বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিশন ইমপসিবল

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sᕼᗩᕼᗩᖇᓰᗩᖇ (৩০ পয়েন্ট)



X লেখকঃ তাহসিন আহমেদ মিশন মোতালেব বিষয়টি নিয়ে এক মুহূর্ত চিন্তা করল। এরপর সে বুঝতে পারল, বিষয়টা ঠিক নয়। তার ক্ষুদ্র স্থুলকায় দেহ উত্তেজনায় নড়ে উঠল। এ বিষয়টাকে কখনোই ছোট করে দেখা উচিত হবে না। সে তার মোবাইল ফোনটা বিছানায় ফেলে দিয়ে একটা শার্ট পরে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। এ বিষয়টাকে আর এগোতে দেওয়া যায় না, তাহলে মোতালেবের অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে। মোতালেব তার নিউ মডেলের বিলাসবহুল প্রাইভেটকার নিয়ে মিরপুরের উদ্দেশে রওনা দিলো। রাগে তার শরীরের তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। ড্রাইভার আসলামকে বলল গাড়ির স্পেশাল ইফেক্ট ব্যবহার করতে। আসলাম বসের নির্দেশ শোনামাত্রই গাড়ির ওপরের পাখা বের হওয়ার সুইচ টিপে দিল। আর আশপাশের মানুষ অবাক হয়ে লক্ষ করল, একটা গাড়ির ওপর থেকে পাখা বের হচ্ছে! তাদের এই অবাক হওয়াকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ পর আকাশে উড়ে চলল মোতালেবের বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়ির ভেতরে বসে সে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তলটার সেফটি লক খুলে ফেলল। নতুন বুলেটের প্যাকেট থেকে বুলেট বের করে পিস্তলটা লোড করে নিল। তার জীবনে এত বড় সমস্যা কখনোই আসেনি। সে তার সমস্যাটাকে খুব দ্রুত দূর করতে চায়। মুখোমুখি হতে চায় তার এই মারাত্মক শত্রুর সঙ্গে। বসের সঙ্গে সঙ্গে আসলামও খুব উত্তেজিত। বসের এই গাড়িটা যে উড়তেও পারে, এটা সে আগেই জানত। কিন্তু কখনো ওড়ানোর সুযোগ হয়নি। আজকে হঠাৎ করে সুযোগটা পেয়ে সে যেন বেপরোয়া হয়ে উঠল। ঢাকা শহরের বড় বড় বিল্ডিংগুলোর পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটিয়ে নিয়ে চলল তার এই উড়ন্ত গাড়ি। মিরপুর দশ নম্বরের একটি বাড়ির সামনে এসে ল্যান্ড করল মোতালেব। গাড়ি থেকে খুব সাবধানে বের হয়ে এলো। সে আগেই ট্র্যাকিং ডিভাইস দিয়ে লোকটির অবস্থান জেনে নিয়েছে-এমনকি তার বর্তমান প্রফেশনও। বাড়ির নম্বরের দিকে চোখ পড়ল তার। হ্যাঁ, ঠিক বাড়িতেই এসেছে সে। এই বাড়িতেই তার শত্রু অবস্থান করছে। এ বাড়ির দারোয়ান সে। মোতালেব পিস্তলটা নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। গেটের সামনে গিয়ে আস্তে করে ডাকল, ‘এই জাহাঙ্গীর, তুমি কি আছো?’ জাহাঙ্গীর তখন ফেসবুকে একটা ফানি ভিডিও দেখছিল। হঠাৎ তার নামের ডাক শুনে চমকে উঠে বলল, ‘হ্যাঁ আছি। কে ডাকতাছেন?’ মোতালেব আগের মতো করেই বলল, ‘একটু কাছে আসো তো।’ জাহাঙ্গীর ধীর পায়ে এগিয়ে যেতেই আড়ালে থাকা মোতালেব তার মাথায় পিস্তল তাক করল। কিছুক্ষণের জন্য জাহাঙ্গীরের সারা শরীর অবশ হয়ে গেল। মেরুদণ্ড দিয়ে একটি শীতল স্রোত বয়ে গেল। কী করেছে সে! মোতালেব চেঁচিয়ে উঠে বলল, ‘‘জানোয়ারের বাচ্চা, তোর আইডির নাম ‘ডিজে জাহাঙ্গীর’ না?’’ জাহাঙ্গীর আমতা আমতা করে বলল, ‘হ ভাই, ঠিক কইছেন।’ ‘তুই আমার ফানি পোস্টে লাইক দিছস ক্যান? এক হাজার হাহার মধ্যে তুই একাই লাইক দিছস। লাইক রিঅ্যাক্ট সরিয়ে হাহা দিবি নাকি গুলি করে তোর মাথার খুলি উড়ায় দিমু?’ জাহাঙ্গীর ভয়মিশ্রিত গলায় বলল, ‘স্যার, আমারে মাইরেন না, আমি এহনি আপনের পোস্টে হাহা দিতাছি। প্লিজ মাফ করে দেন।’ রাত আটটা। মোতালেব মিরপুরের জ্যামে বসে আছে। তার পুরো শরীর জুড়ে স্বস্তি। ভালোয় ভালোয় সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেছে। জাহাঙ্গীর তার পোস্ট থেকে লাইক তুলে নিয়ে হাহা দিয়েছে। উপরি পাওনা হিসাবে তার তিনটা ফেক আইডি দিয়েও হাহা দিয়েছে। উপরে হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলো সে। কিছু বলার মতো ভাষা নেই তার। সাতশ কোটি মানুষের কেউ জানতে পারল না, এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটির নাম মোতালেব! উত্তরা, ঢাকা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...