বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাজাকারদের অত্যাচার ভুলেনি আকিব চাচা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (০ পয়েন্ট)



X রাজাকারদের অত্যাচার ভুলেনি আকিব চাচা। আমার চাচা আকিব হাসান, তরুণ বয়সে মুক্তিযোদ্ধা ছিল। এখনও দেশ বিরোধী কোন কর্মকান্ড দেখলে মেজাজ ঠিক রাখতে পারে না। কিছু লোককে একেবারেই দেখতে পারে না। দেখতে না পারার মধ্যে আমাদের এলাকার পুরাতন চেয়ারম্যান অনুও আছে। অনু মানে আলহাজ আনোয়ার হোসেন অনু চেয়ারম্যান। যুদ্ধের সময় চরিত্রহীন লম্পট ছিল। হিন্দু পাড়ার সাবিত্রীদের বিরাট বাড়ি অনু চেয়ারম্যানের দখলে। আকবরদের বাড়িও যুদ্ধের সময় কিনে নিয়েছেন। এখন তেমন খারাপ কাজে দেখা যায় না। তবে তার এখনো পাকিস্তানী প্রেমী ভাব আছে। মাঝে মাঝে দুঃখ করে পাক জায়গায় শেখ মুজিব দুভাগ করে দিয়েছে। ছেলে-মেয়েদের মুখে শেখ সাহেবের গুন-কীর্তণ শুনলে গা জ্বলে অনু চেয়ারম্যানের। গ্রামের লোকজনের বা দেশের বিরাট সাফল্যে মন আনন্দিত হয় না। অনুর অন্তর জ্বালা প্রকাশ করতে না। মনে মনে ভাবে পাকিস্তান থাকলে হয়তো অনুদের ভাল ছিল। কয়েকবছর আগে হজেও গিয়েছে। হজে যাবার আগে গ্রামের সবাইকে গোরু যবাই করে খাওয়াইছে। গ্রামের লোকজনও অনুকে সম্মান করে তবে একমাত্র আকিব হাসানই অনুকে সম্মান করে না। গ্রামের কোন সভা-সমাবেশ হলে অনু যদি থাকে আকিব হাসান কোন না কোন টাল-বাহানায় সভা-সমাবেশে যায় না। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীভাতা এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়িয়াছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানাদিদেরকে চাকুরীর অগ্রাধিকার দিয়েছে কিন্তু আমার চাচাতো ভাই-বোন কেউ উচ্চ শিক্ষিত হতে পারেনি। আকিব চাচার ছেলে প্রবাসে থাকে আর চাচা নিজে কৃষি কাজ করে। চাচার অভাব অনটন নাই। গ্রামের অভাবী লোকদের সাধ্যমত দান করেন। গ্রামের লোকেরা চাচাকে চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিল কিন্তু চাচা রাজী হন নাই। এই ইউনিয়নের মধ্যে এই গ্রামেরই ভোটার বেশি। সবাই আকিব হাসানকে চাইলেও আকিব চাচার এক কথা সে নির্বাচনে দাঁড়াবে না। নির্বাচনে অনু চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী, সে গতবার পাশও করছে। এবারও পাশ করার সম্ভাবনা আছে। নির্বাচনের সময় নিজের লেবাস ও টাকা উভয়ই ব্যবহার করে অনু। চাচার একটিই কথা রাজাকারের সাথে নির্বাচন করবো না। ১৯৭১ সালে অনু পাকিস্তানীদের আনুগত্যশীল ছিল। সেই এই এলাকায় পাকিস্তানী সৈন্যদের দাওয়াত দিয়ে এনেছিল। ১৯৭১ সালের জুন মাস পর্যন্ত যুদ্ধের কোন ভয়াবহতা এই গ্রামের লোকজন দেখেনি। জুলাই মাসে অনু পাকিস্তানীদের খবর দিয়ে বাড়িতে আনে এবং হিন্দু ঘরবাড়ি লুট-পাট করে অনেককে গ্রাম ছাড়া করে। এলাকার কিছু লোককে অত্যাচার করে। আকিব চাচা বন্ধুদের সাথে মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেয়। আকিব চাচার খোঁজে বাড়িতে এসে আকিব চাচাকে না পেয়ে দাদা-দাদী ও অন্যান্যদের অত্যাচার করে। যুদ্ধের পর দাদী প্রায়ই অনুওকে অভিলাপ দিতো। অক্টোবর মাসে পাকিস্তানী সৈন্যরা এই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। অনুও এলাকার লোকদের সাথে মিশে যায়। ডিসেম্বর মাসে বিজয়ের পর আকিব চাচা ও তাঁর বন্ধুরা গ্রামে এলে অনু পালিয়ে গা ঢাকা দেয়। তার কয়েক বছর পর আবার অনু গ্রামে আসে। ১৯৭১ সালের পর অনু অনেক ধন-সম্পদ মালিক হয়। কিছু লোক দেখানো দান খয়রাত করে সুনাম অর্জন করে। যুদ্ধের পরে আর যুদ্ধের শত্রু নিয়ে গ্রামের লোকজন মাথা ঘামায়নি কিন্তু আকিব চাচা অনুকে দেখতে পারে না। এলাকার লোকজন অনুর অত্যাচার ভুলে গেলেও ভুলেনি আকিব চাচা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...