বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পার্লার

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান K.M. Tafsirul Islam Rakib(guest) (২২৯২ পয়েন্ট)



X পার্লারে গিয়ে সাজার অভিজ্ঞতা জীবনে মাত্র একবার কিন্তু সেটাও বড় তিক্ত অভিজ্ঞতা ! প্রায় এক যুগেরও আগের কথা, ননদের বিয়েতে আমার যা জোর করে আমাকে নিয়েই ছাড়লো পার্লারে , কি যে আমাকে তারা করবে আমার ধারণাই নাই। বসলাম চেয়ারে , হুদাই আমার চুলগুলো দিলো আয়রন ঘষে সোজা করে, আমার চুল এমনিতেই সুন্দর ছিল তখন বেশি, ঘন কালো চুল , উপরের দিকে সোজা আর আগাটা কোঁকড়ানো। যাইহোক তারপর মুখে কতক্ষন ধরে আটা-ময়দা মাখামাখি করলো, আমি বার বার বললাম দেখো আমার ত্বক এমনিই সুন্দর তোমরা কোনোভাবে আমাকে অতিরিক্ত রং মাখায়ে সং সাজবানা। এরপর আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও রীতিমতো জোর করে আমার ঘন কালো সুন্দর ভ্রু কেটে ছেঁটে দিলো এরপর প্লাগও করলো। সুতা দিয়ে হিচক টানে ভ্রুগুলো যখন তুললো আমার যেন জান বেরিয়ে গেলো, ব্যথা আমি সইতে পারিনা, চোঁখ গড়িয়ে পানি পড়ে গেলো। এরপর সবশেষে যখন আয়নায় নিজেকে ভালোভাবে দেখলাম শুধুই আফসোস হতে লাগলো কেন আমি অন্যের কথায় নিজের সর্বনাশ করলাম ! . কি এক কিম্ভুত কিমাকার চেহারা বানিয়ে দিলো আমার ! স্পেশালি ভ্রু প্লাগ আর ছেঁটে চিকন করাটা মোটেও মানতে পারছিলাম না। সুন্দর চেহারাটা অসুন্দর হলো, ব্যথাও ভোগ করলাম, আমার যা এর পয়সা খসলো আর আল্লাহর লানত অর্জন করলাম (যদিও তখন আমার জানা ছিলোনা, "যে ভ্রু প্লাগ করে আর যে করায় উভয়ের উপর আল্লাহর লালত বর্ষিত হয়")। নাউজু বিল্লাহ এভাবেই স্বামীদের কষ্টার্জিত পয়সা খরচ করে ব্যথা সহ্য করে আল্লাহর লানত অর্জন করতেছে লাখ লাখ বোনেরা আমার ! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের হেদায়েত দিন। আমার মেয়েরা যখন ছোট ছিল আমি ওদের চুল কেটে দিলাম, এখন ওরা বড় হয়েছে, আমরা ৩ জন মিলে একে অন্যের চুল কেটে ছেঁটে দেই আলহামদুলিল্লাহ। . আমার আপাও একদিন একইভাবে একটা পার্টিতে যাওয়ার আগে পার্লারে গিয়ে সেজেছিলেন, তারও প্রথম অভিজ্ঞতা, তারপর পার্লার থেকে বেরিয়ে সোজা বাসায় গিয়ে মুখ ধুয়ে এরপর পার্টিতে গেছিলেন। আর এখন তো পার্লারের সাজ ছাড়া বিয়ের কথা চিন্তাও কেউ করেনা, অথচ সে জানেওনা তাকে কেমন দেখায় ওই সাজে। মেয়েরা দেখে তো শুধু ছবি, শুধু ছবিতেই যা সুন্দর লাগে নতুবা পার্লের সাজে বৌয়ের আসল চেহারাটাই বুঝা যায়না। একটা ইয়ং মেয়ে বিয়ের শাড়ি গহনাগাঁটি পরে চোখে একটু কাজল দিলে, হালকা পাতলা ঘরোয়া মেকআপ করলেই তো পরীর মতো লাগে, বেহুদা একগাদা টাকা অপচয় করে বিয়ের বারাকাহ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করা কি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ? যাদের জীবনে ইসলাম নেই উরাধুরা জিন্দেগী তাদের বিয়ে নামক হোলি খেলার কথা বাদ দিলাম কিন্তু যাদের দ্বীনের বুঝ আছে তারা যেন এটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে দু'আ করি। . হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বিয়ে যত সহজ এবং স্বল্পব্যয়ী হয় সে বিয়ে ততই শান্তি ও বরকতময় হয়। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণা অনুযায়ী বিয়েতে যতটুকু খরচ না করলেই নয়, ঠিক সে পরিমাণ ব্যয় করা আবশ্যক। এতেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি কল্যাণ ও বরকত। . লেখাঃ পপি ইব্রাহিম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...