বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাপ্রাইজ..!

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ZAiM (৩০ পয়েন্ট)



X ডেস্ক থেকে কাগজ পত্র সব গুছিয়ে নিলাম । লেপটপ থেকে প্রেজেন্টেশন ও প্রিন্ট করে নিলাম । বাকি শুধু মিটিং এর স্টার্টিং স্পিচ । জাপানের কোনো এক প্রাইভেট কোম্পানির কর্মরত আছি । গত বছর খানেক নিজ দেশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন । ছোট ভাই দুইটি আর বোনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছি তাই বলতে গেলে খুব মনযোগী কর্মে । আর এজন্য পরিবার এর সাথেও যোগাযোগ রাখার লাক্সেরি আমার নেই । পকেটে হটাৎ ফোন বেজে ... আরেহ নাম্বার তো আননোন । কে আবার ? মিটিং এর চাপ এ ইগনোর করে দৌড়ে মিটিং রুম এ চলে গেলাম । অফিসের মিটিং রুম , জাপানের যেসব বিষয় আমার ভালো লাগে তারমধ্যে একটা আমার অফিসের মিটিং রুম । এটাকে মিটিং রুম বলাই দুস্কর । বলতে হবে মিউজিয়াম । অকুরিয়াম এর ফিস থেকে জাপানিজ ট্রেডিশন স্টাইলে মিনি স্রাইন তার উপর ছোট ছোট প্লেনটেশন রুমটার সৌন্দর্য যেন অন্য পর্যায়ে । সম্পূর্ণ ফ্লোর এ শুধু এই রুমেই কোনো এসি নেই । অথচ রুমের আবহাওয়া মন মুগ্ধতর । বসে স্পিচ রেডি করছি । এমতবস্থায় একটি আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ আসলো । আরেহ সেই তখন যে ফোন করলো দেখি সেই একই নাম্বার । মেসেজ এ লেখা , " জাইম , আমরা টকিও হেনাডা এয়ারপোর্ট এ নেমেছি । সিনজুকু আসতে সময় লাগবে , তাই এসে যেন অফিসেই দেখি কোথাও যাস না কিন্তু " । অদ্ভুতুড়ে এ মেসেজ পরে অবাক আর আশ্চর্য দু-টুই হলাম । জানিনা দুটার মধ্যে পার্থক্য কি ..!! চিন্তার সময় পরে পাঁচ মিনিট পর ই মিটিং । সব রেডি করে নিজের কাজে আবার লেগে পড়লাম .... মিটিং শেষ হলো স্বাভাবিক ভাবেই , সপ্তাহে চারটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয় তার মধ্যে আজকের টা অন্যতম । ওহ হ্যা , আবার মোবাইল হাতে নিয়ে মেসেজ টা পড়লাম । মনে পড়লো সেই অদ্ভুতুড়ে মেসেজ এর কথা । অদ্ভুতুড়ে বলছি কারন আমি জাপানে আসার পর এই প্রথম কেউ আমাকে মেসেজ করলো তাও বাংলায় । একে আমি তো চিনি না এরা কারা তার উপর আমার এড্রেস নিশ্চয় আছে এদের । কিন্তু কিভাবে পেল ? কনফিউসড তবে চিন্তা করলাম এদের কনফ্রন্ট করেই দেখি । কি আর হবে , হয়তো কেউ প্র্যাংক করছে আমার সাথে । আমার কোনো সহকর্মী হয়তো বাংলা শিখে আমার সাথে মজা নিচ্ছে । মিস হিমা সাকুরাগামী নাকি মিস্টার কিরিকো আইযাওয়া । নাকি আমার জুনিয়র ইউনোসকে । আরেহ , ইউনোসকে অনেক হাম খেয়ালি ছেলে । আমার মনে হয় না সে আমার সাথে মজা নিতে বাংলা শিখতে যাবে । আবার মনে পড়লো । আরেহ আমার মত ইন্ট্রোবার্ট এর সাথে আবার কে মজা নিবে ?? যতদিন যাবৎ জাপানে আছি কোনোদিন দেশের বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় পরিবার যোগাযোগ রাখিনি । এমন না যে কেউ সত্যি সত্যি আসবে আমাকে দেখতে । মোর দেন দ্যাট তাদের কাছে আমার অফিস এড্রেস ও যে থাকবে !! হিসাব মেলাতে মেলাতে বিকাল হয়ে গেল । অফিস যেহেতু সিনজিকু এর মত একটা প্রোফাউন্ড জায়গায় তাই আমার থাকর জন্য বাসা এপার্টমেন্ট মেইন শহর থেকে দূরে নিতে হয়েছে । কারন খরচ বাঁচাতে হবে । তাই সন্ধ্যার ট্রেন মিস করলে বাসায় ফেরা মুশকিল হয়ে পড়বে । এদিকে ফোনটা আবার রিং বেজে উঠলো । এবার আগ্রহ নিয়ে ফোন রিসিভ করে কানে নিলাম । ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠে কে জানি বললো , " কিরে কই তুই ?? আমরা তোর অফিসের নীচে দাঁড়িয়ে আছি ! আমাদের সাথে দেখা করবি না ?? " পিছন থেকে একজন ছেলে কন্ঠে চিৎকার করছে , " বিয়াদ্দপ কি আমাদের সারাদিন দাঁড়িয়ে রাখবে নাকি " সাথে আরো একজন আছে হাসির সুরে আছে লক্ষ্য করলাম " আচ্ছা আসছি" সিম্পল জবাব দিয়ে নিচে রওনা দিলাম । গিয়ে দেখি তিনজন দাঁড়িয়ে হাতে ট্রলি নিয়ে । একজনকেও চিনি না । কালো শার্ট ব্লেক জিন্স পড়া ছেলেটা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো । অবাক হলেও তাদের এক্ট এর সাথে মিলিয়ে নিতে হবে । সিনক্রিয়েট করলে অন্য সবার এটেনশন পড়বে আবার । কাঁদে হাত দিয়ে সে বললো চল রেস্টুরেন্টে । খুব খিদা লেগেছে ... চার জন মিলে লোকাল একটি রামেন শপ এ গেলাম । আমি মোটামুটি সিউর এরা আমাকে খুব ভালো করে চেনে তবে আমি কোনো এক কারনে চিনি না । আর বিষয়টা তাদের বলা অভদ্রতা হবে তাই কিছু বলছি না । সব শেষে আমি পেমেন্ট দিব , এমন সময় তারা আমার দিকে তাকিয়ে আছে । এবার যেন এরা আমাকে চিনছে না । একজন বলে উঠলো " আরেহ ট্রিট তো আমরা দিচ্ছি , আজ না তোর বার্থডে ? " কিহ ? আজ আমার বার্থডে ? কই না তো !! আজ তো আমার বার্থডে না.... এলার্ম বেজে উঠলো খুব জোরে । সম্ভবত প্রতিদিন এত জোরে বাজে না । মাথা ব্যথা করছে প্রচুর । খুব তাড়াহুড়ো করে উঠে বসলাম । আমি আমার এপার্টমেন্ট এ ? কিন্তু কিভাবে , একটু আগে না আমি রামেন শপ এ ছিলাম !! ফোন হাতে নিয়ে রিসিভ কল আর মিসড কল লগ চ্যাক করলাম । সব অফিসের এমপ্লই নাম্বার ।আননোন কোনো নাম্বার ই নেই । মেসেজ ও নেই । তাহলে কি সব সপ্ন ছিল ?? মাথাটা তখনো ঝিমানো অবস্থায় । সকাল সাতটা , ততক্ষণ এ অফিসে যেতে দেরি হয়ে গেল । আমার বার্থডে কিনা চ্যাক করার জন্য ফোন এর হোম স্ক্রিন এ তারিখ টার দিকে তাকালাম । নাহ আজ তো আমার বার্থডে না । কিন্তু আজ তো তার বার্থডে ...!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...