গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটা প্রেমপত্র রোমাঞ্চিত করল

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (১৪৭৮ পয়েন্ট)



কলেজের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ছাত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাই কলেজের অফিসে শিক্ষার্থীদের নামে অনেক চিঠি আসে। সাকিলের বাড়ি ধামরাই তাই বাড়িতে চিঠি পাঠাইতো আবার বাড়ি থেকে নিয়মিত চিঠি আসতো। একদিন সাকিল জানাল, শুভ তোর নামে একটি চিঠি এসেছে অফিসে। জাকির স্যার যার চিঠি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে দেয় না। পোস্ট অফিসের পিয়ন কলেজের যত চিঠি আসে তা কলেজের অফিসেই দিয়ে যায়। ছাত্র খুঁজে খুঁজে দেয় না। সাকিল চেষ্টা করেছিল শুভর চিঠি অফিস থেকে আনতে কিন্তু পারেনি তাই শুভকে খবরটি জানাল। শুভর বাড়ি থেকে কোন চিঠি আসে না। কাজে চিঠির কোন খোঁজও করে না শুভ। আজ সাকিলের কথায় ভাবতেছে, কোথা থেকে চিঠি আসবে? ভাবতে ভাবতে কলেজের অফিসে ডুকলো। জাকির স্যার বলল, শুভ তোমার চিঠি এসেছে। শুভ খামে লক্ষ্য করে দেখল, প্রেরক মিনু চাকমা তিন্না, প্রযত্নে সন্তোষ দোকানদার, গ্রাম ও ডাকঘর-নানিয়ারচর, রাঙ্গামাটি। কয়েকবার দেখার পরই মনে পড়ল, মিনু চাকমাকে শুভ আগে চিঠি দিয়েছিল। আজ তার উত্তর এসেছে। হিসেব করে দেখল প্রায় একমাস পর চিঠির উত্তর পেল। চিঠি পেয়ে শুভ খুব আনন্দিত হল। মনের আনন্দে চিঠি খুলল। বাহ! সুন্দর একটি কাগজে নীল কালি কলম দিয়ে লিখা। প্রিয় শুভ, ভালবাসা নিও। আশা করি তুমি ভাল আছো। আমি তোমার চিঠি পেয়ে কয়েকবার পড়লাম। তোমার চিঠি পরে আমি বুঝতে পেরেছি তুমি আমার বন্ধু। তুমি আমাদের পাহাড়ি জীবন সম্পর্কে জানতে চেয়েছো। হ্যাঁ, আমার জীবন-প্রণালী তোমাদের সমতল ভূমির চেয়ে ভিন্ন তাই বলে কি বন্ধুত্ব দূরে ঠেলে দিবে না তো? চাকমা সহ সকল উপজাতিদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক, প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। চাকমা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ তাদের সার্কেলের প্রধানকে রাজা বলে। রাজা তাদের প্রথা, রীতি, নীতি, ভুমি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেয়া, কার্বারী নিয়োগ ,হেডম্যান নিয়োগের মত কাজ করে থাকে। তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? তুমি আমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছো? তুমি আমাকে মিনু চাকমা নামেই ডাকবে। আমি তোমাকে কি নামে ডাকব? আমি তোমায় প্রতীক্ষায় রইলাম। ইতি তোমার বন্ধবী মিনু চাকমা। শুভ চিঠি পড়ে খুবই আনন্দিত হলো। খুশীর সংবাদ সাকিল আর জিয়াকে জানাল। খুশীর সংবাদের জড়িমানা হলো আজ বিকেলে লঞ্চঘাটে চিনাবাদাম খাওয়াতে হবে। শুভ তাদের জড়িমানায় রাজী হলো। কলেজ ছুটির পর সাকিল ও জিয়া জানাল বিকেল পাঁচটায় লঞ্চঘাটে দেখা হবে বলে বিদায় জানাল শুভ। যথারীতি বিকেল পাঁচটায় শুভ বাদাম কিনে লঞ্চঘাটের লঞ্চের উপরে হাজির। সাকিল ও জিয়াও যথাসময় হাজির। এখন মিনু চাকমার চিঠি নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। সাকিলের বিশ্লেষণ, মেয়েটি যেহেতু বলেছে তাকে মিনু চাকমা নামে ডাকবি তার মানে এটি মেয়ের আসল নাম নয়। আর হাতের লিখায় যা বুঝা যায় তাতে মনে হয় মেয়েটি ডিগ্রীতে পড়ে মানে শুভর চেয়ে বড় হবে। জিয়ার মতামত হলো এইগুলো ভন্ডামী ছাড়া আর কিছুই নয়। সাকিল জিয়াকে বলল, “সবকিছুতে নেগেটিভ খুজিস না। শুভ তুই তোর মত এগিয়ে যা।“ শুভ প্রায় রাতে রেডিও রাতে ১২টার দিকে নিষুতি অনুষ্ঠান শুনে। অনুষ্ঠান শুনতে শুনতে ভাবনায় মিনু চাকমার প্রেমে পড়ে গেল। কিছুক্ষন পরেই লিখতে বসেছে। প্রিয় মিনু চাকমা, আজ সকালে তোমার ভালবাসামাখা চিঠি পেলাম। চিঠি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। জীবনের প্রথম মনে হয় এক অপূর্ব স্পর্শ পেলাম। তোমার চিঠি পেয়ে আমি তোমাকে নিয়ে ভাবছি। মিনু তুমি আমাকে সৈকত নামে ডাকবে। তুমি আমাকে এই নামে ঢাকলেই বেশি খুশী হব। আমি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ি। তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? তোমাকে লিখার আগে মনে হাজার হাজার কাব্য লিখব কিন্তু তোমাকে লিখতে গেলেই ভাষা হারিয়ে ফেলি। আশা করি তুমি ভাল আছো। তোমার ভাল থাকা কামনা করে শেষ করছি আর তোমার প্রতীক্ষায় রইলাম। ইতি তোমারই সৈকত কলেজে যাবার পথেই পোস্ট অফিস। তাই কলেজে যাবার সময় পোস্ট অফিসে গিয়ে একটাকা পঁচিশ পয়সা দিয়ে একটা খাম কিনে। ঠিকানা লিখে পোস্ট মাস্টারকে দিল। পোস্ট মাস্টার একটা সিল মেরে একটা কাঠের বসে ফেলে দিল আর শুভ পোস্ট অফিস থেকে বের হয়ে গেল। শুভ এই প্রথমই প্রেমপত্র পোস্ট করল তাই নিজেকে রোমাঞ্চিত মনে হচ্ছে। একটা প্রেমপত্র রোমাঞ্চিত করল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিছুমিছু::ঈদ করলাম কোরবানি দিলাম গোশত খাইলাম না
→ জীবনটাও একটা আয়না স্বরূপ।
→ অন্যকে ছোট করলে
→ এক লোক ও একটা অভিজাত রেষ্টুরেন্ট
→ ♥এমন একটা বউ চাই♥
→ আত্মহত্যার কথা শুনলে একটা নাম মাথায় ঘুরে। জুনকো ফুরুতা। যদিও জুনকোর সাথে আত্মহত্যার কোন সম্পর্ক ছিল না।
→ কাবায় খালি পায়ে তাওয়াফ করলেও কেন পা পোড়ে না
→ আজ এক মুরব্বির মুখে শোনা একটা কথা সারাদিন মনে পড়ল!!!
→ একটা দুঃখের কথা বলে যাই.......

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...