বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনলাইনে ক্লাস করতে অনলাইনে ভাইরাল

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (০ পয়েন্ট)



X আমাদের তিতাস অনলাইন স্কুলের বয়স দুমাস হলো। আমি এবং আমার বড় ভাই জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান নিয়মিত তিতাস অনলাইন স্কুলে লাইভ ক্লাস করতেছি। ভাই ইংরেজি বিষয়ে ক্লাস দেন আর আমি দেই বাংলা বিষয়ে। একটি অনলাইন ক্লাস তৈরি করা যে কষ্টকর তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমাদের মত আরো শত শত শিক্ষক এই পরিশ্রম করে অনলাইন ক্লাস দিচ্ছেন। আমার এক বন্ধু শিক্ষক চৌদ্ধগ্রামের ভুলকরা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক নাম তার মো. জাকির হোসেন। তিনি একটি ক্লাস তৈরির জন্য মোবাইল ইটের উপর বেঁধে ক্লাস রেকর্ড করার একটি ছবি ফেসবুকে দেন। পরে ছবি ভাইরাল হয়। তাঁর ছবি ভাইরাল হবার পর কোম্পানি তাকে উপহার দেন। এই উপহারের অভিব্যক্তি আমার কাছে ব্যক্ত করেন নিম্নরুপঃ “করোনার প্রথম দিকে যখন সবকিছুই বন্ধ ছিল তখন অনলাইন ক্লাস নেওয়া অনেক কষ্টকর ছিল।বিশেষ করে অনলাইন ক্লাসের জন্য আবশ্যিক উপাদান ট্রাইপড ও মাইক্রোফোনের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না। কারণ মাঠে প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনী কঠোর অবস্থানে ছিল। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস নেওয়ার তাড়াও খুব অনুভব করছিলাম। তাই পার্শ্ববর্তী একটা স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলি।ভাগ্য সেখানেও সহায় হলো না কারণ স্কুলটিতে ভবন উর্ধমুখী করার কাজ চলছিল। প্রধান শিক্ষক জানালেন আমার এখানে টেবিল চেয়ার কিছুই নেই সব অন্য স্থানে সরিয়ে রেখেছি আনা অসম্ভব। এ অবস্থায় আপনি ক্লাস করতে পারলে করেন। কোন উপায় না দেখে রাজমিস্ত্রী যে মাচায় দাঁড়িয়ে কাজ করে সেটাকে টেবিল হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলাম। মোবাইল রাখার জন্যে স্ট্যান্ড হিসেবে একটা লোহার দন্ডের সাথে ইটের ঢালাই দিয়ে এংগেল তৈরি করে নিলাম। চারপাশে হইচই আওয়াজ, রাস্তার ধারে গাড়ির আওয়াজ,খেলার মাঠে ছেলেদের আওয়াজ, মিস্ত্রিদের হাতুড়ি দিয়ে কাজ করার আওয়াজ সবকিছু মিলিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।মাঝেমধ্যে ক্লাস ডিলিট করতে হয়েছে নয়েজ বেশি হওয়ার কারনে।আমার এ অনলাইন ক্লাসের ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করার পরে মাননীয় ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার মহোদয় ও সোলেমান সুখন ভাই উনাদের পেইজে ছবিটি পোস্ট করেন। ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়। স্যামসাং বাংলাদেশ এর কর্তৃপক্ষ ছবিটি দেখে আমার সাথে যোগাযোগ করেন এবং স্যামসাং এর মালিক আমার সাথে দেখা করতে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। ২৯শে জুলাই আমি স্যামসাং বাংলাদেশ এর অফিসে যাই উনারা আমাকে একটা ট্যাব,একটা মোবাইল ফোন এবং একটা মোবাইল স্ট্যান্ড উপহার হিসেবে প্রদান করেন।এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ”। 01 আগস্ট ২০২০


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...