বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাশেদের বিয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sujon Rahman (৬৭ পয়েন্ট)



X লেখক: আবরার জাহিন কেবল করোনা বাংলাদেশ শুরু হয়েছে। রাশেদ ঢাকায় ছিল। ছুটি পেয়ে সে খুব খুশি হয়ে বাড়ি এলো। কিন্তু ধীরে ধীরে ছুটিটা যেন আর ভালো লাগেনা। প্রায় চার মাস বাসায় থেকে চরম মাত্রায় বিরক্ত লাগছিল রাশেদের। বাসার ছোট ছেলে সে। সুতরাং বড়দের বকা, পড়াশোনার চাপ (তার বাবা-মা বলে পড়াশোনার কোনো চাপ নেই) বাড়ির সব কাজ করতে ও অসহ্য লাগছিল তার। কি আর করা সহ্য তো করতেই হবে। বাড়ির ছোট ছেলে বলে কথা। সে কিন্তু একটু বিজ্ঞান পিপাসু । কি যেন একটা বৈজ্ঞানিক এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এখন রাশেদ বলবে তার জীবনের কাহিনী: করোনা বাড়ার পরও আমরা আমার মামার বাসা রাজশাহীতে গেলাম। সেখানে আমার মামাতো ভাই রাতুল এর সঙ্গে খুবই মজা করলাম। মনে হচ্ছিল যেন করো না বলে দুনিয়ায় কিছু নেই। আমার মামার বাসায় একটু দূরে বিশাল একটা বালুর ঢিবি ছিল । সামনে বালুর ঢিবির উপর উঠি বন্সের স্যান্ডেল পুতে রাখি প্রচন্ড মাত্রায় মজা করি। বিকালে নদীতে ঘুরতে যাই অপরূপ সৌন্দর্যের রাজধানী মনে হয়েছিল আমার সেই জন্মভূমি। থমথমে পানি সবুজের মিলন মেলা এক দ্বীপে মতো জায়গা দেখতে দেখতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা বানর!! কোথায় থেকে লাফালাফি করতে করতে আমাদের সামনের একটা গাছের উপর এসে শুয়ে পড়লো। তখনই শুরু হয়ে যায় ছবি তোলার হুড়োহুড়ি। মজার বেশিদিন টিকলো না চলে আসতে হলো বাসায়। আমার বাবার এক খুব কাছের মানুষ করোনাই আক্রান্ত। তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ। তার সাথে আমার কোন আত্মীয় সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয় না। থাকতেও তো পারে বলা যায়না। বাসার সকলেই নিষেধ সত্ত্বেও বাবা তার সাথে দেখা করতে গেলেন!! ঠিক এর পরেরদিন বাবা সেখানে আমাদের যার জন্য নির্দেশ দিলেন। বাবার আদেশ বলে কথা সকলে মানতে বাধ্য, আমরা সেখানে গেলাম , যাওয়ার পর আমাদের বসতে বলা হলো । কাছে দেখলাম একটা মেয়ে বসে ছিলো, আমার চেয়ে বড় হবে না এ বিষয়ে নিশ্চিত। ফুটফুটে সুন্দরী। দেখলেই পছন্দ হয়ে যাই। তরুণ পোলাপানদের যা হয়। আব্বা অনেক ধানাই-পানাই করলেন, তার সাহায্যের কথা বললেন। আমার খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছিল। পরে বুঝলাম কারণটা কি। ওই মেয়েটার সাথে আমাকে বিয়ে করতে হবে। তার বাবা চান তার মেয়ের সাথে আমি বিয়ে করি, তার মেয়ের একটা ভালো অবস্থা দেখে যেতে চান। তার শঙ্কা ছিল তিনি মারা যাবেন। বিয়ে করতে হবে ঘটনাটা শোনার পর আমার এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। হঠাৎ করে সবকিছু স্থির লাগছিল । তেমন কিছুই মনে হচ্ছিল না। সবকিছু জানা হাসির মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল স্বপ্ন। স্বপ্নে ভালোবাসা আমাকেই ধরেছে। হালকা এক ঘোর থেকে বের হয়ে বুঝলাম, এটা বাস্তব। আসলে আমার বিয়ে হবে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি আমি , আমার বোন তো ওই মেয়েটি ছাড়া সবাই স্বাভাবিক আছে। বুঝলাম তারা পূর্বে থেকে এই বিষয়ে জ্ঞাত। রাজি হতেই হবে কি আর করা। আমি বললাম আমরা 10 জন ব্যতীত কেউ যেন বিয়ের ব্যাপারে না জানে। আমার আরো কয়েকটি শর্তের সকলেই রাজি হলো। ভয় দেখানোর জন্য বললাম আমি একটু পাগলাটে ধরনের। একবার বাসায় আগুন ধরেছিলাম । আমার সাথে যার বিয়ে হবে তার সম্পর্কে কয়েকটি জিনিস জানলাম। মেয়েটার নাম মাইশা।তার নানা কীর্তন শুনলাম, আজীবন উপন্যাসে পড়ে এসেছে মেয়ে মানে একটা বিপদ ,জ্বালা আরো কত কি!! যথারীতি আমাদের বিয়ে হল। বিয়ের পর আমরা বাসায় এলাম।আসতে আসতে ভাবলাম , আজীবন বাল্যবিবাহের বিপক্ষে কথা বলে আসলাম আজ আমি নিজেই বাল্যবিবাহের শিকার। মনে মনে খুব হাসলাম ও। আমাদের বিয়ের সাতদিন পরে মাইশার বাবা মারা গেল। তার বাবা মরার আর চারদিন পর ঠিক হলো সে আমার সাথে এক মাস থাকবে। অগত্যা, তাকে নিতে গেলাম। মাইক্রোতে করে গিয়েছিলাম তাকে নিয়ে আসছি, ড্রাইভার টের পাচ্ছে না। নিয়ে আসার সময় তার সাথে একটা কথা মুখ ফুটে বলিনি। মনে মনে ভাবলাম বাসায় উঠার তিন দিনের মাথায় এমন ঝগড়া লাগবে! বড় বোনের সাথে যেমন লাগে আর কি। একদম রাতে এসে পৌঁছেছি তেমন কেউ দেখেই নাই। আমি ব্যতীত সকলেই তার সাথে আনন্দের বার্তা বিতরণ করতে লাগলেন। রাগে আমার গা টা রি রি করতে শুরু করলো। মনে মনে বললাম, যার বিয়া তার হুশ নাই পাড়াপড়শির ঘুম নাই। রাত একটার দিকে ঘুমাতে এলাম। সে আমার সাথে ঘুমাতে এল! আমি একটু বের হয়েছিলাম। এসে দেখি সে কাঁদছে! মনে বড়ই কষ্ট লাগলো বাবা মরা মেয়ে বলে কথা। স্ট্যাটাস বজায় রাখব রাখব করেও পারলাম না। ঘরের লাইট অফ করে দরজা আটকিয়ে (আমি আগে থেকেই দরজা আটকাই) বিছানায় গিয়ে শুলাম। ওকে খুব মায়া ভরা কন্ঠে বললাম কেঁদোনা। দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে । এত কেদোনা তো। সে কান্না থামালো। আমি বুঝলাম তার মন খুব খারাপ। আমি কথা অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করলাম। তার নাম কি করো, কোন ক্লাসে পড়ো ইত্যাদি । জিজ্ঞেস করলাম। ‌আমি যদিও তাকে আপনি করে বলছি!! সে একটু লজ্জা পেয়ে বলল, আমাকে আপনি তুমি করে বলতে পারেন। মনে হয় যেন এই সময়েরই অপেক্ষায় ছিলাম। আমি বললাম আপনি আমাকে তুমি বলবেন। চলো এখন থেকে শুরু করা যাক। She said,ok let's talk by তুমি। তখন খুব হাসি হাসলাম । সেও হাসছে [বাকি অংশ পরে প্রকাশিত হবে]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩০১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...