বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরকীয়া-১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান siam ahmed (০ পয়েন্ট)



X কুড়ি পেরােলেই বুড়ি, মেয়েদের সম্বন্ধে এরকম একটা কথা চালু আছে বটে, কিন্তু কুড়ি দুগুণে চল্লিশ পেরিয়েও বন্যা যদি নিজেকে বুড়ি মনে করতে না পারে, তার জন্যে দোষটা সম্পূর্ণ ওকে দেওয়া যায় না। বাবাকে বন্যা দেখে এসেছে জন্মগত-রােম্যান্টিক। এই ক’বছর আগেও যখন গিয়ে থেকেছিল ক’দিন বাপের বাড়িতে, মায়ের কাছে শােবার আর্জি পাশ করাতে পারেনি। বাবা বলেছে, সারাদিন যত খুশি হাম্বা হাম্বা কর, রাত্তির বেলা আমাদের অনেক নিজস্ব গল্প থাকে, তখন আমাদের ডিস্টার্ব করবে না। মা মুখে বলেছে বটে ভীমরতি' কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছে এতে মায়েরও বিশেষ আপত্তি নেই। মেয়েকে রােম্যান্টিক করেই গড়ে তুলতে চেয়েছিল বাবা। নিজেও বই পড়ত প্রচুর, মেয়ের ওপরও বই পড়বার ব্যাপারে কোনাে বিধিনিষেধ ছিল না। শেষের কবিতা ছিল বাবার সবচেয়ে প্রিয় বই, তাই মেয়ের নাম রাখতে চেয়ে ছিল লাবণ্য কিন্তু কমন হয়ে যাবে বলে, বন্যা। ইচ্ছে ছিল স্বামী হিসাবে একটা অমিতকে খুঁজে বার করবে, কিন্তু পারেনি। জামাইয়ের নাম রাহুল, কিন্তু সে কবি পত্র-পত্রিকায় তার কবিতা প্রকাশিত হয়, বিয়ের আগেই একটা কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও পেশায় সে ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের অ্যাকাউন্ট্যান্ট। বাবার বদান্যতায় বন্যা বিদ্যালয়ে থাকতেই ব্যোমকেশ বাদে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইপত্তর শেষ করে ফেলেছিল। কলেজে পড়বার সময় শেষের কবিতা পড়ত বাবা আর ও দুজনে মিলে। বিয়ের পর সর্বসমক্ষে বরকে যে সম্বােধনই করুক, অন্তরঙ্গতার সময় ডাকত ‘মিতে’ বলে। ভারী অদ্ভুত দাম্পত্য সম্পর্ক তৈরি করেছিল ওরা। রাহুল ওকে পড়িয়েছিল মুজতবা আলির ‘শবনম্', সেই উপন্যাসের একটা প্রিয় কথা শুনিয়েছিল ওকে- -“তুমি আমার মিলনে অভ্যস্ত হয়ে যেয়াে না, বিরহেও অভ্যস্ত হয়ে যেয়াে না।” অর্থাৎ অভ্যস্ত ব্যাপারটাই থাকা চলবে না। কী করে সেটা হবে? ঠাট্টা করেই বলেছিল বােধহয়, ‘পরকীয়া! আহা পরকীয়া না থাকলে দাম্পত্য জমে! ‘সে কী! ‘তােমার কাউকে ভালাে লাগলে তার সঙ্গে আলাপ করবে, আমার কাউকে ভালাে লাগলে আমিও তার সঙ্গে আলাপ করব।” “আমি তাে জানতে পারলেই তার সঙ্গে চুলােচুলি করব, অবশ্য তােমাকেও ছেড়ে দেব না। ‘আমিও তাই। তুমি অন্য কারাে সঙ্গে মিশছ, সেটা কি আমি সহ্য করতে পারব? ঝগড়া করব আমিও। “মধুর দাম্পত্য। ঝগড়ঝাটি, মান-অভিমান ছাড়া দাম্পত্য জমে! আর এসবের জন্যেই তাে চাই পরকীয়া। এসব অবশ্য দাম্পত্য আলাপেরই অঙ্গ। বউ হয়ে রাহুলের সংসারে যখন এল বন্যা, তখন এই ঘনিষ্ঠতার সুযােগ ছিল। সংসার অবশ্য বিরাট, এমনিতে এক ছেলে এক মেয়ে, মেয়ে সুজাতার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। শাশুড়ির বউপ্রীতিও ছিল স্বাভাবিক রকমেরই অফিস থেকে ছেলে ফিরে না আসা পর্যন্ত যথেষ্ট সান্নিধ্য দিতেন, ছেলে ফিরূলেই তার অন্যত্র ব্যস্ততা বেড়ে যেত। শ্বশুর গােটাকতক খবরের কাগজ নিতেন, সন্ধেবেলা খুঁটিয়ে কাগজ পড়া ছিল তাঁর হবি। সংসার বড়াে ছিল এই জন্যে যে সেখানে আরাে দুজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা ছিলেন, তারা দুই আইবুড়াে পিসি বকুল এবং ঝর্ণা, সংক্ষেপে বকা পিসি, ঝকা পিসি। দুজনেই অধ্যাপিকা, তাদের আলাদা ঘর ছিল এবং তাঁরা নিজেদের পড়াশুনাের বাইরে অন্য কথাবার্তা বলা বিশেষ পছন্দ করতেন না। এটা ছিল বন্যা যখন সবে কুড়ি পেরিয়ে সংসারে এসেছে, তখনকার কথা। কুড়ি বছর পরে ছবিটা গেছে একেবারে পালটে। না, শ্বশুর শাশুড়িকে নিয়ে কোনাে সমস্যা নেই শাশুড়ি বছর ছ-সাত আগে দেহান্তরিত হয়েছেন। তারপর শ্বশুরের কথাবার্তা আরাে অনেক কমে গিয়েছে, তিনি দিনের বেশিরভাগ সময়ই ক্রসওয়ার্ড পাজল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং বিকেলে এক বাল্যবন্ধু এলে একটু বেড়ান বা গল্পস্বল্প করেন। সংসারে সদস্য-সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। পিঠোপিঠি দুই ছেলে অরুণ-বরুণ, একজন ক্লাস থ্রি, অন্যজন ফোর। দিব্যি আছে দু'ভাই, তাদের আলাদা ঘর আছে, ভিডিও খেলা আছে, প্রাইভেট মাস্টারমশাই আছে। সুতরাং মা-বাবাকে ভালােবাসে খুবই কিন্তু সর্বক্ষণ গায়ে সেঁটে থাকার ন্যাকামি নেই। সমস্যা দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। যে-কোনাে কারণেই হােক সুজাতাদের সন্তানাদি হয়নি। এই কারণেও তার শ্বশুরবাড়ি তার প্রতি খুব প্রসন্ন ছিল না, তার ওপর বছর পাঁচেক আগে অকস্মাৎ পথ-দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যাওয়ায় ‘অলক্ষুণে’ বউয়ের প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। সহ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় রাহুল তাকে নিয়ে এসেছে নিজের কাছে। অসহায়া ননদটির প্রতি বন্যার সহানুভূতির কোনাে অভাব নেই, কিন্তু বৌদির ছায়াসঙ্গিনী হয়ে পড়বে, এতটাও সে চায়নি। তবু হয়তাে রাহুলের অফিস থেকে ফিরে আসবার পরে খানিকটা সময় ননদকে একটু ম্যানেজ করে অন্য কোনাে কাজে ব্যাপৃত রাখা যেত, কিন্তু মূর্তিময়ী অসুবিধা হয়ে দেখা দিয়েছেন বিদুষী দুই পিশাশুড়ি, বকা এবং ঝকা। কলেজ থেকে তারা রিটায়ার করেছেন বছরখানেক হল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...