বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আদর্শ চোর

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sᕼᗩᕼᗩᖇᓰᗩᖇ (৩০ পয়েন্ট)



X ‘ভাই, আপনারে তো দেখতে চোরের মতো লাগে!’ ‘তুমি কী করে বুঝলা?’ ‘কারণ আমি নিজেও একজন চোর!’ এভাবেই পরিচয় ঘটল দুজন লিজেন্ডারি চোরের। প্রথম জনের নাম সবুর মিয়া। দ্বিতীয় জনের নাম মকবুল। মকবুল বয়সে সবুর মিয়ার সিনিয়র। দুজনেরই ঘর-সংসার আছে। সংসার যে খুব একটা অসচ্ছল তা কিন্তু না। তা-ও তারা চুরি করে। কারণ এটা তাদের বংশগত ঐতিহ্য। কয়েক পুরুষ ধরে তারা সফলতার সঙ্গে চুরি করে আসছে। নিজের, পাশের কিংবা দূরবর্তী এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে তারা বা তাদের পূর্ব পুরুষরা কখনো চুরি করতে যায়নি। সবুর মিয়া কিংবা মকবুল কেউ-ই বড় মাপের কোনো চোর না। তারা হলো ছিঁচকে চোর। মানুষের বাসা-বাড়ির হাঁড়ি-পাতিল কিংবা হাঁস-মুরগি চুরি করা পর্যন্ত তাদের চুরি বিদ্যার দৌড়। পরিচয়ের আগে দুজনে আলাদা আলাদাভাবে চুরি করত। পরিচয়ের পর তারা সিদ্ধান্ত নিল এখন থেকে একসঙ্গে চুরি করবে। শুরু হলো দুজনের যৌথ চুরির অভিযান। বেশকিছু অপারেশন তারা সফলভাবে শেষ করেছে। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তাদের কখনো কোনো বিবাদ হয় না। তা-ও কেন জানি দুজনের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব। কিন্তু বিষয়টি তারা কখনো বাইরে প্রকাশ হতে দেয় না। চুরির স্বার্থে তারা দুই দেহ এক আত্মা। চুরির ক্ষেত্রে মকবুল আর সবুর মিয়া দুজনই বেশ মানবিক। তাদের ধারণা সবকিছুর যেমন কিছু নিয়মনীতি থাকে, তেমনি চুরিতেও কিছু নিয়মনীতি থাকা আবশ্যক। রাজার নীতি যেমন রাজনীতি, তেমনি চোরের নীতি হওয়া উচিত চোরনীতি! আর চুরিকর্মে মানবিকতা প্রদর্শনটাই হচ্ছে তাদের চোরনীতি! সবুর মিয়া আর মকবুল চুরিকর্মে কতটা মানবিক তার ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই। একবার দূরের এক এলাকা থেকে একটা মুরগি চুরি করে নিয়ে এলো দুজন। যে রাত্রে তারা মুরগি চুরি করে আনলো সেই রাত্রে মুরগিটা একটা ডিম পাড়ল। এটা দেখে দুজনে ভাবল, আরে এটা তো ডিম দেওয়া মুরগি, বাসায় নিশ্চয়ই সে অনেক ডিম পেড়ে রেখেছে! কদিন পরই সেই ডিম থেকে বাচ্চা বের হওয়ার কথা। কিন্তু তারা মুরগি নিয়ে আসাতে ডিমে তা দেওয়া হবে না। ডিমে তা দেওয়া না হলে ডিম থেকে বাচ্চা হবে না। ফলে কিছু জীবন পৃথিবীর আলো দেখবে না! এটা ভেবে পরদিন সকালে দুজন মিলে দুই মাইল পথ হেঁটে মুরগিটাকে আগের জায়গায় ফেরত দিয়ে এলো। কিন্তু তাদের এই অতিরিক্ত মানবিকতা দেখানোর ফলে চুরিবিদ্যায় তারা খুব একটা সফলতার মুখ দেখলো না। এটি নিয়ে দুজনে মিলে আলোচনায় বসল একদিন। বিরসমুখে চুপচাপ বসে আছে দুজন। নীরবতা ভাঙলো জুনিয়র চোর সবুর মিয়া, ‘বুঝলেন গুরুজি, এই দুনিয়ায় ভালা মাইনষের দাম নাই!’ ‘হ রে সবুর। দুনিয়ায় ভালা মাইনষের কোনো দাম নাই। এই যে আমরা এত মানবিকতা দেখাইয়া চুরি করি, কী লাভটা হলো বল আমাদের? জীবনে কয় আনার উন্নতি করলাম? বশির চোরারে দেখছস? চুরি কইরাই তিন তলা দালান উঠাইছে!’ ‘গুরুজি, আমি বলি কি, কয়দিন আর এরকম ছোটখাটো চুরি করব? হাঁড়ি-পাতিল আর হাঁস-মুরগি চুরি করে কি আর সংসার চলে বলেন? চলেন একটা বিগ ফিশ ধরি। এবার পুকুর চুরি করার সময় এসেছে আমাদের!’ ‘আমিও বিষয়টা নিয়া ভাবছি। শোন, আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে। চল দুজনে মিলে বাচ্চাকাচ্চা একটা ধরে কিডন্যাপ করি। তারপর বাচ্চার বাপের কাছে টাকা চাইব। লাখ টাকা না দিলে বাচ্চা ছাড়বো না। দিনে দিনে লাখপতি!’ গুরু মকবুলের আইডিয়াটা দারুণ পছন্দ হয়েছে সবুর মিয়ার। কিন্তু বাইরে এমন ভাব দেখালো যেন এর চেয়ে বাজে আইডিয়া আর হয় না। সবুর মিয়া বিরসমুখে বলল, ‘গুরুজি, আমি বলি কি, আমরা তো ছোটখাটো চোর। রাতারাতি এতবড় চোর হয়ে ওঠা একটা রিস্কি ব্যাপার। তারচেয়ে বরং আমার কাছে আরেকটা সহজ আইডিয়া আছে। এই যেমন ধরেন আমার বাসায় তিনটা গরু আছে। একেকটা গরুর দাম হবে লাখ টাকা। আজকাল গরুর ম্যালা দাম। দূরের কোনো গ্রাম থেকে যদি আমরা এরকম কারো দুয়েকটা গরু মেরে দিতে পারি তাহলে আমাদের লাখপতি হওয়া আর ঠেকায় কে! আর আমরা তো এমনিতে ছোট চোর। হাঁস-মুরগি চুরি করে বড় হয়েছি। আমাদের এক ধাক্কায় মানুষ চুরি পর্যন্ত ওঠা সাজে না। আগে আমরা হাঁস-মুরগি চুরি করতাম, এখন গরু চুরি করব, তারপর আরও উপরে উঠলে মানুষ কিডন্যাপ মানে চুরি করব! আইডিয়া কেমন বলেন?’ মকবুল মনোযোগ দিয়ে শুনল সবুর মিয়ার আইডিয়াটা। আইডিয়া বেশ পছন্দ হয়েছে তার। কিন্তু বাইর থেকে এমন ভাব দেখালো যেন একটা গরুর মাথায়ও এরচেয়ে ভালো আইডিয়া আসা উচিত। অনেকক্ষণ চুপ মেরে রইল দুজন। তারপর কিছুক্ষণ পর মকবুল বলে উঠল, ‘আচ্ছা, বাসায় যাইগা আজকের মতো। শরীরটা ভালা নাই তেমন। কালকে আবার আলাপ হবে এইটা নিয়া। তুইও চইলা যা।’ পরদিন সকালে দেখা গেল সবুর মিয়ার গোয়াল ঘরের তিনটা গরুই হাওয়া! আর মকবুলের পাঁচ বছর বয়সি বাচ্চা ছেলেটাও নিখোঁজ!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৫৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শিশু চরিত্র গঠনে বিশ্বনবী (সা.)-এর আদর্শ
→ ইসলামের অতুলনীয় আদর্শ
→ আদর্শ দাম্পত্য জীবনের রূপরেখা
→ আদর্শ মা-বাবার যোগ্য ছেলে পড়তে
→ আদর্শ মায়ের উপদেশ
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? রাসূল (সাঃ)-আপনার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ – দ্বিতীয় পর্ব
→ আদর্শ ছাত্র
→ আদর্শ এক গৃহবধূ(পর্বঃএক)
→ আদর্শ বয়ফ্রেন্ড
→ ইসলামের অতুলনীয় আদর্শ
→ আমিও সে আদর্শে অবিচল থাকব”
→ সেই মহান আদর্শ নবীকেও আমার সালাম জানাই।"
→ আদর্শ নরপতি- শেখ সাদির গল্প
→ আদর্শ শাসক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...