বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিবেকই জানায় অত্যাচারের ফল ভাল হবে না

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (০ পয়েন্ট)



X গ্রামে যাত্রা হবে। একটা আনন্দের ভাব বিরাজ করছে। গ্রামের বড়রা গ্রামের ঘর থেকে চাঁদা তুলেছে। যে যার মত করে সমর্থানুসারে টাকা দিয়েছে। কেউ পাচটাকা, কেউ দশটাকা। যাত্র নাটকের পোশাকের জন্য টাকা লাগবে। যাত্রা নাটকের পোশাক ভাড়া করে আনতে হয়।যাত্রা নাটকে পুরুষকে মেয়ে সাজিয়ে অভিনয় করানো হয়। গ্রামের যে যাত্রাপালা হবে তার নাম কমলার বনবাস। কমলার বনবাস এখনকার সময়ের আলোচিত যাত্রা। আগামী শুক্রবার রাতে যাত্রাপালা তাই সকল বন্ধোবস্ত আগেই করে রাখতে হবে। গ্রামের মুরুব্বী, মেম্বার এবং চেয়ারম্যানের অনুমোতি নিয়েই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই সময়ের আগেই পোশাক ভাড়া করতে হবে। গ্রামের বড় ছেলেরা এবং কিছু বয়স্ক লোকেরা মিলে এই এই যাত্রা করতেছে। যাত্রার জন্য আলাদা লোকজন আছে। যাদের পেশাই যাত্রাপালা করা। কিন্তু শুভদের গ্রামের যুবসমাজ মিলে যাত্রা পালা করবে। কোন ভাড়া করা লোক আনবে না। শুধু যাত্রার পোশাক ভাড়া আনবে। নয়ক-নায়িকা,বাদশাহ,উজির-নাজির, সৈন্য, ইত্যাদি চরিত্রের পোশাক আনতে হয়। গ্রামের মুরুব্বীদের কাজে শোনা যায় আগে বাজারে প্রতিবছর যাত্রা হত। এখন যাত্রা পালা কমতেছে। আগে যাত্রা পালায় মানুষ অভিনয় দেখে হাসি তামাসা বা করুন দৃশ্যের সময় সত্যি সত্যিই কান্না করতো। এখন আর আগের মত যাত্রা পালা জমে না। শুভ কয়েক রাত তাদের রিহার্শাল দেখেছে। খুব সুন্দর লাগে। রোস্তম ভাই জানাল ফাইনালের রাতে আরো সুন্দর হবে কারণ ঐরাতে পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, যুদ্ধ পরিচালনা অস্ত্র ইত্যাদি থাকবে। রিহার্শালে উঠানই মঞ্চ। তাই উঠানের চারপাশে সবাই বসে আর যাত্রার পাত্র-পাত্রী উঠানের মাঝখানে এসে অভিনয় করে। একজন আড়াল থেকে বই দেখে দেখে বলে দেয়। যে আড়াল থেকে বলে দেয় তাকে পরম মাস্টার বলে। শুভ লক্ষ্য করেছে। এই পরম মাস্টারই এখানের নেতা। সবাই তাকে সমীহ করে। রিহার্শালে প্রথমে উনাকে সেলাম করে। ফরম মাস্টারের নিকট দোয়া দিয়ে তারা অভিনয় শুরু করে। শুভর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণী চরিত্র হলো বিবেকের গান। খুবই ভাল লাগার গান। একদিন রিহার্শালে মাস্টারের চরত্রের লোক আসে নাই। তাই শুভ ঐ সময় মাস্টারের অভিনয় করেছে। কয়েকবার ভুল করেছে তারপরেও বড়রা বলেছে খুব ভাল হয়েছে। শুভ মুরুব্বীর কাছে শুনেছে। তাদের গ্রামে আগে রূপবান-রহিম বাদশাহ, মালকা বানু, সয়ফুল মুলুক বদিউজ্জামাল, গুনাইবিবি, দুর্গামনি, কমলা রানীর বনবাস, কাজল রেখা, মলুয়া, ভেলুয়া সুন্দরী, সোনাভান, বীরাঙ্গনা সখিনা, গাজী কালু চম্পাবতী, বনবিবি লাইলী মজনু, আলোমতি-প্রেমকুমার, ইত্যাদি যাত্রাপালা হত। এখন আর তেমন হয় না। যাত্রার কাহিনীগুলো জোছনা রাত্রে মুরুব্বীর নিকট শোনতো। ইদানিং যাত্রায় অশ্লীলতা এসে পড়েছে। কাহিনীর পাঠ না বলে সুন্দর সুন্দর মেয়ে দিয়ে অর্ধ-নগ্ন নাচ হয়। মোটকথায় যাত্রা পালায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বৃহস্প্রতিবার স্কুলে শুভ তাঁর ক্লাসমেটদের দাওয়াত দিয়েছে যে তাদের গ্রামে যাত্রাপালার। মেয়েরা আসতে পারবে না তবে, হাসান, কবির , মোশাররফ, ফরহাদ, প্রভৃতি আসবে। শক্রবার সারাদিনই কাজ। যাত্রার পেন্ডলের কাজে সহযোগিতা করা। বড়বাড়ির বড় উঠানে হবে যাত্রা পালা। কয়েকটা চৌকি দিয়ে পেন্ডেল করা হয়েছে। চৌকর চারপাশে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। তারপরে বেড়ার কয়েকহাত দূরে দর্শকের বসার জন্য নাড়া ( শুকনো ধানগাছ) ও খেড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান এবং মেম্বারের জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পেন্ডেলের একপাশে বাধ্যযন্ত্র বাজানোর লোকজনের বসার স্থান করা হয়েছে। পেন্ডেলের একটু দূরে একটি ঘরে যাত্রাপালার লোকজনের পোশাক পড়া এবং তাদের অবস্থানের জন্য একটি ঘড় খালি করে দেয়া হয়েছে। ঘর থেকে প্যান্ডেলে যাবার রাস্তা করা হয়েছে। পরম মাস্টার বসার স্থান করা হয়েছে। পরম মাস্টারের স্থান দর্শকের আড়ালে করা হয়েছে যাতে দর্শক দেখতে না পারে। বিকেলে শুভ বন্ধুরা এসেছে। বিকেলে বন্ধুদের নিয়ে গ্রাম ঘুরে আড্ডা দেয়া হলো। আড্ডায় গ্রামের উত্তম,রতন, শামীমও যোগদান করেছে। রাতে যাত্রাপালার পেন্ডের পশ্চিম পাশে খেড় ছড়িয়ে বসল তারা। যাত্রা পালার প্রথমে শুরু হলো বন্দনা সংগীত। প্রথম বন্দনা আল্লাহ নবীর নাম...। এই প্রথম বন্দনা সংগীতে যাত্রার বেশির ভাগ লোকই অংশগ্রহণ করে। এই গানে নবী-রাসুল, পরম মাস্টার, বাদ্যযন্ত্রের ওস্তাদ এবং দর্শকের প্রতি সালাম বা ভক্তি জানানো হয়। বন্দনা সংগীত শেষ হলে দর্শক হর্ষ ধ্বনি করে। কেউ বা হাত তালি দেয়। কমলার বনবাস কাহিনী হলো কমলাকে চরিত্রহীন অপবাদ দিয়ে বনবাসে পাঠানো হয়। কমলাকে বসবাসে দেওয়ার পর বিবেকের গান শুরু হয়। বিবেক তজবি হাতে দরবেশে বেশে পেণ্ডেলে এসে গান গায়। যেই গানে অত্যাচারীকে শর্তক করা হয়। দর্শক যখন অত্যাচারে দৃশ্য দেখে কান্নাজড়িত অবস্থায় স্তমিত হয় তখনই বিবেকের অর্বিভাব হয়। বিবেকই জানায় অত্যাচারের ফল ভাল হবে না। বিবেকের গান শুনে দেওয়ার চাচা দশটাকা পুরস্কার দিলেন। দর্শক জোড়ে করতালি দিল। ডাকাতের অভিনয় করে শাহজাহান কাকা। কালো পোশাক পড়ে যখন অভিনয় করে তখন বুঝতেই পারেনি শুভ। রিহার্শালে যেরকম দেখেছে তারচেয়ে আজ ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। রাজা বাদশাহর পোশাক, তলোয়ার, মেয়েদের পোশাকের কারণে বুঝাই যায় না এই নায়িকা একজন পুরুষ। শুভর বন্ধুরা যাত্রা দেখে খুবই আনন্দিত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...