বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘুম থেকে সজাগ হলে পৃথিবী আর সজাগ না হলে অনন্ত পৃথিবী থেকে।

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (০ পয়েন্ট)



X নবম শ্রেনির বার্ষিক পরীক্ষাও সম্মিলিত মেধা তালিকায় শুভ প্রথম হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিক বিভাগের ছাত্রদের মোট নাম্বারের চেয়ে একশত নাম্বার বেশি পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম স্থান অধিকার করেছে। স্কুলের তিন বিভাগে মিলে ছাত্র/ছাত্রী মাত্র ৬৫জন। কাজেই এটাকে মেধা তালিকাও বলা যায় না। মোশারফ হোসেন স্যার বলতেন, নাই দেশে পাবদাই বোয়াল মাছ। শুভর অবস্থা অনেকটাই তাই মনে করেন স্যারেরা। স্যারদের কথানুসারে এই ব্যাচটা নাকি দূর্বল ব্যাচ। শুভ হচ্ছে দূর্বল ব্যাচের রোল এক। গত বার্ষিক পরীক্ষায় মোশাররফ হোসেন স্যার কঠিন মাইর দিয়েছে শুভকে। এর অবশ্যই যথেষ্ট কারণ আছে। পরীক্ষায় একটা নকল একজন থেকে আরেকজনকে স্থানান্তর করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন স্যারের নজরে পড়ল। স্যার, বলল তুমি একজন ভাল ছাত্র হয়ে নকলে সহায়তা করছো! এই বলে জালি বেত দিয়ে আচ্ছা করে কয়েকটা বেতের আঘাত দিলেন। শুভর পিঠে চার/পাচটা লালচে দাগ পড়ে গেল। লজ্জায় বেশি কাঁদতেও পারেনি শুভ। বেত্রাঘাতের চেয়ে লজ্জাই পেয়েছে বেশি। নবম-দশম শ্রেনির বই একই। শুভ নবম শ্রেণির চেয়ে দশম শ্রেনিতে বেশি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছে। কারণ শুভর ভাল ফলাফল করতে হবে। জীবনে কি হবে তা জানে না কিন্তু পরিক্ষায় পাশ করতে হবে। ফেইল করলে শ্রমিক হওয়া ছাড়া জীবনে আর কিছু সম্ভব নয়। এস এস সি পরীক্ষায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করে পাশ করে খুবই কম। শুভদের স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে খুব কমই পাশ করে। পাশের হারও তেমন ভাল নয়। ভাগ্য যদি খারাপ হয় তাহলে ভাল ছাত্রও ফেইল করে। কাজেই সামনে এস এসসি পরিক্ষায় ভাল করবার জন্য খুবই মনোযোগ দিচ্ছে শুভ। শামীমার সাথে তেমন কথা বার্তা হয় না। ক্লাশে যা হায় হ্যালো হয়। এছাড়া ইদগায়ের আড়ালে বা গোপনে কোন কথা হয় না। ক্লাশে রবী ও আঞ্জুর প্রেমের গুঞ্জন চলছে। প্রেম কি না তা সবায় নিশ্চিত না। প্রতিদিন রবী ও আঞ্জু একসাথে স্কুলে আসে। রবী স্কুলে আসার পথে আঞ্জুকে ডেকে আনে। একসাথে স্কুলে আসা-যাওয়াটাই সবাই প্রেম বলে চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্জুর এক ভাই আমাদের সিনিয়র তাই শুভর বন্ধুরা ভয়ে কিছু বলতো না। কিন্তু গুঞ্জন বন্ধ হত না। শুভ ভালভাবে পড়ার আরেকটি কারণ হলো টেষ্ট পরীক্ষা নাকি খুবই কড়াকড়ি হয়। অনেক ছাত্র ফেইল করে। ফেইল করলে অনেক টাকা জড়িমানা দিতে হয়। শুভ জড়িমানা দিতে পারবে না। দশম শ্রেনিতে উঠলেই প্রাইভেট অনেকটা বাধ্যতামুলক বিশেষ করে কোচিং ক্লাস। দশম শ্রেনির উঠার পর নিজকে একটু বড় বড় মনে হয়। ঠোটের উপরে নাকের নিচে কাল চুলের প্রলেপ পড়েছে। বন্ধুরা শুভকে বলে তোর চাপদাড়ি হবে, সুপুরুষ হবি। কামাল স্যার ক্লাশে বলেছেন, এই বয়সে ভুল করলে সারাজীবন পস্তাতে হবে। জীবনের ভাল সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। জীবনে মদ, মেয়ে, তাস এই তিনটি জীবনে সর্বনাশ। কাজেই তোমরা সবধান হয়ে যাও। আমার কাছে তোমাদের অনেক খবরই আসে। আমি চাই না তোমাদেরকে অপমান করতে। কামাল স্যার ক্লাসে অনেক সময় নৈতিক গল্প বলে। কলেজে পড়া সঞ্জিত দাদা, শুভ এবং উত্তমকে প্রায় বুঝায় যেন মেয়েদের পিছনে ঘুরবে না। একবার যদি মেয়েদের পীছনে পড়স তাহলে তোমাদের লেখা-পড়া শেষ। বড়দের কথা বার্তায় শুভর মনে হয় মেয়েরা জীবনের সর্বনাশের জন্যই জন্মেছে। যাহাই হোক সবার কথাই শুভ মনোযোগ দিয়ে শুনে এবং ভাল কথা মানার চেষ্টা করে। শুভ প্রাইভেট পড়তো না। তবে ক্লাশে নিয়মিত পড়া পারে। নিয়মিত পড়ার পাশাপাশি গল্প ও উপন্যাস পড়ে। উপন্যাস পড়া শুভর নেশা বলা যায়। বন্ধুদের বাসায় গেলে দেখে উপন্যাস আছে কি না? যদি উপন্যাস থাকে তাহলে উপন্যাস হাওলাত নিয়ে আসে। বই পড়ে আবার ফেরত দিয়ে দেয়। শুভ প্রায় রাতে হাড়িক্যানের আলোতে উপন্যাস পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝ রাতে সজাগ হয়ে দেখে বই হাতে নিয়ে শুয়ে আছে। শুভ ভাবে জীবন এমনই ঘুম থেকে সজাগ হলে পৃথিবী আর সজাগ না হলে চিরবিদায় পৃথিবী থেকে। তারপর হারিক্যানের আলো কমিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৫৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...