বাবা; ফারিয়া তো ওর বান্ধবীদের সাথে রংপুর গিয়েছে ওদের এক বান্ধবীর বিয়ের দাওয়াতে! নাফিজ; তুমি ওরে একা যেতে দিলে? নাফিজের বাবা; একা না! এখানের এক বান্ধবীর সাথে গেছে! নাফিজ; আচ্ছা রংপুর কোথায়? নাফিজের বাবা; সুজাতপুর! (নাফিজের মাথাটা চক্কর মারে সুজাতপুর শুনেই) নাফিজ বাসা থেকে বেরিয়ে নিজের বাইক নিয়ে সুজাতপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়! ... সুজাতপুর পৌছে ডাইরেক্ট চলে যায় সুজাতপুর মর্গে! মর্গে নাফিজ ২০টা মেয়ের চেহারা দেখতে চায়! সে বলে তার বোন গতকাল এই গ্রামে ছিল! মর্গ থেকে নাফিজকে লাশ গুলোর চেহারা দেখানোর অনুমতি দেয়! .. নাফিজ একটার পর একটা লাশ দেখে..৭ নাম্বার লাশটা দেখে নাফিজ মাটিতে বসে পড়ে,চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে যায়! নাফিজ পাকাতে বসে পাগলের মতো চিতকার করে কাদতে থাকে কারন ৭ নাম্বার লাশটা ছিল ফারিয়ার! ... নাফিজ পাগলের মতো হাত ছুড়াছুড়ি শুরু করে!আর চিতকার করে কাদতে থাকে আর বলতে থাকে "আমি আমার নিজের আপন ছোট বোনকে ধর্ষণ করে খুন করেছি,,আমি অমানুষ" নাফিজের এসব কথা শুনে মর্গ থেকে পুলিশকে কল করা হয়! পুলিশ নাফিজকে এরেস্ট করে নিয়ে যায়! . তারপর ইনেসপেক্টর পলাশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে.... .. পলাশ; তুই নিজের বোনকে ধর্ষণ এবং খুন করেছিস! নাফিজ; (পাগলের মতো চিতকার করে কাদছে আর নিজের চুল টানছে) আমি অন্ধকারে দেখি নি! আমি খালি মেয়েদের অজ্ঞান করে কিডন্যাপ করেছি তারপর ধর্ষণ করেছি আর তারপর খুন করেছি! আমি অমানুষ! আমি কুত্তার বাচ্চা! (কাদছে) পলাশ; বাকি যাদের ধর্ষণ আর খুন করেছিস! তারাও কারো না কারো বোন! নাফিজ; (কাদছে) পলাশ; কেন করলি এসব? নাফিজ; একসময় এই গ্রামে আমার মা আর তার ফ্যামিলি থাকতো! এই গ্রামবাসী আমার মা আর ফ্যামিলিকে অপমান করে এই গ্রামছাড়া করেছে! কারন ছিল আমার নানির মুখের ফু তেই অসুস্থরা সুস্থ হয়ে উঠতো! এতে গ্রামের ডক্টররা রোজগার করতে পারছিল না! কেউ ডক্টরের কাছে যেত না! সবাই আমার নানির কাছে আসতো! আমার মাকে কাদিয়েছে! আমার মা তার ডায়রিতে এই ঘটনা লিখে গেছে! তার মৃত্যুর পর আমি সেটা পড়ি এবং সেই প্রতিশোধ নেই! (কেদে) পলাশ; তুই তোর নিজের বোনের ধর্ষক! দুনিয়ার প্রতিটা ধর্ষণ হওয়া মেয়ের ভাই ধর্ষক এর ফাসি চাইবে! আশাকরি তুই ও তাই চাইবি! (পলাশ চলে যায়) .. আদালত নাফিজের ফাসির রায় দেয়! সারাদেশের মানুষ নাফিজকে ধিক্কার জানায়! .. ফাসির ঠিক ১ মিনিট আগে পলাশ নাফিজের কানে কানে ফিস ফিস করে বলে "তোর নানির ফু তে অসুস্থরা ভালো হয়ে যেত না! তোর নানা-নানি এবং মা তারা পুরো ফ্যামিলিই ছিল ব্ল্যাকম্যাজিক এর উপাসক! এইজন্যই গ্রামবাসী তাদের গ্রামছাড়া করেছে" "নাফিজ কাদতে কাদতে ফাসিতে ঝুলে যায়" .... সমাপ্ত! . গল্প ; "অজান্তে" .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অজান্তেই প্রেমে পড়া ৩ (শেষ)
→ অজান্তেই প্রেম পড়া ২
→ অজান্তেই প্রেমে পড়া ১
→ অজান্তে ভালোবাসা
→ অজান্তে -বনফুল
→ মনের অজান্তেই ভালোবাসা
→ অজান্তেই ভাল লাগা
→ অজান্তেই ভালোবাসি তোমায়
→ মনের অজান্তেই ভালোবাসা
→ পথের অজান্তে
→ অজান্তে
→ আবিষ্কারকের অজান্তেই আবিষ্কার!
→ হোক না কিছু ভালোবাসা দুটি মনের অজান্তে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...