বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমিমাংসিত

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উড়ন্ত পায়রা (৯০ পয়েন্ট)



X মাঝদুপুরে ঝুম বৃষ্টি পুরো শহরকে এক তৃপ্তির স্বাদ দিচ্ছে,যেন বহু কাঙ্ক্ষিত ছিলো এই ঝুম বৃষ্টি! শুধুমাত্র আমার ভাবলেশহীন মনেই যেন কোনো স্বস্তির ছোয়া দিতে পারেনি,বরং এক উদ্ভুত আগন্তুকের মতোই অযাচিত লাগছে এই বৃষ্টির প্রতিটি জলবিন্দুকে! ""মানুষের প্রতিটা অপছন্দের পিছনেই নাকি উদ্ভট কিছু কারণ থাকে,যদিও আমার বৃষ্টি অপছন্দ এমন নয়,তবুও আকাশ হতে নেমে আসা শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণ আছে বৈকি! কিছু মুহুর্ত থাকে যেসব মনের সংগোপনে রয়ে যায় অনাদিকাল ধরে,কোনো পরিবর্তন,পরিবর্ধন তাতে মানায় না,সুপ্ত অবস্থায় রয়ে যাওয়াই যেন চিরায়ত ধর্ম!কিছু বাসনা আজীবন প্রচ্ছন্ন থাকাই সুখকর হয, তা প্রকট হয়ে গেলে বুঝি জীবনের অভিধানে গরমিল পরে যায়!"" ....এমন কতশত অযাচিত চিন্তা ভাবনা করতে করতে কখন যেন তুমুল বর্ষণের মধ্যই জনমানবহীন রাস্তায় বেরিয়ে পরেছি,কাকভেজা হযে যাওয়ার পরে আমার ইন্দ্রিয় যেন সচল হয়ে বুঝিয়ে দিলো আমার অবস্থাটা! আসলেই স্মৃতি বড্ড বেহায়া,বারবার ফিরে এসে বর্তমানের সুখটুকু কেড়ে নিতে চায়! আজকেই এইসব স্মৃতির সাথে সব হিসাব চুকিয়ে ফেলতে হবে! আমি কাকভেজা হয়ে দ্রুত বাসায় ফেরার জন্য পা বাড়ালাম,কিন্তু কোথাও একটা যেন পথ আটকে যাচ্ছে,আমি পারছিনা এগোতে,বিনি সুতোয় যেন টান পরেছে,আর একটু এগোলেই মালা ছিড়ে যাবে-সুতোর সাথে এজনমের সব বন্ধন ছিন্ন করে! এই মাঝদুপুরের হঠাৎ মেনে আসা তুমুল বৃষ্টির মাঝে আমি ঝাপসাভাবে হলেও দেখতে পাচ্ছি সামনে দাড়ানো একজন মানুষকে,না অপরিচিত কেউ নয়, সে আমার চিরপরিচিত! এটাই আমার পথ না এগোনোর সেই বিনি সুতোয় টানের একমাত্র কারণ!হঠাৎই যেন কয়েকমুহুর্ত আমার জীবন থেকে উদাম হাওয়ায় হারিয়ে গেলো,প্রতিটা বৃষ্টির ফোটা যেন জীবন্ত হয়ে আমাকে আাকড়ে ধরতে চাইলো!আমার মস্তিষ্ক তুমুল বিদ্রেোহ ঘোষনা করলো মনের সাথে,তবে শেষমেশ মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আমার আর বাসায় ফেরা হলোনা,আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম সেই মানুষটির দিকে অতৃপ্তির এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুন্য দৃষ্টিতে! কতোটা সময় কেটে গেলো,সেটা আর হিসেব করা হয়নি,পাশ দিয়ে হঠাৎ কোনো গাড়ি দ্রুতবেগে চলে যাওয়ার সময় কাদাপানি ছিটে এসে পরতেই আমার যেন চৈতন্য হলো, আমি সেই মানুষটির বিপরীতে হেটে চললাম গন্তব্যে,এতোটা সময়ের মধ্য তার চোখের ভুলেও সে আমাকে দেখতে পায়নি,তার দৃষ্টি ছিলো ঝুম বৃষ্টিতে নিবদ্ধ,সেই পুরোনো দিনের মতো! কি এমন ক্ষতি হতো প্রকৃতির ধরাবাঁধা নিয়মের যদি সে আমায় দেখতে পেত,! বাসায় ফিরলাম প্রায় দুএক ঘন্টা পরে,এরমধ্য বৃষ্টিও থেমে গেছে,আকাশের এককোণে কিছু বিষন্ন মেঘ এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে,কি ভীষণ আফসোস তাদের বৃষ্টি হয়ে নামতে না পারার!হঠাৎ ফোনের রিংটোনের শব্দে বাস্তবে ফিরে এলাম,ফোনের স্ক্রিনে ভাসছে অপরিচিত এক নাম্বার,হৃৎপিন্ড যেন দ্রুত কাজ করছে,হয়তো মনের কোনে এক সুপ্ত ইচ্ছা নিজের জায়গা পেতে চাচ্ছে বাস্তবে! কাপা কাপা হাতে রিসিভ করলাম,কিন্তু...আমাকে আশাহত হতে হলো,চাওয়া আর পাওয়ার মাঝের সূক্ষ্ম প্রভেদ আমার আশার দেয়াল ভেঙ্গে চুরমার করে দিলো,একরাশ বিরক্তি নিয়ে ফোন রেখে দিলাম! দুদিন পরে বিশেষ প্রয়োজনে বিকেলের দিকে আমাকে বেরোতে হলো,আমি সঙ্গে ছাতা নিয়ে নিলাম আকাশের বুকের এককোনে চুপটি করে বসে থাকা মেঘদলকে লক্ষ করে!সন্ধ্যার আগেই সব ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেলো,আমি ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলাম,কিন্তু,বেশি তাগিদে ফল নষ্ট হয়, আমারো তাই হলো,কোনো বাহন পেলাম না,প্রায় একঘন্টা ধরে তীর্থের কাক হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রইলাম কোনো বাহনের আশায়,হঠাৎ আবার ঝুম বৃষ্টি নামলো,আমি ছাতা খুজতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম,আমার হাতে না আছে আমার ব্যাগ,আর না ছাতা! এতোটা ভুলোমনা কি করে আমি !আর গেলোই বা কোথায় সব!অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে আবার ভিজতে হলো অযাচিত এক পশলা বৃষ্টিতে,আশেপাশে তেমন কোনো আশ্রয় নেই যা আমাকে বৃষ্টির পরশ থেকে দূরে সরাবে,আশেপাশে লোকসমাগম ও নেই,তাই আমার কোনো সংকোচ কাজ করছে না!মিনিট পাঁচেক পরে.......আবার আমার সামনে সেই মানুষটি,আবার আমার দৃষ্টি ওতে নিবদ্ধ,কিন্তু ওর দৃষ্টি আকাশছোয়া,যেন বৃষ্টির ফোটাকে বাহন বানিয়ে পাড়ি দেবে মেঘাচ্ছন্ন নীলাকাশ!এবার আর ওকে দেখা না দিয়ে যেতে পারলাম না,আর না ছিড়ুক আমার বিনি সুতোর মালা! আনন্দের চিৎকার মেতে উঠলাম তাকে আর একটিবার চুয়ে দেখার নেশায়,এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলাম..... হঠাৎ ........... আমার সামনে অন্ধকারে ঘেরা এক কক্ষ ছাড়া আর কিছুই নেই,আমি এখানকার চিরস্থায়ী বাসিন্দা,কোনো রোদ বৃষ্টি আমাকে ছোয়না,আমার সে গল্প হয়েও গল্প না,সত্যি হয়েও কল্পনা!অনুভব করলাম ইনজেকশান পুশ করা হচ্ছে হাতে,ধীরে ধীরে আমার চোখজোড়া বন্ধ হয়ে আসছে,আবছা আলোয় দেখতে পাচ্ছি আমার সেই মানুষটি বৃষ্টির ছন্দ তানে বুদ হয়ে আছে অতীতে,চোখজোড়া তার ছলছল করে উঠছে,নাহ ওই চোখে বর্ষা না নামুক!এই প্রথমবার আমি আবছা আলো দেখলাম এই অন্ধকার ঘরে,কে খুলছে ওই বন্ধ দরজা আমার জন্য আলো আনতে?ধীরে ধীরে আমার চেতনাশক্তি ম্লান হয়ে আসলো,লুটিয়ে পরার ঠিক আগমুহুর্তেও আমি যেন দেখতে পেলাম তাকে,সে এসেছে,বৃষ্টির পরের রোদ আর আঁধারের আলো হয়ে আসছে,,...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অমিমাংসিত রহস্য ভালোবাসা
→ অমিমাংসিত ৮-(১০)
→ অমিমাংসিত ৭-(১০)
→ অমিমাংসিত ৬-(১০)
→ অমিমাংসিত ৫-(১০)
→ অমিমাংসিত ৪-(১০)
→ অমিমাংসিত ৩-(১০)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...