বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টিম পরিবার

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৩৫ পয়েন্ট)



X ঠিক এক শ বছর আগে কিংবা আরেকটু কমবেশি হবে, ইংল্যান্ডের ঠিক মাঝখানে, একটু উত্তর–দক্ষিণও হতে পারে, ছিল এক সুখী গ্রাম। গ্রামটার এত সুখের কারণ, সেখানে থাকত টিমরা। টিমরা ছিল পাঁচজন—বুড়ো টিম, বড় টিম, ছোট টিম, খোকা টিম আর পুঁচকে টিম। আর তারা সবাই জন্মজ্ঞানী। ফলে গ্রামে যখন কিছু হতো অথবা ঝামেলায় পড়ত লোকজন বা কোনো কারণে কারও মন খারাপ হতো, তাহলে এই কথা বলাটা তাদের রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল, ‘চলো টিমদের কাছে যাই, তারা ভালো বুঝবে, তারা জন্মজ্ঞানী।’ যেমন ধরো, অনুমতি ছাড়াই রাতে বেদের দল তার গোলাঘরে ঘুমিয়েছে, জানার পর চাষা জন কিন্তু এই কথা ভাবল না, যেমনটা হয়তো তুমি ভাবতে, ‘যাই পুলিশে খবর দিই, আইনি ব্যবস্থা নিই!’ বরং সে ভাবল, ‘বুড়ো টিমের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তা–ই করি!’ তারপর সে চলল বুড়ো টিমের কাছে। গিয়ে দেখে, গেটে বসে মাটির পাইপ টানছে বুড়ো, বুড়োর বয়স ৮০ বছর। ‘প্রাতঃপ্রণাম বুড়ো টিম’, বলল চাষা জন। ‘প্রাতঃপ্রণাম চাষা জন’, মুখ থেকে পাইপটা সরিয়ে বলল বুড়ো টিম। ‘আমার গোলাঘরে আবার বেদেরা এসেছে, বুড়ো টিম’, বলল চাষা জন। ‘বটে! এখনো আছে!’ জানতে চায় বুড়ো টিম। ‘হ্যাঁ গো, এখনো আছে’, বলল চাষা জন। ‘ও, তাহলে তো নিশ্চিত!’ বলল বুড়ো টিম। বিজ্ঞাপন ‘তুমি তো জন্মজ্ঞানী, বুড়ো টিম’, বলল চাষা জন। ‘আমার জায়গায় তুমি হলে কী করতে?’ মাটির পাইপটা আবার মুখে পুরে বুড়ো টিম বলল, ‘তোমার জায়গায় আমি হলে বড় টিমকে জিজ্ঞাসা করতাম। কারণ, সে–ও জন্মজ্ঞানী আর তার বয়স হলো ৬০। ফলে জ্ঞান–বুদ্ধিতে আমি তার চেয়ে ২০ বছর দূরে থাকব।’ তখন সে বড় টিমের কাছে গেল। ও বুড়ো টিমের ছেলে। চাষা জন গিয়ে দেখে, গেটে বসে কাঠের পাইপ টানছে বড় টিম। ‘প্রাতঃপ্রণাম বড় টিম’, বলল চাষা জন। ‘প্রাতঃপ্রণাম চাষা জন’, মুখ থেকে কাঠের পাইপটা সরিয়ে বলল বড় টিম। ‘আমার গোলাঘরে আবার বেদেরা এসেছে, বড় টিম। আমার জায়গায় তুমি হলে কী করতে জানতে তোমার কাছে পাঠাল বুড়ো টিম। কেননা তুমি জন্মজ্ঞানী’, বলল চাষা জন। কাঠের পাইপটা আবার মুখে পুরে বড় টিম বলল, ‘তোমার জায়গায় আমি হলে ছোট টিমকে জিজ্ঞাসা করতাম। কারণ, সে–ও জন্মজ্ঞানী আর তার বয়স ৪০, অর্থাৎ সে জ্ঞান–বুদ্ধিতে আমার ২০ বছরের কাছাকাছি।’ তখন সে ছোট টিমের কাছে গেল। ও বড় টিমের ছেলে। জন গিয়ে দেখে, খড়ের গাদায় শুয়ে শুয়ে খড়কুটো চিবোচ্ছে ছোট টিম। ‘প্রাতঃপ্রণাম ছোট টিম’, বলল চাষা জন। ‘প্রাতঃপ্রণাম চাষা জন’, মুখ থেকে খড়কুটোটা সরিয়ে বলল ছোট টিম। তখন আবার নিজের সমস্যাটা বয়ান করল চাষা জন। শেষে বলল, ‘বড় টিম তোমার সঙ্গে পরামর্শ করতে বলল। কেননা তুমি জন্মজ্ঞানী।’ খড়কুটোটা আবার মুখে পুরে ছোট টিম বলল, ‘খোকা টিমও জন্মজ্ঞানী আর তার বয়স মোটে ২০ বছর। তার কাছ থেকে তুমি আমার চেয়েও তাজা বুদ্ধি পাবে।’ তখন খোকা টিমের খোঁজে চলল চাষা জন। ও ছোট টিমের ছেলে। গিয়ে দেখে, একটা আপেল চিবোতে চিবোতে পুকুরের দিকে তাকিয়ে আছে খোকা টিম। ‘প্রাতঃপ্রণাম খোকা টিম’, বলল চাষা জন। ‘প্রাতঃপ্রণাম চাষা জন’, মুখ থেকে আপেলটা সরিয়ে বলল খোকা টিম। তখন চতুর্থবারের মতো নিজের গল্পটা বলল চাষা জন, শেষ করল, ‘ছোট টিম মনে করে, আমার কী করণীয় সেটা তুমিই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে। কেননা তুমি জন্মজ্ঞানী।’ আপেলে নতুন একটা কামড় দিয়ে খোকা টিম বলল, ‘গত মাসে জন্ম নিয়েছে আমার ছেলে, সে–ও জন্মজ্ঞানী। তার কাছ থেকে তুমি যাকে বলে একেবারে আদিজ্ঞান লাভ করবে।’ পুঁচকে টিমের খোঁজে চলল চাষা জন। ও খোকা টিমের ছেলে। তাকে পাওয়া গেল দোলনায়, মুখে তার বুড়ো আঙুল। ‘প্রাতঃপ্রণাম পুঁচকে টিম’, বলল চাষা জন। মুখ থেকে আঙুলটা বের করল পুঁচকে টিম কিন্তু কিছু বলল না। ‘আমার গোলাঘরে আবার বেদেরা এসেছে, পুঁচকে টিম’, বলল চাষা জন, ‘আর এই ব্যাপারে তোমার পরামর্শ নিতে বলল খোকা টিম। কেননা তুমি জন্মজ্ঞানী। আমার জায়গায় তুমি হলে কী করতে? তুমি যা বলবে তা–ই করব আমি।’ আঙুলটা আবার মুখে পুরল পুঁচকে টিম, কিন্তু কিছুই বলল না। ফলে বাড়ি গিয়ে চাষা জনও তা–ই করল। আর বেদেরা পাশের গাঁয়ে চলে গেল, ঘুমানোর জন্য গিয়ে উঠল চাষা জর্জের গোলাঘরে। পুলিশ ডাকল চাষা জর্জ, নিল আইনি ব্যবস্থা। এক সপ্তাহ পরই পুড়ে ছারখার হয়ে গেল তার গোলা আর খড়ের গাদা, চুরি গেল তার ফুটকিওয়ালা মুরগি। আর সুখে দিন কাটাতে লাগল সুখী গ্রাম। ভুলে একদিন যখন মিলারের কানে চড় মেরে বসল মিলারের বউ কিংবা ফেরিওয়ালা যখন মলি গর্ডনকে কানাকড়ি গছিয়ে দিল বা চাঁদের আলোয় গাইতে গাইতে লোকটা যখন বাড়ি ফিরে এল; কিছুই করল না তারা। টিমদের সঙ্গে পরামর্শ করে বনের গাছ বা খেতের ফসলগুলো যতটুকু করে তার বেশি কিছুই করল না গ্রামটা। ফলে আরও খারাপ কিছু হওয়ার আগেই ভালোর দিকে মোড় নিত এসব অঘটন। যত দিন না ১০০ বছর বয়সে চিরকুমার অবস্থায় মারা গেল পুঁচকে টিম। তারপর অন্য গ্রামগুলোর মতোই হয়ে গেল সুখী গ্রাম; তারাও কিছু করা শুরু করল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের কর্তা
→ এক ফিলিস্তিনি পরিবারের গল্প
→ মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলেদের জীবনে বয়ে যাওয়া কিছু কথা:- ...
→ বাবু পরিবার
→ ⚠ অতৃপ্ত পরিবার ⚠
→ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-৫
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-৪
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-৩
→ জিজে: আমার প্রিয় পরিবার
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-২
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-১
→ কাকিনা রাজপরিবার
→ প্রিয় নবীর পরিবারের সদস্য যাঁরা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...