বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে শামীমকে চিরদিনের জন্য হারালাম

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (০ পয়েন্ট)



X আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে শামীমকে চিরদিনের জন্য হারালাম। ০১/০৯/২০২১ গতকাল রাতে আমাকে হিরামনি ম্যাসেঞ্জারে জানতে চাইল আমার বন্ধু শামীম কেমন আছে? আমি তো অভাক! হঠাৎ শামীমের কথা হিরামনি জানতে চাইবে কেন? কয়েকদিন আগে শামীম আমাকে ফোন করে বলল, “শুভ তোর ফোন নাম্বার চাইছে আমাদের ক্লাসে লিপি, তাকে তোর নাম্বার দেব?” আমি হেসে বললাম, এটার জন্য আমার পারমিশনের কি আছে? তুই যেটা ভাল মনে করছ তাই কর। আমি আর শামীম ফোনে আমরা আমাদের অতীতের বিষয় নিয়ে হাসি তামাসা করলাম। তার কোন অসুবিধা হলে আমাকে জানাইত কিন্তু হিরামনি শামীমের খোঁজ করবে কেন? মনে কৌতুহল নিয়ে শামীমের মোবাইলে পাঁচটি কল দিলাম। রিং হচ্ছে ধরে না। মনের সন্দেহ আরো বেড়ে গেল। কারণ শামীম প্রায়ই আমাকে ফোন ব্যাক করে। ফোন ব্যাক দূরের কথা ফোনই ধরে না। আমি সার্জেন্ট জামাল উদ্দিন কাকাকে ফোন দিলাম। জামাল কাকার কাছে শামীমের খোঁজ নিলাম। জামাল কাকা কোন ভূমিকা ছাড়াই আমাকে জানাল শামীমের ইসিজি করতেছে ঢাকার একটি হাসপাতালে তবে মনে হয় কন্ডিশন ভাল নয়। রাত এগারটার দিকে আমাকে জানাল, শামীম হার্ট-স্টোক করে মারা গেছে। আমি মুহুর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। সাবিনাকে ঘুম থেকে জাগালাম। সাবিনাকে শামীমের মৃত্যু সংবাদ দিলাম। তারপর আমার চোখে অশ্রুর বন্যা বয়ে চলছে। সাবিনা বলল, “তুমি কান্না-কাটি না করে শামীমদের বাসার যাও। কাকাকে শান্তনা দাও আর দেখ কোন প্রয়োজন আছে কি না?” রাতেই আমি খোকন কাকার বাসায় গেলাম। আমি তাদেরকে শান্তনা দেবার কোন ভাষা খুঁজে পেলাম না। আমার মনে হল শামীম আর বাড়ি এসে আমাকে ফোন দিবে না। অন্য সময় শামীম বাড়ি এসে আমাকে ফোন দিতো। এখন আর ফোন দিবে না। শামীমের আব্বার কান্নায় আমার চোখের পানি আর আটকাতে পারলাম না। আমার পরেই ভাইও উপস্থিত হল শামীমদের বাড়িতে। ভাই ও আমি রাত একটার দিকে নিজ বাসায় আসি। ঘুম আসে না। আমার কাছে বিশ্বাস করতে পারতেছিনা যে শামীম নাই। শামীমের স্মৃতি ভেসে উঠে। আমি আর শামীম প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একসাথে লেখা পড়া করেছি। পরীক্ষায় শামীমের মোট নাম্বার আর আমার মোট নাম্বার প্রায় কাছাকাছি থাকতো। কোন বিষয় আমি বেশি আবার কোন বিষয় শামীম বেশি পেতো। এসএসসির পর শামীম ঢাকা আর আমি রামচন্দ্রপুরে চলে গেলেও বাড়িতে এসে আমাদের যোগাযোগ চলতো। আমরা দুজন দু’জায়গায় থাকলেও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ থাকতো। আমি মালয়শিয়া থাকা অবস্থায় আমি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। দেশে আসার পর তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থাকতো। আমি মাঝে-মধ্যে তার কাছ থেকে টাকা হাওলাত নিতাম। শামীমও মাঝে মধ্যে আমার কাছ থেকে টাকা নিতো। আমার ব্র্যাক একাউন্ট কার্ড, শ্যায়ার বাজারের একাউন্টও তার কাছে। শ্যায়ার বাজার নিম্নগামী হলে শামীমের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিছুদিন আগে শামীম জানাল যে তার ঋণ তেমন নাই। আগের চাকুরীটা ছাড়িয়া নতুন একটা চাকুরী করে। চাকুরীর পাশা পাশি ওষুধের দোকান দিয়েছে। ওষুধের দোকানের ব্যবসাও ভাল। কোন অভাব-অনটন নাই। ছোট ভাই সাইফুল্লাকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তোলেছে। শরীয়তেরও ওষুধের দোকান ভাল চলে। শামীমের একটি মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে আর ছেলেটি প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। সারা রাত শুধু শামীমের স্মৃতিই আমার মনের চোখে ভাসছে। আজ সকালেই শামীমদের বাড়িতে গেলাম। শামীমদের বাড়ির মসজিদের পাশে শামীমকে সমাহিত করা হল। আমি শামীমের জানাযায় শামীমের সন্তানের জন্য দোয়া চাইলাম। শামীমের ছোট ভাই শরিয়তের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আগের সন্ধ্যায় মাগরিব নামাজ পড়ে। ওষুষের দোকান খুলে ক্যাশে বসার পরই সেন্সলেস হয়ে ফ্লোরে পরে যায়। দোকানের ছেলেটি সাথে সাথে শামীমকে ডাক্তারের নিকট নিয়ে যায় এবং শরিয়তকে ফোন করে শামীমের অবস্থা জানায়। ডাক্তার পালস পরীক্ষা করে মৃত বলে জানায়। পরে শরিয়ত ও দোকানের ছেলেটি হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং ইসিজি করে। ডাক্তার মৃত্যু সনদ দেয়। মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৬ ব্যাচের মোশারফ হোসেন প্রবাস থেকে ফোন করে শামীমের খোজ-খবর নিয়ে কান্না করে। মজিদপুরের ফরহাদও ফোন করেছে। উত্তম আমাকে ফোন করে কেঁদে ফেলল। আর মনির হোসেন মজনু তো জানাযায়ই অংশগ্রহণ করেছে। মনির সৌদি আরব থেকে এসেছে মাত্র দুদিন আগে। লিপিও ফোনে খোঁজ নিয়েছে। দিলিপ,রতনও শামীমের মৃত্যুতে শোকাহত। আমাদের অন্যান্য বন্ধুরা জানে শামীমের সাথে আমার বন্ধুত্ব গভীর তাই আমার কাছেই ফোন করে শামীমের খোঁজ নেয়। আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে শামীমকে চিরদিনের জন্য হারালাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...