বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কোনটি বেছে নেয় আমাদের এ সমাজ?

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Mohsin Miah(guest) (২২৯২ পয়েন্ট)



X একই গ্রামের পাশাপাশি বাস করে হানিফ ও রফিক৷ একই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে দুজনই সৌদি আরবে গিয়েছে জীবিকার সন্ধানে৷ কয়েক বছর থেকে এক সাথে দু'জনে বাড়ি এসে বিয়ে করেছে৷ হানিফের বউ অষ্টম শ্রেণি পাস ও রফিকের বউ এসএসসি পাস৷ দু'জনই কয়েক মাস পরে পুণরায় স্বীয় কর্মস্থলে ফিরে গেলো৷ মাস যায়, বছর যায় তারা দু'বছর পরপর দেশে এসে ঘুরে যায়৷ হানিফ এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা এবং রফিকের দুই ছেলে৷ হানিফ বিদেশ থাকে, তার বউ ছেলেদের লেখা পড়ার প্রতি তেমন আগ্রহ নাই৷ অন্যদিকে রফিকের বউ ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার প্রতি বেশ যত্নবান৷ বাচ্চাদেরকে ভালো মানের স্কুলে পড়িয়েছে৷ প্রাইভেট শিক্ষক সর্বদাই লাগিয়ে রাখতো৷ অনেক ত্যাগ তিতীক্ষার পরে ছেলেকে এমএ পাস এবং মেয়ে বি.এ পাস করিয়েছে৷ বিদেশ থেকে রফিক যা কামিয়েছে সবই খেয়ে দেয়ে এবং সন্তানদের পেছনে ব্যয় করে শেষ৷ অন্যদিকে হানিফের বউ সন্তানদের লেখা পড়ার প্রতি তেমন আগ্রহ না দেখিয়ে মেয়ে অষ্টম শ্রেণি পাস করিয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে এক প্রবাসি ছেলের কাছে৷ মেয়ে স্বামির সাথে বিদেশ চলে গেছে৷ ছেলেকে দশম এসএসসি পাস করিয়ে ভালো রাষ্ট্রে বিদেশ দেয়ার চিন্তা করছে৷ অন্যদিকে হানিফের কামাই দিয়ে তার বউ বাড়িতে পাঁচ কক্ষের একটা বিল্ডিংও করেছে পূর্বেই৷ কারণ মেয়ে বিয়ে দিতে বাড়ি ফিটফাট লাগবে তাই৷ এবং কিছু ধার-কর্জ করে আর স্বামির জমানো টাকা দিয়ে হানিফের বউ তার ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে৷ ছেলে বিদেশে মোটা টাকা ইনকাম করে৷ দু'চার কিছু বছর যেতে না যেতেউ বাপ-পুত কামাই করে বাজারে পাশে পাঁচ তলা বিল্ডিং করে ফেলেছে৷ এখন ভবন ভাড়া দেয়া ও দেখাশোনার জন্য হানিফ বিদেশ থেকে দেশে চলে আসছে৷ অন্যদিকে রফিক তার বাবার পুরানো ভিটাতেই থাকে৷ ছেলে মেয়ে মানুষ করতে গিয়ে কিছুই করতে পারে নি৷ মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত৷ উচ্চ শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে দিতে উপযুক্ত পাত্র না পেয়ে সে খুবই চিন্তিত৷ উচ্চ শিক্ষিত ও চাকরিজীবী ছেলে পাওয়া খুবই দুস্কর৷ বিয়া আসে শুধু বিদেশি ছেলে৷ বিএ পাস মেয়ে মান ইজ্জত রক্ষার্থে স্বল্প শিক্ষিত বিদেশি ছেলের কাছে বিয়ে দিতে চায় না রফিকের বউ৷ অন্যদিকেএমএ পাস করা রফিকের পুত্র চাকরির জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে৷ চাকরি না পেয়ে আপাতত একটা কেজি স্কুলে মাস্টারির পথ বেছে নিয়েছে৷ রফিক দীর্ঘদিন বিদেশ করে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পরেছে৷ কাজ আর তেমন করতে পারছে না৷ তাই সে বিদেশ ত্যাগ করে দেশে চলে আসছে৷ হানিফ ও রফিক একই গ্রামের বিদেশ ফেরত বন্ধু হলেও দোকান পাটে হানিফের বন্ধুর অভাব নাই; রফিকের সাথে যেন কেউ কথাও বলতে চায় না! লেখক- মোহাম্মদ মহসিন মিয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় শাহরাস্তি, চাঁদপুর৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...