বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

লাভলী মারা গেছে।

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (০ পয়েন্ট)



X সাকিল আর জিয়ার সাথে শুভর আড্ডা বা গল্প করতে ভাল লাগে। জিয়া এক গ্রামে লজিং আরেক গ্রামে লজিং থাকে সাকিল। শুভ,সাকিল এবং জিয়া তিন গ্রামে থাকে। বিকেলে লঞ্চঘাটে আড্ডা করতে খুবই ভাল লাগে কারণ লঞ্চের ছাদের উপরে নিরিবিলি পরিবেশে আড্ডা জমে ভাল আর এর সাথে যদি বাদাম কিনে নেয় তাহলে আরো ভাল। লঞ্চের লোকজনও কলেজের ছাত্র পরিচয় দিলে কিছু বলে না। বিকেলে এখান থেকে কোন লঞ্চ যায় না। বিকেলে শুধু ঢাকা বা নারায়নগঞ্জ থেকে লঞ্চ আসে। সপ্তাহে দু এক দিন লঞ্চ ঘাটে লঞ্চের ছাদে অথবা শ্মশান-ঘাটে আড্ডা দেওয়া হয়। শ্মশানের জায়গায়টিও নিরিবিলি। কেউ শ্মশানে আসে না। কালে ভাদ্রে কোন হিন্ধু মারা গেলে এখানে পোড়ানো হয়। হিন্ধুদের কবরস্থান হিসেবে এখানে কোন মুসলমান আসে না। স্বাধীনতার আগে মনে হয় এই অঞ্চলে অনেক হিন্ধু ছিল। জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৪ মে তারিখে পাক হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার সংলগ্ন হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম বাখরাবাদে নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক হিন্দু নারী পুরুষ পাক হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা শেষে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে লুটপাট করে। পাক হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ২১ জন ব্যক্তিকে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে পরদিন ১৮ জনকে এক সাথে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। ক্লাস-মেট রাজু দেবনাথে কাছে জানা, মুদ্ধিযুদ্ধের আগে অনেক হিন্ধু ছিল। যুদ্ধের পর কিছু ভারত এবং কিছু নারায়নগঞ্জ চলে গেছে। এই এলাকায় হিন্ধু মুসলিমদের ঐক্য আছে। হিন্ধুদের দূর্গাপুজার মুসলিম ব্যবসায়ী চাঁদা দেয়। আড্ডায় হাইকুলের প্রেম সংক্রান্ত আলাপও করা হয়। শুভর তোঁ তামন কোন প্রেম নাই তাই বানিয়ে বলল, আমাদের ক্লাসে লাভলীকে খুব লাগতো কিন্তু আমাকে আরো অপেক্ষা করতে বলেছে। এই কথা শুনে জিয়া ও সাকিল জোড়ে হেসে ফেলল । সাকিল বলল, “আরো তুমি তো ভাল নিমাই? ভাব দেখাও কিছুই বুঝ না আর তলে তলে গভীর প্রেম!” বন্ধুরা জানে না শুভ বানিয়ে বানিয়ে প্রেম কাহিনী বলেছে। বন্ধুরা সবাই রাজকন্যাদের গল্প করে আর শুভ বলবে না তাই কি হয়? মজার ছলে লাভলী নামে প্রেমিকা বানিয়ে ফেলল। শুভর প্রেম কাহিনী কয়েকদিনের মধ্যে কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে সবাই জেনে গেছে। এবাই টুকটাক টিটকারী করে। ক্লাসের মেয়েরাও একদিন জানতে চায় লাভলী কেমন আছে? কোথায় পড়ে ইত্যাদি শুভ তো মহা মুশকিলে পড়ল। বৃহস্পতিবার কলেজ ছুটির পর পরই সাকিল এবং জিয়াকে শুভ জানাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। শুভ, সাকিল এবং জিয়া শ্মশান ঘাটে গেল। শুভ বলল, "তোমরা দুজনে আমার ইজ্জত পাম্পচার করে দিয়েছো। ক্লাসে মেয়েরাও আমার কাছে লাভলীর খোজ-খবর নেয়।" জিয়া বলল, “আমি কাউকে কিছু বলিনি।“ শুভ বলল, “তাহলে কি তারা আকাশ থেকে জেনে গেল?”। এবার তিনজনেই চিন্তায় পড়ল। ক্লাসে সবায় জানবে কিভাবে? সাকিল বলল, “দেখতো আমরা তোমার প্রেম নিয়ে ক্লাসে কোন মশকরা করেছি কি না?” হ্যাঁ, ক্লাসেও মাঝে মধ্যে আড্ডায় হয়তো কেউ না কেউ লাভলী শুভর কথা বলেছে কিন্তু কেউ এত গভীরভাবে ভাবেনি। আর এটা ক্লাসের সবায় জেনে যাবে তা কল্পনাও করেনি। দূর্গা পুজা উপলক্ষে কলেজ এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছে। এখানে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপ হয়। হিদুরা মুসলিম পাড়া পড়শী বা মুসলিম বন্ধ বান্ধদের এই পুজাতে নিমন্ত্রন জানায়। সুধীর চদ্র এবং রাজু দেবনাথ আগেই শুভকে দাওয়াত দিয়েছে। উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে জানা যায়, “দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল হিন্দু দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। দুর্গাপূজা সমগ্র হিন্দুসমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা করা হয়। আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। শারদীয়া দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বেশি। বাসন্তী দুর্গাপূজা মূলত কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দুর্গাপূজা ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ার দরুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ও বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। এমনকি ভারতের অসম,বিহার, ঝাড়খণ্ড,মণিপুর এবংওড়িশা রাজ্যেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে প্রবাসী বাঙালি ও স্থানীয় জনসাধারণ নিজ নিজ প্রথামাফিক শারদীয়া দুর্গাপূজা ও নবরাত্রি উৎসব পালন করে। এমনকি পাশ্চাত্য দেশগুলিতে কর্মসূত্রে বসবাসরত বাঙালিরাও দুর্গাপূজা পালন করে থাকেন। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে "দুর্গাষষ্ঠী", "মহাসপ্তমী", "মহাষ্টমী", "মহানবমী" ও "বিজয়াদশমী" নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় "দেবীপক্ষ"। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া; এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করে। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। কোথাও কোথাও পনেরো দিন ধরে দুর্গাপূজা পালিত হয়। সেক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী তিথিতে পূজা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহরের মৃন্ময়ী মন্দির এবং অনেক পরিবারে এই রীতি প্রচলিত আছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতে মহাসপ্তমী থেকে বিজয়াদশমী পর্যন্ত (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মহাসপ্তমী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত) চার দিন সরকারি ছুটি থাকে। বাংলাদেশে বিজয়াদশমীতে সর্বসাধারণের জন্য এক দিন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৩ দিন সরকারি ছুটি থাকে। পারিবারিক স্তরে দুর্গাপূজা প্রধানত ধনী পরিবারগুলিতেই আয়োজিত হয়। কলকাতা শহরের পুরনো ধনী পরিবারগুলির দুর্গাপূজা "বনেদি বাড়ির পূজা" নামে পরিচিত। পারিবারিক দুর্গাপূজাগুলিতে শাস্ত্রাচার পালনের উপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়। পূজা উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়-সমাগম হয়ে থাকে। অন্যদিকে আঞ্চলিক স্তরে এক একটি অঞ্চলের বাসিন্দারা যৌথভাবে যে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন তা বারোয়ারি পূজা বা সর্বজনীন পূজা নামে পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের সময় সর্বজনীন পূজা শুরু হয়। মুলত দেবী দুর্গাকে মাথায় রেখেই দেশমাতা বা ভারতমাতা বা মাতৃভূমির জাতীয়তাবাদী ধারণা বিপ্লবের আকার নেয়। দেবী দুর্গার ভাবনা থেকেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম গানটি রচনা করেন যা ভারতের স্বাধীনতা-আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র। সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ বিল্পবী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা বিভিন্ন সর্বজনীন পূজার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। এখন সর্বজনীন পূজায় "থিম" বা নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। থিমগুলির শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে "শারদ সম্মান" নামে বিশেষ পুরস্কারও দেওয়া হয়। এছাড়া বেলুড় মঠ সহ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন শাখাকেন্দ্র এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের বিভিন্ন কেন্দ্রের সন্ন্যাসীরা দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। ঝাড়খন্ডের নিকটবর্তী পুরুলিয়া,পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ির চা-বাগানে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী অসুর জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা এই সময়টা শোক হিসেবে পালন করে।“ শুভ দূর্গা পুজাতে বাড়ি এসেছে। শুভদের গ্রামেও দূর্গা পূজা হয় তবে ছোট আকারে। শুভদের গ্রামে খুব কমই হিন্দু আছে। হিন্দু পাড়া নামে একটি পাড়া আছে। সেই পাড়াতে দূর্গা পুজা হয়। দূর্গা পূজার ছুটি শেষ হওয়া শুভ কলেজে গেলে। কলেজে গিয়ে মুখ মলিন করে আছে। বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে। শুভ জানাল লাভলী মারা গেছে। জিয়া সাথে সাথে প্রতিত্তরে জানাল শুভ দেবদাস হয়ে গেছে। দেসদাস মানে শরৎচন্দ্রের ট্র্যাজেডি। অন্যন্য বন্ধুরা শুভকে আনন্দিত করার চেষ্টা করছে। যা হবার তাই হয়েছে। তা নিয়ে না ভাবার তাগিদ দিল বন্ধুরা। শুভ ইচ্ছে করেই মিথ্যা প্রেমের সমাধি করল। আসলেই লাভলী নামে কেউ মারা যায়নি। শুভ গ্রামে এসে জেনেছিল শুভদের ক্লাসের লাভলীর বিয়ে হয়েছে। এই বিয়েটাকে শুভ সাজিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেছে লাভলী মারা গেছে। মুলত বন্ধুদের টিটকারি থেকে বাচার জন্য এই সুন্দর মিথ্যা বলেছে, লাভলী মারা গেছে। দু এক পর থেকেই বন্ধুরা লাভলী প্রসঙ্গে আর তেমন কিছুই জিজ্ঞাসা করেনি বা লাভলীর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এখন শুভকে নিয়ে লাভলী প্রসঙ্গে টিটকারি করে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...