বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অষ্ট্রগ্রাম এবং মিঠামইন ভ্রমণ

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (৬৫ পয়েন্ট)



X ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, রাতে গাজীপুর খান স্কুল এন্ড কলেজের আইসিটি শিক্ষক মো. ফারুক আমাকে ফোন করে বললেন, “আগামীকাল আমরা অষ্টগ্রাম ঘুরতে যাব। আপনি আমাদেরদে সাথে যেতে হবে।“ আমি জানালাম আমি তো তো প্রস্তুত নই তাছাড়া এখন করোনাকালীন সময় তাই ভ্রমণ করাটা কি ঠিক হবে? ফারুক স্যার বললেন, অনলাইন ক্লাস করতে করতে আর স্কুল বন্ধ থাকার কারণে একটু বোরিং লাগতেছে, আমরা হাইচ মাইক্রো নিয়েছি, গাড়ীতে মাস্ক, হ্যান্ড-সেনিটাইজার ইত্যাদি সবই রাখতেছি কাজেই আপনি নির্ভয়ে আসেন। আমি আর ফোনে কথা বাড়ালাম না, রাজি হলাম। পরের সকাল ছয়টায় বাতাকান্দি বাজারে ভ্রমণ গাড়ির কাছে গিয়ে হাজির হলাম। হোমনা সরকারি স্কুলের শিক্ষক মঞ্জু স্যার, শাহাদাৎ হোসেন মানিক, ইউসুফ স্যার, শাহ্‌ আলম স্যার, জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফারক মিয়া, আতিকুর রহমান এবং হোসাইন সরকার বাবুকে গাড়ীতে পাইলাম। আমরা অষ্টগ্রাম দেখতে যাব। আমি মনে করেছিলাম, ঢাকা হয়ে যাবে কিন্তু গাড়ি দেখি হোমনার দিকে যাচ্ছে। আমি ফারুক স্যার জিজ্ঞাসা করলাম, “আমরা কোন দিক দিয়ে যাবো”? ফারুক স্যার বলল, “হোমনা দিয়ে ফেরি দিয়ে কিশোরগঞ্জ যাব”। গাড়িতে বাউল গানের সাথে ঠোট মিলিয়ে গান গাইতে গাইতে সবাই আনন্দ করলাম। ফেইসবুকে লাইভও টেলিকাস্ট করলাম। সকালের নাস্তা করলাম ফেরি ঘাটে। দাউদকান্দি ও মেঘনায় ব্রিজ হওয়ায় আমরা তেমন ফেরি ও ফেরিঘাট দেখি না। ফেরি পারাপারের পর কয়েক ঘন্টা গাড়ি চালানোর পর ট্রলার ঘাটে গেলাম। ট্রালার দিয়ে হাওর পার হয়ে অষ্ট্রগ্রামে যাবো। একটি ট্রলার ভাড়া করলাম ৫০০০টাকা দিয়ে সারা দিনের জন্য। ট্রলার থেকে চোখে পড়ে হাওরের দৃশ্য যা বর্ষাকালের পানি আর পানি,অনেক দূরে দূরে গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপূর্ব লীলাভূমি এই হাওরটি বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। বর্ষাকালে এই হাওরটি একটি অথৈ সাগরে পরিণত হয়। পুরো হাওরই দেখার মতো, সমুদ্রের মতো বিশাল, চারদিকে পানি আর পানি। অনেক দূরে দূরে গ্রাম। বিস্তৃত জলরাশি এ হাওরের রূপ ঠিক যেন ভাসমান সাগর। আদিগন্তু বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। আবার শীতকালে এই হাওরের রূপ অন্যরকম। শীতকালে হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। চারিধারে জেগে থাকা সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়া কিঞ্চিত উঁচুভূমি বিলের পানিতে প্রতিচ্ছবি ফেলে সৃষ্টি করে অপরূপ দৃশ্যের। শীতকালে অতিথি পাখিরা সারি বেঁধে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসতে থাকে বিলগুলোতে। পরিযায়ী পাখিদের আগমনে হাওর যেনো পরিণত হয় স্বর্গোদ্যানে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় হাওরের জলরাশির মাঝে সূর্যের প্রতিচ্ছবি বেশ মনোমুগ্ধকর। এই বর্ষা মৌসুমেও দেখা পাবেন কিছু অতিথি পাখির। হাওরের স্বাদু ও মিঠাপানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে আইড়, চিতল, বাউশ, পাবদা, মাগুর, শিং, কৈ সহ আরও নানা প্রজাতির দেশীয় বিলুপ্তির পথের মাছগুলো। অষ্টগ্রামে এসে আমরা সবাই মিলে বর্ষার পানিতে গোসল করলাম। এই গোসলে ছোটবেলায় সব বন্ধুরা একসাথে গোসলের কথা মনে করিয়ে দিল। সব স্যারের আজ ছোট বয়সে ফিরে গেলাম। এখানে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষক ইউসুফ স্যার। তিনিই হাফ প্যান্ট পড়ে পানিতে নামলেন। অষ্টগ্রাম থেকে মিঠামইন যাব ও প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আব্দুল হামিদ সাহেবের গ্রামের বাড়ি দেখব। ট্রলার একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে ট্রলার ড্রাইভারের ফোন নাম্বার নিয়ে আমরা অষ্ট্রগ্রাম থেকে স্থানীয় গাড়ীতে মিঠামইনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। উল্লেখ্য যে অষ্ট্রগ্রামের ইউএনও স্যার হলেন আমাদের মানিক স্যারের ভাগনি জামাই। তাই একটু পর পর ইউএনও স্যার আমাদের খোজ-খবর নিচ্ছেন। অষ্ট্রগ্রাম থেকে মিঠামইনে যাবার স্থল পথের রাস্তা অনেক সুন্দর। রাস্তার দুপাশে হাওরের দৃশ্য খুবই মনোরম। মিঠামইন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এর উত্তরে ইটনা উপজেলা ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে অষ্টগ্রাম উপজেলা, পূর্বে বানিয়াচং উপজেলা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা, পশ্চিমে করিমগঞ্জ উপজেলা ও নিকলী উপজেলা অবস্থিত মিঠামইন উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে যথাঃ-গোপদিঘী ইউনিয়ন,মিঠামইন ইউনিয়ন,ঘাগড়া ইউনিয়ন,ঢাকী ইউনিয়ন, কেওয়ারজোর ইউনিয়ন,কাটখাল ইউনিয়ন,বৈরাটি ইউনিয়ন।মিঠামইন আয়তন-• মোট ২২২.৯২ কিমি২ (৮৬.০৭ বর্গমাইল)। বিকেল ২টার দিকে আমরা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আব্দুল হামিদ খানের বাড়িতে পৌছালাম। আমাদের মত আরো পর্যটক দেখলাম এই বাড়িতে ভীর করছে। মোঃ আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালের পয়লা জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম হাজী মোঃ তায়েব উদ্দিন এবং মাতার নাম মরহুমা তমিজা খাতুন। মোঃ আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ নিকলী জিসি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে আইএ ও বিএ ডিগ্রি এবং ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের আগরতলায় চলে যান। তখন বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্ল¬া-এর অধিকাংশ সংসদ সদস্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। জনাব হামিদ মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁদের সাথে আলোচনা ও শলা-পরামর্শ করেন। একই সাথে তিনি আগরতলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও মতবিনিময় করেন। পরে তিনি এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশে এসে আরো কিছু সহযোগীসহ আবার মেঘালয়ের টেকেরহাট, গুমাঘাট, পানছড়া, মৈইলাম হয়ে বালাট পৌঁছান। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে আগতদের জন্য তিনি ইয়ুথ রিসিপশন ক্যাম্প চালু করেন এবং এর চেয়ারম্যান ছিলেন। মূলত কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আগতদের প্রাথমিক বাছাই কাজ এখানে করা হতো। এছাড়া মেঘালয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে গঠিত জোনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল-এর তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিনি ভারতের মেঘালয়ে রিক্রুটিং ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হিসেবে তৎকালীন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী) সাবসেক্টর কমা-ার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে তিনি মেঘালয়ে অবস্থানকারী শরণার্থীদের দেশে প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ক্যাম্পে সভা করেন। শরণার্থীদের দেশে ফেরা নিশ্চিত করার পর তিনি ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সনে দেশে ফিরে আসেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...