বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টুনটুনি ও ছোটাচ্চু

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sᕼᗩᕼᗩᖇᓰᗩᖇ (৬৫ পয়েন্ট)



X বাসাটা তিনতলা। কিংবা কে জানে, চারতলাও হতে পারে। আবার তিন কিংবা চারতলা না হয়ে সাড়ে তিনতলাও হতে পারে। এই বাসায় যারা থাকে, তাদের জন্য অসম্ভব কিছু না। এই বাসায় কারা থাকে, সেটা বলে দিতে পারলে মনে হয় ভালো হতো, কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না । তা ছাড়া বলে লাভ কী, সবার নাম, বয়স, কে কী করে—এত সব কি আর মনে রাখা সম্ভব? শুধু একটা জিনিস বলে দেওয়া যায়, এই বাসার সবাই একই পরিবারের মানুষ । সংখ্যাটা শুধু আন্দাজ করা যেতে পারে, ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন হবে—কিংবা কে জানে, বেশিও হতে পারে। বাসাভর্তি বাচ্চা কিলবিল করছে । এতগুলো বাচ্চার হিসাব রাখা কঠিন, তাদের বাবা-মায়েরাই হিসাব রাখতে পারে না। তত বাবা-মায়েরা যে হিসাব রাখতে পারে না তার অবশ্য একটা কারণ আছে । কারণটা হচ্ছে, তারা কে কখন কোথায় থাকে তার ঠিক নেই । হয়তো বাসায় খেতে বসেছে, ডাইনিং টেবিলে খাবারটা কারও পছন্দ হলো না, সাথে সাথে নাক কুঁচকে থালাটা বগলে নিয়ে ওপরে কিংবা পাশের ফ্ল্যাটে চলে যাবে । হয়তো স্কুলে যাওয়ার সময় হয়েছে স্কুলের পোশাক খুঁজে পাচ্ছে না, তখন তারা অন্যজনের ফ্ল্যাটে গিয়ে অন্য কারও পোশাক পরে ফেলবে । কাছাকাছি বয়স সমস্যা হয় না। বড়জোর একটু ঢলঢলে কিংবা একটু টাইট হয়, সেটা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। রাতে ঘুমানোর সময় মায়েরা যদি দেখে বাচ্চা বিছানায় নেই, তাহলেও তারা দুশ্চিন্তা করে না। আবার যদি দেখে দুই-চারটা বাচ্চা বেশি, তাহলেও অবাক হয় না । এই পরিবারের বাচ্চাকাচ্চা ছাড়া মাঝবয়সী মানুষও আছেন, আবার বুড়ো মানুষও আছেন । বুড়ো মানুষ অবশ্যি মাত্র একজন, তাঁর নাম জোবেদা খানম । জোবেদা খানমকে অবশ্য তাঁর নাম দিয়ে ডাকার কেউ নেই, তাই জোবেদা খানমও তাঁর নিজের নামটা প্রায় ভুলেই গেছেন। বাচ্চাকাচ্চারা তাঁকে নানি না হয় দাদি ডাকে । কেউ যেন মনে না করে যাদের নানি ডাকার কথা তারা নানি ডাকে, আর যাদের দাদি ডাকার কথা তারা দাদি ডাকে! যখন যার যেটা ইচ্ছে, তখন তারা সেটা ডাকে। কেউ সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না, নানি কিংবা দাদি না ডেকে যদি খালা কিংবা আপু ডাকত, তাহলেও কেউ মনে হয় মাথা ঘামাত না । জোবেদা খানমের বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়ে, সবাইকে নিয়ে একসাথে থাকেন । সব পরিবারের মেয়েদের বিয়ে হলে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, এখানে কেউ যায়নি। ওপরতলা কিংবা নিচতলায় থেকে গেছে। সবারই বিয়ে হয়ে গেছে, বাচ্চাকাচ্চা আছে, শুধু একজন ছাড়া । সে ঘোষণা দিয়েছে যে সে বিয়ে করবে না। সেই ঘোষণা শোনার পর সবারই ধারণা হয়েছে, তার নিশ্চয়ই বিয়ে করার শখ হয়েছে। যাদের বিয়ে করার শখ হয়, তারা এ রকম ঘোষণা দেয় । একদিন সে বাসায় এসে বলল, “গুড নিউজ ।” সে প্রায় প্রত্যেকদিনই বাসায় এসে এ রকম কিছু একটা বলে, তাই কেউ তার কথার কোনো গুরুত্ব দিল না। দাদি চেয়ারে বসে সোয়েটার বুনতে থাকলেন, বাচ্চাকাচ্চারা ফোর টোয়েন্টি খেলতে থাকল, বড় ভাই পত্রিকা পড়তে থাকল আর ভাবি টেবিলে খাবার রাখতে থাকল । তখন সে আবার গলা উঁচিয়ে বলল, “গুড নিউজ পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে । আমি পাস করেছি।” বড় ভাই পত্রিকা থেকে চোখ না তুলে বলল, “কী পরীক্ষা?” ছেলেটা বলল, “মাস্টার্স ।” বড় ভাই পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল, বলল, “মাস্টার্স? আমি ভেবেছিলাম তুই ইন্টারমিডিয়েটে পড়িস।” ছোট ভাই রাগ হয়ে বলল, “ভাইয়া, তুমি কোনো কিছু খোঁজ রাখো না । আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি, সেইটা তুমি জানো না?” “জানতাম মনে হয়, ভুলে গেছি ।” ভাবি ডাইনিং টেবিলে শব্দ করে একটা প্লেট রেখে বলল, “সব সময় এক কথা, ভুলে গেছি। জিজ্ঞেস করে দেখো তার কয়টা ছেলেমেয়ে, সেটা মনে আছে কি না । সেটাও মনে হয় ভুলে গেছে ।” বড় ভাই তখন আবার পত্রিকায় মুখ ঢেকে ফেলল, একবার এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সব সময় সে বিপদে পড়ে যায় । মেঝেতে বসে যে বাচ্চাকাচ্চা ফোর টোয়েন্টি খেলছিল তাদের একজন জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু, তুমি কি গোল্ডেন ফাইভ পেয়েছ?”তার আসল নাম শাহরিয়ার কিন্তু বাচ্চারা কেউ সেটা জানে বলে মনে হয় না । চাচাদের মধ্যে সে ছোট, তাই তাকে ছোট চাচা ডাকা হয় । যাদের সে ছোট মামা তারাও তাকে ছোট চাচা ডাকে । ছোট চাচা শব্দটা ছোট হতে হতে ছোটাচ্চু হয়েছে, আরও ছোট হবে কি না কেউ জানে না । ছোটাচ্চু বলল, “ইউনিভার্সিটিতে গোল্ডেন ফাইভ হয় না ।” “তাহলে কী হয়?” বাচ্চাদের মধ্যে যে একটু র্ত্যাদড় টাইপের সে বলল, “প্লাস্টিক ফাইভ!” সব বাচ্চা তখন হি হি করে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়ে বলতে লাগল, “প্লাস্টিক ফাইভ, প্লাস্টিক ফাইভ!” ছোটাচ্চু চোখ পাকিয়ে বলল, “খবরদার ফাজলামি করবি না। দেব একটা থাবড়া ।” ছোটাচ্চু কখনো থাবড়া দেয় না, মেজাজ গরম করে না, তাই তাকে কেউ ভয় পায় না। সত্যি কথা বলতে কি, ছোটাচ্চুকে বাচ্চারা তাদের নিজেদের বয়সী মনে করে, তাই তাদের সব রকম ফুর্তি-ফার্তা, হাসি তামাশা সবকিছু ছোটাচ্চুকে নিয়ে । বাচ্চাকাচ্চাদের মধ্যে যে একটু বড়, সে বলল, “তোমার গ্রেড কত, ছোটাচ্চু?” ছোটাচ্চুর চেহারাটা প্রথমে একটু কঠিন হলো, তারপর কেমন যেন দার্শনিকের মতো হলো, তারপর বলল, “ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিটা হচ্ছে বড় কথা । গ্রেড দিয়ে কী হবে? পাস করেছি, সেইটা হচ্ছে ইম্পরট্যান্ট।” র্ত্যাদড় টাইপের বাচ্চাটা বলল, “তার মানে তোমার গ্রেড কুফা?” ছোটাচ্চু আবার চোখ পাকিয়ে বলল, “মোটেও কুফা না।” “তাহলে কত, বলো।” ছোটাচ্চু ঠিক করে দিল, “টু পয়েন্ট থ্রি সিক্স ।" বাচ্চাটা চোখ কপালে তুলে বলল, “মাত্র টু?” “টু পয়েন্ট থ্রি সিক্স ।" “একই কথা । তার মানে তুমি প্রায় ফেল করে গিয়েছিলে । অল্পের জন্য বেঁচে গেছ ।” ছোটাচ্চু বলল, “ম নেই, পরীক্ষার আগে আমার ডেঙ্গু হলো?” দাদি অবাক হয়ে বলল, “তোর ডেঙ্গু হয়েছিল নাকি? কখন?” “ওই যে জ্বর হলো । নিশ্চয়ই সেটা ডেঙ্গু ছিল ।"বাচ্চাদের ভেতর র্ত্যাদড়জন জিজ্ঞেস করল, “প্লাটিলেট কাউন্ট কত ছিল ছোটাচ্চু ?" “ব্লাড টেস্ট করাইনি।” “তাহলে বুঝলে কেমন করে ডেঙ্গু?” “ডেঙ্গু ছাড়া আর কী হবে? সবার তখন ডেঙ্গু হচ্ছিল, মনে নাই?” তাদড়জন বলল, “আসলে তোমার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তো সেই জন্য তুমি বানিয়ে বানিয়ে ডেঙ্গুর কথা বলছ।" সব বাচ্চাকাচ্চা জোরে জোরে মাথা নাড়ল, একজন বলল, “ছোটাচ্চু, তুমি তো লেখাপড়া করো নাই, সেই জন্য তোমার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে ।” তারা লেখাপড়া করে না, সে জন্য সব সময় বকুনি শুনতে হয়। এখন ছোটাচ্চুকে লেখাপড়া না করার জন্য ধরা যাচ্ছে, এ রকম সুযোগ খুব বেশি আসে না। তাই তারা সবাই সুযোগটার সদ্ব্যবহার শুরু করল, বলা শুরু করল: “প্রতিদিন নিয়ম করে পড়তে হয়। সকালে আর রাতে।” “নো টিভি । টিভি দেখলে ব্রেন নষ্ট হয়ে যায়।" “পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয় । উল্টাপাল্টা চিন্তা করলে হবে না '' “বই মুখস্থ করে ফেলবে।” “সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে, তুমি তো দশটার আগে ওঠো না।" “আউল ফাউল বই পড়ে লাভ নেই। পাঠ্যবই ঝাড়া মুখস্থ, দাঁড়ি কমাসহ।" ছোটাচ্চু তখন সবাইকে একটা ধমক দিল, “চুপ করবি তোরা? বেশি মাতবর হয়েছিস?” র্ত্যাদড় টাইপ বলল, “তোমরা বললে দোষ নাই, আর আমরা বললে দোষ।” “লাই দিতে দিতে মাথায় উঠে গেছিস।" একজনের জানার ইচ্ছে হচ্ছিল লাই জিনিসটা কী, সেটা কেমন করে দেওয়া হয়, সেটা কি হাত দিয়ে ধরা যায়, পকেটে রাখা যায়, কিন্তু ছোটাচ্চুর মেজাজ দেখে আর জিজ্ঞেস করার সাহস করল না। দাদি বললেন, “পাস করেছিস, এখন চাকরি-বাকরি করবি?” র্ত্যাদড় টাইপ বলল, “টু পয়েন্ট থ্রি সিক্স দিয়ে কোনো চাকরি হবে না ।"ছোটাচ্চু চোখ পাকিয়ে তার দিকে তাকাল, তারপর দার্শনিকের মতো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আমি চাকরি করতে চাই না । চাকরি মানেই আরেকজনের গোলামি । স্বাধীনভাবে কাজ করব ।" ----------------চলবে----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টুনটুনি ও ছোটাচ্চু
→ টুনটুনি ও ছোটাচ্চু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...