বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৃট্রিশ কাউন্সিলের স্কুল অ্য্যাম্বসেডরদের টাকশাল ভ্রমণ

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (৬৫ পয়েন্ট)



X ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ আমরা বৃট্রিশ কাউন্সিলের অ্যাম্বাসেডরবৃন্দ গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ভ্রমণ করি। করোনাকালীনে এক অবিস্মরণীয় ভ্রমণ। এখন লক-ডাউন লাই। গাড়ির ভাড়া দ্বিগুন মানে দুই সীটের ভাড়া দিতে হয়। একসীট খালী থাকবে এবং খালী সিটের ভাড়া দিতে হবে। এইভাবে চলছে গণ পরিবহন। কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদুজ্জামান আহমেদ বৃট্রিশ কাউন্সিলের স্কুল অ্য্যাম্বসেডর। তাঁকে আমরা গুরু বলে সম্মোধন করি বিশেষ করে বৃট্রিশ কাউন্সিলের আই এস এ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি পরামর্শ দেন। তিনি আমাদের বৃট্রিশ কাউন্সিলের স্কুল অ্য্যাম্বসেডর গ্রুপে ভ্রমণের জন্য প্রস্তাব করেছেন। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হলো সুন্দরবনের করমজল এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে যাবেন। তারিখ ও চাঁদা নির্ধারিত হলো। কিন্তু আমি এবং আরো কয়েকজন স্কুল অ্য্যাম্বসেডর তারিখে দ্বিমত ছিলাম বিধায় তারিখ ও স্থান পরিবর্তন করে গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জ করা হলো। গাজীপুর এব্বং নারায়নগঞ্জের ঐতিহাসিক এবং দর্শণীয় স্থান ভ্রমণের জন্য তারিখ নির্ধারিত হলো। শুধু ভ্রমণের তারিখ সাত ও আট ফেব্রুয়ারি করা হল। আমরা যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাই সাত ও আট তারিখের আগে ও পরের সময় যার যেরকম লাগে। ছয় ফেব্রুয়ারি গাজীপুর হোটেলে বিকেল পাঁচটায় থাকতে হবে। হোটেল বুকিং করেছেন জিকে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং বৃট্রিশ কাউন্সিলের স্কুল অ্য্যাম্বসেডর এস এম তাহমিনা শিল্পী এবং মোজাম্মেল কবির টুটুল স্যার। হোটেলের নাম ‘নিরাপদ’ হোটেল। Bangladesh Scrabble Association - BSA এর সেন্ট্রাল মিটিং হবে ঢাকা জিস্ট অফিসে ০৬/০২/২০২১ বিকেল পাঁচটায়। মিটিং আহবান করেছেন Bangladesh Scrabble Association - BSA এর প্রেসিডেন্ট এবং বৃট্রিশ কাউন্সিলের স্কুল অ্য্যাম্বসেডর মো. খোরশেদুজ্জামান আহমেদ। আমি ০৬/০২/২০২১ দুপুরের পর বাড়ি থেকে বের হলাম এবং বিকেল পাঁচটায় ঢাকা জিস্ট অফিসে পৌছালাম। জিস্ট অফিসের ঠিকানা বের করতে আমি গুগল ম্যাপসের সাহায্য নেই। জিস্টের অফিসে ডুকেই দেখলাম সভাকক্ষে পরিচিত মুখ যেমনঃ মো. খোরশেদুজ্জামান আহমেদ, আব্দুল মালিক, মো. শাহনেয়াজ, সৈয়দ আল-মামুন, মো. জাকির হোসেন এস এম তাহমিনা এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান এবং আর দু একজন অপরিচিত লোক। পরে অন্যদের সাথেও পরিচয় হলাম। এই সভার প্রধান হলেন জিস্টের নির্বাহী প্রধান বিপ্লব। এই মিটিং এ Bangladesh Scrabble Association – BSA বাংলাদেশের কমিটি গঠন করা হলো। এখানকার মিটিং শেষ করে আমরা একটি বড় মাইক্রোবাসে গাজীপুরের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিলাম। জিস্ট অফিস থেকে বের হবার সমায় আমাদের সাথে যোগ দিলেন লাকসাম গণ উদ্যোগ বালিকা মহাবিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহুমান। রাস্তার একটু পর পর ট্যাফিক জ্যাম পেয়েছি। গাড়িতে আমার মাথা ধরা এবং ভোমির বেগ অনুভব করলাম। মিজান স্যার খোরশেদুজ্জামান স্যারকে বললেন, গাড়ি থামিয়ে একটু বিশ্রাম বা চা খাওয়ার জন্য। একটি চায়ের দোকানে থামিয়ে আমরা চা খেলাম। তারপর আবার গাড়িতে উঠে পড়লাম। এবার আমার আসন হল গাড়ির সামনের দিকে। গাড়ির আমাদের অ্য্যাম্বাসেডর ছাড়াও আছেন বিটিএ এর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান এবং উনার একজন সফর সঙ্গী। রাত নয়টার দিকে আমরা হোটেল নিরাপদে পৌছালাম। হোটেলে আগেই পৌছায়েছেন রংপুরের মাহফুজ আরা, চোট্রগ্রামের মিজানুর রহমান, চট্রগ্রামের মুহিবুল ইসলাম স্যার, হবিগঞ্জের মো. জামির হোসেন স্যার এবং আরো অন্যরা। নিরাপদ হোটেল থেকে আমরা সবাই এস এম তাহমিনা আপার বাসায় আসলাম। এস এম তাহমিনা আপার বাসায় রাতের খাবারের এলাহী কান্ড। ১০/১২ রকমের ভর্তা, কয়েক প্রকার মাংস, সবজি, সালাদ, ঢাল ইত্যাদি। খাবারের বিরাট আয়োজনে আমরা অভাক। খাবারের পর পরই মিষ্টি, দধি এবং কয়েক প্রকারের বিদেশী ফলের আপ্যায়ন। সর্বশেষ চা-কপির পর আবার হোটেল নিরাপদের হাজির হলাম। পরের দিন ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সকালে সবাই ঘুম উঠে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে দেখি দুটি বড় মাইক্রো নিয়ে হাজির ভাওয়াল চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল কবির টুটুল স্যার এবং সাথে এস এম তাহমিনা শিল্পী। আমরা সবাই ভ্রমণের হলুদ টি শার্ট পড়লাম। সবাইকে একই রকমের টই-শার্ট পড়ায় দারুন দেখাচ্ছে। এখানে যোগ দিলেন ভৈরবের বাঁশগাড়ি এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়হানা হক। এখান থেকে বিদায় নিলেন বিটিএ সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান এবং উনার সফর সঙ্গী। মাইক্রোবাস দুটি বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনন্সিটিটিউটের (ব্রি) গেইট পৌছালে দারোয়ান বাঁধা দেয়। পরে এখানকান প্রধান শিক্ষক ম্যাডাম এসে আমাদেরকে ভিতর নিয়ে যান। অনেক সুন্দর জায়গা। এখানকার স্থানীয় শিক্ষক বজলুর রশিদ স্যার, রেজিয়া পারভীন এবং মোজাম্মেল কবির স্যারের নের্তৃত্রে বৃট্রিশ কাউন্সিল স্কুল’স অ্যাম্বাসেডরদেরকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিবাদন জানালেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে কাজ শুরু করে। স্বাধীনতার পর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, এটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট, ১৯৭৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান খাদ্য চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে নিত্য নতুন ধান উদ্ভাবনের চেষ্টায় নিয়োজিত। সংক্ষেপে এই সংস্থা ব্রি বা বি আর আর আই (BRRI=Bangladesh Rice Research Institute) নামেও পরিচিত। এখান থেকে আমরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ যাই। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটও একটি সুন্দর দর্শনী স্থান। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা ১০৩ টিরও বেশি ফসলের কৃষি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি জয়দেবপুর, গাজীপুরে অবস্থিত। এটি ২৯০ টি জাত ও ৩১০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর ৭টি গবেষণা কেন্দ্র, ২৮ টি উপকেন্দ্র ও ৭২টি MLT Site and 9 FSRD site রয়েছে। ১৫টি বিভাগ নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের খাদ্য সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। Biotech এর গবেষণা এগিয়ে চলছে। ৭০০ এর উপর বিজ্ঞানী ১০৩টির উপর ফসল নিয়ে উন্নত, লাগসই, কৃষক উপযোগী ফুল, ফল, শাক-সব্জি, দানাজাতীয় ফসলের ( ভুট্টা, গম, চীনা, কাউন) জাত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে । স্বাধীনতার পর দেশে মানুষ বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে সে তুলনায় খাদ্য চাহিদাও বেড়েছে। এই বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর অবদান অনেকখানি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ভ্রমণের পর আমরা গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পৌছালাম। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গেইটেই দাড়োয়াট আমাদের গাড়ি আটকিয়ে দিল। পরে এস এম তাহমিনা আপা স্থানীয় অধ্যাপককে মোবাইলে যোগাযোগ করায় আমাদেরকে ভিতরে যাবার অনুমোতি দিল তবে বেশিক্ষণ যাতে না থাকি সেজন্য অনুরোধ করেছেন। এখানে বিভিন্ন জাতের উদ্যান ফসলের নমুনাচাষ চোখে পড়ল। আমরা যখন ফেসবুকে লাইভ প্রচার করছি তখন খোরশিদুজ্জামান স্যারের এক ছাত্র স্যারকে ফোন করে জানাল যে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছাত্রটি একটু দূরে তাই আমাদের এখানে আসার এক্টুসময় চেয়েছেন। খোরশেদুজ্জামান স্যার বললেন, আমরা ভ্রমণ করছি, আসার দরকার নেই, দোয়া করি তোমরা ভাল থাকো। উল্লেখ্য যে আমাদের ছবি তোলা এবং লাইভ প্রচার করার জন্য নিবেদিত আছেন মো. শাহনেয়াজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি) হল বাংলাদেশের একটি সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি গাজীপুর জেলার দক্ষিণ সালনায় অবস্থিত। এটি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ৯.৫ কিলোমিটার (৫.৯ মাইল) উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত। সিমাগো ইনস্টিটিউট র‌্যাংকিং, ২০২১’ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক অবস্থান এই তিন সূচকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা (প্রথম স্থান) হয়েছে। এরপর আমরা বাংলাদেশের টাকশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। পথে আমরা বিডিপি স্কুলে (বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট হাইস্কুল) প্রবেশ করলাম। এই বিডিপি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আমেনা বেগম ম্যাডাম আমাদের সবাইকে ক্যাপ উপহার দিলেন। এখানে সবাই নাস্তা খেলাম। আমেনা বেগম ম্যাডাম এর বোনের ছেলে টাকশালে চাকুরী করেন। আমেনা বেগম ম্যাডাম আমাদেরকে নিয়ে গেলেন টাকশালে। আমেনা বেগম ম্যাডামের বোনছেলে আমাদেরকে টাকশাল ঘুরে ঘুরে দেখালেন। এখানে মোবাইলে ছবি বা ক্যামেরা বন্ধ আছে। বাংলাদেশের টাকা তৈরি হয় এখানে। টাঁকশাল নামেই পরিচিত। পোশাকি নাম দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড। দেশের টাকা ছাপানোর একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান গাজীপুরে। টাঁকশালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। আমরা টাকশালে টাকার শ্মশানও দেখলাম। এখানে অপ্রয়োজনীয় বা ভুল ছাপা অথবা বাতিল টাকা পুড়ানো হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...