বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার তুমি❤️

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ariya Ibnat (৩০ পয়েন্ট)



X খুব শান্তির একটা ঘুম দিচ্ছিলাম। কিন্তু এই শান্তি বেশিক্ষণ টিকলো না। আমার শ্রদ্ধেয় আম্মাজান এর চিল্লাচিল্লি র কারনে আমাকে সাধের ঘুম ভেঙ্গে উঠতে হলো।কি আর করার?ঘুমের মায়া ত্যাগ করে ব্রাশ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে আমার চক্ষুচড়ক গাছ।বাসায় এত আয়োজন কিসের?রিমি আন্টি ও আমাদের বাসায় এত ভোরে। রান্নাঘরে উকি মেরে দেখলাম নানারকমের রান্নাবান্না হচ্ছে। পিঠে বানানো হচ্ছে।।আজ কি বাসায় কেউ আসবে?এত আয়োজন কিসের?আমি রান্নাঘরের দরজায় উকি মেরে এসব ভাবছি এর মধ্যেই আম্মুর রামধমক কানে এলো।আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম, "আম্মু আজ এত আয়োজন কেন?আজ কি আবার আমার বিয়ে শাদী নাকি?এত কিছু রান্নাবান্না কেন করছো?" আম্মু তেতে উঠে বললো, "এইতো উঠেছে মহারানী।এসে একটু কাজে সাহায্য করবে তা না এসে নির্লজ্জের মত জিজ্ঞেস করছে।সব আমার কপালের দোষ।" সাথে সাথেই কেটে পড়লাম কারন এর পরের দৃশ্য আমার জানা আছে।একেতো দেরি তে উঠেছি তারপর ব্রাশ মুখে নিয়ে ঘরে ঘরে হাটাহাটি করছি। এখন আমার সব দোষের রিভিউ হবে তাই রুমে চলে এলাম।বাকি কাহিনী পরে জানা যাবে। আপাতত নিরাপদ দুরত্বে থাকি।কিছুক্ষন মোবাইল টিপাটিপি করার পর ড্রয়িং রুমে কারো হাসাহাসির শব্দ কানে এলো।আস্তে করে রুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং এ এসে ড্রয়িং রুমে উকি দিলাম।আমি আসতে আসতে হাসাহাসি অফ হয়ে গেল। সোফায় বসে থাকা মানুষ টাকে দেখে আমার পিলে চমকে উঠলো।আমি কি স্বপ্ন দেখছি?মনে হচ্ছে স্বপ্নই। কিন্তু নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখলাম নাহ!সপ্ন না।সত্যি!! "এই যে কাজের মেয়ে ছকিনা।কাজ কর্ম কিছু নেই?হা করে তাকিয়ে আছো কেন?এ বাড়িতে কাজের লোক কি এমনি এমনি রেখেছে?কাজের মেয়ে কাজ করবে তা না করে আমার মত একটা কিউট ছেলের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।" কথাগুলো কানে আসতেই ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এলাম।কথাগুলো এখনো ব্রেন পর্যন্ত পৌছায়নি।তার আগেই হাতে কয়েকটা বাটি ধরিয়ে দিয়ে সামনের মানুষ টা বাকা হেসে আম্মুকে বললো, "কি কাজের লোক রেখেছো আন্টি?কোন কাজ করছেনা।উলটো বলদের মত ড্যাবড্যাব করে তাকাচ্ছে।" আমার ব্রেনে কথাগুলো পৌছানোর সাথে সাথে মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো।রাগে মুখ লাল হয়ে এলো।পাশ থেকে আম্মুর কথা শুনে সেদিকে তাকালাম। "এইটা কাজের মেয়ে না।আমারই অকর্মআ মেয়ে।এই অকর্মা মেয়ের চেয়ে তো কাজের লোক রাখলেই ভালো হত।সারাদিন শুধু খায় আর ঘুমায় সাথে মোবাইল তো আছেই।" "ওওওওও আচ্ছা।।এটা তোমার সেই রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটা আন্টি?আমি তো ভাবলাম আবার কাজের মেয়ে ছকিনা কিনা?দেখতে তো তেমন ই লাগছে।" এবার আর সহ্য হলোনা।এবার তেতে উঠলাম আমি। "কি সমস্যা কি আপনার?আপনার সাহস দেখে আমি অবাক হচ্ছি।আমার বাসায় এসে আমাকে আজেবাজে কথা বলছেন।আমার বাসায় কি আপনার? এখানে এসে কোথেকে টপকালেন?হ্যা?অসভ্য লোক কোথাকার।এই মুহুর্তে বের হন আমাদের বাসা থেকে। নিজের বাসা নেই?" "আমি আমার তাহিরা আন্টির বাসায় এসেছি।তোর বাসায় না।তোর বাসা কোথেকে এলো?তোকে তো কুড়িয়ে এনেছে।" বলেই মুখ টিপে হাসতে লাগলেন উনি। এবার রান্নাঘর থেকে রিমি আন্টি বেড়িয়ে এসে কান টেনে ধরলেন ওনার। "এসব কি তীব্র?আসতে না আসতেই মেয়েটাকে জ্বালাচ্ছিস।কতদিন পর এলি।খোজখবর নিবি তা না আবার ওর পেছনে লাগছিস।" "উফ আম্মু লাগছে তো!আমি তো মজা করছিলাম।ছাড়োওওও" আন্টি কান ছেড়ে দিয়ে ওনার পিঠে আলতো করে মারলেন।তীব্র ভাইয়া জোড়ে হেসে উঠলেন। "আন্টি তোমার এই পচা ছেলে এখানে কেন?তার তো লন্ডন থাকার কথা। " আন্টি হেসে উত্তর দিলেন। "কাল রাতে তীব্র হঠাৎ ফোন দিয়ে বললো আজ নাকি ও ফিরছে।আর আমাকে বলে দিয়েছে তোকে না বলতে। তোর জন্য সারপ্রাইজ থাকবে। তাই আর কিছু বলিনি।" "আমি বলেছিলাম আমাকে সারপ্রাইজ দিতে?আমাকে কত বাজে কথা বলেছে এতক্ষণ ধরে।তোমার ছেলেকে বলো বাসা থেকে বের হতে।" তীব্র ভাই পাশ থেকে বলে উঠলো, "আমি কি তোকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম নাকি?আমি তো অন্যদের কথা বলেছি আম্মুকে।আর আমি এখান থেকে যাচ্ছিনা।" আন্টি তীব্র ভাইয়াকে মৃদ্যু ধমকালেন।আমার দিকে ফিরে বললেন, "ধুর এই গাধার কথায় কান দিস না।চল নাস্তা করবি।সকাল থেকে কিছুই খাসনি। আয়।" আমি গোমড়ামুখু হয়ে আন্টির পেছন পেছন চললাম। খাওয়া শেষে রুমে এসে চুপচাপ বসে আছি।মেজাজ টা তো খারাপ সাথে মন টা ও খারাপ।কেন সেটা জানা নেই।তবে এটা বুঝতে পারছি কারো উপর এক আকাশ অভিমান জমে আছে।একটু পর বাইরে উকি দিয়ে দেখলাম আন্টি বাসায় চলে গেছে।তীব্র ভাই ও হয়ত চলে গেছে।তাতে আমার কি?অবশ্য ওনাদের আর আমাদের এক বাসা।আমরা চার তলায় থাকি আর ওরা পাচ তলায় থাকে। এর অবশ্য কারন ও আছে। রিমি আন্টি আর আম্মু বেস্টফ্রেন্ড ছিলো আব্বুর আর তীব্র ভাইর আব্বুও বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো।এরা সবসময় একসঙ্গে ছিলো আর এখনো একসাথেই আছে। ইনফ্যাক্ট আব্বু আম্মু আর আন্টি আংকেলের বিয়ে ও একই দিন হয়্বছিল।আমাদের দুই ফ্যামিলি ধরতে গেলে এক ফ্যামিলির মতোই। আন্টি আংকেল আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে আদর করে। দুই ফ্যামিলির এত মিল হলে কি হবে? আমার আর তীব্র ভাইয়ের সম্পর্ক হলো সাপে নেউলে সম্পর্ক।দুইজন দুই মেরুর মানুষ।এই পাজি লোকটা ছোটবেলা থেকে আমাকে জ্বালাতে জ্বালাতে এসেছে। সবসময় আমার পিছে লেগে থাকে।উনি বোধহয় পন করে এসেছেন আমার সব সুখ শান্তি বরবাদ করে ছাড়বেন।।ছোটবেলায় ও কম জালায়নি আমাকে।৩ বছর আগে স্কলারশিপ পেয়ে উনি পড়াশুনোর জন্য লন্ডন চলে যান।ওনার যাওয়ার খবর শুনে আমি প্রচন্ড খুশি হয়েছিলাম।অনেক্ষন লাফিয়েছি।এই মানুষ টার কাছ থেকে তো নিস্তার পাবো।কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পর কয়েকদিন খুশিতে থাকলেও কেন জানি একটা শুন্যতা কাজ করত।কিন্তু সবথেকে কস্ট লেগেছে আমার কাছে এটা যে উনি যাওয়ার আগে এক্টাবার ও আমার সাথে দেখা করতে আসেননি।একবারের জন্য ও আমাকে বলে যায়নি।অথচ সবার থেকে বিদায় নিয়ে গেছে।হয়ত আমরা একে অপরের শত্রু তাই বলে একবার ও বলে যাওয়া যেত না।গিয়েও কোন খোজ নেয়নি আমার।খোজ নেয়নি বললে ভুল হবে উনি কয়েকবার কথা বলতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি বলিনি।হয়ত অভিমান টা বেশি হয়ে গেছিলো। আজ তিনবছর পর এসেছেন উনি।তিন বছর পর ওনাকে দেখে মনে হয়েছিলো উনি বদলে গেছেন। কিন্তু না কথা শুনার পর মনে হলো উনি আগের মতই আছেন। আস্ত একটা বদ লোক।হুহ! বিকেল বেলা বারান্দায় দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম। আকাশের অবস্থা ভালোনা।আকাশ টা ও বিষন্ন হয়ে আছে।আকাশের ও কি মন খারাপ?আম্মুর ডাকে ধ্যান ভাংলো আমার। "তোহা ছাদে আচার দিয়েছিলাম। একটু নিয়ে আয় তো।বৃষ্টি নামবে মনে হয়।তাড়াতাড়ি যা।" আমি ছাদের দিকে পা বাড়ালাম।সিড়ির কাছে আসতেই দেখলাম তীব্র ভাই দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ফোন টিপছে আর মিটিমিটি হাসছে।হুহ।তাতে আমার কি?উনার যা ইচ্ছা করুক।দরকার হলে ফোনের মধ্যে ঢুকে যাক আমার কি?আমি ওনাকে না দেখার ভান করে চলে এলাম। ককিছুক্ষন পর বুঝতে পারলাম আমার লম্বা চুলের বেনীতে টান পড়েছে।আমি রেগে তাকাতেই দেখলাম তীব্র ভাই এক হাতে আমার চুল ধরে রেখে মিটিমিটি হাসছে।আমাকে তাকাতে দেখে আমার সামনাসামনি এসে দাড়ালেন উনি।আমি রেগে ওনার হাত থেকে চুল ছাড়াতে নিলেই উনি আরো শক্ত করে ধরলেন।তারপর বললেন, "তুই তো দিন দিন চরম বেয়াদব হয়ে গেছিস রে তোহু।বড়দের সম্মান করতেই জানিস না।তুই আমাকে দেখে ও চলে এলি কেন?তোর উচিত ছিলো ওখানে দাঁড়িয়ে আমার থেকে অনুমতি নেয়া যে 'আমি কি আপ্নার সামনে দিয়ে যাবো?' কিন্তু তুই তা না করে আমার সামনে দিয়ে ঢ্যাং ঢ্যাং করে চলে এলি।" "সিড়ি কি আপনার? আপনাকে বলতে হবে কেন?" আমি ঝাঝ নিয়ে বলে উঠলাম। "সিড়ি আমার না আমার বাপের না আমার শশুরের সেটা নিয়ে তো তোকে ভাবতে হবেনা।তারপর আমি এতদিন পর এলাম তোর উচিত ছিলো আমার পা ছুয়ে সালাম করা।অথচ তুই আমাকে মুখে একটা সালাম পর্যন্ত দিস নি।" আমি দাতে দাত চেপে বললাম, "আপনি যে এক্টা অসহ্য লোক তা কি আপনি জানেন?" "তুই জানিস আমি কত মেয়ের ক্রাশ?আর তুই আমাকে এসব বলছিস?তোর নামে তো মামলা করা উচিত। " আমি হাত উঠিয়ে কিছু বলতে যাব তার আগেই উনি খপ করে আমার হাত টা ধরে ফেললেন।আমার হাতের আংটি টা উল্টেপাল্টে দেখে বললেন,, "বাহ!হাতে আবার আংটিও পড়েছিস। কিরে কেউ কি আবার গিফট টিফট করেছে নাকি?" (ভ্রু নাচিয়ে) "হুম করেছে তো!তাতে আপ্নার কি?" "কে গিফট করলো?" "আমার জামাই দিয়েছে।আপনার কোন সমস্যা?" "কি বলিস? তুই এংগেজমেনট করে ফেলেছিস আর আমরা জানিনা?আবার তাকে জামাই ও ডাকছিস।কি সাংঘাতিক!! কি করে করতে পারলি এটা?আমাদের কাউকে না জানিয়ে এত দূর চলে গেলি!অন্তত আমাকে তো বলতে পারতি।এটা কিছুতেই আশা করিনি।এত কস্ট করে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করলাম।সো স্যাড।gj" ওনার এসব ড্রামা দেখে মনে হচ্ছে মাথায় একটা বারি দেই।কি ড্রামাবাজ! "কিরে তব্দা মেরে আছিস কেন?" তীব্র ভাইর কথা শুনে কল্পনা থেকে বের হয়ে এলাম।আমার আবার কোন কিছু ভাবতে নিলে দুনিয়ার খেয়াল থাকেনা।আমি বললাম,,, "কেন বলবো? আপনি কে যে বলতে হবে?হুম?আপনি যে গেলেন এক বার আমাকে বলে গেছিলেন?" উনি নিঃশব্দে হাসলেন।তারপর হুট করে আমার খুব কাছাকাছি এসে দাড়ালেন।আস্তে ফু দিয়ে কপালের চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন,,,, "উহু বলিনি তোকে।তোকে বলে যেতে হবে কেন?আমার যাকে বলার ছিলো তাকে তো বলে গিয়েছি।" "হুহ আমিও যাকে বলার তাকে বলবো।যান সরেন এখান থেকে।" বলেই ভেংচি মেরে চলে এলাম সেখান থেকে। আর এই আংটির ইতিহাস আমিও জানিনা। আরো কয়েকবছর আগে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি হাতে এই আংটিটা। সিম্পল এর মধ্যে আংটিটা এত সুন্দর!এই আংটিটা আমার হাতে একেবারে ফিট হয়।আমার হাতে সচরাচর রিং ফিট হয়না।এক্টু ঢিলে হয়।এও আংটিটা দেখে মনে হয়েছে যেন আমার জন্যই বানানো হয়েছে।আমার দেখেই খুব ভালো লেগেছে।কিন্তু পরে ভেবেছি অনেক যে এটা কোথেকে এলো?প্রথমে ভেবেছি আম্মু বা আপু কিনে দিয়েছে কিন্তু তাদের আচরনে যা বুঝেছি তাতে বুঝেছি তারা কেউ দেয়নি।আমিও আর সরাসরি জিজ্ঞেস করিনি।পরে আবার কোন টা ভাবে কে জানে?একবার খুলে ও রেখেছিলাম হাত থেকে পরে আবার পড়ে নিয়েছি কারন এটা আমার সত্যিই পছন্দ অনেক।কে দিয়েছে? কোথেকে এলো? সেসব আমার চিন্তার বিষয় না।আমি আর মাথা ঘামাইনি। পরদিন, আম্মু ওই বাসায় গেছে।কিছুক্ষণ পর আন্টি এসে আমাকেও নিয়ে গেল।বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে যদি ভয় পাই তাই।যদিও আমি যেতে চাইনি।ভালো লাগছিলো না।কিন্তু আন্টি জোর করে নিয়ে গেল। আম্মু আর আন্টি কথা বলছিলো।আমি বসে বসে বোর হচ্ছিলাম।এর মধ্যে তীব্র ভাই কোথেকে যেন এসে আমার হাতে এক্টা শার্ট ধরিয়ে দিলো। "তোহু আমার শার্ট টা একটু ইস্ত্রি করে দে তো।" "পারবোনা নিজের টা নিজে করেন।আমি পারবনা।" "আরে একটু দে না।আমার হাতে ব্যাথা তাই তোকে করতে দিলাম।নয়ত আমিই করতাম।" "আপনার হাতে আবার কি হলো?" "ব্যাথা পেয়েছি।" "কিভাবে?" "এত বকবক করিস না তো।যা বলছি সেটা কর।" বলেই গটগট করে নিজের রুমে চলে গেলেন উনি।পাশ থেকে আম্মু ধমকে বলে উঠলো,,, "আজাইরা ই তো বসে আছিস।পারিস তো খালি ত্যাড়ামি করতে । তীব্রর শার্ট টা ইস্ত্রি করে দে যা। " কি আর করার রাগে ওনার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে ইস্ত্রি হাতে নিলাম।ইচ্ছে করছিল ওনাকে ইস্ত্রি করে দেই। শার্ট টা মেলতেই পকেট থেকে বেরিয়ে এলো একটা নীল রঙ্গের চিরকুট।তাতে গুটি গুটি অক্ষরে লেখা,,, মায়াবতী, তোমাতে এত মায়া কেন?আমার চারপাশ টা শুধু তুমিময় কেন জানো তুমি?তুমি কি জানো তুমি আমার কাছে ভয়ংকর সুন্দর।তোমার রাগী ফেসের রক্তিম আভা টা ভয়ংকর সুন্দর। তোমার মায়াবী মুখটা, তোমার হাসি তে দৃশ্যমান গালের টোল টা ভয়ংকর রকমের সুন্দর। তোমার ফর্সা হাতের অনামিকা আঙ্গুলে লেপ্টে থাকা আমিময় আংটিটা ও ভয়ংকর সুন্দর। কপালের উপর পড়ে থাকা চুলগুলোকে কানের পেছনে গুজে দেয়ার দৃশ্যটাও কেন ভয়ংকর সুন্দর বলতে পারো?তুমিময় সবকিছুই ভয়ংকর সুন্দর লাগে আমার কাছে।এখন নিশ্চয়ই ভাবছো যে সুন্দর আবার ভয়ংকর হয় কিভাবে?আমার কি মনে হয় জানো?যে সৌন্দর্য হৃদয়ে ঝড় তোলে তাকে তো ভয়ংকর বলাই যায়।তাইনা?আচ্ছা মহারানীর অভিমান কি খুব বেশি হয়ে গেছে?কিন্তু মহারানী কি এটা জানে? তাকে ছেড়ে থাকতে অন্যকারো কত টা কষ্ট হয়েছে?তবুও মহারানী যে শাস্তি দেবে সেটাই শিরধার্য।তারপর ও মহারানীর ঠোটের কোনায় মোহনীয় হাসি ফুটে উঠুক। 'তোমার আমি' আমি স্তব্ধ হয়ে বসে আছি।অজান্তেই হাতটা চোখের সামনে চলে এলো। হাতে জ্বলজ্বল করছে রিং টা। তারমানে? পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম আরেকটা চিরকুট। "ওয়ারড্রবের ফোর্থ ড্রয়ারটা খুলে দেখো।" আমি রুমে চলে এলাম দৌড়ে। ড্রয়ার টা খুলতেই নযরে এলো অনেক অনেক চকলেট।সাথে আরো একটা চিরকুট। তাতে লেখা, "অভিমানিনীর অভিমান তো অনেক হলো।এবার একটু হেসে এই অধম কে ভয়ংকর মুগ্ধতায় ডুবতে দেয়া যাবে কি?" আমার ঠোট দুটো অজান্তেই প্রসারিত হয়ে এলো।আর গালে ফুটে উঠলো রক্তিম আভা!! . ........সমাপ্ত..... লেখিকাঃT.R❤️ [গুছিয়ে লিখতে পারিনি।কেমন যেন অগোছালো হয়ে গেছে।আসলে অনেক দিন পর লিখলাম তো।আমিও বড্ড অগোছালো হয়ে গেছি।যাইহোক ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...