বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দেজাভ্যু

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩৫ পয়েন্ট)



X লেখা:সামিহা নুজহাত বাইরে যাচ্ছিলাম একটা জরুরি কাজে। লোকটা আসায় আটক পড়ে গেলাম। লোকটার বয়স ৪৫ থেকে ৫০–এর মধ্যে হবে। ভদ্রলোক এসেই বলেন, ‘আমার নাম সাজ্জাদুল হক। আমার দুজন ছেলে আছে, একজন ক্লাস ফাইভে পড়ে, আরেকজন সিক্সে।’ এরপর তাকে আর কোনো কথা বলতে শুনলাম না। একটু পরপরই চোখ বন্ধ করছেন, আবার খুলছেন। ওদিকে আমার মেয়ে একটু পরপর কল দিয়েই যাচ্ছে, ‘বাবা, তুমি আসবে না? আজকের দিনেও তুমি আসবে না?’ আমিও বলছি, ‘হ্যাঁ মা, আসব। এক্ষুনি এসে পড়ছি।’ ২০ মিনিট ধরে লোকটা বসিয়ে রেখেছে। কয়েকবার খুকখুক করে কাশল। আমি বলতে যাব যে আমার সময় নেই, তখনই ভদ্রলোক কথা বলে উঠলেন। ‘জনাব, আমি একটা ছোট চাকরি করি। আমার ছেলে দুজন, একজন ফাইভে পড়ে আরেকজন সিক্সে।’ ‘জি বুঝেছি,’ আমি বললাম। ভদ্রলোক আবার খানিকক্ষণের জন্য চুপ থেকে বলল, ‘আমার বসের সঙ্গে কোনো দিনই কোনো ঝামেলা ছিল না। তিনি ভালো মানুষ, আমাকে আদরই করতেন। হঠাৎ একদিন কি হলো, আমাকে ডেকে নিয়ে অসম্ভব রাগ করলেন। ফাইলপত্র ছুড়ে মারলেন আরও কত কী! আমার মন খারাপ হয়ে যায়, ওর মন খারাপ হয়, যখন মনে পড়ল, ছোট ছেলেটা ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছিল। আস্ত ইলিশ কেনার টাকা নেই, তাই হোটেল থেকে দুটো ভাজা ইলিশ কিনে নিয়ে যাই। বাসায় গিয়ে যত্ন করে ছেলেদের খাওয়াই। হঠাৎ ছোট ছেলেটার গলায় কাঁটা বিঁধে যায়। অনেক পানি খায়, অন্য খাবার দিয়ে গেলার চেষ্টা করে কিন্তু লাভ হয় না। অবশেষে বাধ্য হয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসক কাঁটা বের করে দেন।’ভদ্রলোক মাথা নিচু করে ফেলেন। এসব আমাকে কেন বলছেন, বুঝতে পারি না। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বলা শুরু করেন, ‘সবই ঠিক ছিল এক-দুই দিন। তিন দিনের দিন বস আমাকে আবার ডেকে পাঠান, ধমক দেন, ফাইল ছোড়াছুড়ি করেন, বাসায় যাওয়ার আগে মনে পড়ে, ছোট ছেলেটা ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছিল, ইলিশ কিনে নিয়ে যাই, ছেলেটার আবার গলায় কাঁটা বিঁধে যায়, তাকে আবার হসপিটালে নিয়ে যাই। দুই দিন পর আবার একই ঘটনা ঘটে।’ ‘এর মানে কী?’ ভদ্রলোক কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, ‘মানে আমি জানি না।’ ‘দেখুন, আপনার যে জিনিসটা হচ্ছে, সেটার নাম দেজাভ্যু। আমাদের জীবনে প্রায়ই এটা হয়। আমাদের মনে হয়, কোনো বিশেষ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আসলে কিন্তু তা হয় না। আপনি হয়তো কোনো দিন এ রকমই কোনো স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই আপনার এ রকম লাগছে। আর বাকিটুকু আপনার কল্পনা।’ লোকটা হাসে আর বলে, ‘প্রথম প্রথম আমিও সেটাই ভেবেছিলাম। বিজ্ঞান বিষয়ে আমার অল্পবিস্তর পড়াশোনা আছে। কিন্তু তা নয়।’ ‘তা না তো তাহলে কী?’ ভদ্রলোক একবার কেঁপে উঠলেন। তারপর বললেন, ‘ওই দিনের পর থেকে দুই দিন পরপর আমার জীবনে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে লাগল। একই চক্র। এর পরের দুই দিন অন্য রকম কিছু হয়, তখন মনে পড়ে যে একই জিনিস তো আমার সঙ্গে আগেও ঘটেছে। কিন্তু যখন হয়, তখন মনে থাকে না। ইলিশ মাছ কিনতে যাই বা অফিসে বসের বকা খাই, তখন মনেই হয় না যে এ রকম আগেও অনেকবার হয়েছে।’ ভদ্রলোক মাথা নিচু করে বসে থাকেন। আমি জিজ্ঞাসা করি,আপনি এর আগে কাউকে বলেছেন এই কথা?’ ‘কাকে বলব? আমার ছেলেরা ছাড়া তো অন্য তেমন কেউ নেই। আর কাউকে বলেছি বলে মনে পড়ে না। ছেলেদের বলেছি, ওরা হেসে জবাব দিয়েছে “বাবা তুমি পাগল”।’ আমারও তা–ই মনে হলো। একই জিনিস বারবার হচ্ছে তার জীবনে, এসব কথা যে বলে, সে পাগল নয়তো কী? আমি একটা কিছু বলতে চাচ্ছিলাম, তখনই ভদ্রলোক জোরে বলে উঠলেন, ‘প্লিজ জালাল সাহেব আমাকে সাহায্য করুন। আমার জীবন একটা চক্রের ভেতর ঢুকে গেছে। আমি এর থেকে বেরোতে পারছি না। হেল্প মি, প্লিজ।’ আমি ঘাবড়ে বললাম, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। আমি দেখব, কী করা যায়। আপনি বরং পরে আরেক দিন আসেন।’ ‘জি আচ্ছা, আসি,’ বলে ভদ্রলোক উঠে পড়লেন। আমি মনে মনে তাকে ধমকাই, অযথা আমার সময় নষ্ট করার জন্য। কিন্তু সাজ্জাদ সাহেব হঠাৎ দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দুঃখী মুখে বললেন, ‘আমি জানি, আপনি আমার একটা কথাও বিশ্বাস করেননি। কিন্তু আমি সব সত্যি বলেছি। একদিন আপনিও সেটা বুঝবেন।’ আমার মন খারাপ লাগল হঠাৎ। ভদ্রলোক সত্যিই হয়তো মিথ্যা বলেননি। কিন্তু এ-ও কি হওয়া সম্ভব? জীবনের একই অংশের পুনরাবৃত্তি। যা–ই হোক, বাসায় দেরি হয়ে যাচ্ছে, যাওয়া দরকার। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম আর সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো, সাজ্জাদুল হক নামের এই লোকটা আরও অনেকবার, বহুবার এসেছে। একই ভঙ্গিতে, একই সময়ে, একই সমস্যার কথা বলেছে। আমাকেই বলেছে। মাথা ঘুরে উঠল, চেয়ারে বসে পড়লাম। হ্যাঁ, তাই তো! তিনি তো এর আগেও অনেকবার এসেছেন। এটাও কি সত্যি? নাকি সবই কল্পনা, সবই দেজাভ্যু!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...