বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

১৫ আগস্ট ১৯৭৫, যা হয়েছিল সেই রাএিতে

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sehjad Ahmed (৩০ পয়েন্ট)



X ১৫ আগস্টের অনেক আগের কথা। সন্ধার বাতাসে লাল নীল লাইটে সজ্জিত হয়ে আছে ঢাকার একটি বাড়ি।আজকের এই বিশেষ আয়োজনের কারণ মেজর ফারুক এবং তার স্এীর বিবাহ বার্ষিকি আজ।সেনাবাহীনির লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে উচু পর্যায়ের সব কর্মকর্তারাই হাজির হয়েছে আজকের এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বিশেষ কোন কারণে আসতে পারেনি।বিচিএ সব উপহার আর খাবার-দাবার অসংখ্য মানুষের হাসিমাখা মুখে পরিবেশ মুখরিত হয়ে উঠেছে। সবার মুখে হাসি থাকলেও আজকের এই বিশেষ দিনটি যাদের জন্যে সেই মেজর ফারুকের মুখে কোন হাসি নেই সে যেন কিছু ভাবছে। উল্লেখ্য এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন মেজর ফারুকের মামা মেজর খালেদ মোশারফ, তার ভাইরা ভাই ২য় ফিল্টি আর্টিলারির অধিনায়ক মেজর রশিদসহ আরও উল্লেখযোগ্য অনেকেই। একটু পর মেজর ফারুক তার মামা মেজর খালেদ মোশারফকে এক পাশে ডেকে নিয়ে বলেন আমি একটি অভুত্থান ঘটাতে চাচ্ছি মামা দেশ এভাবে চলতে পারে না আপনার কী মতামত? মেজর খালেদ মোশারফ উওেজিত হয়ে বললেন কী বলো? অভুত্থান করবে তুমি পাগল নাকি? একথা আর মুখেও আনবে না।মেজর ফারুক আর কিছু বললেন না তিনি কথা বললেন তার ভাইরা ভাই ২য় ফিল্ট আর্টিলারির অধিনায়ক মেজর রশিদের সাথে।মেজর রশিদ মেজর ফারুকের অত্যন্ত আস্হাভাজন লোক।শুরুতে মেজর রশিদ দ্বিমত করলেও পরক্ষণেই তিনি রাজি হয়ে যান যেকোন মূল্যে মেজর ফারুককে তিনি সাহায্যে করবেন কথা দেন।এভাবে সময় যেতে যেতে বিষয়টা অনেকের মধ্যেই ছড়িয়ে পরে মেজর ফারুক ভাবলেন এভাবে সবার মধ্যে বিষয়টা ছড়িয়ে গেলে মিশন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে তাই তিনি তারপর থেকে এ বিষয়ে আর কোন কথা বললেন না সবার সাথে হাশিখুশি ভাব নিলেন যেন কিছুই হয়নি আর সবাইকে বলে দিলেন তিনি এসব করবেন না সবাই যেন সব ভুলে যায়।কিন্তুু মনে মনে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন সময়টা ১৫ আগস্টেরও প্রায় এক বছর আগে। ধানমন্ডির দিকে প্রায়ই চাদর পরিহিত এক পাগল যুবকের দেখা মেলে।সে শুধু পাগলের মতো হেটে বেড়ায় রাস্তাতে আর কি যেন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এই পাগল যুবকটি আর কেউ নয় মেজর ফারুক নিজে। তিনি এভাবে ছদ্দবেশ ধারণ করে শহরের একটি ম্যাপ আকছিলেন।গোপনে তিনি একাই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকেন।পথিমধ্যে তিনি চট্রগ্রাম যান সেখানে তার দেখা হয় অন্ধ দরবেশ আন্ধা হাফিজের সাথে।আন্ধা হাফিজ তাকে দেখা মাএই তার উদ্ধেশ্য বুঝতে পেরে বলেন তুই মারাত্নক একটা কিছু করতে চাচ্ছিস তুই সফল হবি কিন্তুু নিজের ব্যক্তি স্বার্থের জন্যে নয় দেশ, জাতি আর ইসলামের জন্যে কাজটি করলে অবশ্যই তুই সফল হবি। এরপর থেকে মেজর ফারুক যেন আরও উৎসাহ পেলেন। অনেক বার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করলেও সেটা আবার বাদ দেন তিনি এভাবে চলতে চলতে চলে আসে ১৪ ই আগস্ট ১৯৭৫ সাল। বঙ্গবন্ধু ইতিমধ্যে তার বাকশাল ঘোষণা করে দিয়েছেন। মেজর ফারুক বুঝতে পারলেন তার ক্ষমতা তিনি শক্ত করে ফেলছেন এখনি সময় তাকে হত্যা করার নাহয় পরবর্তীতে আর সম্ভব হবেনা। তিনি দেখা করলেন মেজর রশিদের সাথে যাওয়ার আগে তার স্এীকে বলে দিলেন যেন চট্রগ্রামে আন্ধা হাফিজের সাথে দেখা করে বলে আমি আমার মিশন শুরু করে দিয়েছি এখানে আমার কোন ব্যাক্তি স্বার্থ জড়িত নেই আমি শুধু দেশ জাতি আর ইসলামের কল্যানের জন্যেই কাজ করছি।মেজরের স্এী ছুটলেন চট্রগ্রামের উদ্ধেশ্য কিন্তুু পথে তিনি কোন গাড়ি পাচ্ছিলেন না একটি অটো পান সেটাও মাঝ রাস্তায় নষ্ট হয়ে যায়। অবশেষে অনেক কষ্টে তিনি চট্রগ্রাম আন্ধা হাফিজের সাথে সব খুলে বলেন। আন্ধা হাফিজ বলেন আচ্ছা শুরু করতে বলো সে সফল হবে। আর কিছু দুয়া বলে দেন মেজর ফারুকের উদ্ধেশ্য। বাসায় ফিরে তার স্এী অনেক বার মেজর ফারুককে টেলিফোন করে জানানোর জন্যে কিন্তৃু লাইন পান নি।অনেক সময় পর সন্ধার দিকে মেজর ফারুককে পেলেন এবং বললেন মিশন শুরু করতে আর দুয়াটা বলে দিলেন এটা যেন সে পড়তে পড়তে সব কিছু করে। মেজর ফারুক এর আগেই রশিদকে সমর্থন আদায়ের কথা বলছিলেন। মেজর রশিদ প্রাক্তন মেজর ডালিম, মহিউদ্দীন মেজর নুরকে রাজি করান এই প্লেনে। মেজর ডালিমের দুঃসম্পকের মামা হলেন বঙ্গবন্ধু। ডালিম প্রথমে রাজি না হলেও যখন খন্দকার মোস্তাকের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারলেন তখন তিনিও রাজি হয়ে যান। মেজর ফারুক রশিদের সাথে দেখা করে বলেন সময় হয়েছে সবাইকে নিয়ে যেন ক্যান্টনমেন্টের পাশে আসে সেখানেই সব প্লেন হবে।সন্ধা নাগাদ সবাই এসে হাজির হয়ে যায় কিন্তুু প্রাক্তন মেজর ডালিম তখনও আসেনি একটু পরেই সেও এসে যোগ দেয়। মেজর ফারুক পুরো শহরের ম্যাপ বার করেন। এবং সবাইকে সবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। মেজর রশিদের দায়িত্ব হবে বিমানবন্ধরে ট্যাঙ্ক কামান আর সৈন্য নিয়ে পাহারা দেওয়া যেন আক্রমনের সময় বা পরে কেউ বাইরে থেকে বিমান যুগে সাহায্যে করতে না পারে। মেজর ডালিমের উপর পরল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা কিন্তুু মেজর ডালিম এ দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করল কেননা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার মামা। মেজর ফারুক তাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার দায়িত্ব দিলেন মেজর মহিউদ্দীন আর নূরকে সাথে তিনশত সৈন্য। মেজর ফারুক নির্দেশ দিলেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আটক করতে।তবে পরিস্হিতি অনুযায়ী যা ইচ্ছা করা যেতে পারে।মেজর ডালিম নিলেন শেখ মনির বাড়িতে হামলার দায়িত্ব।মেজর ফারুক নিলেন সবথেকে কঠিন এবং ভয়ংঙ্কর দায়িত্ব রক্ষী বাহিনীকে সামাল দেওয়া। সবাইকে সব বুঝিয়ে দেওয়ার পর মধ্যে রাএিতে অভিজানে নামলো। মেজর ফারুক ২৮ টি ট্যাঙ্ক নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের দেয়াল ভেঙে বাইরে এসে পরেন। কেউ কোন প্রকার সন্ধেহ করেনি কারণ তখন সেনাবাহীনিরা অনুশীলনের জন্যে প্রায়ই বাইরে বেরুতেন। মেজর ফারুক এগিয়ে চললেন পরবর্তীতে মেজর ফারুক সাংবাদিকদের প্রশ্নউওরে বলেন ট্যাঙ্কে আসলে কোন গোলা বারুদ কামান কিছুই ছিলোনা।ট্যাঙ্ক যে আক্রমনের দিক থেকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে কতটা এগিয়ে তা অনেকেই জানেনা। মেজর ফারুক হাসতে হাসতে বলেন খালি ট্যাঙ্ক নিয়ে আমি ভয়ংকর রক্ষী বাহিনীর মোকাবেলা করতে যাব আমাকে কেই বা অতটা পাগল ভাববে বলুন৷ ট্যাঙ্কের সামনে দাড়িয়ে সড়ে যাবেনা এমন সাহসী লোক খুব কমই আছে যদিও তারা গুলি চালালে আমার কিছু করার ছিলো না কেননা আমার ট্যাঙ্ক ছিল সম্পূর্ণ নিরস্ত্র। মেজর ফারুক কিছু গোলা বারুদ পাবার উদ্ধেশ্য ট্যাঙ্কের ডিপুতে গেলেন কিন্তুু সেখানেও কিছু পেলেন না এখন সবাইকে ধোকা দিয়ে কাজ হাসিল করা ছাড়া কোন উপায় নেই বুঝতে পারলেন তিনি আবার এগুতে শুরু করলেন সামনেই ৪ জন অফিসারকে দেখতে পেলেন মার্সি পিটিশনে বের হয়েছে। তারা ট্যাঙ্কগুলোকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালো আশ্চর্যের বিষয় তাদের একটুও সন্ধেহ হলোনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ট্যাঙ্ক এত দূরে কী করতে এসেছে। একজনই কেবল সন্ধেহ করেছিল সে হলো মেজর ফারুকের বাবা ফজরের নামায সেড়ে তিনি বাইরের জানালা খুলে সৈন্যসহ ২৮ ট্যাঙ্ক দেখলেন কিছুক্ষণ ভাবলেনও। মেজর ফারুক গড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন সময় ৪ টা ৪০ মিনিট। মাইক থেকে ফজরের সুমধুর আযান ভেসে আসছে তা যেন মেজর ফারুকের কানে মধু বর্ষন করছে। পরক্ষণেই তার মনে হলো আন্ধা হাফিজের বলে দেওয়া দুয়ার কথা।মনে মনে তিনি কয়েকবার সেই দুয়া পড়ে নিলেন। মেজর ফারুক মনে মনে ভাবছেন আজকের দিনটা শুক্রবার এই দিনেই সে জন্ম নিয়েছিল এই দিনেই সে তার ভালোবাসার প্রিয়তমাকে বিয়ে করেছিল আজকে আবার সেই শুক্রবার হয় সে মৃত্যুের কোলে ঢলে পরবে নাহয় তার পুনরউত্থান হবে।বঙ্গবন্ধুকে মারার জন্যে মেজর ফারুক কিছু কারণে শুক্রবারকেই বেছে নিয়েছিলেন কারণ এই শুক্রবারেই তার জীবনের সমস্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে।তিনি নিজের জন্যে শুক্রবারকে শুভ মনে করতেন। তাছাড়া তার মনে হয়েছিল তিনি যা করছেন ইসলামের জন্যেই করছেন আর শুক্রবার মুসলিমদের জন্যে পবিএ একটি দিন। মেজর ফারুক পিছনে তাকিয়ে দেখলেন ২৮ টা ট্যাঙ্ক নিয়ে যাএা শুরু করলেও মাএ একটি ট্যাঙ্ক তাকে অনুসরন করছে। বাকি ২৬ টা ট্যাঙ্কই হাওয়া। তবুও মেজর ফারুক দুটি ট্যাঙ্ক নিয়েই এগুতে লাগলেন কিন্তুু সামনে যা দেখলেন তাতে মেজর ফারুকের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ৬ হাজার রক্ষী বাহিনী ৩ টি সাড়িতে দাড়িয়ে আছে। হাতে স্টেনগান,মুখে হেমলেট আরও প্রয়োজনীয় সব অস্ত্র। মেজর ফারুকের কাছে একটি মাএ স্টেনগান ট্যাঙ্ক তো খালি। ট্যাঙ্ক চালক ফারুকের উদ্ধেশ্য বলল এখন কী করব স্যার? মেজর ফারুক বললেন সাহস রাখ আর ট্যাঙ্কের নিশানা সবার কপাল বরাবর তাক করে এগিয়ে যাও।ড্রাইবার তাই করল। রক্ষী বাহিনী কোন নাড়াচাড়া করছে না থ হয়ে দাড়িয়ে আছে।মেজর ফারুক বললেন যদি প্রাণ বাচাতে চাও তাহলে আত্নসমর্পন কর।প্রতিরোদ গড়ে এখন আর কোন লাভ নেই আমাদের যা করার করে ফেলেছি।ঠিক তখনি ধানমন্ডির দিক থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসলো রক্ষী বাহিনীর সবাই গুলির শব্দে চমকে উঠলো। তাদের কোন প্রতিক্রিয়া না থাকায় মেজর ফারুক বুঝলেন আর কোন বিপদের সম্ভাবনা নেই জয় তার সুনিশ্চিৎ।একটি খালি ট্যাঙ্ককে রক্ষী বাহিনীর পাহাড়ায় বসিয়ে অপর ট্যাঙ্ক নিয়ে তিনি মেজর রশীদের স্হানে ছুটে যান সময় তখন ৫ঃ১৫ মিনিট। মেজর ফারুক ভাবলেন নিশ্চই ইতিমধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এদিকে একটু আগে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমন করা হয় বাড়ির গেইটের দারোআনরা কোন প্রকার বাধা ছাড়াই গেইট খুলে দেয়। হঠাৎ ভিতর থেকে অতর্কিতভাবে একটি গুলি এসে লাগলো দলে থাকা একটি মেজরের গায়ে সে নিহত হলো।কিছুক্ষণ গুলাগুলির পর সব বাধা শেষ হয়ে গেল। গুলাগুলিতে বাইরে থেকে সৈন্যরা রকেট ছুড়া শুরু করে দিল। রকেটগুলো এত জুড়ে ছুড়ছিল যে তার মধ্যে একটি রকেট যেয়ে মোহাম্মদপুরে একটি বিহারির বাড়ির উপর যেয়ে পরে???? এক জন মারা যায় দুজন আহত হয়।বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে দূর্ভৃও্বরা???? ডুকে পরে।আক্রমন বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধু প্রথম রক্ষী বাহিনীর হেটকোয়ার্টারে ফোন করে কিন্তুু সেখানে কেউ ফোন ধরে না তারপর তিনি এম.জি.উসমানীর বাসায় ফোন করেন তাকে সাহায্যে পাঠাতে কিন্তুু বৃদ্ধ এম.জি.উসমানী যতক্ষণে তার বাসায় পৌছান একাই ততক্ষণে জাতির জনকের নিথর দেহ পরে আছে, সেদিন বঙ্গবন্ধু মেজর জিয়া, এ.কে খন্দকার সবার বাসায়ই ফোন করেন কিন্তুু কোথাও তিনি কোন সাড়া পাননি।অনেক খুজাখুজির পরও বঙ্গবন্ধুকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে মেজর মহিউদ্দীন সিড়ির গোড়াতে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পান। বঙ্গবন্ধু তার প্রিয় ধূমপানের পাইপ টানতে টানতে বলেন কী চাও তুমরা? আমাকে হত্যা করতে চাও? ভুলে যাও পাকিস্তানি বাহীনি তা করতে পারেনি তুমরাও পারবে না। মেজর মহিউদ্দীন আমতা আমতা করে বলেন স্যার আপনি আমাদের সাথে আসুন। বঙ্গবন্ধু তাকে ধমকিয়েই যাচ্ছিলেন স্পষ্টতই জাতির জনক সময় কাটাতে চাচ্ছিলেন কেননা ইতিমধ্যে তিনি অনেক জায়গায় ফোন করেছেন লোকেরা হয়ত তার সাহায্যে এগিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধুর পরনে ছিল সাদা পান্জাবি আর চেক লুঙ্গি। তার প্রিয় ধূমপানের পাইপটি তিনি টানছিলেন ঠিক তখনি মেজর নূর এসে আবুল তাবুল বলতে বলতে বঙ্গবন্ধুর উপর গুলি চালিয়ে দেন গুলির আঘাতে বঙ্গবন্ধুর দেহ কিছুটা পিছিয়ে যায় তারপর সিড়িতে গড়গড়ি খেয়ে লুটিয়ে পরে বাংলার স্বাধীনতার মহান নেতার দেহ।পরবর্তীতে মেজর ফারুক সাংবাদিকদের প্রশ্নউওরে জানান বঙ্গবন্ধুর ব্যাক্তিত্ব ছিল প্রখর।তার ব্যাক্তিত্বের সামনে মহিউদ্দীন হার মেনে গিয়েছিল।সেসময় যদি নূর এসে পরিস্হিতি সামাল না দিত তাহলে যে কী হত! হত্যাকারীরা চলে যায় উপর তলায় যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরা একটি আবদ্ধ রুমে গুটিসুটি হয়ে জড়ো হয়ে আছে। শেখ কামাল সবেমাএ সেনাবাহীনির ল্যাফটেনেন্ট ট্রেনিং নিয়ে দেশে ফিরেছে। রুমের কাছেই শেখ কামালের সাথে কয়েক দফা গুলি বিনিময় হয় একটু পরই শেখ কামাল মৃত্যুের কোলে ঢলে পরেন তবে সে মারা যাবার আগে কয়েকজনকে আহত করে যেতে পেরেছিল।হত্যাকারীরা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। শেখ জামাল তার ছোট ভাই শেখ রাসেল, তার এবং তার ভাইয়ের স্এীদের রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেন।কিন্তুু হত্যাকারীরা শেখ জামালের কপালে একদম কাছ থেকে গুলি করে। গুলিটা মাথার মস্তক ছিন্ন করে পিছনের দেয়ালে আটকে যায়। এটা দেখে তাদের স্এীদয় ছোট শেখ রাসেলকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় গড়াগড়ি করছিল। হত্যাকারীরা তাদেরও গুলি করে একদম কাছ থেকে।অবশেষে ছোট শেখ রাসেল প্রাণ বাচাতে আলমারিতে লোকানোর ব্যার্থ চেষ্টা করে।হত্যাকারীরা ছোট এই শিশুটিকেও গুলি করে।পরবর্তীতে মেজর ফারুক যা জানান তা জাতির জন্যে সত্যিই লজ্জাজনক।মেজর ফারুকও দুঃখের সাথে বলেন- বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হত্যাকান্ড ঘটানোর এক সৈন্য বেচে থাকতে বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে কখনও দেখেনি তাই সে পায়ের বুথ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর উল্টো হয়ে থাকা দেহকে সুজা করে দেখে নেন।যেটার প্রাপ্প বঙ্গবন্ধু কখনও ছিলেন না।বঙ্গবন্ধুকে আরেকবার তথা শেষ বারের জন্যে অপমান করা হয় তার গ্রামের বাড়িতে।যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর সারাদেশ ব্যপি ছড়িয়ে পরে তখন তার গ্রামের বাড়িতে মানুষ সব লুটপাট করে নিয়ে যায়।একটু আগেই যে বাড়ি একটি দেশের প্রাধানের বাড়ি ছিল একটি দেশের জাতির জনকের বাড়ি ছিল কিছু সময়ের ব্যবধানে সব যেন কেমন পরিবর্তন হয়ে গেল। ভোরের আলো তখন ফুটতে শুরু করেছে।পাখিরা খাবারের সন্ধানে আকাশ পানে উড়ে যাচ্ছে জাতির জনকের বাড়ির কোন সদস্য এই আলো দেখতে পারেনি প্রকৃতির মায়বী স্নিগ্ধ এই সকাল কেউ অনুভব করতে পারেনি শুধু পরে ছিল তাদের নিথর দেহ।ঐদিকে মেজর ডালিম এবং তার সাথে সৈন্যরাও শেখ মনির বাড়িতে হামলা করে শেখ মনি এবং আরও অনেক পাহাড়াদারকে হত্যা করে। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে পুরোপুরিভাবে সফল না হতে পারলেও একজন নেতা হিসাবে তিনি অনন্য। তিনিই কোটি মানুষের হৃদয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন।সদ্য প্রতিষ্ঠিত একটি দেশে আবার স্বাধীনতার স্বপ্ন মানুষকে দেখানো সহজ ছিলো না।একজন যোগ্য নেতার যোগ্য শীর্ষই তিনি ছিলেন।যিনি তার হৃদয়ের সবটা দিয়েই সাধারণ মানুষকে ভালোবাসতেন।কোন কিছুতেই কাউকে কখনও না বলতে পারতেন না। এই যে না বলতে পারতেন না এটাই তার আকাশসম জনপ্রিয়তাকে মাটিতে নেমে আসতে সাহায্যে করেছিল। এই না শব্দটা তিনি বলতে পারতেন না বলেই তাকে জীবন দিয়ে তার মূল্যে দিতে হয়েছিল। মেজর ফারুকের মতো একজন উঠে আসতে সাহায্যে করেছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতার পর এই দেশকে একটি ব্যার্থরাষ্ট্রে পরিণত করতে সর্বপ্রকার চেষ্টা করেছিল অনেক দেশ।রক্ষী বাহীনির অত্যাচার, নেতাকর্মীদের দূর্নিতী এসব কিছুই বঙ্গবন্ধু পতনের মূল কারণ ছিল। কিন্তুু ব্যক্তি হিসাবে বঙ্গবন্ধু অনন্য যিনি তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই মানুষের জন্যে কাটিয়েছেন জেলের অন্ধকার কালকুঠুরিতে।একজন মানুষ ১০০% সঠিক কখনও হতে পারেনা। কিন্তুু জাতির এই মহান নেতাকে সবসময়ের জন্যে আমাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা উচিৎ।নদীমাতৃক সবুজ ঘাসের অভয়ারণ্য এই দেশে যতদিন সবুজের বুকে লাল পতাকা আকাশে উড়বে ততদিন বঙ্গবন্ধু নামটি চিরঅম্লান হয়ে থাকবে। *আপনারা চাইলে এর পরের থেকে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৫ আগস্ট সারাদিন থেকে মেজর জিয়াউর রহমান হত্যা পর্যন্ত লিখতে পারি।যদি পড়তে চান তো! Ref: Bangladesh; A legacy of blood


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...