বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

~~~~হুজুরনামা~~~~~~~~~~~

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান siam ahmed (০ পয়েন্ট)



X ~~~~হুজুরনামা~~~~~~~~~~~ জনাব হাসিব আহমেদ একজন মোটামোটি আয়ের ব্যবসায়ী। যা ইনকাম করে তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ খেয়ে-দেয়ে কিছু আরো জমা থাকে। এককথায় মধ্যবিত্তের তকমা যাকে বলে। নিজের একটা সেমিপাকা ঘরে মা, বাবা, একমাত্র ভাই সোহান আর নিজের সুখ দুঃখের সাথী স্ত্রী আর ফুটফুটে একটা মেয়েকে নিয়ে তার যত চিন্তা ভাবনা। দিনকাল ভালোই যাচ্ছে। এর মধ্যে তাদের পাশের বাড়ির রমিজ আলি , যে কিনা একজন দিনমজুর , দিন আনে দিন খাই । বেচারার ৩ টা সন্তানের মধ্যে ১টা ছেলে প্রতিবন্ধি আরেকটা আরেকটা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে আর আরেকটা ছেলে বিয়ে করে বৌ রে নিয়ে ঘরজামাই থাকে । তবুও আল্লাহর রহমতে দুটো ডাল ভাত খেয়ে চলছিল রমিজ আলীর জীবন। হঠাৎ করেই কী এক হল! এক সড়ক দূর্ঘটনায় তার একটি ''পা'' কে হারাতে হল। বেচারা যার কিনা নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার এখন এই অবস্থা! কোনোরকম সরকারী হাসপাতালের পাতলামুখী চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে এককথায় বোঝা হয়ে আছে। অভাবের সংসারের হাল এবার তুলে নিল তার স্ত্রী। বেচারী ৫০+ বয়সের হয়েও প্রতিবেশির বাড়িতে কাজ করে দুবেলা দুই কর্মহীন বোঝা কে লালনপালন করছে। প্রতিবেশিরা তাদের বরাবরই গরীব বলে অবহেলার চোখে দেখত । তার উপর এখন আবার এই যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এককথায় সবচেয়ে অবহেলিত যাকে বলে আরকি। প্রতিবেশিরা তাদের তুলানামূলক হারে সাহায্য করে নাই বললেই চলে। এমন না যে প্রতিবেশিরা গরীব। আসলে আমাদের সমাজব্যবস্থাই এমন। তো একদিন ওই যে বলছিলাম হাসিব সাহেব ওনার ভাই সোহান আমেরিকা গিয়ে প্রচুর টাকা পয়সার মালিক হয়ে গ্রামে খুব ভালো অবস্থানে আছে। সোহান এখন দেশে এসে দু হাতে টাকা উড়াচ্ছে। হাসিব সাহেব একদিন ঠিক করল গ্রামের ইমাম সাহেব ও হুজুর দের দাওয়াত করে খাওয়াবেন। তো যেই ভাবা সেই কাজ । শুক্রবার দিনে নামাজ শেষে সবাই হাসিব সাহেবের বাড়ি আসল। আর ওনার বাড়িতে আজ কাজের চাপ বেশি বলে রমিজ আলির বউ কে একটু আসতে বলেছে। আর ওইদিকে রমিজ আলিও কিছুটা অসুস্থ। ৩-৪ দিন ধরে জর। বেচারা রমিজ আলি সকালে বউকে বলছিল, '৮ মাস হল গরুর মাংস খাই না।'' জবাবে তার বউ বলে," আজ পাশের বাড়িতে কাজ আছে। ভালোই রান্না বান্না করা হবে দুপুরে যদি আসার সময় কিছুটা তরকারি দেই তাহলে নিয়ে আসব।" রমিজ আলীও ধারণা করছে কাজ যেহেতু করে দিবে আর ভালো খাবার -দাবার রান্না হচ্ছে তাই গরীব দের তো দেয়াই উচিত। যথাসময়ে দুপুরে সকল ইমাম সাহেব ও হুজুর রা পেট পুরে খেয়ে দেয়ে আরো পকেট পুরে কিছু হাদিয়া ও নিয়ে নিল। আর ওই গ্রামের ইমাম ও হুজুরদের সপ্তাহে ২-৩ দিন এইরকম ভোজনবিলাশ অহরহ ব্যাপার । আর ওইদিকে হাসিব সাহেব ও তার ভাই সোহান সাহেব হুজুরদের আপ্যায়ন করে মনে করছে অনেক বড় সাওয়াব কামাই করে ফেলেছেন। কারণ তাদের কানে কানে ওই সব হুজুররা ফতোয়া দেয় যে হুজুরদের খাওয়ালে আল্লাহ ও রাসুল খুশি হয় ও সাওয়াব কামাই করা যায়। আর ওই দিকে রমিজ মিয়ার বউকে দুপুরে কাজ শেষ করে ফিরার সময় হাসিব সাহেবের বাড়ির আগের দিনের কিছু বাসি ডাল আর কিছু বাসি সবজি আর হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দেয়। বেচারা রমিজ আলির এইসব দেখে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। আর বিড়বিড় করে বলতে লাগল," হুজুররা তো সপ্তাহে ২-৩ দিন ভালো খাবার-দাবার খাই আর তাদের খাওয়ালে সাওয়াব হয় আর ওইদিকে নিজের প্রতিবেশি যে ৬ মাস ধরে মাংসের মুখ দেখে না তাদের খাওয়ালে সাওয়াব হয় না । হায়রে দুনিয়া"! বিঃদ্রঃ এইখানে হুজুরদের অপমান করতে বলা হয়নি।সব হুজুর একরকম না । সবাইকে আমরা এক পাল্লায় ওজন করব না । নামধারী কিছু ব্যক্তি দের মূর্খতাকে উল্লেখ্য করা হয়েছে। আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপট তা সত্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...