গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হাসু আর কাসুর মা চাকমাদের কারণে পাগল হয়েছে।

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (১৪৮০ পয়েন্ট)



হাসু আর কাসুর মা চাকমাদের কারণে পাগল হয়েছে। চাকমা বীরের জাতি। চাকমা শব্দটি এসেছে সংস্কৃতি শব্দ শক্তিমান থেকে। বর্মী রাজাদের রাজত্বের শুরু থেকে চাকমা নামকরণ করেন। তখনকার সময়ে বর্মী রাজারা চাকমাদের পরামর্শক,মন্ত্রী, পালি ভাষায় বৌধ ধর্মের পাঠ অনুবাদের কাজে নিয়োগ করতেন। বার্মায় প্রচলিত চাকমাদের নাম সংক্ষেপ "সাক" শব্দটি সংস্কৃত শব্দ শক্তিমানের বিকৃত রুপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরই এক পর্যায়ে, জনগোষ্ঠীটির নাম "সাকমা" এবং পরবর্তীতে বর্তমান "চাকমা" নামটি গ্রহণযোগ্যতা পায়। বাংলাদের বেশির ভাগ চাকমা রাঙামাটি, বান্দরবন এবং খাগড়াছড়িতে। এরা মূলত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। বৌদ্ধ সন্যাসীদের ভান্তে বলা হয়। তারা ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধায়ন করে। গ্রামবাসীরা ভিক্ষুদের খাবার, উপহার, ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করে। এদের প্রধান অনুষ্ঠান হলো বিজু। বাংলা বছরের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালন করা হয়। বাংলা বছরের শেষ দিনের আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু এবং শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি বা মূল বিজু। ফুল বিজুর দিন সকাল বেলা চাকমারা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজায়, বুড়ো-বুড়িদের গোসল করায়, নতুন কাপড় দেয়। রাতে বসে পরের দিনের পাচন তরকারি রান্নার জন্য সব্জি কাটতে বসে যা কমপক্ষে ৫টি এবং বেশি হলে ৩২ রকম সব্জির মিশেলে রান্না করা হয়। পরের দিন মূল বিজু, এদিন চাকমা তরুণ-তরুণীরা খুব ভোরে উঠে কলা পাতায় করে কিছু ফুল পানিতে ভাসিয়ে দেন। তারপর সবাই বিশেষ করে ছোটোরা নতুন জামা-কাপড় পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে। তবে গ্রাম গুলোতে প্রাচীনকালের মতোন করে"ঘিলে হারা"(খেলা) হয়। পরের দিন নতুন বছর বা গয্যে পয্যে,নতুন বছরের দিন সবাই বৌদ্ধ মন্দিরে যায়,খাবার দান করে,ভালো কাজ করে,বৃদ্ধদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেয়। চকমারা জুম চাষাবাদ করে তবে সমতল ভূমির চাকমারা সমতল ভূমির চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করে। চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণামালা রয়েছে। শুভ পত্র পত্রিকা পড়ে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা এবং সন্তু লারমার নামটা বেশি পেয়েছে। এর একটা বড় কারণও আছে। শুভদের গ্রামের একটি পাগলী ছিল। পাগলী হচ্ছে পঞ্চার বউ। এই পঞ্চার বউ পাগলী হবার মুল কারণ হলো তার দুটি ছেলে রাঙামাটিতে চাকমারা আগুনে পুরিয়া মেরে ফেলে। বড় ছেলে আবুল হাসেম এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম রাঙামাটিতে কাজ করতো। একদিন দুই ছেলের আগুনে পোড়া লাশ বাড়িতে আসল। পঞ্চার দুটি ছেলে এবং পৌত্ত্বিক কিছু সম্পত্তি নিয়েই সংসার। একটি ছেলে বিয়ে করেছে কয়েকমাস হলো আরেকটি আবার গ্রামে আসলে বিয়ে করাবে বলে সিন্ধান্ত নিয়েছিল। ছেলে তো এসেছে তবে লাশ হয়ে। সারা গ্রামেই একটা শোকের বন্যা বয়েছিল আর হাসু আর কাসুর মা ( বড় ছেলেআবুল হাসেম এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম এর মা ) পুত্রশোকে একেবারেই পাগল হয়ে গিয়েছে। হাসু আর কাসুর মা চাকমাদের কারণে পাগল হয়েছে। সেই থেকে শুভর ধারণা হলো পাহাড়ি এলাকায় বাঙালিদেরকে চমমার সুযোগ পেলেই মেরে ফেলে। শুভ সেই ধারনা আজ আর নেই। চাকমা আর বাঙ্গালিদের মধ্যে দাঙ্গা –হাংগামা লেগেই আছে। পত্র-পত্রিকায় কিছু খবর আসে আবার হয়তো অনেক কিছু আসে না। মোট কথা পাবত্য অঞ্চল এক অশান্ত পরিবেশ। এর জন্য কাপ্তাই লেকও দ্বায়ী। এখান থেকে সন্তু লারমার পরিচিত পায় আর সন্তু লারমার ভাই মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা । ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধের পানিতে মহাপুরম এলাকা ডুবে যাওয়ায় সন্তু লারমাদের পরিবার খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আবাস গড়ে তোলেন। এদিকে বাঁধের প্রকল্প গ্রহণের সময় প্রতিশ্রুত পুনর্বাসন ব্যবস্থা না পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ১৯৬৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে যে পূর্বে উপজাতি এলাকা ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তা বাতিল করা হয়, স্পেশাল স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়। এতে অসন্তোষ আরো বাড়ে। এসময় নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন সন্তু লারমা। পূর্বে গঠিত পাহাড়ি ছাত্র সমিতির কাজ জোরদার করা হয়। সন্তু লারমা উচ্চ শিক্ষিত। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সন্তু লারমা বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে তিনি খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি থানার একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তু চুক্তির পর পাবর্ত্য চট্রগাম শান্ত হয়। শুভ চাকমাদের যতটা খারাপ মনে করেছিল ততটা খারাপ নয়। লোকমুখের কাহিনী প্রকৃত কাহিনী এক নয়। লোক মুখের কাহিনীতে আসল কাহিনী অনেক সময় পরিবর্নশীল হয়ে যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হযরত শাহজালাল (রা.) এর মাজার এবং লাক্কাতুর চায়ের বাগান ভ্রমণ
→ ইমামের ছেলে
→ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ
→ রাজনীতিবিদের এখন সুযোগ মানুষের মন জয় করার।
→ মালেক বিন দিনার এর একটি সুন্দর কাহিনী
→ ইমাম গাজ্জালী (রহ.) ও এক বেগানা নারী।
→ হিয়ার মাঝে-৪
→ হিয়ার মাঝে-৩
→ চালতা গাছের মাঁচা
→ হজরত সুলাইমান (আঃ) ও সাবার রানীর ঘটনা।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...