বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিউজপেপার (৩)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ZAiM (০ পয়েন্ট)



X দরজার পাশে একজন বৃদ্ধপ্রায় ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যার সারা শরীর চাদরে ঘিরা , নোংরা ধূসর চাদর আর হাতে একটা অদ্ভুত লাঠি । তার দিকে তাকিয়ে হাসছে সে ... কে !! কে !! কে আপনি ? হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞাসা করলো সীমান্ত । ঘরের দরজা আটকানো ছিল , অতএব কেউ বাইরে থেকে আস্তে পারবে না । তাছাড়া ব্যক্তিটির অবস্থা দেখে মনে হয় তিনি অনেক কষ্টে দাঁড়িয়ে আছেন , হাঁটার মত নয় । হেটে আসলে অবশ্য আওয়াজ হতো প্রচুর , তবে নাহ । হাতের অদ্ভুত লাঠির উপর ভর করে দাঁড়িয়ে সীমান্তের দিকে তাকিয়ে হাসছে সে । আজব হাসার কি আছে আমার দিকে তাকিয়ে ? কোত্থেকেই বা আসলো সে ? সে কিভাবে জানে আমার শক্তির কথা । সব চিন্তা যেন এলোমেলো হতে লাগলো সীমান্তের সন্দেহের কুলে । ভয় এর কিছু নেই । এটা বলে বৃদ্ধলোকটি মুহূর্তেই বাতাসে মিলে গেল ধূসর ধুলোর অবয়ব রেখে । দরজার পাশ থেকে আবার সাথে সাথে চৌকির উপর বসা অবস্থায় বাতাস থেকে উদিত হলো একই ভাবে যেন এবার ধুলোর অবয়ব একত্রিত হয়ে গঠিত হয়েছে সে । ওহ আচ্ছা ! তাহলে সে এভাবেই চলাফেরা করে । বাতাসে মিলে গিয়ে আবার নিজের ছদ্দবেশে এসে । সে কি আলাদিনের জ্বীন নাকি ?? গায়ের চামড়া একদমই মানুষের । খুব বৃদ্ধা মানুষের । হবে কি সত্তর-আসি বছরের কোনো ব্যক্তি । চাঁদরে সারা শরীর ঘেরা হলেও এক হাত দিয়ে লাঠি ধরে , স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে হাতের চামড়ায় শিরা-ধমনি সব বেরিয়ে আসতে চাইছে চামড়া ভেদে । তাকে জিজ্ঞাসা করলো , ছেলে তুমি কি জানো তোমার এ শক্তিটা তুমি কিভাবে পেয়েছো ?? নাহ জানি না , আর জানতেও চাই না । আপনি কে সেটা বলেন , বিভ্রান্ত সীমান্ত জিজ্ঞাসা করলো । আমি কে সেটা না বলে বরং তোমাকে দেখলেই ভালো হয় । এই বলে লাঠিটির হাতে নিয়ে উপরে করে সে তার দ্বিতীয় হাত বের করে সীমান্ত কে বলল আমার হাত ধরো । পুরো হাত প্লাস্টিকের মত । বুঝায় যাচ্ছে আলগা লাগানো । রং টা অনেকটা সাদা তবে খেলনার হাত । সীমান্তের আগ্রহ হাত টা ছুঁয়ে দেখা । দিন দুপুরে জ্বিন ভুতের হাত ধারার সুবিধা কার ই বা জুটে তাই না ? হাত ধরতেই লোকটি লাঠিটা উপরে করে ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কি জানি পড়তে লাগলো । এবার ধরতে পেরেছে সীমান্ত । আরে ইনি তো জাদুকর , ওয়েস্টার্ন কালচার এ যাকে উইজার্ড বলা হয় । আনন্দে আত্মহারা সীমান্ত আগ্রহের সাথে তাকিয়ে আছে লোকটির কান্ড কারখানা । চারপাশ অদ্ভুত ভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে , যেন ছবি আঁকা রং এর কাগজে পানি ঢাললে যেমন দেখায় তেমন । তবে এখানে ছবি আঁকা কাগজ তো নেই , তার আসে পাশের সব কিছুই মিলিয়ে যাচ্ছে এভাবে । আর পুনরায় মিলিত হতে হতে সীমান্ত নিজেকে আবিষ্কার করলো একটা বড় বাড়ীতে । চারদিকে তাকাচ্ছে ভালো করে । পাশে বৃদ্ধলোকটি বারান্দা হেটে একটা বড় রুম এ ঢুকলো । পিছু নিয়ে সীমান্ত ও ঢুকলো একই ঘরে । ইয়া বড় রুম । এত বড় রুমে সে চাইলে ব্যাডমিন্টন খেলতে পারবে । অবশ্য বৃদ্ধা হেরে যাবে তার সাথে । মনে মনে হাসতে লাগলো সীমান্ত কথাটা ভেবে । তুমি কি জানো তোমার অতীতে যাওয়ার শক্তিটা ওটা মোটেও তোমার না । বৃদ্ধলোকটি বলে উঠলো । আর হ্যাঁ , তুমি যা ভাবছো ওটা ভুল , তুমি আমার সাথে টেনিস ব্যাডমিন্ট যাই খেলো তুমি ই হেরে যাবে । লোকটা এমন না যে হাটতে পারছে না , তাকে দেখে দুর্বল মনে হলেও সে মোটেও দুর্বল নয় । এক রুম থেকে অন্য রুমে দিব্যি হেটে আসলো । অবশ্য লাঠির সাহায্যেই । দূর ছাই , জেনে গেল কিভাবে সে ?? সীমান্ত জিজ্ঞাসা করলো তারা এখন কোথায় আছে এখন এ কথাটার জবাব পেয়ে সে নিজেই হতভম্ব কারন সে জানেনা তার রিয়েকশন কি হওয়া উচিত । তারা একটা অন্য ডাইমেশন এ । ডাইমেনশন সম্পর্কে বলি , এটা একটা জায়গা যার অস্তিত সম্পর্কে এখনো কোনো বিজ্ঞানীরা কিছু প্রমান করে পারেন নি । দ্বিতীয় ডামেনশন , যেমন কাগজ এর আঁকা জগৎ , ছবি । ওগুলো দৈর্ঘ্য প্রস্থ্য দিয়ে মাপা যায় । তৃতীয় ডাইমেনশন , যা দৈর্ঘ্য প্রস্থ্যের সাথে উচ্চতা ও হিসাব করতে হয় । যেটাতে বাস্তব জগতের সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত । এর পর চতুর্থ ডাইমেনশন , এটা এমন একটা জগৎ যেখানে সময় শুন্য । অর্থাৎ সময় হিসাব করা যাবে না । আচ্ছা গল্পে আসি , এটা বৃদ্ধলোকটি বলবে খুলে ... সীমান্তের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে , এই ঘরটা আমার । আমি এখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করি । আমি একজন জাদুকর , সময় নিয়ে গবেষণা করার বেলায় আমি এই জায়গাটা আবিস্কার করি । ঘরটির মোট দুইটি দরজা আর অসংখ রুম আছে । রুম গুলো আমার বানানো তবে দরজা এই ঘরের ই অংশ । একটি দরজা দিয়ে বের হতে হয় অন্যটি দিয়ে প্রবেশ । এ ঘরের সাথে সময়ের কোনো সম্পর্ক নেই । তাই এটিকে চতুর্থ ডিমেনশন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি আমি । আমি এখানে পাঁচ হাজার বছর এর বেশি আছি আর সময় নিয়ে গবেষণা করছি । সব কটা কথা শুনে সে ভয় আর হতভম্ব এর পাশাপাশি তার আনন্দ আর আগ্রহ অনুভূতি বাড়তেই লাগলো । সোফায় বাচ্চার মত বসে এ সব কথা শুনতে শুনতে হটাৎ হাত উপরে তুলে সীমান্ত বললো একটা প্রশ্ন ছিল !! লোকটি তার আগ্রহ দেখে বললো হ্যাঁ, বলো কি বলবে । জিহ, আমার খুব খিদা লেগেছে , এখানে খাবার সংরক্ষণ ঘরটা কোথায় ?? বৃদ্ধা তার লাঠি বাতাসে তুলে মন্ত্র পড়তেই টেবিলে কিছু খাবার চলে আসলো । আর বলতে লাগলো তোমার কাছে যে শক্তিটি আছে এটা তোমার কাছে থাকা উচিৎ নয় । আমার একটা ভুলের কারণেই তোমার কাছে এই শক্তিটি এসেছে । সীমান্ত টেবিল থেকে খাবার মুখে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো , কি ভুল ? আমি চেয়েছিলাম সময়কে নিয়ন্ত্র করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া বের করতে । তার জন্য আমি অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছি । তার মধ্যে একটা ছিল তোমার এই নিউজপেপার এক্সপেরিমেন্ট । অবশ্য সব ঠিকঠাক ই ছিল তবে আমার উদ্দেশ্য এটি পূরণ করতে পারে না । এই যে দেখছো আমি বৃদ্ধ , আমি চেয়েছিলাম সময় কে নিয়ন্ত্রণ করে আবার পুনরায় নিজের যৌবন ফিরে পেতে । তবে নিউজপেপার এর মাধ্যমে এটা সম্ভব নয় । কারন এ শক্তি তুমি যে অবস্থায় আছো ওই অবস্থায় অতীতে নিয়ে যাবে আবার একই অবস্থায় বর্তমানে ফিরিয়ে আনবে । সীমান্ত বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়ে খুব মজার একটা প্রশ্ন করে বসলো । আচ্ছা এই চতুর্থ ডাইমেনশন যদি সময় এর সাথে সংযুক্ত না থেকে তাহলে তুমি বৃদ্ধ হচ্ছ কিভাবে ? তুমি যেমন আছো তেমন ই থাকা প্রয়োজন তাই না ?? বৃদ্ধ বললো , তোমার কথা ঠিক , আমি যতক্ষন এখানে আছি আমার বয়স বাড়ে না । তবে আমাকে বিভিন্ন গবেষণার কাজে এ ঘর থেকে বের হতে হয় । আর তখন ই আমার বয়স বাড়তে থাকে । সময়কে নিয়ন্ত্রণ করার মন্ত্র শিখতে পারলে আমি অমর হয়ে যাবো । আরো গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবো । আরো অনেক কিছু শিখতে পারবো । কিন্তু তোমার হাতে শক্তিটা আছে এটা সব পাল্টে দিয়েছে । আমি এ ঘরে থেকে না হয় বেঁচে যাব তবে তোমাদের জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে তোমার হাতে । এর ফলে আমি অমর হলেও এর কোনো মূল্য থাকবে না । আমার গবেষণা করার মত কিছুই থাকবে না তোমাদের জগতে । কথাটা শুনে ভ্রু কুঁচকে উঠলো সীমান্ত । কিভাবে ধ্বংস হবে ?? প্রশ্নের জবাব দিবে বলে বৃদ্ধা বললো চলো তোমাকে তোমাদের পৃথীবির ভবিষ্যত দেখায় । এ বলে এবার লাঠিটা সামনে ধরলো সমান্তের । অর্থাৎ লাঠিটাই ধরতে হবে এবার । চোখের পলকে সে নিজেকে আবিস্কার করলো পরিচিত এক জায়গায় । এ জায়গাটা সে আগেও একবার দেখেছে । একটা পাহাড়ের উপর সামনের দিকে কোনো যাওয়ার সুযোগ নেই । যেন পৃথিবীর প্রান্ত এখানেই শেষ এর পর কোনো মাঠি নেই । আর পিছনে সব ধই ধই করে জ্বলছে আর তাদের সামনে উল্টো দিক করে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন । হ্যাঁ , মনে পড়ে গেল এই জায়গাটার কথা । সে স্বপ্নে দেখছিল । অনেক বাস্তব সম্মত সপ্ন । এটা দেখে সে অবাক হয়ে গেল । এটা তুমি , তোমার এ শক্তির জন্য তোমার হতেই ধ্বংস হবে পৃথিবী আর সৌরজগত । বৃদ্ধার কথা শুনে আরো অবাক হয়ে বলতে লাগলো সীমান্ত , আরেহ এটা তো আমি না , এটা কাশিম চাচা ...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিউজপেপার (৪)
→ নিউজপেপার (২)
→ নিউজপেপার (১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...