বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরকীয়া-৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান siam ahmed (৪২ পয়েন্ট)



X কথা বলবে কী সুজাতা, পালাতে পারলে বাঁচে। দৌড়ে গিয়ে বললে পিসিদের, তােমরা একটা বিহিত করাে এবার, নইলে কিন্তু বৌদি একেবারে হাতের বাইরে যে চলে যাচ্ছে, এটা ওঁরাও বুঝতে পারছিলেন। কারণ ব্যাপারটা ক্রমশ প্রায় নিয়মিতই হতে চলেছে। প্রথম দিকে ছিল পাঁচ-সাত মিনিট, বাড়তে বাড়তে সেটা এখন কুড়ি-বাইশ মিনিটে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সরল সাদাসিধে দেখতে হলে কী হয়, তালে ঠিক আছে শনি-রবি রাহুলের ছুটি, সে দুটো দিন কিন্তু ওই বে-আক্কেলে লম্পটের ফোন আসে না। বৌমাই বারণ করে দিয়েছে হয়তাে, নয়তাে সে দুশ্চরিত্র বজ্জাতটারও হয়তাে দুটো দিন ছুটি, বউয়ের কাছে পত্নীনিষ্ঠ সেজে বসে থাকে। রােজই ক্লোজড ভাের কনফারেন্স চলে বকা-ঝকা পিসির। স্টেপ তাে একটা নেওয়াই উচিত কিন্তু সেটা ঠিক কী, সেটাই ঠিক করতে পারেন না। যে পর্যায়ে গেছে ব্যাপারটা, সুজাতাকে দিয়ে কিছু হবে না, বলতে ওঁদেরই হবে, এটা ঠিক। কিন্তু বলবেন কাকে! বৌমা যেরকম গভীর জলের মাছ, উলটোপালটা কথা বলে যাহােক একটা কিছু বুঝিয়ে দেবে হয়তাে। সেক্ষেত্রে রাহুলকে বলতে পারলেই সত্যিকারের কিছু কাজ হবে হয়তাে। সবচেয়ে ভালাে হত কথাটা দাদার কানে তুলতে পারলে। কিন্তু দাদা সংসার থেকেই যেমন আলাদা হয়ে পড়েছেন, তিনি এ নিয়ে হয়তাে মাথাই ঘামাবেন না, হেসে উড়িয়েই হয়তাে দেবেন কথাটা। অথচ উড়িয়ে দেবার মতাে যে আর নেই কথাটা সেটা তাে বিলক্ষণ টের পাচ্ছেন তাঁরা। বন্যাকেই কথাটা বলে ফেললেন একদিন দোনামনা করে। দুপুরে খাওয়ার টেবিলে, খাওয়া যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, দাদা উঠে গেছেন খেয়ে, বকুল পিসি বললেন, কত কথা থাকে সংসারের, সন্ধেবেলা তাে তােমাকে পাওয়াই যায় না। ‘আমাকে!’ অবাক হয়ে বললে বন্যা, ‘কেন, আমি তাে দিনরাত বাড়িতেই আছি। না, ওই যে কে যেন সন্ধেবেলায় ফোন করে না রােজ! ও হ্যা, সত্যি পিসিমা, কী অদ্ভুত যে লােক না আর কী মজার মজার কথা বলে! শুনলে আপনারা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়বেন। “কে লােকটা? কতদিনের আলাপ? ‘অনেক দিনের। বিয়ের আগেই তাে আলাপ হয়েছিল। ‘তা এতদিন কোনাে যােগাযােগ ছিল না, আজই হঠাৎ ঘন ঘন ফোন করতে আরম্ভ “আরে সেইটাই বললাম আমি ওকে সেদিন! অ্যাদ্দিন তাে মনেই ছিল না আমার কথা-এই কুড়ি-একুশ বছর পরে কি তােমার ভালােবাসা উথলে উঠল নাকি! ছি ছি, বৌমা “না পিসিমা, যা ভাবছেন তা নয়, বিয়ে-থাওয়ালা মানুষ, ছেলেপিলে আছে। আসলে ওর কথা শুনতে আমার ভীষণ ভালাে লাগত, তাই ফোনটা এলে আমার ভারী মজা লাগে। ‘আসতে বলো বাড়িতে, আমরা সবাই মিলেই না হয় ওর কথা শুনবাে।” ‘বলিনি নাকি! সেদিকে ভারী সেয়ানা, বলে, তােমাদের বাড়ি গেলে তুমি কি আর কথা বলার সুযােগ পাবে, বাকি সবাই তখন গল্পগুজব করবেন আমার সঙ্গে। তার মানে তােমার সঙ্গে গল্প করেই ও আনন্দ পায় ! ‘তা ছাড়া আর কী। নইলে মাঝে মাঝেই এতক্ষণ ধরে ফোন, খরচাও তাে আছে, বলুন পিসিমা।” কাটা ঘায়ে যেন নুনের ছিটে গিয়ে পড়ে। কী কথার ছিরি! বকুল পিসিমা বলেন, ‘তা এতই যখন বােঝ তখন একটু বারণ করতে পারো না বাপু ফোন করতে? ‘কষ্ট লাগে, সামান্য ফোন বই তাে নয়, বারণ করবাে! এইভাবে সব কিছু স্বীকার করে নিলে তার বিরুদ্ধে বেশিক্ষণ জেহাদ চালানাে যায়! রণে ভঙ্গ দিলেন পিসিরা, কিন্তু রাগ গেল না মন থেকে, বরং আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ল বন্যার এই পিত্তি-পােড়ানাে কথা শুনে। সুতরাং আর বেশি দেরি না করে রাতে খাওয়ার সময় রাহুলকে একটু একা পেয়ে বকা পিসি যথেষ্ট উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, ‘হ্যারে, কী কাণ্ড শুনেছিস?” “কিসের কাণ্ড? ‘আরে সেই লােকটার কথা বলছিরে, রােজ রােজ যে উত্যক্ত করে ‘আঁ! লােকটা এসেছে নাকি!’ হকচকিয়ে তাকাল রাহুল, ‘কই আগে কিছু বলোনি তাে? “না না আসবে কেন, ফোন করে তাে’ ‘ও, তাই বলাে!’ রাহুল খানিকটা ধাতস্থ হয়ে বলল, ‘করতে দাও তো ফোন! পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। আমি যদি ঠিক থাকি তাে কে কী বলল না বলল- “তাের কথা কে বলছে! আমি বলছি- ‘হ্যা, ওর স্ত্রীর কথা তাে? কী করবাে বল, দোষের মধ্যে ওর একটা ক্লেইম আমি কাগজপত্র ঘেঁটে উদ্ধার করে দিয়েছিলাম। অ্যাকাউন্টসে কাজ করি, এরকম টুকটাক উপকার তাে করতেই হয় লােকের। ওর বউ একেবারে ভেবে বসেছে আমি সাক্ষাৎ ভগবান। প্রত্যেকদিন অফিস ছুটির সময় এসে বসে থাকবে আর নানা ছুতােনাতায় সে কি! তাের রােজ রােজ দেরি কি ওই জন্যেই হয় নাকি?” বেশিরভাগ দিনই তাই হয়। হাজার হলেও মেয়েমানুষ বলে কথা, বেশি রূঢ় কথাবার্তাও তাে বলতে পারি না। বায়নাক্কা তাই দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানে? “আরে, আজ রেস্টুরেন্টে বসাে, কাল আমাকে একটু এগিয়ে দাও, পরে একদিন বলে কি সিনেমা যাবে একসঙ্গে। আচ্ছা এরকম করলে ওর বর রাগ করবে না? ‘তুই অ্যালাউ করিস এসব? মেয়েটাকে সােজা হটিয়ে দিতে পারিস না?' “কী করি বলাে, হাজার হলেও ভদ্রঘরের মেয়ে-- ‘ভদ্র না কচু! ওরা ডাইনি, শাকচুন্নি ওরা ভ্যামপায়ার! পুরুষ মানুষের রক্ত চুষে খেতেই ওদের আনন্দ। ছি ছি ছি খােকা, তুই শেষ পর্যন্ত এইরকম ডাইনির ফাদে পা দিলি!' ‘ওর বরটাও তাে আমাকে শাসায়! সেই জন্যেই ভাবলাম, সে বােধহয় বাড়ির ঠিকানা পেয়েছে বাড়িতে এসে হামলা করছে। এরপরও আর শােনা যায়! কত অধঃপতন মানুষের হতে পারে। জ্বলে-পুড়ে মরছিলেন। বৌমাটিকে নিয়ে, এ যে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে গেল—একসঙ্গে দু-দুটি ব্যভিচার ! একান্ত নিজের মানুষ দুজনেই, স্বপ্নেও কি ভাবতে পেরেছিলেন এত অধঃপতন হতে পারে দুজনের! কোনাে উপায় ছিল না দাদার কাছে না গিয়ে। দুপুরে যখন বিশ্রাম করছিলেন পরের দিন, চুপি চুপি হানা দিলেন দু’বােন তার কাছে, বললেন, তােমাকে বিরক্ত করার কোনাে ইচ্ছে ছিল না দাদা আমাদের। কিন্তু শুনলেই বুঝতে পারবে, এ ছাড়া আর কিছু করবারও নেই আমাদের। ‘কেন, এমন কী হল? ‘কী হল না তাই জিজ্ঞাসা কর। রাহুল আর বৌমা দুজনেই একেবারে গােল্লায় গেছে। ‘মানে তােমাকে খুলে বলতে পারবাে না, এটুকু শুধু জেনে রাখাে রাহুল একটা মেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে- রাহুল! অসম্ভব! আমি বিশ্বাস করি না। ‘বিশ্বাস কি আর আমরাই করেছি! বিশেষ করে সে মেয়ে আবার দু’ছেলের মা, তার স্বামী রােজ চোখ রাঙাচ্ছে খােকাকে- ‘কী বলছিস বকা ! আর বৌমা ? ‘লীলাখেলায় তিনিও পিছিয়ে নেই, প্রত্যেকদিন সন্ধেবেলা এক মিনসের সঙ্গে ঝাড়া আধঘণ্টা প্রেমপর্ব চলছে। ‘বৌমা। “হ্যা গাে, তােমার আদরের বৌমা। বিশ্বাস না করাে- ‘করি না বিশ্বাস। কালই আমি এর হেস্তনেস্ত করবাে। সন্ধেবেলা সে ব্যাটার ফোন এলেই তােরা আমায় খবর দিবি। এক রুদ্ধশ্বাস নাটকের জন্যে তৈরি সবাই বিকেল থেকে। বন্যাকে তিলমাত্র ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম ও কথাবার্তা হয়েছে সারাদিন। যা চতুর মেয়ে, একটু আভাস পেলেই বারণ করে দেবে সে বজ্জাতকে। অবশ্য রােজই যে ফোন আসে এমন তাে নয়, কপালদোষে আজই যদি সে ভুলে যায় তা হলে কিছু করবার নেই। তবে শনি-রবি ছুটি গেছে, আজ সােমবার। দু’দিনের বিরহের পর আজ চুপ করে থাকবে, এরকম মনে হয় না। চুপ করে থাকল না। ঠিক সময়েই ফোন এসেছে, বন্যা ছুটে গিয়ে ফোন ধরেছে, বলেছে, 'ওঃ, কখন থেকে ভাবছি গলাটা শুনবাে- শােনাচ্ছি তােমাকে গলা! বকুল পিসি ডেকে এনেছে দাদাকে, দাদা নিঃশব্দে বন্যার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য ফোন এলে বন্যা জগৎ-সংসার এমনই ভুলে যায় যে একটু-আধটু শব্দ তার কানে যাবার কথা নয়। কিন্তু স্বভাব-শান্ত শ্বশুরমশাই তীব্র নিখাদে ‘বৌমা' বলে সম্বােধন করার পরও তা কানে যাবে না, এতটা বাহ্যজ্ঞানশূন্য বন্যা হয়নি। চমকে ফিরে তাকিয়ে বলেছে, বাবা! ‘ফোনটা আমাকে দাও। ‘ফোনটা, মানে- ‘দাও, দেরি করাে না। হাত থেকে প্রায় ছিনিয়ে নিয়েই বলেছেন, ‘হ্যালাে, কে বলছেন? আর তারপরই প্রথম কয়েক মুহূর্ত হতভম্বের মতাে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিমূঢ় হয়ে। তারপরই রিসিভারটা ঠকাস করে নামিয়ে রেখে দমকা হাসিতে ফেটে পড়েছেন। হাসতে হাসতে মুখ-চোখ লাল হয়ে উঠছিল তার। কথা বলতে পারছিলেন না। দৌড়ে একগ্লাস জল নিয়ে এল বন্যা। বকা পিসি, ঝকা পিসি উদ্বিগ্ন হয়ে বলছিল, ‘দাদা, ওরকম করছাে কেন! শােন, একটু শান্ত হও কী হল কী তােমার! দাদা- হাত দিয়ে ইশারায় দেখাচ্ছিলেন কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছিল। বেশ খানিক পরে। জল খেয়ে কোনােরকমে বললেন, ‘ব্যাটা ভারী জব্দ করেছে আমাদের। ‘সেকি! তুমি তাকে কিছু বললে না— ‘কাকে বলবাে! সে হতভাগা যে আমারই ছেলে রে বকা। ‘কী বলছাে! ‘ঠিকই বলছি। দু'ছেলের বাপ বটে, কিন্তু পরপুরুষ নয়, বন্যারই পুরুষ। আর আমার যতদূর ধারণা রাহুলের সেই মেয়েও দু’ছেলের মা বটে, তবে পরস্ত্রী নয়, নিজেরই স্ত্রী, কী বলল বৌমা। মাথা নিচু করে বন্যা বললে, “হ্যা বাবা। কিন্তু কেন! এসব কী জন্যে? আমার তাে কিছুই মাথায় ঢুকছে না। ‘মাথায় ঢােকাবার জন্যে আর ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হবে, আশা করছি হতভাগা তার মধ্যেই এসে পড়বে। এসে পড়ল। বুঝিয়েও দিল। সলজ্জ ভঙ্গিতেই বলল, আমাদের নিজেদের কথা বলার জন্যেও তাে একটা সময় চাই বাবা, নিরিবিলি সেটুকু সময়ও আমরা পাচ্ছিলাম না, তাই ভাবলাম গল্প তাে অন্যভাবেও হতে পারে। হ্যা, পয়সা একটু খরচ হচ্ছিল বটে, তবে বেশ একটা নতুনত্বের স্বাদ পাচ্ছিলাম। কুড়ি বছরের চেনা মানুষ বলে সব সময় মনে হচ্ছিল না, কাজেই পিসিকে যে কথা বলেছি তার সবটাই মিথ্যে নয় বাবা। ‘আমারও সেই একই কথা, বাবা। মাথা নিচু করে বলল বন্যা। ‘মামলা আমার কাছে এসেছিল, সুতরাং রায়ও আমিই দিচ্ছি’ শ্বশুরমশাই বললেন, ‘অরুণ-বরুণ যে দেড়ঘণ্টা পড়বে সে সময়টা শুধু বৌমা আর রাহুলের। সুজাতা তুই টিভিতে তখন যা সিরিয়াল হয় দেখবি। আর বকা-ঝকা, চুপ করে বসে থেকে তােদের বুদ্ধিতে মরচে পড়ে গেছে, তােরা ওই সময়টা আমার ক্লসওয়ার্ড পাজলে একটু সাহায্য করবি। কথা শেষ করে বন্যার দিকে চেয়ে শ্বশুরমশাই বললেন, ‘রায়টা ঠিক হল তাে বৌমা ? বন্যা মিচকি হেসে মাথা নিচু করল, আর নীরবতা যে সম্মতির লক্ষণ সেটা কে না জানে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...