বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজ তুমি কত দূরে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান siam ahmed (৬৪৮ পয়েন্ট)



X কাছে থেকেও আজ তুমি কত দূরে কি বলব? কিছুই না………. “আরি !মেয়েটা নিজের প্রফাইল পিকচার দিছে ! ওয়াও !” কমেন্ট করলাম । “NICE” ৫ মিনিট পর দেখলাম notification আসছে একটা . . চেক করলাম । মেয়েটা কমেন্ট করেছে । “thanks” একটা স্মাইল সিমবোল দিয়ে দিলাম । মেসেজ দিলাম । বললাম “ফাটাফাটি একটা ছবি দিছো ।” রিপ্লাই সাথে সাথেই এল । “হুম । আর পাম দেয়া লাগবে না” খুব মজা পেলাম । এভাবেই ১0-১৫ দিন ফেসবুক এ মেসেজ আদান প্রদান চলল । একদিন হটাত্ ওর নাম্বার টা চাইলাম । সে জানতে চাইলো “কেন নাম্বার কেন !” বল্লাম “তোমাকে ডিস্টার্ব করব । তাই” সে হেসে দিল । নাম্বার দিল । প্রথমবার এর মত কখা শুনলাম তার । অবাক হয়ে গেলাম । এত সুন্দর কন্ঠ ! আমি খুব ফান করতাম তার সাখে । আর সে শুধু হাসতো । ও হাসার সময় শুধু ওর হাসি টাই শুনতাম । এত সুন্দর করে যে কোন মানুষ হাসতে পারে জানা ছিল না । আমাদের মধ্যে সারাদিন মেসেজ চ্যাটিং হত । ও খুব বৃষ্টি পছন্দ করতো । আর আমি ! ওকে বলতাম . . . “বৃষ্টি আবার কারো পছন্দ হয় নাকি !” ও ঐ দিন খুব এক চোট হাসল । ওর কথাতেই জীবনে প্রথম বার এর মত নিজের ইচ্ছায় বৃষ্টিতে ভিজলাম । অদ্ভুত অনূভূতি হল । ওকে ওই দিন ফোন করে বললাম “জানো ? আজকে বৃষ্টিতে ভিজছি ।” সে তো হাসতে হাসতে অবস্থাই খারাপ করে ফেলল । ওই দিন বলেই ফেললাম “হাসলে তোমাকে খুব সুন্দর লাগে” সে বলল “এই তুমি আমারে দেখছো ? না দেখে কিভাবে বললা ?” আমি বললাম “আমার মনের মাঝে তোমার একটা ছবি আকা আছে ।” সে আবার ও হাসতে থাকল । আর আমি মুগ্ধ হয়ে শুনলাম । কতো যে কষ্টের রাত ওর সাথে কথা বলে কাটিয়েছি ! কষ্টে থাকলেই ওর সাথে কথা বলতাম । কথা বলা শেষে অবাক হয়ে দেখতাম মন ভাল হয়ে গেছে । ২. ২ দিন হল সে ফোন দেয় না । মেসেজ ও দেয় না । অস্থির লাগতেছে । ও অবশ্য বলছিল যে ও সিম টা চেন্জ করবে কারন তাকে অনেকে ডিসটার্ব করে । তাই বলে ৪৮ ঘন্টা ! ভীষন অভিমান হল । সন্ধায় তার ফোন আসলো । সব রাগ অভিমান তার উপর একসাথে প্রয়োগ করলাম । সে কষ্ট পেল । তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেলাম আমি । তাকে সরি বললাম । ওই দিন আর সে কথা বলল না । ভীষন কষ্ট হল । ৩. ছোটবেলা থেকেই আমার মাথা ব্যথা । ইদানিং ওটা বেড়েছে । অনেক মাথা ব্যথা করলে একসময় নাক মুখ দিয়ে ব্লিডিং হয় । অনেক ডাক্তার দেখাইছি । কিন্তু সবাই বলে প্রবলেমটা মাথা ব্যাথা থেকেই হয় । একদিন খবর পেলাম অস্ট্রেলিয়া থেকে একজন ডাক্তার এসেছেন । ওনাকে দেখাতে ঢাকা গেলাম । ওর সাথে এই কারনে ২-৩ দিন কথা হল না । আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল । ডাক্তার আমাকে বলল যে উনি অস্ট্রেলিয়া থেকে আবার কয়েকমাস পর আসবেন । তখন তিনি আমার টেস্টের রেজাল্ট গুলো দিবেন ।ডাক্তার আমার মাথা থেকে বুক পর্যন্ত সিটিস্ক্যান করিয়ে রিপোর্ট টা নিজের সাথে নিয়ে গেল । এত ঝামেলার জন্য ওর সাথে কথা বলতে পারি নি । এর আগে কখনো মনে হয়নি । কিন্তু ওই দিন মনে হয়ছিল যে ওকে আমি অনেক অনেক ভালবাসি । ৩. রাতে ওকে ফোন দিলাম । ভেবেছিলাম ও রেগে যাবে । অবাক হয়ে গেলাম যখন ও বললো “কই ছিলা ? আমার কথা কি মনে পরে নাই ? কি হইছে তোমার ?” আমি ওকে আসল কথাটা বলতে চাই নি । আমি জানি না কিভাবে যেন সে বুঝে ফেলল আমি মিথ্যা বলতেছি । শেষ পর্যন্ত বলতেই হল । কথাটা সে হয়তো ভুলে গেল । কিন্তু আমার এই প্রবলেমটা বাড়তেই থাকল । আমি খেলতে খুব পছন্দ করি । সেটা ও জানে । কিন্তু খেলার সময় আমি ব্যথা পেতাম । আর ও কিভাবে জানি বুঝে ফেলত । কয়েকদিন খুব বকা দিত । কিন্তু যখন বুঝল আমাকে থামাতে পারবে না । তখন শুধু বলল “প্লীজ লক্ষী । একটু দেখে খেইলো ।” আমি ওর এধরনের কথা শুনে খুব হাসতাম । ওর সাথে খুব মজা করতাম । আর ও আমাকে একটা মোহের মধ্যে রাখত । ৪. একদিন রাতে সাহস করে বলেই ফেললাম মনের কথা । মেসেজে বলেছিলাম কারন কল করে বলার মত সাহস ছিল না । অনেকক্ষন পর একটা মেসেজ আসল । যেটার মূল কথাটা ছিল যে সে আমাকে ভাল একজন ফ্রেন্ড হিসেবে পেতে চায় । ওই দিন খুব কষ্ট হইছিল । বুঝ হবার পর ওই দিন ই প্রথম চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পরেছিলো । কয়েকদিন কথা বলিনি ওর সাথে । ও প্রতিদিন ই কল করতো আমাকে । সিদ্ধান্ত নিলাম সে আমাকে যেভাবেই চায় সেভাবেই থাকবো । ওর জন্য ভালবাসাটুকু আমার বুকেই জমা থাকুক । আবার আগের মত হয়ে গেলাম । আমার সাথে পরিচিত হওয়ার আগে ওর অনেক ফ্রেন্ড ছিল । কিন্তু আস্তে আস্তে ওর ফ্রেন্ড এর সংখ্যা কমতে থাকল । ও আমার সাথেই সব শেয়ার করতো । আমি নিজেকে আস্তে আস্তে গুটিয়ে ন িতে থাকলাম । কারন যখন সে আর একটা ছেলের সাথে এভাবেই কথা বলবে তখন আর আমাকে মনে থাকবে না । তাই নিজের কষ্ট গুলো নিজের ভিতরেই লুকিয়ে রাখতাম । ৫. রোজা এসে গেল । অস্ট্রেলিয়া থেকে ডাক্তার এল । আমি একাই ডাক্তার এর সাথে দেখা করতে গেলাম । ডাক্তার আমাকে রিপোর্ট গুলো দেখাতে চাইলো না প্রথমে । পরে অনেক চাপাচাপির পর আমার হাতে দিল । রিপোর্ট টা পরলাম । ওখানে লেখা ছিল কোন এক অজ্ঞাত কারনে আমার ঘাড়ের কাছে দুটো রগ জরিয়ে গেছে একটা আরেকটার সাথে । অপারেশন প্রয়োজন । কিন্তু অপারেশন টা খুব রিস্কি । বাচার সম্ভাবনা ৫০-৫০ । আর অপারেশন টা না করলে আমার জীবন আর বড়জোড় ৫ বছর । মন ভেঙ্গে গেল । আব্বা আম্মা কে জানাতে পারলাম না । আব্বা আম্মা এখনো জানেন নাহ । আমার চাচা যেহেতু ডাক্তার শুধু ওনি আর আমার কিছু কাছের বন্ধু কে জানালাম বিষয় টা । এত রাগ লাগতেছিলো ! ভেবেছিলাম ভাল কোন জায়গায় টিকার পর আমার স্বপ্নের মানুষ টাকে নিজের করে নিবো । তখন সে আর মানা করতে পারবে না । কিন্তু আমার স্বপ্ন শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেল । রাগে দুঃখে মোবাইল , সিম সব ভেঙ্গে ফেললাম । ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ । কিন্তু ঈদের কিছুদিন আগে আর থাকতে পারলাম না । নতুন একটা সিম থেকে কল দিলাম । সে ফোন ধরে অনেক কথাই বললো । বললো আমি নাকি ওর সাথে আর কনটাক্ট রাখতে চাই না । আর সামলাতে পারলাম না । কি হলো কিছুই বুঝলাম না । ওকে গড়গড় করে সব বলে দিলাম । কিন্তু সে ভাবল হয়তো আমি মজা করতেছি । আমার পক্ষে সিমটা ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা সম্ভব না । আমি সিম টা খুলি শুধু ওর কথা ওর হাসি শোনার জন্য । ওটা দিয়ে শুধু ওকেই ফোন করি আমি । আজকে সকালে ফোন দিলাম । অনেকবার । ও ধরলো না । আমি জানি ও প্রবলেম ছাড়া সবসময় ই ফোন রিসিভ করে । কিন্তু আজকে আমার কি হল বুঝলাম না । অনেক উল্টা পাল্টা কথা বলে ফেললাম । ওকে মেসেজ দিয়ে বললাম “আমাকে ভুলেই গেলা ? অবশ্য আর তো মাত্র কয়েকদিন” মেসেজটা সেন্ড করে ফোন অফ করে দিলাম । বিকালের দিকে খুব খারাপ লাগা শুরু করলো । মনে হল ওর সাথে কথা বললে হয়তো ভাল লাগবে । ফোন দিলাম ধরলো না । বুঝলাম রাগ করছে আমার সাথে । সন্ধায় ওকে মেসেজ দিয়ে বললাম “আমার খুব খারাপ লাগতেছে । তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছা ছিল” মেসেজ সেন্ড হল নাকি হল না দেখার টাইম পেলাম না । এর আগেই শুরু হল ব্লিডিং । তারপর আর কিছু মনে নেই । সেন্স আসল । চাচা আমার পাশে বসা । আম্মা আব্বা বাড়িতে গেছে । একটু পর চাচা চলে গেল । আমার ছোট ভাই আসল একটু পর । এসে ফোন টা দিয়ে বলল আমার ফোন । আমি তখন ও পুরোপুরি ঠিক না । ও যে কল দিছে বুঝতে টাইম লাগল । ও জানতে চাইল যে আমার কি হইছে । বললাম কিছু না । ও কেদে ফেলল । অবাক হলাম । ওর কান্না কখনো শুনি নি । ধক করে উঠলো বুক টা । অনেক কষ্টে ওকে শান্ত করে ফোন কাটলাম । কারেন্ট চলে গেল । অন্ধকারে শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকলাম “কেন কাদল সে ? তাহলে কি সে আমাকে পছন্দ করে ? নাকি শুধুই Sympathi ?” যাই হোক । অনেক দেরি হয়ে গেছে । গান শুনতেছিলাম একটা . . . গানের কথাগুলো আমার মনের কথার সাথে মিলে গেল . . ” হাসতে গেলে এখন আমার চোখে আসে পানি , কখন জানি হটাত্ আবার চোখের রক্ত ঝরে , সৃষ্টি হবে অন্য রকম একটি গল্প আজ , আলোর নিচে সাজবো আমি অন্ধকারের সাজ । দেখো আবার আসে না যেন তোমার চোখে পানি , হটাত্ করে দেখবে তুমি হারিয়ে গেছি আমি । ” (আমার হাতে সময় আসলেই খুব কম । তার পর ও আমি বাচতে চাই । জানি না সে আমাকে ভালবাসে কিনা । কিন্তু আমি তার স্মৃতি নিয়েই থাকতে চাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুমি দূরে নও আছো আমার কল্পনায়
→ পাঁচ শত মাইল দূরে তুমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...