বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিউজপেপার (৪)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ZAiM (৩৫৩ পয়েন্ট)



X তেইশ মে , সীমান্ত সন্ধ্যায় ক্রিকেট খেলে আসছে । এমন সময় চায়ের দোকান থেকে কাশিম চাচা তাকে ডাকলো আর হাতে নিউজপেপার ধরিয়ে বললো যেন এটা মেসে নিয়ে যায় । ঘন্টা খানেক আগে কাশিম চায়ের দোকানে এসেছিলো । বরাবরের মত দু-একজন পরিচিত এর সাথে আড্ডায় মেতে উঠে কাশিম । কথার টপিক ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে এমন বিষয়ে উঠে আসে যা শুনে কাশিম খুশিতে আত্মহারা । প্রথমত সে ছটফট করে একটা নিউজপেপার খুজতে লাগলো । রোকন মামা চায়ের দোকানের নিউজপেপার দিবেন না তাকে কারন দৈনিক খবরাখবর পড়ে দোকানে কাস্টমার এর আগ্রহ বাড়াতে এ নিউজপেপার একটা একধরণের বড়শি । কাজেই পাশের ওষুধ এর দোকন থেকে গিয়ে নিউজপেপার নিলো আর চা খেতে বসবে এমন সময় দেখলো সীমান্ত হেটে যাচ্ছে হাতে পুরোনো ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে । বৃদ্ধার কথা শুনে আরো অবাক হয়ে বলতে লাগলো সীমান্ত , আরেহ এটা তো আমি না , এটা কাশিম চাচা ... বৃদ্ধ বলতে লাগলো তুমি কিভাবে জানলে এটা কাশিম চাচা । কাশিম চাচা ই বা কে ?? আমি বলছি এটা তুমি । সীমান্ত জোর গলায় আবার বললো আরেহ এটা আমি না । হাতের দিকে ইশারায় বৃদ্ধকে বলল সীমান্ত , দেখেন ওই যে হাতের ব্রেসলেট ওটা কাশিম চাচা ই পড়ে সব সময় । আর তার গায়ের শার্ট দেখো ওটাও তার । আমি আমাকে চিনবো না এটা কখনো হয় নাকি । বৃদ্ধ তার কথা মানতে বাধ্য । এমনটা ও হতে পারে । আর তাছাড়া বিধ্বস্ত পৃথিবীর মাঝ বরারবর দাঁড়িয়ে দুজন তর্কে বাঁধলেও বিষয়টা ঠিক সুন্দর দেখায় না । বৃদ্ধা জানে তার কি করা দরকার সব গন্ডগুল ঠিক করার জন্য । তাই অপাদত বোকা ছেলের কথা মেনে নিলে কিছু যায় আসে না । সীমান্ত কে তার প্লাস্টিকের হাত ধরিয়ে তারা পুনরায় সেই রাজবাড়িতে ফিরে আসলো । ওহ এবার বুঝেছি । নিউজপেপার এর এই জাদুটা আসলে কাশিম চাচার হওয়ার কথা ছিল । কোনো এক কারনে এটা আমার হয়ে যায় আর এতে আমি এখানে এই বুড়োটার সাথে ... বৃদ্ধা তার দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । ওহ হ্যাঁ সে তো জানে আমি কি ভাবছি , ভ্যাবাচেকা খেয়ে সীমান্ত বলতে লাগলো । এইযে এসব যে হচ্ছে এটা কি উপেক্ষা করা যায় না কোনো মতে । বৃদ্ধা , হ্যাঁ যায় তবে এর দুটু উপায় আছে । সীমান্ত যদিও চায়না তার শক্তি ফেরত দিতে । কারন এটা থাকলে সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে । যদিও শক্তিটা বিপদজনক অনেক । কারণ সময় নিয়ে খেলা করা অনেকটা আগুন নিয়ে খেলা করার মত । বলতে গেলে এর থেকেও জঘন্য । একটু আগ্রহের ভান নিয়ে সে জিজ্ঞাসা করলো । কোন দুই উপায় । বৃদ্ধা হাটতে হাটতে অন্য রুমে যাচ্ছে , আর বলছে , প্রথম পদ্ধতি হচ্ছে তোমাকে আর কাশিম লোকটাকে হত্যা করা যাতে তোমাদের সময় চালান এখানেই সমাপ্ত হয় । তোমার ভবিষ্যতের সাথে যেহেতু সম্পৃক্ত থাকবে না সেহেতু যে ভবিষ্যৎ একটু আগে দেখলে সেটা পাল্টে যাবে । সীমান্ত ভয় ক্লান্ত ডুক গিলতে গিলতে জিজ্ঞাসা করলো পরের পদ্ধতির কথা । বৃদ্ধা , ওটা আরো জঘন্য । মৃত্যুর থেকেও কষ্টদায়ক । এমা, এটা কোন ধরনের বিপদরে বাপু । নাহ রে ভাই এ শক্তির দরকার নেই । কেন যে এ বিপদজনক কাণ্ডে বাজতে গেলাম । কে জানতো সামান্য শক্তির জন্য নিজের জীবন দিতে হবে । তাছাড়া এ শক্তি আমার কাছে থাকলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এতেও মৃত্যু অনিবার্য । এর থেকে আমার মৃত্যু উত্তম কারন এটাই পৃথিবীর জন্য শ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ এতে আমি একমত । ভয় নিয়ে মনে মনে এসব ভাবতে ভাবতে অনুতপ্ত হচ্ছে সীমান্তের । তার নিজের থেকেও বেশি আফসোস হচ্ছে কাশিম চাচার জন্য । বেচারা অযথা নিজের অজান্তেই নিজের মৃত্যুর দাওয়াত পেয়ে গেল । তোতলাতে তোতলাতে সীমান্ত বৃদ্ধার কাছে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো এখন সে কি করবে । বৃদ্ধার পিছু পিছু আসার পর সে বুঝতে পারলো বৃদ্ধা যে রুমে ঢুকলো ওটা আসলে অস্ত্রাগার । সাধারণ অস্ত্র থেকে তার অজানা অদ্ভুত সব এই রুমে আছে । রুম বিশাল আর খোলামেলা তাই সব দেখে তার বুঝতে অসুবিধা হয়নি সে তার অন্তিমশয্যায় দাঁড়িয়ে আছে । পালাতেও পারবে না এখন থেকে , ঘর থেকে বের হওয়ার পদ্ধতি শুধু বৃদ্ধাই জানে । সীমান্ত কে জোরে জোরে ডাকছে কাশিম চাচা । সে উঠে বসলো । হাসপাতালে সে । কাশিম চাচা বাইরে গিয়ে তার পরিবারের সবাইকে বলতে গেল যে সীমান্তের জ্ঞান ফিরেছে । সীমান্ত বুঝতেই পারছেনা কি হয়েছে তার । প্রচুর মাথা ব্যথা । একটু আগেই না আমি পড়তে বসেছিলাম । ওহ হ্যাঁ নিউজপেপার নিয়ে ভাবতে ভাবতে বোধয় অজ্ঞান হয়ে পড়ি । এসব চিন্তা করতে করতে রুমে কাশিম চাচা সহ তার পরিবারের সবাই ঢুকলো । সাথে দু একজন বন্ধু ও আছে । কাশিম চাচা বলতে লাগলো । তুই গত তিন চার দিন ধরে কোমায় ছিলি । তোকে পড়ার টেবিলে অজ্ঞান অবস্থায় পেয়েছি । ডাক্তার বললো তোর মূলত কিছুই হয়নি । সব ঠিক ঠাক ই আছে । তোর শুধু রেস্ট দরকার একটু । কিন্তু আমরা কেউ জানি না তার কি হয়েছিল । সে ক্লান্ত অবস্থায় আবার ঘুমিয়ে পড়লো । ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্ন দেখছে । এক বৃদ্ধা তাকে বলছে , বোকা ছেলে প্রথম পদ্ধতি ছিল তোমাদের হত্যা করা আর দ্বিতীয় পদ্ধতি ছিল সব কিছু ভুলিয়ে তোমার শক্তি নিয়ে নেওয়া । এটাকে আমি মৃত্যুর থেকেও জঘন্য বলেছি কারন কোনো কিছু না জানা মৃত্যুর থেকেও বেশি কষ্টদায়ক । আমি আমার পাঁচ হাজার বছর বয়স অজানাকে জানার জন্য সাধনা করেছি । কিন্তু এখনো আমি অনেক কিছুই জানি না । তবে তোমার জন্য আমি একটা উপহার দিয়েছি । তোমার আগ্রহ ও সততার উপহার । আবারো অদ্ভুত স্বপ্ন । ঘুম থেকে উঠে সীমান্ত ভাবতে লাগলো । কি আজব , গতকাল ও একটা অদ্ভুত সপ্ন দেখেছিলাম । আমি পৃথিবীর শেষ প্রান্তে । আজ আবার এক বৃদ্ধ কি সব আবুল তাঁবুল বলছে আমাকে । আবার বলছে উপহার ও দিয়েছে । কিছুদিন যেতে না যেতেই সীমান্ত বুঝতে পারলো তার উপহার কি । সে খুব মেধাবী এখন । মেধাবী বলতে , সে কোনো কিছু এতই তীক্ষ্ণ ভাবে মনে রাখতে পারে যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না । কোনো বিষয় একবার শুনলে বা পড়লে সে পরবর্তীতে যেকোনো মুহূর্তে সে জিনিস হুবহু বলতে পারে। এমন সে আগে পারতো না । কোনো পড়া পড়তে এখন তার আর অসুবিধা হয়না । সীমান্ত এমিতেও পড়ালেখার আগ্রহী একজন । সে যদ্দুর জানে সে পড়ালেখায় ততটাও পাকা ছিল না এর আগে । তবে এখন সে অনেক পাকা । সে বুঝতে পারছে সেটা , খুব , হয়তো তার আগ্রহের ই উপহার এটা । (সমাপ্তি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রুহান রুহান (৪)
→ পদ্মা নদীর মাঝি (৪)
→ নিউজপেপার (৩)
→ নিউজপেপার (২)
→ নিউজপেপার (১)
→ আমার সাইন্টিস মামা (৪)
→ খুদে বাহিনীর গুহা অভিযান (৪)
→ আঁখি এবং আমরা ক'জন (৪)
→ পথের পাঁচালী (৪)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...