বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

#অন্তরালেও_তুমি_আমার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RaNa jojo (০ পয়েন্ট)



X পর্ব :1 লেখিকা : jojo(Rana) (আসসালামুয়ালাইকুম আমার প্রিয় পাঠক-পাঠিকা গন।আশা করি সবাই ভাল আছ।আমি Gangster queen তোমাদের জন্য নিয়ে আসলাম আমার লেখা নতুন আরও একটা গল্প। আশা করি সবার ভাল লাগবে।তো চলো গল্প শুরু করা যাক????) বাবাই বাবাই Where are you?(কোথায় তুমি)?বাবাইইই (চিৎকার করে বাড়িতে প্রবেশ করতে করতে তিথি) What's your problem?(সমস্যা কি তোমার)?এত চিৎকার করছ কেন?(তিতাস চৌধুরী তিথির বাবাই সিরি দিয়ে নামতে নামতে) I want money right now।(আমার টাকা চাই এখনি)(তিথি চুইংগাম চাবাতে চাবাতে ভাব নিয়ে সোফায় বসে) মানে কি এক সপ্তাহ ও হয়নি এক লক্ষ টাকা দিলাম হাত খরচ এর জন্য এর মধ্যেই সব শেষ করে ফেলেছ?(অবাক হয়ে বাবাই) So what (তাতে কি)?তোমার টাকার তো অভাব নেই।কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হয়েও তুমি আমার সাথে টাকা নিয়ে কিপটামি কর কেন?আচ্ছা এতো কথা বাদ বেশি না আর এক লক্ষ টাকা দিলে আর এই মাসে আমি টাকা চাইতাম না।জলদি দেও আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে রকি মিরাজরা অপেক্ষা করছে।(তিথি দাড়িয়ে গিয়ে) না আর একটাকাও পাবে না যাও তো রাতের বেলা মাথা গরম করিও না।(বাবাই রাগ দেখিয়ে) এতক্ষণ নিরব দর্শকের মত বাবা মেয়ের কথা পর্যবেক্ষণ করে ফাহিমা বেগম(তিথির সৎ মা)এগিয়ে আসলেন। মেয়েটা টাকা চাইছে দিয়ে দেন।একটা মাএ মেয়ে আমাদের ওর এই তো সব(ফাহিমা সামনে এগিয়ে এসে) মিসেস চৌধুরী আপনার কথা বলতে কে বলেছে বলুন তো?আমার বাবাই আমাকে টাকা দিলে দিবে না দিলে নাই আপনি কথা বলার কে?(চিৎকার করে তিথি) তিথি তোমার মা হয় সন্মান দিয়ে কথা বলো।(বাবাই চিৎকার করে) থাক আপনি ওর সাথে আমার জন্য চিৎকার করবেন না ।দেখ তিথি মা আমিতো_(ফাহিমা) আপনার ভাল মানুষি আপনার কাছেই রাখুন। আমার হয়ে কথা বলতে আসবেন না প্লিজ (ফাহিমাকে থামিয়ে দিয়ে তিথি)তুমি টাকা দিবা কিনা বল?(বাবাই এর উদ্দেশ্য তিথি) না এই মাসে কোন টাকাই পাবে না আর তুমি (কঠোর কন্ঠে বাবাই) ঠিক আছে থাক তুমি তোমার টাকা নিয়ে আমি গেলাম (বলেই বেরিয়ে গেলাম আর রকি মিরাজ দের সাথে ক্লাবের উদ্দেশ্য রওনা হলাম) মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে আপনার কথায়। আপনার এমন করা উচিত হয়নি।(বলেই রুমের দিকে হাঁটা দিলাম ফাহিমা) ফাহিমা শোন (তিতাস) হ্যা বলুন (ফাহিমা দাড়িয়ে) তোমার কষ্ট হয়না বুঝি।আমার মেয়েটা খুব জেদি হয়ে গেছে পুরো ওর মায়ের মত।ও চলে না গেলে আমার তোমাকে তিথির জন্য বিয়ে করতে হতনা। আর তোমার এতো কষ্ট সহ্য করতে হত না।(কষ্টের সাথে কথা গুলো বললেন তিতাস) আমার কিছু বলার নেই।ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসল।এই মানুষ দুইটা আমাকে কোন দিন ভালবাসতে পারলো না।আমি তো শুধুই প্রয়োজন হয়ে রয়ে গেলাম। (মনে মনে ভেবে রুমে চলে আসলাম ফাহিমা) (এবার আসি পরিচয় পর্বে। গল্পের নায়িকা তিথি চৌধুরী। তিতাস ও মিরা চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে।খামখেয়ালি,বদরাগী, জেদি, নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে চলে যাওয়া একটা মেয়ে।এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। মিরা চৌধুরী চলে যাওয়ার সময় তিথির বয়স মাত্র দুই বছর। তিতাস চৌধুরীর ব্যবসা ও তিথিকে একসাথে সামলাতে খুব কষ্ট হয়ে উঠে ।তাই তার ছোট বোন আরশি তার জন্য বিয়ের ব্যাবস্থা করেন তার প্রিয় বান্ধবী ফাহিমার সাথে।কিন্ত এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না তিতাস এর বড় বোন মালতি।কিন্ত বিয়ে থামানোর কোন পথ ছিল না।ফাহিমা তিথিকে খুব ভালবাসত যখন ও আরশির সাথে কলেজ শেষে ওদের বাসায় আসতো।তিথির মা সব সময়ই পার্টি ঘোরাঘুরি নিয়েই ব্যস্ত থাকত।মেয়েকে তেমন সময়ই দিত না।কাজের লোক রেখে তিথির দেখাশোনা করাত।মিরার সাথে মালতির খুব ভাব ছিল। কারণ দুইজন একই রকমের ছিল।মালতির বিয়ে হয়েছিল একজন ধনী ব্যবসায়ীর সাথে।কিন্তু মালতি ছিল অনেক লোভী ও ঝোগরুটে টাইপের। ওদের ছেলে রকির যখন তিনবছর বয়স তখন মালতি ওর হাজব্যান্ড কে ডিভোর্স দিয়ে চলে আসে।মিরা এতে অনেক খুশি হয়েছিল। তার কারণ পরে বলব।ফাহিমা ও ছিল অনেক বড় বাড়ির মেয়ে। ওর ফেমেলি ওর বিয়ে কিছুতেই তিতাস এর সাথে দিতে রাজি ছিল না ।কিন্ত তিথির প্রতি মায়া ও তিতাস এর প্রতি ভালবাসার জন্য ও বাড়ি ছেড়ে চলে আসে আর তিতাস কে বিয়ে করে।এখন ও ফাহিমার বাবা ওদের মেনে নেয়নি।আরশির বিয়ে হয়েছিল তিতাস এর বিয়ের আগে ওর ভালোবাসার মানুষটির সাথে ।কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। ওর একমাত্র ছেলে আদনান তিথির চার বছরের বড়। তিথিকে নিজের বোনের মতো ভালবাসে।তিথি ও ভাই বলতে পাগল।আদনান একজন ডাক্তার। ওর বাবা মারা গেছে তিন বছর হল।।মালতি চায় রকির সাথে তিথির বিয়ে দিয়ে সব সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে।কিন্ত রকি তিথিকে বোন ও বন্ধু হিসেবেই দেখে।রকি তিথির চার বছর এর বড়।কিন্ত পড়াশোনাতে তেমন ভাল না তাই ফেল করতে করতে তিথির বেসমেট হয়ে গেছে।মালতি তিথির ব্রেন ওয়াশ করে দিয়েছে আর এই জন্য তিথি ফাহিমাকে দেখতে পারে না।ফাহিমার একটা ছেলে হয়েছিল।আর তাই তিথিকে সময়ই দিতে পারত না।আর ঠিক এই সময়ইটাই কাজে লাগিয়ে ছিল মালতি। ।কিন্তু হঠাৎই ফাহিমার ছেলেটা মারা যায় যখন ওর বয়স আটমাস।আর তাই ফাহিমার এই একটাই কষ্ট না পেল ছেলেকে আর না পেল মেয়েটাকে।যার জন্য তিতাস কে বিয়ে করল সেই মেয়েই ওকে ভালবাসে না।আর তিতাস সে ফাহিমাকে তিথির মা বানিয়ে এনেছিল।স্বামীর অধিকার পালন করেছে ঠিকই কিন্ত ফাহিমাকে কোন দিন ভালবাসতে পেরেছে কিনা ফাহিমা যানে না।তিথির পরিবারের পরিচয়পত্র শেষ) ক্লাবে তিথি,রকি,মিরাজ,রিংকি,মিতু ওরা পাচঁ জন উরাদূরা ডিরিংস করছে নাচছে। এই পাঁচজন মিলে কলেজ এর সবার ঘুম হারাম করে রেখেছে।জুনিয়র দের রেগিং করা,পানিসমেন্ট দেওয়া টিচার দের পর্যন্ত উত্তপ্ত করে ওরা।আর রাতের বেলায় ক্লাবে ক্লাবে ঘোরাঘুরি করাই ওদের কাজ। প্রতিদিন কার মত ঘোরাঘুরি করে যে যার বাসায় চলে গেছে তিথি বাদে।ও আজকে বাসায় যাবে না।খুব রাগ করেছে ও ওর বাবাই এর উপর।তাই পার্টি তে আজকে প্রতিদিন এর চেয়েও অনেক বেশি ডিরিংস করেছে। রকি কয়েকবার বলেও ওকে বাসায় যাওয়ার জন্য রাজি করাতে না পেরে নিজের বাসায় চলে গেছে। তিথি ওর গাড়ি নিয়ে ছুটছে অজানা গন্তব্যে।হঠাৎই গাড়িটা অন্য একটা গাড়ির সাথে বাড়ি খায়।তিথির মেজাজ এমনেই তুখর তার উপরে ওর গাড়ির ছোট খাট এক্সিডেন্ট হওয়া তে আর ও রাগ উঠে গেল।ও গাড়ি থেকে বেরিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকল।হঠাৎই ঐ গাড়ি থেকে একটা সুদর্শন ছেলে বেরিয়ে আসল।খুব শান্ত ভাবেই সরি বলে তিথির হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকার একটা বানডিল দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেল। তিথি পুরো বোকার মত অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। যখন হুশ আসল সামনে ঐ গাড়িটা ছিল না।ও মনে মনে ঐ ছেলেটাকে গালি দিতেদিতে গাড়ি নিয়ে আদনান এর হসপিটাল এ গেল। আদনান তখন একটা অপারেশন করছিল। অপারেশন শেষ করে এসে দেখল তিথি ওর রোগীদের বেডে ঘুমিয়ে কাদাকাদা।ও মুচকি হাসল।কারণ ও যানে মামার সাথে ঝগড়া হয়েছে তাই ও আজকে এখানে আসছে।এটা ওর নিত্য দিনের রুটিন।তারপর ও কাজে মন দিল। অন্যদিকে Hello Mom.How are you?yes I'm always fine .(হ্যালো মম।কেমন আছ তুমি?হ্যা আমি সব সময়ই ভাল থাকি।)দাদাজান কি করে?(আসফি) আমি ভাল আছি।তুমি কেমন আছ?তোমার দাদাজান নামাজ পড়ছে।তুমি নামাজ পড়েছ তো?(মম রিক্ত বেগম) হ্যা মম পরেই আসলাম। রাতের খাবার খেয়ে জলদি ঘুমিয়ে পড় ।আমি রাখি সকালে অফিস যেতে হবে।(আসফি) আচ্ছা রাখ।কিন্ত একটা কথা ছিল। (মম) হ্যা মম বল(আসফি) আনায়ার সাথে কালকে একটু দেখা করে অফিস যেও।(মম) আচ্ছা মম যাব।এখন রাখি আল্লাহ হাফেজ। (আসফি) আল্লাহ হাফেজ। (মম) তারপর আমি ফ্রেস হয়ে ডিনার করে ঘুমাতে চলে গেলাম।(আসফি) (দ্বিতীয় পরিচয় পর্ব । আমার গল্পের নায়ক মোঃআসফি খান।মোঃ ফারাবি খান ও মোসাঃরিক্ত বেগম এর বড় পুএ।ভদ্র, খুবশান্ত কিন্ত যখন রাগে তখন আগ্নেয়গীরীতে পরিনতহয়,মিশুক,খুতখুতে যেমন (সব কিছুই পারফেক্ট চায়)(নায়িকার বিপরীত)।আসফি ঢাকায় ব্যবসা করে।ওর দাদার বিজনেস কে আর ও প্রতিষ্ঠিত করেছে ও।ওর বাবাই বিদেশ প্রবাসী। দুবাই তে ব্যবসা করে বছরের ছয় থেকে সাতমাস দুবাই থাকে।ছোট মেয়ে আনায়া খান।আনায়া অনার্স ফাস্ট ইয়ার এ ভর্তি হয়েছে।কালকে থেকে কলেজ যাবে।তবে বাসার থেকে কলেজ দূরে হওয়ার জন্য হস্টেল এ থাকবে।দুইদিন হলো হস্টেলে গেছে।আসফি কাজের চাপে দেখা করতে পারেনি।তাই কালকে দেখা করতে বলা।ওর দাদাজান এর বয়স হয়েছে তাই ঢাকায় থাকতে ভাল লাগেনা। তাই বেশিরভাগ সময়ই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ঢাকায় দশতালা চারটা বাড়ি থাকতেও গ্রামের মত আরাম পায়না।আর তাই ওর মম এর ও ওর দাদাজান এর সাথে গ্রামে থাকতে হয় বেশিরভাগ টাইমে।ওরা ও কোটি কোটি টাকার মালিক।আসফির ফেমেলির পরিচয়পত্র শেষ) পরের দিন সকালে আযান এর শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।উঠে নামাজ পড়ে জগিং করতে বেরিয়ে পড়লাম। সাতটা নাগাদ বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে গোসল করলাম। তারপর রেডি হয়ে আনায়ার সাথে দেখা করতে চলে গেলাম। (আসফি) অন্য দিকে ঘুম থেকে উঠে দেখি ভাইয়ার কেবিনে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সকাল তখন আটটার কাছাকাছি।ভাইয়া বেচারার নাইট ডিউটি ছিল। সকালে আমার জন্য যেতে পারেনি বলে চেয়ারে ঘুমিয়েছে। ভাইয়াকে উঠিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। আর আমি ও বাসায় চলে আসলাম। টাকার বানডিল টায় চোখ গেল গাড়ির থেকে নামার সময়।মেজাজ টা গরম হয়ে গেল। আবার পরক্ষণেই মুচকি হাসলাম। আমি কোনদিন পুরো মাতাল হই না যতই মদ খাইনা কেন। ভুল আমার ছিল বাইপাসে অন্য গাড়ি টায় ভুলে ধাক্কা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মন খারাপ এর জন্য লোকটাকে ইচ্ছে মত বকেছি।কিন্ত লোকটার মুচকি হাসি দেখে আমি ঘায়েল হয়ে গেছিলাম। আমার হাতে টাকা দেওয়ার সময়ই যখন ওনার হাত টা আমার হাত স্পর্শ করে তখন আমার শিরদারা দিয়ে শিহরণ বয়ে গেছিল।এসব ভাবতে ভাবতেই ফ্রেশ হয়ে নিলাম তারপর নাস্তা করে কলেজে গেলাম। খাবার টেবিলে বাবাই এর সাথে কোন কথাই বলিনি।চাই না সকাল সকাল ঝগড়া করতে।(তিথি) *********(চলবে)************* (গল্পটা কেমন হয়েছে প্লিজ কমেন্ট করে জানাবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ #অন্তরালেও_তুমি_আমার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...