বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়ের বোনা টুপি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩৫ পয়েন্ট)



X লেখা:সামিয়া তাবাসসুম অ্যান্ডার্স নামের একটি ছোট ছেলের একটা নতুন টুপি ছিল। এমন সুন্দর টুপি কেউ দেখেনি। কারণ, টুপিটা অ্যান্ডার্সের মা নিজে বুনেছিলেন। তার মায়ের মতো এত সুন্দর টুপি আর কেউ বুনতে পারত না। টুপিটার রং লাল ও কিছুটা সবুজ। অ্যান্ডার্স টুপি পরে পকেটে হাত ঢুকিয়ে তার মা কেমন টুপি বুনতে পারে, তা সবাইকে দেখানোর জন্য বেরিয়ে পড়ল। প্রথমেই একজন কৃষকের সঙ্গে দেখা। ‘আরে, তুমি অ্যান্ডার্স না!’ কৃষক উৎফুল্ল কণ্ঠে বলল, ‘আমি তোমাকে চিনতেই পারিনি। ভেবেছিলাম একটা চমৎকার টুপি মাথায় দিয়ে বুঝি কোনো ডিউক বা যুবরাজ যাচ্ছে! আমার ঠেলাগাড়িতে চড়বে নাকি?’ অ্যান্ডার্স বিনীত হেসে অসম্মতি জানিয়ে মাথা উঁচু করে গর্বিত পদে হাঁটতে লাগল। পথের মোড় ঘুরতেই চর্মকারের পুত্র নার্সের সঙ্গে দেখা হলো। আর তার হাতে একটা পকেট ছুরি। অ্যান্ডার্সের টুপি দেখে সে হাঁ করে তাকিয়ে রইল ও অ্যান্ডার্সকে প্রস্তাব দিল তার ছুরির সঙ্গে টুপিটা অদলবদল করতে। ছুরিটা খুব সুন্দর এবং অ্যান্ডার্স বহুবার এর প্রশংসা করেছে। তবু অ্যান্ডার্স এ অদলবদলে রাজি না হয়ে পথ চলতে শুরু করল। চলতে চলতে অ্যান্ডার্স ভাবল, আমাকে যখন যুবরাজের মতো এত সুন্দরই দেখাচ্ছে, তাহলে আমি রাজকীয় বলনাচে চলে যাই। প্রাসাদের ফটকে আসতেই সশস্ত্র প্রহরীরা বলল, ‘না, তুমি যেতে পারবে না।’ কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে সোনালি রঙের ফিতা দেওয়া সাদা সিল্কের পোশাক পরা রাজকন্যা অ্যান্ডার্সের টুপি দেখে মুগ্ধ হয়ে তার হাত ধরে প্রাসাদের হলঘরে নিয়ে গেল। অ্যান্ডার্স ভাবল, আমার মাথার সুন্দর টুপিটা দেখে সবাই নিশ্চয় আমাকে রাজপুত্র ভেবেছে। খেতে বসার সময় রাজকন্যা অ্যান্ডার্সকে টুপি খুলতে বললেও সে খুলল না, যদি সে তার টুপিটা আর ফেরত না পায়! রাজকন্যা টুপিটা চাইলেও সে ‘না’ বলে তার হাত মাথা থেকে নামাল না। হঠাত্ হলঘরের সব দরজা খুলে গেল এবং ঝলমলে পোশাক পরে রাজা হলঘরে প্রবেশ করলেন। রাজা তার মাথায় টুপিটা দেখে প্রসন্ন হয়ে অ্যান্ডার্সের কাছে এসে বললন, ‘তুমি নিশ্চয়ই আমার টুপির সঙ্গে তোমার টুপি অদলবদল করতে রাজি হবে।’ কিন্তু অ্যান্ডার্স ভীষণ ভয় পেল। সে দুই হাতে মাথার টুপিটা চেপে ধরে সৈনিকদের ফাঁকফোকর দিয়ে ইলমাছের মতো তীব্র বেগে ছুটে এল মায়ের কাছে। তারপর মায়ের কোলে বসে শোনাল তার অ্যাডভেঞ্চারের কথা। মা শুনে বলল, ‘বোকা ছেলে! তুই তোর টুপিটা রাজাকে দিলে প্রচুর টাকা পেতিস। আমরা ঘোড়ার গাড়ি, নৌকা কিনতে পারতাম।’ অ্যান্ডার্স লজ্জায় ও কষ্টে লাল হয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘মা, আমি কি সত্যিই বোকামি করেছি?’ মা তখন ছেলেকে চুমু খেয়ে বললেন, ‘না সোনামণি, তোমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সোনার পোশাক দিয়ে মুড়ে দিলেও লাল টুপিটা পরে তোমাকে যেমন সুন্দর লাগে, তেমন লাগত না।’ মায়ের কথা শুনে অ্যান্ডার্সের মুখে হাসি ফিরে এল। সে ভালো করেই জানে তার মায়ের হাতে বোনা টুপিটা পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা টুপি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...