বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিউজপেপার (১)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ZAiM (০ পয়েন্ট)



X সীমন্ত চক্রবর্তী দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র । একদিন ভোরে পড়তে বসতে গিয়ে সে লক্ষ্য করলো তার একটা অদ্ভুত সুপার পাওয়ার আছে । পড়ার টেবিলের পাশে ছিল নিউজপেপার , বাইশে মে অর্থাৎ দুই দিন আগের । সাধারণত সীমান্ত নিউজপেপার পড়ে না । কিন্তু আগেরদিন বিকেলে ক্রিকেট খেলে আসার সময় কাশিম চাচা যখন চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল তখন সীমান্ত কে মাঠ থেকে আসতে দেখে ডেকে তাকে একটা নিউজপেপার দেয় আর বলে এটা সে যেন তার সাথে মেসে নিয়ে যায় । কাশিম তার মেস-মেট বলা চলে । সে তাকে মজা করে চাচা ডাকলেও তিনি মোটেও চাচা-টাইপ না , নাম টা বাদ দিয়ে আর কি । সেদিন রাতে সে স্বপ্ন দেখে সে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে পিছন দিকে সব আগুনে জ্বলছে আর তার সামনে কোনো কিছুই নেই । যেন সে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে । অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে সে ততটা মাথায় না নিয়ে রীতিমত পড়তে বসেছিল আজ সকালে । পড়ার টেবিলে বসে পড়ছে আর এমন সময় নিউজপেপার এ নজর যেতেই তার মনে হলো সে এই নিউজপেপার যদি ছুঁয়ে দেখে , যদি সে একটু আঙ্গুল ও লাগায় তবে সে অদৃশ্য হয়ে যাবে । মানুষের মনে কোনো সন্দেহ লাগলে মানুষ ঐটাই করে যেটা তার করা উচিত নয় । মনে আছে কি হরর চলচিত্রে যখন অন্ধকার ঘরে কোনো আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায় তখন ওই চলচিত্রের নায়ক ভয় পাওয়ার স্বত্বেও শব্দের পিছে পিছে যায় আর শেষে মারা যায় । কি বোকা একটা কাজ , তাই না ?? সীমান্ত ঠিক একই কথা ভাবতে লাগলো কলম হাতে ঘুরাতে ঘুরাতে , আর হাসতে লাগলো মনে মনে । তবে আবার মনে পড়লো সে পড়তে বসেছে , নাহ এবার হাম খিয়ালি করা যাবে না । লাস্ট টেস্ট এ কম নাম্বার আসায় তার মন খারাপ । এবার সে ভালো করবেই করবে । বই এ মনযোগ দিতে যাবে এমন সময় সে ভুলে নিউজপেপার এ হাত বসিয়ে দিল । আসলে সে চিন্তা করেছিল নিউজপেপার এ সে হাত দিবে না । যাই হোক প্রয়োজন এ আজ সে পড়া টেবিল অগুছালো রাখবে । নাহ ভুল হোক বা ইচ্ছাকৃত , সে তো ছুঁয়েই ফেলেছে । কিছু তো হয়নি তাই না ? কেন জানি নিজেকেও বোকা বোকা মনে করছে সীমান্ত । আরেহ কই আমি তো অদৃশ্য হয়নি এখনো । মনে মনে হাসতে হাসতে বই এর দিকে তাকাতে গিয়ে দেখে ফিজিক্স বই এ সব কিছু ইংরেজি লেখা । আরেহ এটাতো ইংরেজি গ্রামার বই । আমি তো আজকে গ্রামার বই নিই নি । অবাক অবস্থায় উঠে ফিজিক্স বই খুঁজছে সীমান্ত । একদম চারটা বড় বই এর নিচে । তার স্পষ্ট মনে আছে সে গতকাল রাতে বইটি নিচের চাপা থেকে নিয়ে উপরে রেখেছিল যেন সকালে পড়তে হবে তাই । কিন্তু এক মুহূর্তে ওই বই আবার ওই নীচে কিভাবে সে বুঝতে পারছে না । এমতবস্থায় সে লক্ষ্য করলো টেবিলে কোনো নিউজপেপার নেই । এবার সে ঘাবড়ে গেল । কাশিম চাচা তো তাকে মেরেই ফেলবে যদি না জানে নিউজপেপার হারিয়েছে । কিন্তু হারাবার তো নয় । এই না ছিল সে হাত দিয়ে ছুঁয়েছে ? হ্যাঁ এবার সে বুঝতে পারছে তার সাথে কি হচ্ছে । ওই নিউজপেপার এ হিপ্নোটাইজ করার ড্রাগ ছিল নিশ্চয় । তবে রে কাশিম ভাই , আজ তোমার একদিন কি আমার একদিন । রেগে ফুলে সীমান্ত যেন আত্মহারা । কতক্ষন চৌকির নীচে তো কতক্ষন টেবিলের নীচে , কি খুঁজছে সীমান্ত নিজেই জানে না আর । ক্লান্ত হয়ে ঘামতে ঘামতে এবার সে শান্ত হলো । প্রায় পনের মিনিট ধরে সে পাগলের মত খুজাখুজি করে এবার বসে ভাবতে লাগলো । আমি যদি হিপ্নোটাইজ-ই হয় তাহলে তো নিউজপেপার টেবিলেই থাকার কথা আর মেসে তো দরজা আটকানো বাইরে থেকে কেউ আসার অবকাশ ই নেই । আর তাছাড়া এটা ফিজিক্স বই আমার থেকে পালিয়ে যাওয়ার কেমিস্ট্রি তো আর ব্যাখ্যা করে না । মুখে হাত দিয়ে একজন দক্ষ ডিটেকটিভ এর মত এসব ভাবতে লাগলো সীমান্ত । পরমুহূর্তে আবার মাথার চুল এলোমেলো করে বলতে লাগলো কি হচ্ছে কিছুই তো বুঝতে পারছি না আমার সাথে । এবার সে বাইরে যাওয়ার চিন্তা করছে ঠিক তখনি তার বাটন ফোন এ একটা ছোট রিং বেজে উঠলো । হাতে নিয়ে দেখে একটা মেসেজ । এই মেসেজ দেখে সে আরো বেশি ঘাবড়ে যায় , টিক একদিন আগে সকালে একই মেসেজ এসেছিল তার কাছে । তার বন্ধু রহিমের মেসেজ । দুপুরে বের হব সীমান্ত , আসার সময় আমার টুপিটা নিয়ে আসিস । দৌড়ে সে চৌকি থেকে বালিশ উল্টালো আর দেখলো রহিমের ক্যাপ ওয়ালা টুপি । ঐযে খেলার মাঠে যে ফিল্ডডিং করার সময় পড়ে ওটা । আসলে এটা দেখতে অনেক সুন্দর তাই রহিমের থেকে নিয়ে এসেছিল পাড়ার ক্রিকেট মাঠে সবাইকে দেখিয়ে মাথায় দেওয়ার জন্য । মজার কথা হচ্ছে এটি সে পরশু দুপুরে রহিমকে দিয়ে এসেছিল যখন তারা একসাথে ঘুরতে বেরিয়েছিল। এটা মনে পড়তেই সীমান্ত বাটন ফোন এর স্ক্রিন এ তারিখটা দেখতে গেল । অদ্ভুত আজ চব্বিশ-মে হওয়ার কথা দেখাচ্ছে বাইশ-মে । এবার সে মিলাতে পারছে হিসাব । আসলেই পরশু তো সে ইংরেজি বই নিয়ে বসেছিল সকালে । সাথে রহিমের মেসেজ ও এসেছিল । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সময় ঠিকঠাক ই আছে শুধু তারিখটা পাল্টে গেছে । এবার সীমান্ত বুদ্ধিমানের পরিচয় দিল । সে অপেক্ষা করছে সময়ে ঘড়িতে মিনিটের কাটা যেন আরো দুই সংখ্যা পার হয় । অর্থাৎ এতক্ষন হয়তো সব মিলিয়ে বিশ মিনিট সময় নষ্ট করেছে সে । তাই সে চায় আর দশ মিনিট পর কি হয় সেটা দেখতে । তার মনে মনে কেন জানি অনুভূতি আসছে যে এসব এলোমেলো ঘটনা আর দশ মিনিট পর শেষ হবে আর সে তার সব প্রশ্নের উত্তর পাবে । সে চৌকিতে বসে কতক্ষন টেবিলের দিকে তাকায় আবার কতক্ষন ঘড়ির দিকে তাকায় । ঠিক দশমিনিট পর সে বুঝে উঠার আগেই হুট করে সে পড়ার টেবিলে । অর্থাৎ পলকেই পাল্টে যাওয়া যাকে বলে আরকি । তবে এক্ষেত্রে সে পাল্টায়নি বরং তার অবস্থান পাল্টেছে । পাশে নিউজপেপার ঠিকঠাক ই আছে । হাতে কলম ছিল ওটাও আছে । বই এর দিকে তাকাতেই সে দেখলো মিটার ব্রিজের চিত্র । হ্যাঁ এটা ফিজিক্স বই ঠিক আছে । চল তড়িৎ অধ্যায় । ঘড়ির দিকে তাকালো হ্যাঁ , সময় ও ঠিক একই একটু পাল্টেনি মিনিটের কাটাটা মাত্রই ছয় নম্বর ঘরটি পার করলো । টেবিলে নিউজপেপার ও তার আগের অবস্থান এ আছে । সে এটি আবার ছুঁয়ে দেখলো দেখলো কিছুই হলো না । এবার সীমান্ত সব স্পষ্ট বুঝতে পারছে । সে নিউজ পেপার এর তারিখ টা মিলিয়ে নিলো । হ্যাঁ বাইশ-মে লেখা । সীমান্ত তার নিজের ক্ষমতা ব্যাখ্যা করছে নিজের কাছে । আমি কোনো নিউজপেপার ছুঁয়ে দেখলে ঠিক আধাঘন্টা সময়ের জন্য ওই নিউজপেপার এর উল্লেখিত তারিখ এ পৌঁছে যাব । এ ক্ষেত্রে অতীতের অবস্থানটা হবে যে জায়গায় নিউজপেপার রাখা হবে ওই স্থান আর অতীতের যে আধাঘন্টা সময় কাটাবো ওটা ঠিক বর্তমান থেকে কেটে যাবে । অর্থাৎ নয়টা দশ এ যদি সে অতীতে যায় সে আবার ফিরে আসবে নয়টা চল্লিশ এ , ঠিক একই ভাবে সে অতীতের সময়ের সেই নয়টা দশেই পৌঁছাবে । সে তার এ থিওরির নাম দিয়েছে সীমান্ত-থিওরি । ওহ হ্যাঁ আরো একটা লাইন , যদি একটা নিউজ পেপার ধরে একবার অতীতে গিয়েছি তবে ওই নিউজপেপারটি ছুঁলে আর কাজ করবে না । বিষয়টা যদিও একই নিউজপেপার এর অন্য কপি এর জন্যে প্রযোজ্য কিনা সেটা দেখতে হবে । এসব কথা বিড় বিড় করতে করতে সে খিয়াল করলো পিছনে কে যেন দরজা টুকাচ্ছে । কাশিম চাচা , দরজা খুলতেই দেখলো কাশিম চাচা এক কার্টন নিউজপেপার নিয়ে রুমে ঢুকলো । নতুন পুরোনো এত্তগুলা নিউজ পেপার । সীমান্ত মুচকি হাসি দিয়ে কাশিম চাচার দিকে তাকিয়ে বললো , আরেহ চাচা তুমি যে আমার কত বড় উপকার করলে তুমি নিজেও জানো না ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিউজপেপার (৪)
→ নিউজপেপার (৩)
→ নিউজপেপার (২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...