বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Radiyah Ridhi (৪১৫ পয়েন্ট)



X ডিয়ার লিসেনার্স, শুরু হয়ে গেল আমাদের রেগুলার হরর শো, হার্ট অ্যাটাআআআআক! আপনাদের সাথে আছি আমি আরজে পাপ্পু। আপনারা জানেন, এই প্রোগ্রামে আমাদের গেস্টরা এসে হার্ট অ্যাটাক করার মতো ভয়ংকর ভূতের গল্প শেয়ার করেন। আজকেও সে রকম ভয়ংকর ঘটনা নিয়ে আমাদের গেস্ট আপনাদের সামনে হাজির হয়েছেন।’ স্টুডিওতে বসে থাকা অল্পবয়সী একটি ছেলেকে ইশারা করে আরজে পাপ্পু বললেন, ‘আপনার ভয়ংকর ঘটনাটা শোনার জন্য আমরা সবাই অপেক্ষা করছি। আপনি স্টার্ট করেন।’ ছেলেটি কাঁপা কাঁপা গলায় মাইক্রোফোনের সামনে বলতে শুরু করলেন, ‘থ্যাংকস পাপ্পু ভাই, আমাকে এখানে ডাকার জন্য। তবে আমি সবচেয়ে বড় থ্যাংকস জানাতে চাই আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়াকে। ও না থাকলে…’ ‘আপনার নাম বলে ঘটনাটা শুরু করেন প্লিজ!’ আরজে পাপ্পু একটু অধৈর্য গলায় বলে ওঠেন। ‘ও হ্যাঁ হ্যাঁ!’ ছেলেটা একটু থতমত খেলেও সামলে নিয়ে বলতে শুরু করে, ‘আমার নাম বুলবুল। আমি এসেছি কাঠবাগান থেকে। তো, পাপ্পু ভাই, আমি আজকে যে ভয়ংকর ঘটনাটা শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেটা আসলে আমার সাথে ঘটেনি, আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার সাথেও ঘটেনি। ঘটনাটা ঘটেছিল আসলে আমাদের চায়ের দোকানদার রঞ্জু মামার সাথে। এখানে একটা কথা বলে রাখি পাপ্পু ভাই, রঞ্জু মামার গ্রামের বাড়ি এবং আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার গ্রামের বাড়ি কিন্তু একই গ্রামে। সুতরাং…’ বুলবুলকে থামিয়ে দিয়ে আরজে পাপ্পু একটু কঠিন গলায় বলে ওঠেন, ‘আপনি প্লিজ সরাসরি ভয়ংকর ঘটনাটি বলা শুরু করেন। আমাদের হাতে সময় কম!’ ‘জি আচ্ছা পাপ্পু ভাই।’ বুলবুল এবার বেশ সিরিয়াস হয়েই বলতে শুরু করে, ‘আমি তাহলে সরাসরি ঘটনায় চলে যাচ্ছি। এই ঘটনাটা আমি নিজের কানে রঞ্জু মামার কাছ থেকে শুনেছি। হয়েছে কি, রঞ্জু মামা একদিন কোনো কারণ ছাড়াই হাঁটতে শুরু করলেন। তো হাঁটতে হাঁটতে তিনি হাজির হলেন একটা পোড়োবাড়ির সামনে। সেই পোড়োবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সাদা কাপড় পরা এক বুড়ি। বুড়ি রঞ্জু মামাকে দেখেই খনখনে গলায় হেসে উঠল। রঞ্জু মামা একটু অবাক হলেন। অবাক হয়েই তিনি বুড়িকে জানতে চাইলেন, ওহে বুড়ি, তুমি হাসছ কেন? ‘বুড়ি তখন আরও জোরে জোরে হাসতে লাগল। আর বলল, তোকে দেখে আমি হাসব না কেন, বল তো? নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখিস একবারও? এই বলে বুড়ি আবার হাসতে লাগল। এখানে একটা কথা শেয়ার করি পাপ্পু ভাই, আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়াও কেন যেন রঞ্জু মামাকে দেখেই খালি হাসে। আর বলে…’ বুলবুলকে আবার থামিয়ে দিয়ে আরজে পাপ্পু বলেন, ‘না না, আমরা এই হাসাহাসির গল্প শুনতে চাই না। আপনি বরং ওই ভয়ংকর বিড়ালের ঘটনাটা আমাদের সাথে শেয়ার করেন।’ আরজে পাপ্পুর কথা শুনে বুলবুল যেন আকাশ থেকে পড়ে, ‘বিড়ালের ঘটনা মানে? আমি তো কোনো বিড়ালের ঘটনা জানি না!’ আরজে পাপ্পু প্রাণপণ চেষ্টা করেন নিজের গলাটা স্বাভাবিক রাখার, তবু তার কণ্ঠস্বর খানিকটা খেঁকিয়ে ওঠার মতো শোনায়, ‘স্টুডিওর বাইরে বসে আপনি আমাকে যে গল্পটা বলেছিলেন, সেটাই এখন শুনতে চাইছি।’ এবার যেন ঘটনাটা মনে পড়ে বুলবুলের। বলে, ‘ও হ্যাঁ, সেই গল্পটা? কিন্তু ওটা তো বিড়ালের ঘটনা না, তেলাপোকার ঘটনা। আপনি ভুল করেছেন, পাপ্পু ভাই। আর ঘটনাটা ঘটেছিল আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার সাথে।’ ‘সেই গল্পটাই যদি আমাদের বলতেন, যেটা আপনার গার্লফ্রেন্ড টিয়ার সাথে ঘটেছিল!’ আরজে পাপ্পু বিদ্রূপাত্মক গলায় বলে ওঠেন। বুলবুল অবশ্য আরজে পাপ্পুর বিদ্রূপ গায়েই মাখে না। সে স্বাভাবিকভাবেই ঘটনা বলতে শুরু করে, ‘আমি তাহলে ওই ভয়ংকর ঘটনাটাই বলে ফেলি। সেদিন রাতে ভয়ংকর বৃষ্টি হচ্ছিল, আর সাথে ঘন ঘন বজ্রপাত। বৃষ্টির তোড়ে এক হাত দূরের জিনিসও চোখে পড়ে না, এমন অবস্থা। আর বজ্রপাতের সে কী শব্দ, পাপ্পু ভাই! এমনই এক ভয়ংকর বৃষ্টির রাতে আমার গার্লফ্রেন্ড টিয়া খুব ভয় পাচ্ছিল, কারণ সেই রাতে ও ছিল বাসায় সম্পূর্ণ একা। টিয়ার হাজবেন্ড সেদিন সকালেই কী একটা জরুরি কাজে বরিশাল গিয়েছিল…’ ‘এক মিনিট।’ বুলবুলকে থামিয়ে দিয়ে আরজে পাপ্পু নিশ্চিত হওয়ার জন্য জানতে চান, ‘টিয়ার হাজবেন্ড তো আপনিই, তাই না?’ ‘অসম্ভব, আমি কেন টিয়ার হাজবেন্ড হতে যাব?’ নিখাদ বিস্ময়ে বুলবুল পাল্টা জানতে চায়। ‘আপনি টিয়ার হাজবেন্ড নন? তাহলে টিয়ার হাজবেন্ড কে?’ ‘হবে কোনো একটা ছেলে!’ বুলবুল উদাস গলায় জবাব দেয়। ‘তাহলে টিয়া কীভাবে আপনার গার্লফ্রেন্ড হয়?’ ‘সে এক লম্বা ইতিহাস, পাপ্পু ভাই। আসলে হয়েছিল কি...’ এবার আর আরজে পাপ্পু সহ্য করতে পারেন না। অত্যন্ত নির্দয়ভাবে বুলবুলের মাইক্রোফোনের লাইন অফ করে দিয়ে বলতে শুরু করেন, ‘ডিয়ার লিসেনার্স, আমাদের বাধ্য হয়ে একটা ছোট্ট ব্রেকে যেতে হচ্ছে। কসম, বিরতির পর আপনাদের জন্য আরও অনেক আরো ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প নিয়ে হাজির হব । সূত্র এর লেখকের আমি না gj


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...