বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাইনে উঠলে ছেলে-মেয়ে লাইনে উঠে

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mohammad Shahzaman (৬৮ পয়েন্ট)



X শামীমাকে স্কুলের সবাই চিনে। বিশেষ করে নবম-দশম শ্রেণির সবাই। শামীমর বক-কাইট চুল এবং বিদেশী পারফিউম ঘ্রানে ছেলেরা শামীমার পিছনে একটু ঘুড়ে বেশি। শামীমা একদিনও ভাল্ভাবে পড়া পারে না তবুও স্যারের তাকে সমীহ করে। একদিন জাকিয়া সুলতানা শুভর সাথে বলে, “একটা মেয়ে ঢাকা থেকে এসে সবার নজর কেরে নিলো”। শুভ বলল, “নজর না ছাই; ঐদিন স্যার এরে পাগলি কইছে’’। সুলতানা বলল, “আমাদের কোন মেয়েই এইভাবে চুল কাটে না, মেয়েদের চুল লম্বা রাখতে হয়”। এবার শুভ বুঝতে পারল, শামীমার চুলের জন্য সবার নজরে এসেছে। এই স্কুলে আর কারো চুল এত ছোট নয়। এমন কি ষষ্ঠ শ্রেণির মেয়েদের চুলও কেই এইরূপ রাখে না বা কাটে না। শুভদের স্কুলটি একটি দু’চালা টিনের ঘর। এই ঘরটির পূর্ব দক্ষিণ পাশে একটি শহীদ মিনার যা শুধু একুশে ফেব্রুয়ারির দিন কাজে লাগে। এছাড়া অন্য সময় পাড়ার ছেলেরা এখানে বসে আড্ডা দেয়। স্কুল চলার সময়ও প্রায় শহীদ মিনারে আড্ডা দেয়। শহীদ মিনার আড্ডার মুল কারণ হলো শহীদ মিনারের পূর্ব পাশেই একটি বাদাম গাছ আছে। বাদাম গাছের ছায়া পড়ে শহীদ মিনারে তাই দুপুরে রোদ্রেও শহীদ মিনারে আড্ডা দিতে পারে। আর স্কুল ছুটি হলে তো পাড়ার ছেলেদের দখলেই থাকে শহীদ মিনার। বাদাম গাছের পূর্ব পাশে স্কুলের অফিস। অফিসে প্রধান শিক্ষক এবং অফিসসহকারি বসে। অফিস সহকারিকে ছাত্ররা সবাই কেরানী স্যার বলে সম্মোধন করে। কেরানী স্যারের মেয়েও শুভদের ক্লাসে পড়ে। কেরানী স্যারের মেয়ের নাম আসমা আক্তার লাভলী। লাভলীও চমৎকার সুন্দরী। সুন্দরী হলেও কোন ছেলে টাংকি মারার সাহস পায়নি কারণ স্যারের মেয়ে বলে। শুভর সাথে ভাল ভাব আছে কিন্তু প্রেম –টেম বলা যাবে না। ক্লাসের সবায় একটু ধরে নিয়েছে লাভলী শুভকে ভালবাসে। আর এই কারণেই আমান শুভকে মেরেছে। শুভদের ক্লাসে ঘন্টার পরার পর স্যার না আসলে শুভ প্রধান শিক্ষকের অফিসে যায় এবং অফিসে জানায়, “আমাদের ক্লাসে কোন স্যার নেই।" শুভ প্রধান শিক্ষককে বলে আবার টিনের ঘরে নবম শ্রেণির কক্ষে আসার পথে বাদাম গাছের নিচে শামীমা শুভর দিকে তাকিয়ে ঈশারার একটি কাগজ হাতে ধুমরিয় মুছরিয় ময়লার মত ফেলে দিল। শুভ বুঝতে পারল, হাতে মোড়ানো কাগজটি নিতে হবে। শুভ শামীমার মুছরানো ফেলে দেওয়া কাগজটি হাতে নিলো। হাতে নিয়ে একটু দেখলো। একটু দেখাতে বুঝতে পারলো এটা চিঠি। চিঠি দেখে ভয়ে আৎকিয়ে উঠল এবং সাথে সাথে প্যান্টের পকেটের ভিতরে রেখে দিল। পিছনের তাকিয়ে দেখল যে, কোন স্যার দেখেছে কি না? এই সময় ছাত্র/ছাত্রীরা সবায় শ্রেণি কক্ষে থাকে। কাজে ছাত্রদের চেয়ে শিক্ষক দেখার ভয় বেশি। একটু ভাল ভাবে তারিখে লক্ষ্য করলো কেউ দেখেনি। কেউ দেখেনি তাই মনের ভয়টা দূর হলো। তারপরে মলীন মুখ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করল। প্রবেশের সাথে সাথে শামীম জিজ্ঞাসা কিরে তোরে কি রেজাউল স্যারের মারছে? মুখ কালো কেন? শুভ উদাসভাবে উত্তর দিল আরে না। এর একটু পরে শামীমা ক্লাসে প্রবেশ করল। তারপর রেজাউল স্যার ক্লাসে প্রবেশ করল। স্যার চেয়ারে বসে জিজ্ঞাসা করলেন, “কে কে পড়া পারো? দাঁড়াও”। শুভ, শামীম, উত্তম, রবী, আঞ্জু দাড়াল। বাকীরা বসে রইল। স্যার বলল, তোমরা বসো আর বাকীরা দাঁড়াও। বাকীরা তো ভয়ে ভয়ে দারালো। স্যার একটা জালিবেত দিয় একজকে দুটি করে মাইর দিল। স্যারের বেত্রাঘাত দেখে শামীমও ভয় পেয়ে গেল। একটু পরেই বিরতির ঘন্টা পড়ল। স্যার পরের পৃষ্ঠার পড়া দিয়ে বের হয় গেলেন। শুভ ক্লাস থেকে বের হয়ে সোজা স্কুলের পশ্চিম পাশের ঈদ্গায়ের আড়ালে চলে গেলেন। পকেট থেকে চিঠিটা বের করলেন। চিঠির পেইডটি সম্ভবত কোন ওষধের পেইড খাতার কাগজ। এই কাগজে রঙ্গিন পেন্সিল দিয়ে চিঠির চারপাশে সুন্দর করে সাজিয়েছে। চিঠি লিখার সময় উল্লেখ করেছে রাত ৩টা ২০ মিনিট। তারমানে গভীর রাতে লিখা চিঠি। চিঠি পড়তে শুরু করল। প্রিয় শুভ, আমি সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে তোমার জন্য এখানে এসেছি। আমি এখানে এসেই তোমার প্রেমে পড়েছি। তোমার মিশুক মিশুক হাসি আমার খুবই ভাল লাগে। মন চায় তোমার হাত ধরে ক্লাসে সবার সমনে বলতে আমি তোমাকে ভালবাসী। আমি তোমাকে ভালবাসী। তুমি ঐদিন ফরহাদের কথা যখন বলেছ তখন আমি বলতে চেয়েছি, আমি তোমাকে ভালবাসী। কেন জানি আমার ঠোটের জড়তায় আটকে গিয়েছিল। আজ গভীর রাত, পৃথিবী নিরব তাই তো সাহস করে বলছি, আমি তোমাকে ভালবাসি। ইতি তোমারই শামীমা চিঠি পড়ে একটা অজানা ভয় কাজ করছে। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না শুভ। বন্ধুদের এই প্রেমের কথা জানালে তারা সাহায্যের চেয়ে হাসাহাসি করবে বেশি। শুভ ভাবছে, বিশেষ করে ফরহাদ যদি জানতে পারে তাহলে আমাকে ঘৃণা করবে। বিশাসঘাতক মনে করবে। কবির তোঁ একবাক্যে বলবে, ইহা একশত পারসেন্ট ভন্ডামী। কবির শামীমাকে আগেই ভন্ডামীর রানী বলেছে। শুভর মনে পড়ল গত শুক্রবারের কথা। গত শুক্রবারে ফরহাদ শুভ নিয়ে দুই/তিন গ্রামের পরের গ্রামের এক কবিরাজের কাছে গিয়েছিল। ফরহাদ শামীমাকে তাবিজ করবে। তাবিজের মাধ্যমে ভালবাসার বশ মানাবে। গত বৃহস্পতিবারে স্কুল অর্ধ দিবস ছিল। ছুটির পরপরই ফরহাদ শুভকে বলল, “আগামীকাল সকাল আটটায় আমাদের পোস্ট অফিসে আসিস। জরুরী কাজ আছে”। শুভ বলল, কি কাজ? ফরহাদ জানাল আসলেই জানতে পারবি। পরের দিন শুভ পাশের গ্রামের পোস্ট অফিসে গিয়ে দেখে ফরহাদ বসে আছে। ফরহাদ শুভকে দেখে খুব খুশী হলো। ফরহাদ শুভকে নিয়ে গ্রামের পশ্চিম দিকে হাটতে লাগলো। হাটতে হাটতে ক্লাসের বিভিন্ন কথা আলোচনা চলছে। সেলিমের বিয়ের কথা,আমানের কথা, আঞ্জু-রবীর কথা ইত্যাদি। আলোচনার বেশিরভাগই আসে শামীমার কথা। অন্য কথা শেষ হতে না আবার শামীমার প্রসঙ্গে চলে আসে। ফরহাদ বারবার শামীমার প্রসঙ্গ নিয়ে আসে। হাটতে হাটতে আর কথায় কথায় আরেক গ্রামে প্রবেশ করেছে। শুভ ফরহাদকে জিজ্ঞাসা করলো, “আরে আমরা যাচ্ছি কোথায়?” ফরহাদ জানলো সামনের গ্রামের কবিরাজের কাছে। শুভ বলল, “কবিরাজের কাছে কেন? তোর কোন অসুখ হয়েছে?” ফরহাদ জানাল কোন অসুখ নয়। শামীমাকে পাওয়ার জন্য তাবিজ আনবে। শুভ তো অবাক! কারণ শুভর তাবিজের উপর বিশ্বাস নেই। গ্রামে টাকা পয়সা হারানো গেলেও তাবিজ দিয়ে বাটি চালান দিয়ে চোর ধরে । কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো দু একটা চোর ধরা পরার কারণে তাবিজের উপর মানুষ বিশ্বাস স্থাপন করে। এইগুলো ভন্ডামী ছাড়া আর কিছু নয়। চার/পাঁচ ঘন্টা হাটার পর কবিরাজের বাড়ি পৌছাল। কবিরাজের বাড়ি ফরহাদ আগে থেকে চিনে। তাই তেমন বেশি খুজতে হয়নি। গ্রামের মাঝ খানে একটি দুচালা ঘরে বসবাস। কবিরাজ প্রথমে ফরহাদ শুভকে দেখে বলল, “আপনাদের কি কাজ আমার সাথে?”। ফরহাদ বিস্তারিত বুঝালো যে, ফরহাদ শামীমাকে ভালবাসে কিন্তু শামীমা ফরহাদকে পছন্দ করে না। তাই তাকে বশ মানিয়ে বিয়ে করতে চায়। কবিরাজ ফরহাদের নিকট নিশ্চয়তা চায় যেন মেয়ে কোন ক্ষতি করবে না এবং বিয়ে করতে হবে। ফরহাদ কবিরাজকে নিয়শ্চয়তা দেয় যে, সে শুধু বিয়ের জন্যেই শামীমাকে চায়। কবিরাজ ফরহাদকে কিছু নিয়ম-রীতি বলে দিল আর একটা কাগজে একটা পেচানো গোচানো লিখা দিয়ে বলল, এই লিখা একটি আঠার রুটির উপর লিখে কুকুরকে খাওয়াতে হবে। কুকুরকে কয়েকদিন খাওয়াবে। কুকুর যদি আপনার বশ মানে তাহলে ঐ মেয়েও আপনার বশ মানবে। ফরহাদ খুব খুশী হয়ে কবিরাজকে একশত টাকা দিল। কবিরাজ খুবই খুশী হলো। ফরহাদের তাবিজের প্রায় ৫/৬দিন পর শামীমা শুভকে চিঠি দিল। ফরহাদের তাবিজের কাজ উল্টো হয়ে গেল। শামিমার চিঠি পেয়ে শুভ ফরহাদের কথা বেশি ভেবেছে। ভেবেছে নিজের পড়া শোনার কথা। শুভ দেখেছে গ্রামে অনেক ছেলে মেয়ে প্রেম করার পর আর লিখা পড়া করতে পারেনি। শামীমার সাথে প্রেম করলে তারও লিখা পড়া হবে না। কামাল স্যার একবার ক্লাসে বলেছিল, নাইনে উঠলে ছেলে-মেয়ে লাইনে উঠে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অনলাইনে ব্যস্ত সময়
→ অনলাইনে ক্লাস করতে অনলাইনে ভাইরাল
→ ভালোবাসাটা যখন অনলাইনে
→ রেললাইনের ভুত!
→ অফলাইনের ভালোবাসা
→ রেললাইনের রাত
→ পুলিশ লাইনের পাশে সেই কবরস্থান
→ বেশি ভালোবাসলে মাথায় উঠে !
→ মধ্যরাতে নির্জন রেললাইনের ভয়ানক আড্ডা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...