বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার সাইন্টিস মামা (১৬)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (৩০ পয়েন্ট)



X লেখক - মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমার অবস্থা দেখে ছেলেটা হাসল, মাথা নেড়ে বলল, “তোমাদের শহরের ছেলেদের এই হচ্ছে সমস্যা। গায়ে কোনো জোর নাই।” আমি বললাম, “দিনরাত ঘরের ভিতরে বসে থাকলে জোর হবে কেমন করে? আমাদের স্কুলে খালি বিল্ডিং- একটা খেলার মাঠও নাই!” “আমাদের উল্টা। খালি মাঠ। বিল্ডিং নাই।” আমি দাঁতে দাঁত চেপে আরো খানিকক্ষণ নৌকা বেয়ে নিলাম। তখন ছেলেটা বলল, “থামো এইখানে। আমার ঝাঁকাটা তুলি।” আমি নৌকা থামালাম। ছেলেটা তার জায়গাটা খুঁজে বের করে নৌকাটাকে সেখানে নিয়ে গেল। লগিটা পুতে সে যখন পানিতে নামবে তখন আমি বললাম, “আমিও পানিতে নামি?” “নামতে চাইলে নাম।”  “আমি দেখি পানির নিচে তুমি কী কর!”  “কিছুই দেখবে না। পানি ঘোলা আর পানির নিচে দেখা যায় না।” “যেটুকু দেখা যায়!” “ঠিক আছে।” আমি শার্টটা খুলে ছেলেটার সাথে পানিতে নামলাম। নদীর পানি উপরে মোটামুটি কুসুম কুসুম গরম নিচে কনকনে ঠান্ডা। ছেলেটা মাথা নিচের দিকে দিয়ে তলিয়ে গেল আমি চেষ্টা করেও নিচে নামতে পারলাম না, যখনই চেষ্টা করি উপরের দিকে ভেসে উঠি। বুঝতে পারলাম পানির তলায় যাওয়া এতো সোজা না। ছেলেটা মাছের খাঁচাটা তুলে আনল, ভেতরে বেশ কিছু মাছ। এবারে মাছের সাথে একটা কাঁকড়াও আছে। সাপের মতো দেখতে একটা মাছও ছিল কিন্তু এটাকে সে পানিতে ছেড়ে দিল। বাইম মাছের মতো দেখালেও এটা নাকি বাইম মাছ না, এটার নাম কুইচ্যা। কুইচ্যা মাছ নাকি খায় না! বাইম মাছ খাওয়া গেলে কুইচ্যা মাছ কেন খাওয়া যাবে না আমি বুঝতে পারলাম না। নৌকায় উঠে আমিও ছেলেটার গামছা দিয়ে শরীর মুছে নিলাম। প্যান্টটা ভেজা তাই শার্ট না পরে ছেলেটার মতো খালি গায়ে বসে রইলাম। ছেলেটা আবার নৌকা ছেড়ে দিল। পরের ঝকার কাছে পৌঁছে সে আবার নৌকা থামাল। আমি বললাম, “এইবার আমি একা নামব। দেখি তোমার ঝকা তুলতে পারি কি না।” ছেলেটা বলল, “ঠিক আছে। নামো।”  “জায়গাটা দেখিয়ে দাও।” “এই লগিটা যেখানে পুতেছি, তার কাছে। যাও, নামো।” আমি আগে আগে নামছিলাম সে আমাকে একটা ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে হি হি করে হাসতে লাগল। আমি তখন মাথা নিচে দিয়ে পানিতে ডুব দিলাম। যদি আমার বাসার কেউ দেখতে আমি নদীর পানিতে এভাবে ঝাঁপ দিয়ে পানির নিচে চলে যাচ্ছি তাহলে এতোক্ষণে নিশ্চয়ই ভয়ে চিৎকার করতে করতে হার্টফেল করে ফেলত! নিচে কনকনে ঠান্ডা পানি আমি বেশিদূর নামতে পারলাম না, ভুস করে ভেসে উঠলাম। বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার নিচে নেমে গেলাম, এবার মনে হয় আরো নিচে নামতে পারলাম, হাত দিয়ে আঁকাটাকে খুঁজতে থাকি। নরম কাদার মাঝে হাত লাগল, মনে হলো পিছল মতন কিছু একটা হাতের উপর দিয়ে চলে গেল। অন্য কোনো সময় হলে নির্ঘাত ভয়ে চিৎকার করে উঠতাম, আজকে কিছুই করলাম না। হাতটা নাড়াতে থাকলাম, হঠাৎ করে একটা আঁকা হাতে লাগল। টেনে তোলার আগেই মনে হলো নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে যাব, তাই আঁকা ছাড়াই উপরে উঠে এলাম। ছেলেটা একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী অবস্থা? পারবে? নাকি আমি নামব?” “পারব। আর একবার।” আমি বড় বড় করে কয়েকটা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার ডুবে গেলাম। এবারে সত্যি সত্যি খাঁচাটা একবারে পেয়ে গেলাম তারপর সেটা টেনে উপরে নিয়ে এলাম। ছেলেটা আমাকে দেখে হাততালি দিয়ে বলল, “বাহ! বাহ্! এই তো শিখে গেছ!” আমি খাঁচাটা নৌকার ওপর রেখে নিজেকে টেনে নৌকার ওপর তুলে খানিকক্ষণ নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম, “দাও, আমি মাছগুলো বের করি।” “পারবে?” “কেন পারব না?” “ছেলেটা ভেতরে উঁকি দিয়ে বলল, ভেতরে মনে হয় একটা শিং মাছ আছে। শিং মাছ ঘা দিলে কিন্তু খুব ব্যথা। বিষাক্ত।” “সত্যি?”  “হ্যাঁ।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোনটা শিং মাছ?” “ঐ যে কালো মাছটা। দুই পাশে বিষাক্ত কাটা। দাঁড়াও এইটা আমি বের করে দিই। তুমি অন্যগুলো বের করো।” ছেলেটা খুব কায়দা করে শিং মাছটার মাথাটা কীভাবে জানি চেপে ধরে টেনে বের করে ঝুপড়ির ভেতর রেখে দিল। আমি অন্য মাছগুলো বের করলাম। একটা দুইটা মাছের রং কী সুন্দর। ছেলেটা বলল, এই মাছগুলোর বিয়ে হচ্ছে তাই নাকি তাদের এতো সুন্দর রং। কী আশ্চর্য, মাছদেরও বিয়ে হয়! গায়ে হলুদ হয়! একদিনে কতো কী মজার জিনিস জেনে গেলাম। সব মাছ বের করার পর ছেলেটা খাঁচাটা আবার পানির নিচে রাখার জন্য নদীতে ঝাঁপ দিল। আমি তার গামছা দিয়ে শরীরটা মোছার চেষ্টা করছি ঠিক তখন একটা মেয়ের গলা শুনতে পেলাম, “এই যে মাঝি।” আমি চমকে উঠলাম, কে কথা বলে? নদীর তীরে তাকিয়ে দেখি সেখানে একটা নাদুসনুদুস ছেলে আর একটা টিসটাস মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুজনই আমাদের বয়সী কিংবা এক দুই বছর বড়। দুজনেই ফর্সা কিন্তু নিশ্চয়ই রোদে হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস নাই, তাই রোদে, গরমে, ঘামে লাল হয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে তাকালাম, আমাকেই মাঝি বলে ডাকছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। আমার জীবনে আমাকে অনেক কিছু বলে ডাকা হয়েছে (যার বেশির ভাগই মোটামুটি অসম্মানজনক) কিন্তু এর আগে কখনোই কেউ আমাকে মাঝি বলে ডাকে নাই। আমি নিজের দিকে তাকালাম, সারা শরীরে কাদা, খালি গা, মাথায় শার্টটা বেঁধে রেখেছি, জামা কাপড় ভিজা। কাজেই কেউ যদি আমাকে মাঝি বলে ডাকে অবাক হবার কিছু নাই। মেয়েটা আবার ডাকলো, “মাঝি, এই মাঝি।” আমি বললাম, “আমাকে ডাকছ?” নাদুসনুদুস ছেলেটা মুখ ভ্যাংচে বলল, “আর কাকে ডাকব? আর কে আছে এইখানে?” খুবই সত্যি কথা। এইখানে অবশ্য আরো একজন আছে যে এই মুহূর্তে পানির নিচে খাঁচাটা বসাচ্ছে সেটা অবশ্য তাদের জানার কথা না। সেই মুহূর্তে ছেলেটা পানির নিচ থেকে ভুস করে ভেসে উঠল, নাদুসনুদুস ছেলে আর টিসটাস মেয়েটা একটু চমকে উঠল। পানির নিচে কেউ এতক্ষণ ডুবে থাকতে পারে সেটা তাদের জানার কথা না। আমি নিজেও আগে জানতাম না। ছেলেটা ভেজা শরীরে নৌকায় উঠে একবার আমার দিকে তাকালো তারপর তীরে দাঁড়ানো নাদুসনুদুস ছেলে আর টিসটাস মেয়ের দিকে তাকাল, তারপর আবার আমার দিকে তাকাল। তারপর জিজ্ঞেস করল, “কী ব্যাপার?” আমি বললাম, “এরা মাঝির সাথে কথা বলতে চায়।” ছেলেটার চোখে কৌতুক ঝিলিক করে উঠল। নৌকাটায় উঠতে উঠতে নাদুসনুদুস ছেলে আর টিসটাস মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি হেড মাঝি।” আমাকে দেখিয়ে বলল, “এ হচ্ছে আমার এসিস্টেন্ট। বল, কী বলতে চাও।” মেয়েটা বলল, “আমরা হারিয়ে গেছি।” আমার কেন জানি হাসি পেয়ে গেল, কষ্ট করে হাসি থামিয়ে বললাম, “কে বলেছে তোমরা হারিয়ে গেছ? এই যে তোমরা আমাদের সামনে! স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।” মোটাসোটা ছেলেটা গরম হয়ে বলল, “ঠাট্টা করবে না। আমরা মনি কাঞ্চন যাচ্ছিলাম এখন রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না।” মনি কাঞ্চন শুনেই আমাদের হেড মাঝি তার মাথা মোছা বন্ধ করে আমার দিকে অর্থপূর্ণভাবে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টির অর্থ যা কিছু হতে পারে, আমি ধরে নিলাম সে বলছে, “এরা হচ্ছে সেই বড়লোকের বাচ্চা যারা পঞ্চাশ হাজার টাকার হোটেলে থাকে। এদের শরীরের চামড়া মাখনের মতো নরম, জোছনার আলোতে সেই চামড়া পুড়ে যায়। ছেলেটা অধৈর্য হয়ে বলল, “মনি কাঞ্চন কীভাবে যেতে হয় জান?” “জানি। যদি হেঁটে যেতে চাও অনেক দূর। কমপক্ষে তিন চার কিলোমিটার। নৌকায় গেলে কাছে। এই বাঁকটা পার হলেই হাওড়, হাওড়ের পাড়ে।” মেয়েটা বলল, “আমাদের নৌকা করে মনি কাঞ্চনে পৌঁছে দাও।” আমি একটু অবাক হয়ে মেয়েটার দিকে তাকালাম, অনুরোধ নয় আবার আদেশও নয়। একটা দাবী। আমাদের উপর যেন তার একটা অধিকার আছে। আমি ভেবেছিলাম আমাদের হেড মাঝি সরাসরি না বলে দেবে কিন্তু সে না বলল না। আমার দিকে একবার তাকালো তারপর নাদুসনুদুস ছেলে আর টিসটাস মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল, “সাঁতার জান?” মেয়েটা বলল, সুইমিং পুলে জানি।” “নৌকা ডুবে গেলে সাঁতরাতে পারবে?” নাদুসনুদুস ছেলেটা কেমন যেন ভয় পেয়ে বলল, “নৌকা কেন ডুবে যাবে?” “আমি বলি নাই ডুববে, বলেছি যদি ডুবে যায়।” মেয়েটা বলল, “কেন ডুবে যাবার কথা বলছ?” “দেখ, আমার নৌকা ঘোট। তোমাদের যদি নৌকায় উঠার অভ্যাস না থাকে, ওঠে যদি নড়াচড়া করো নৌকা কাত হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া তোমাদের মনি কাঞ্চনের একটা বেয়াদব স্পিডবোট আছে, সেটাতে মাস্তানেরা ঘুরে বেড়ায়। সেটার বিশাল ঢেউ হয়, সেটা যদি নৌকার গা ঘেষে যায় তবে যা কিছু হতে পারে। সেই জন্য” মেয়েটা কোনো কথা বলল না। নাদুসনুদুস ছেলেটা বলল, “আমরা খুব সাবধানে থাকব।” ছেলেটা লগি দিয়ে নৌকাটাকে তীরের কাছে নিয়ে বলল, “নাও। উঠো নৌকায়।” ছেলেটা আর মেয়েটা জুতা খুলে পানিতে পা ভিজিয়ে নৌকায় উঠল। তারা নৌকার মাঝামাঝি বসেছে, আমি পিছনে বসেছি। ছেলেটা লগি দিয়ে ঠেলে নৌকাটাকে নদীর ভেতরে দিয়ে বৈঠা হাতে তুলে নিল। নৌকার গলুইয়ে আরো একটা বৈঠা ছিল আমি সেটা হাতে নিয়ে নৌকা বাইতে সাহায্য করতে লাগলাম। একটু পরেই ছেলে আর মেয়েটি নিজেদের ভিতরে কথা বলতে শুরু করল। আমরা যেন বুঝতে না পারি সেইজন্য ইংরেজিতে বলছে, ছেলেটা বলল, “এদের কতো টাকা ভাড়া দিতে হবে?” মেয়েটা বলল, “জানি না।” “আগে থেকে ঠিক করে নেয়া উচিত ছিল। পরে অনেক বেশি চাইবে।” “চাইলে চাইবে।” আমি বললাম, “এই ছেলে আর মেয়ে। তোমরা ইংরেজি ছাড়া আর কোনো ভাষা জানো?” মেয়েটা অবাক হয়ে বলল, “কেন?” কারণ, “আমরা ইংরেজি জানি। তোমরা কী বলছ আমরা বুঝতে পারছি।” নাদুসনুদুস ছেলে আর টিসটাস মেয়ে কেমন যেন চমকে উঠল, নৌকা বাইতে বাইতে আমাদের হেড মাঝি হা হা করে হেসে বলল, “তোমাদের কোনো টাকা দিতে হবে না। আমরা টাকার জন্য তোমাদের মনি কাঞ্চন নিয়ে যাচ্ছি না।” নাদুসনুদুস ছেলেটা বলল, “তাহলে কী জন্যে নিয়ে যাচ্ছ?” আমি বললাম, “হাওড়ের মাঝখানে নিয়ে তোমাদের ছিনতাই করার জন্য।” মেয়েটা হেসে ফেলল, বলল, “যাও। ঠাট্টা করো না।” আমাদের হেড মাঝি বলল, “তোমাদের নিয়ে যাচ্ছি কারণ তোমরা বিপদে পড়েছ সেইজন্য।” ছেলেটা মুখ গোঁজ করে বসে রইল, মেয়েটা বলল, “থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ।” আমি বললাম, “আগেই এতো থ্যাংক ইউ দিও না। তোমাদের মনি কাঞ্চনের গার্ডেরা নাকি মেশিনগান হাতে নিয়ে পাহারা দেয়। দূর থেকে আমাদের দেখে মেশিনগান দিয়ে গুলি না করে দেয়।” আমার কথা শুনে মেয়েটা আবার হি হি করে হাসল। মেয়েটা হাসিখুশি, ছেলেটা ভোতা। নৌকা করে যেতে যেতে মেয়েটা আমাদের সাথে কথাবার্তা বলল, আমরা যে আসলে মাঝি না তাদের মতো স্কুলে পড়ি ব্যাপারটা টের পেয়ে একটু লজ্জাও পেল। আমি এখন জঙ্গলে একটা মাইক্রোবাসের ভিতরে ল্যাবরেটরিতে থাকি শুনে খুব অবাক হলো। জায়গাটা ঠিক কোথায় জেনে নিল। বেশ কয়েকবার বলল, সে দেখতে আসবে। নাদুসনুদুস ছেলে অবশ্য কোনো উৎসাহ দেখাল না। নদীর বাঁকটা ঘুরতেই আমি দূরে মনি কাঞ্চন দেখতে পেলাম। দূর থেকে একেবারে রাজপ্রাসাদের মতো মনে হয়। পুরো এলাকাটা ঘিরে মনে হয় অনেক রকম গার্ড, নিশ্চয়ই বাইনোকুলার দিয়ে দেখে। দূরে আমাদের নৌকাটা দেখামাত্র তারা সেই বেয়াদব স্পিডবোটে করে আমাদের দিকে রওনা দিল, স্পিডবোটে একজন একটা অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, দেখে মনে হয় সত্যিই গুলি করে দেবে। স্পিডবোটটা কাছাকাছি আসার আগেই তাদের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল যেন ঢেউয়ের জন্য ঝামেলা না হয়। কাছাকাছি এসে গার্ডগুলো টিসটাস মেয়ে আর নাদুসনুদুস ছেলের খোঁজ খবর নিল। তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইল। তারপর খুব সাবধানে তাদেরকে স্পিডবোটে তুলে নিল। আমাদের দুইজনের দিকে একবার ঘুরেও তাকালো না, আমাদেরকে দেখেছে কিনা সেটাও বুঝতে পারলাম না। স্পিডবোটটা যাবার সময় পুরো ইঞ্জিন চালিয়ে গর্জন করে চলে গেল, তার ঢেউয়ে আমাদের ছোট নৌকা দুলতে লাগল, দুলতে দুলতে ডুবে গেলেও এখন তাদের আর সমস্যা নেই। তাদের মনি কাঞ্চনের গেস্টদের তারা তুলে নিয়েছে। ঢেউ কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে আমরা আবার বৈঠা তুলে নিয়েছি। দূর থেকে স্পিডবোটের মেয়েটা একবার আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ল, আমিও হাত নাড়লাম। হেড মাঝি ছেলেটা হাত নাড়ল না, চাপা গলায় বলল, “বড় লোক হওয়ার কত সমস্যা দেখছ?” সমস্যাটা কী আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, কিন্তু তারপর মাথা নেড়ে মেনে নিলাম যে বড় লোক হবার অনেক সমস্যা। ঠিক যেখান থেকে আমি নৌকায় উঠেছিলাম ছেলেটা আমাকে সেখানে নামিয়ে দেল। আমি আবার ব্যাকপেকটা নিয়ে ঠিক চলে যাবার আগে জিজ্ঞেস করলাম, “তোমার নামটা জানা হয় নাই। হেড মাঝি ডাকব নাকি আরো নাম আছে?” ছেলেটা হাসল, বলল, “হেড মাঝি ডাকতে পার, সমস্যা নাই। তবে আমাকে সবাই মাহবুব ডাকে। তোমার?” “আমার নামটা খুবই জঘন্য। এসিস্টেন্ট মাঝিই ভালো।”  ছেলেটা আবার হাসল, তারপর বলল, “জঘন্য নামটাই শুনি।” “টোপন।” “টোপন? কী সুন্দর নাম, জঘন্য বলছ কেন?” আমি আর কিছু বললাম না। এইভাবে আমার সাথে হেড মাঝি মাহবুবের পরিচয় হলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...