বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দীপু নাম্বার টু (১২)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (৭৮৯ পয়েন্ট)



X আম্মা ওর হাত ধরে বাইরে নিয়ে এলেন। ছোট লাল টুকটুকে গাড়িটার দরজা খুলে দিলেন আম্মা, ও ভেতরে গিয়ে বসল। ড্রাইভার নেই দেখে দীপু অবাক হচ্ছিল। যখন দেখল ওর আম্মাই ড্রাইভারের সীটে বসেছেন, তখন সে আরও অবাক হয়ে গেল। ওর আম্মা গাড়ি চালাতে পারেন! দীপু গাড়ি চড়তে খুব ভালবাসে। খোলা একটা জীপে বসে শাঁ-শাঁ করে পাহাড়ের মাঝে একটা রাস্তা দিয়ে ছুটে যাচ্ছে এরকম একা ছবি প্রায়ই সে কল্পনা করে কিন্তু ও গাড়ি চড়েছে খুব কম, এভাবে তো কখনওই চড়েনি। শুধু তার জন্যে তার আম্মা গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ও চোখের কোন দিকে তার আম্মাকে দেখার চেষ্টা করল। কী আশ্চর্য! তার নিজের আম্মা! দীপু! উঁ। একটা কিছু বলল। কী বলব? আম্মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তুমি আমার উপর রাগ করে আছ, না? দীপু আস্তে আস্তে বলল, কেন? তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি, তাই। আমি তো জানতান না। আব্বা কখনও বলেননি। যখন বলেছে তখন? তখন একটু দুঃখ হয়েছে, রাগ হবে কেন? আম্মা একহাতে ওকে ধরে টেনে নিলেন। দীপুর একটু ভয় হচ্ছিল, এক হাতে গাড়ি চালাতে গিয়ে যদি অ্যাক্সিডেন্ট হয়? ওর আম্মার শরীরে কেমন মিষ্টি একটা গন্ধ। মায়েদের শরীরে বুঝি এরকম গন্ধ হয়? শাঁ করে একটা ট্রাক পাশ দিয়ে চলে গেল। আম্মা ওকে ছেড়ে দিয়ে আবার দু হাতে স্টিয়ারিং ধরলেন। গাড়ি চালাতে কেমন জানি লাগে। ওখানে রাস্তার ডান দিকে দিয়ে চালাই তো! ওখানে সবাই ডান দিক দিয়ে যায়? হ্যাঁ। ওখানে গাড়ি খুব বেশি? বেশি—মানে এত গাড়ি, চিন্তা করা যায় না, দম বন্ধ হয়ে আসে আমার। তাই একবার ঢাকা এলে আর ফিরে যেতে মন চায় না। নিজের দেশের থেকে ভাল দেশ আছে কোথাও? আম্মা একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, দীপু! কী? যাবে আমার সাথে? দীপু চুপ করে রইল। যাবে আমেরিকায়? ওখানে পড়বে? দীপু আস্তে আস্তে বলল, এখন যাব না, বড় হয়ে যাব। এখন যাবে না কেন? না, এখন যাব না। কেন? দীপু উত্তর দিতে পারল না, যদিও ও কারণটা জানে। ও ওর আব্বাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। আম্মা খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বায়তুল মোকাররমের পাশে গাড়িটা দাঁড় করিয়ে আম্মা দীপুকে বললেন, এসো দীপু। দীপু নামতে নামতে বলল, কোথায়? এসো তো, একটু ঘুরে বেড়াই। আম্মা ওকে নিয়ে সুন্দর সুন্দর দোকানের পাশ দিয়ে হাঁটতে লাগলেন। একটা খুব বড় দোকান দেখে ওর পিঠে হাত দিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন। সুন্দর সুন্দর খেলনা, কাপড়, জামা সাজিয়ে রাখা হয়েছে শো-কেসের ভেতর। বড় বড় এরকম খেলনার দোকানে ঘুরে বেড়াতে ওর খুব লাল লাগে। চট্টগ্রাম থাকার সময় একটা দোকানে একটা হাতি দেখেছিল, চাবি দেয়া, থপ থপ করে হেঁটে যেত। সে ভারি মজার ব্যাপার। আম্মা একটা শার্ট দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, দীপু, তোমার এই শার্টটা ভাল লাগে? খুব সুন্দর শার্ট, ভাল না লাগার কোনো কারণ নেই। দীপু মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করল, কেন? তোমাকে কেমন সুন্দর মানাবে, বলো দেখি। না– কী? আমি এত সুন্দর আর এত দামি শার্ট পরতে পারব না। আম্মা মুহূর্তে ফ্যাকাসে হয়ে গেলেন। আস্তে আস্তে বললেন, তুমি আমাকে ঘেন্না কর দীপু? তাই আমার থেকে কিছু নিতে চাইছ না? দীপু ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে ওর আম্মার হাত ধরে ফেলল। ব্যস্ত হয়ে বলল, না, না না ছি! আমি ঘেন্না করব কেন? তারপর বলতে গিয়েও বলতে পারল না, মানুষ কি তার মাকে ঘেন্না করতে পারে কখনও? তা হলে আমার থেকে কিছু নিতে চাইছ না কেন? কে বলল নিতে চাই না? আমি শুধু জামাকাপড়ের কথা বলছি, এত সুন্দর আর দামি কাপড় কখনও পরতে পারব না। আমার লজ্জা লাগে পরতে। লজ্জা লাগে! দীপু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, আমার স্কুলের সব ছেলে, পাড়ার সব ছেলে আমার মত, আমি তার মাঝে এরকম ফুলওয়ালা সুন্দর শার্ট পরতে পারব না। বোকা বোকা লাগবে। আম্মা খানিকক্ষণ অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন, আর দীপু আরও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। থতমত খেয়ে বলল, আমি যদি আমেরিকা থাকতাম রুমীদের মতো, তা হলে এরকম সুন্দর কাপড় পরতে হতো, এ ছাড়া আমাকে তো প্লেনেই উঠতে দেবে না। কিন্তু এখন সত্যি আমার দরকার নেই– আম্মা আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে ওর পিঠে হাত দিয়ে ওকে বের করে আনলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মায়ের বোনা টুপি
→ দীপু নাম্বার টু (৩৫) (শেষ)
→ টুনটুনি ও ছোটাচ্চু
→ টুনটুনি ও ছোটাচ্চু
→ গুটুর অনলাইন ক্লাস☺️
→ দীপু নাম্বার টু (৩৪)
→ আমার সাইন্টিস মামা (১২)
→ বক্রোষ্ঠ ব্যক্তির রহস্য [দ্য ম্যান উইথ দ্য টুইসটেড লিপ]
→ বক্রোষ্ঠ ব্যক্তির রহস্য [দ্য ম্যান উইথ দ্য টুইসটেড লিপ]
→ দীপু নাম্বার টু (৩৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...