বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল সাগরের দেশ মালদ্বীপে জিজেসগণ।পর্বঃ(০২)

"ভ্রমণ কাহিনী" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☯পিচ্চি হুজুরッ (৩০ পয়েন্ট)



X বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। loveআল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা সায়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিন আদাদা মাফি ঈলমিল্লাহ সলাতান্ দাঈমাতান বিদাওয়ামি মুলকিল্লাহlove হেল্লু কাছের মানুষজন ব্রেন্ড নিউ মালদ্বীপ ভ্রমণ গল্পের ২য় পর্বে আপনাকে স্বাগতম।wow ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন। ভ্রমণজনিত সারা দিনের ক্লান্তি আর মালদ্বীপে নেমেই সাগরদর্শন ও সাগরপাড়ের তীর ধরে হাঁটাহাঁটির দরুন এবং রাত্রিও অনেক হওয়ার কারণে বিছানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বোধ হয় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সবাই। হৃদয়(MH2) ভাইয়া যে রাতে কতটা নাক ডাকল, তা আর বুঝতে পারলাম না।তার নাসিকাগর্জন যেহেতু শুনতে পেলাম না, তাতে বুঝতে পারলাম রাতের ঘুম ভালোই হয়েছে। সকাল ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠলাম সবাই।ফজরের নামাজ রুমেই জামায়াত করা হলো,ইমামতি করেছিলেন লুমি ভাইয়া।আর মেয়েরা নিজ নিজ রুমেই নামাজ আদায় করে। সকালের নাস্তা নাস্তা খেয়ে রুমে আসার পরপরই দুষ্টুর দলের শুরু হয় পিলো ফাইট(বালিশ দিয়ে মারামারি)।হৃদয় মারতেছিল তানিমকে, তানভীর মারতেছিলো মুস্তাফিজ কে,আমি গিয়ে থামানোর চেষ্টা করি।কিন্তু ওমাহ!হিতে বিপরীত আক্রমণ এবার ৪ জন মিলে আমাকেই বালিশ দিয়ে মাইর শুরুgj মুস্তাফিজের একটা বাড়ি আমার মাথায় লাগে ব্যাস ধাম করে খাটের নিছে পড়ে যাই।এমনিতেই পুচকু মানুষ তাল সামলাতে পারিনি।কপাল গিয়ে লাগে খাটের কোনায় যার ফলে কপাল ফুলে গিয়েছিলো।পরে ওরাই আবার আমার সেবা শুরু করলো কেউ এনে পানি দিলো,কেউ মেডিসিন দিলো,আবার কেউ মাথা মেসেজ করে দিতেছিলো।gj আমিও কম না চান্দুদের একবার বাগে পাই শুধু তারপর মজা দেখাবো।ras এরপর তোড়জোড় শুরু হলো সকাল ৯টায় ডে ট্যুরে যাওয়ার জন্য। রাতেই জিজেসদের এডমিনগণ আমাদের সবাইকে জানিয়ে দিছেন যে,আগামীকাল জাহাজযোগে সমুদ্রভ্রমণ ও দ্বীপে যাওয়ার প্রোগ্রাম ঠিক করা হয়েছে। একটি দ্বীপে যাওয়া, দ্বীপে যাওয়ার সময় ডুবো দ্বীপে নামা এবং জলকেলি করার কর্মসূচি ঠিক করা ছিল। পানিতে নামার কাপড়চোপড় নিয়ে নিচে অপেক্ষমাণ গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে জেটিঘাটে নিয়ে এল। দিনের সমুদ্রের পানে তাকিয়ে অন্তরাত্মা এক অপরিমেয় আনন্দে নেচে উঠল। যত দূর চোখ যায় শুধু নীল পানি আর মাঝেমধ্যে চলমান জাহাজ, স্পিডবোট আর মাথার উপর সি-প্লেনের আওয়াজ। বহু দূরে দূরে কিছু কিছু দ্বীপের ছবি যেন হাতছানি দিয়ে আয় আয় বলে ডাকছে। একি অপরূপ দৃশ্য! একি হৃদয় হরণ করা প্রকৃতি? পরম করুণাময়ের একি অপার সৃষ্টি! তন্ময় হয়ে ভাবতে ভাবতেই মাঝির তথা জাহাজের কাপ্তানের তাগাদা এল জাহাজে ওঠার। আমরা যাত্রী ২৩ জন। জাহাজের কাপ্তান ও অন্যরা মিলে ৪ থেকে ৫ জন। জাহাজের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৬৩ জন ও মাঝি মাল্লা ৪ থেকে ৫ জন। বাংলাদেশি আমরা ২৩ জন পাকিস্তানি এক জুটি, যাঁদের দেখে মনে হলো হানিমুনে এসেছেন। ভারতীয় দু-তিনটি পরিবার। ইউরোপীয় একটি পরিবার এবং অন্য ট্যুরিস্ট, যাদের পরিচয় নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। জাহাজ আমাদের নিয়ে রওনা দিল প্রায় সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকায়। নীল পানি কেটে কেটে জাহাজ চলছে। মাঝেমধ্যে স্পিডবোটের ঢেউয়ের ধাক্কায় দোলায় দুলছে জাহাজ। আবার কোথাও কোথাও প্রচণ্ড ঢেউয়ের ধাক্কায় কেঁপে কেঁপে উঠছে আমাদের ছোট্ট জাহাজখানি। ছোট-বড় অনেক দ্বীপ পার হয়ে যাচ্ছে আমাদের জাহাজ। কোথাও কোথাও দ্বীপের ধার ঘেঁষেই সাগরের নীল পানির মধ্যে ওয়াটার ভিলা দাঁড়িয়ে আছে অতিথির অপেক্ষায়। দ্বীপের নানা প্রকৃতির গাছপালার মধ্যে ওয়াটার ভিলা আর রেস্টহাউসগুলো হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ওয়াটার ভিলাগুলো দেখে সেখানে থাকার এক সুপ্ত ইচ্ছা প্রচণ্ড ধাক্কা দিচ্ছিল মনের মধ্যে। একই সঙ্গে এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যে কত কঠিন কাজ, সে চিন্তাও মাথার মধ্যে কিলবিল করছিল। মনকে বোঝালাম এসব চিন্তা রাখো বাপু, আপাতত আকাশ আর নীল পানির মিতালির মধ্যে তুমি অবগাহন করো। ওয়াটার ভিলায় থাকার শখ পারলে পরে মিটিয়ে নিয়ো যদি সাধ্যে কুলায়। ভাবতে ভাবতেই একটি আধো জাগা আধো ডুবন্ত দ্বীপে এসে জাহাজ থামল। জাহাজ থামার একটু আগে থেকেই জাহাজের এক সহকারী এসে সবার মোবাইল একটি ওয়াটার প্রুফ ব্যাগে ভরে নিলেন। কী উদ্দেশ্যে এটা করল তা বুঝতে পারলাম না তখন। জাহাজ থামার সঙ্গে সঙ্গেই জাহাজের সহকারী দুজন মাস্ক আর ফিঞ্জ পরে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমাদের প্রতি আহ্বান এল তোমরা এখানে এক ঘণ্টা পর্যন্ত পানিতে লাফানো, ঝাঁপানোসহ যত পারো আনন্দ করতে পারো। এ আহ্বান শোনা মাত্র ছয়-সাত বছরের বয়সে পুকুর,খালে সাঁতার কাটার স্মৃতি কানে কানে, মনে মনে, প্রাণে প্রাণে সুর তুলল, ‘তুই কেন বসে আছিস এমন লগনে? নাম পানিতে। ঝাঁপ দে তুই পানিতে!’ আর কী করা, মন-প্রাণ যদি এমন করে বলে, তাহলে তো মানতেই হয় মনের কথা! যখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছি পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য, অমনি লুমি ভাইয়ার ডাক। তিনি ডেকে ডেকে বলছেন কী হবে? আরে কী হবে মানে কী? ভালো করে তাকিয়ে বুঝলাম জিনসের প্যান্ট পরনে আর হাতে লুঙ্গি নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। বুঝলাম জানতে যাচ্ছে লুঙ্গি পরে সাগরে নামবেন না জিনস পরে? মনে হলো এ কোন চিড়িয়ার পাল্লায় পড়লাম! সাগরবিহারে এসেছে জিনস পরে আর হাতে নিয়েছে লুঙ্গি! শাবাশ বাঙালি শাবাশ! বললাম ভাই, এই ভারত মহাসাগরে হয়তো কোনো দিন কোনো বাঙালি লুঙ্গি পরে নামেনি। ভবিষ্যতেও হয়তো কেউ নামবে না। অন্তত একটা রেকর্ড করার সুযোগ হাতছাড়া কেন? লুঙ্গি পরেই নেমে পড়ো। সাগরে তাতে বাঙালি জাতির একটা নতুন রেকর্ডও হবে (যদিও গিনেস বুকে রেকর্ড করার সুযোগ নেই)। আবার কাছা মেরে বাঙালির লুঙ্গি ড্যান্সও করাও হবে। একটু ইতস্তত করে আল্লাহ ভরসা বলেই লুঙ্গি কাছা মেরে নেমে পড়েন লুমি ভাইয়াlaugh। আমি তো আগে থেকেই তৈরি ছিলাম এক ধাপ। সাঁতার কেটে দ্বীপের বালিতে এসে এলিয়ে দিলাম শরীর। ওমা! এ বালি তো বালি না এ যেন পাথরের বালি। যেমন ভারী তেমনি মোটা আর সাদা। অসাবধানে শরীরে লাগলে জ্বলতে থাকে শরীর। আমার হাঁটুতে একটু বেশি চাপ লাগায় ছাল-বাকলা উঠে জ্বালা করতে থাকল। দেখলাম মুস্তাফিজ পানির উপর শুয়ে আছে, ব্যাস সকালের পিলো ফাইটের কথা মনে পড়ে গেলো।আস্তে গিয়ে ওর কাঁধে চড়ে বসলাম।আকস্মিক এমন আক্রমণ হবে বেটা ভাবতেই পারেনি।আমার ভারে পানিতে ডুবে সাগরের নোনা পানি কয়েক ঢোল গিলতে হলো তাকে।laugh তানভীর আর হৃদয় হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ফটোগ্রাফি করছিলো,এই সুযোগ কে মিস করে?গিয়েই wwe এর রোমান রেইঞ্জের স্পেয়ার দিলাম দুইজনের মাঝখানে,ব্যাস বেটারা মোবাইল নিয়া সাগরের নোনা জলের ভিতরে পড়লো,অবশ্য পরে ১৯০০টাকা গেছে ২ জনের পরে মোবাইল ঠিক করতে।তাতে আমার কি আমাকে বিনা দোষে মারছে তাই শাস্তিও পাইছেlaugh বেচারা তানিমের উপর আর প্রতিশোধ নিলাম না।কালকে রাতের সেই কাঁকড়ার কান্ড মনে হতেই বেচারার জন্য দুঃখ হয়।আহারে তার টুনটুনিটার না জানি এখন কি অবস্থাlaugh বিদেশে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কে কী কাপড় পরল, এগুলো নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। আর এখানে মাঝসাগরে তো সবাই ব্যস্ত আনন্দ আর জলকেলিতে। কাজেই কে লুঙ্গি পরে সাগরে নামল আর কে নেংটি পরে নামল, তা দেখার কেউ তো নেই? আমাদের যেখানে সাগরে নামানো হলো, সে স্থানটি হলো সাগরের মাঝে একটি আধা ডুবো দ্বীপ। একদিকে গভীর পানি আর অন্য তিন দিকে কোথাও হাঁটুপানি বা তারও কম স্বচ্ছ নীল পানি। পানির নিচের কোরাল, ছোট-বড় মাছ আর ছোট ছোট জলজ গাছপালা ও শামুক, ঝিনুক পানির ওপর থেকেই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। এই দ্বীপের যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সেটি হল মেয়েদের জন্য আলাদা বীচ আর পুরুষের জন্য আলাদা বীচ।যার ফলে মেয়েরাও তাদের নিজেদের ইচ্ছা মতো জলকেলি দাপাদাপি করলো। পর্যটকেরা যার যে রকম ইচ্ছা তেমনভাবেই আনন্দ করছে। কেউ দ্বীপের মাটিতে গা এলিয়ে দিয়ে রৌদ্রস্নান করছে। আবার কেউ পানির ভেতরে নানা শারীরিক ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন। দুজোড়া কাপলকে দেখা গেল সাঁতারের পোশাক পরে জলে ভেসে ছবি তুলছেন। ইউরোপীয় পরিবারটি মুখে ওয়াটার মাস্ক ও পায়ে ফিন লাগিয়ে রঙিন মাছের দুনিয়ায় সাঁতরে বেড়াচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী আর তাদের ৫-৬ বছরের মেয়ে যখন পানিতে সাঁতরে বেড়াচ্ছে, সে দৃশ্যও অনেক মনোহর লাগছিল। তাদের জলকেলির দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন মা আর বাবা মাছ তাদের বেবি মাছকে নিয়ে জলকেলি করছে।laugh চলবে,,,,,,,,, ভুল ত্রুটির কাফফারা স্বরুপঃ- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহামদিকা আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলাইক আলহামদুলিল্লাহ loveভালোবাসা অবিরামlove


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...