বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (১১)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১৮৪ পয়েন্ট)



X কম্পিউটার আর খেলাধুলার শিক্ষক ছাড়াও তাঁদের একজন অঙ্ক আরেকজন বিজ্ঞানের শিক্ষক দরকার ছিল। অঙ্কের শিক্ষকটি তারা পেয়ে গেলেন খুব সহজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিটায়ার্ড অঙ্কের প্রফেসর, নাম ইদরিস আলি, সবাই ডাকে প্রফেসর আলি। ঘোর নাস্তিক মানুষ, অঙ্ক কষে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন ঈশ্বর বলে কিছু নেই। পুরো ব্যাপারটি নাকি শেষ পর্যন্ত একটা দ্বিমাত্রিক ইকুয়েশানে এসে শেষ হয়েছে। সেই ইকুয়েশানের দুইটি সম্ভাব্য উত্তর। একটি উত্তর সত্যি হলে ঈশ্বর আছে, আরেকটি সত্যি হলে ঈশ্বর নেই। এখন কোনটি সত্যি সেটা নিয়ে খুব সমস্যার মাঝে আছেন। পথচারী স্কুলের বাচ্চাদের অঙ্ক শেখানোর জন্যে অবিশ্যি সেটি কোনো সমস্যা নয়। কারণ ফরাসত আলি আর ফারুখ বখত বারবার করে বলে দিয়েছেন এই স্কুলের বাচ্চারা হবে নতুন যুগের মানুষ, তার অর্থ নিজের ধর্মকে ভালোবাসবে এবং অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করবে। কাজেই ঈশ্বর আছে কি নেই এ-ধরনের গুরুতর বিষয় নিয়ে তাদের যেন বিভ্রান্ত করে দেয়া না হয়। প্রফেসর আলি খানিকক্ষণ তর্ক করে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছেন–তিনি তর্ক করতে ভালোবাসেন, প্রতিদিন ভোরে নাস্তা করার আগে কেন নাস্তা করতে হবে সেটা নিয়েও তার স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা তর্ক করেন। প্রফেসর আলি বলেছিলেন পথচারী স্কুলে বাচ্চাদের পড়ানোর জন্যে তিনি কোনো বেতন নেবেন না, কিন্তু ফারুখ বখত আর ফরসত আলি বলেছেন, বেতন না নিলে কেউ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে না। তিনি শেষ পর্যন্ত অল্প কিছু বেতন নিতে রাজি হয়েছেন। অঙ্কের শিক্ষক সহজে পেয়ে গেলেও বিজ্ঞানের শিক্ষক পাওয়া খুব সহজ হল। অনেকেই ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল কিন্তু কাউকেই ফারুখ বখত আর ফরাসত আলির পছন্দ হয় না। তারা হারুন ইঞ্জিনিয়ারকে অনেকবার অনুরোধ করলেন কিন্তু হারুন ইঞ্জিনিয়ার কিছুতেই রাজি হলেন না, ছোট বাচ্চাদের তিনি খুব ভয় পান, তাদের থেকে তিনি সবসময় অন্তত একশো হাত দূরে থাকতে চান। তিনি স্কুলঘরটা সোজা করে বসিয়েই চলে যাবেন, তাঁর নাকি ইতালি বা আমেরিকা কোথায় গিয়ে বছরখানেক কাজ করতে হবে। বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যাকে শেষ পর্যন্ত নেয়া হল তার নাম রাণু মুখার্জী, সবাই তাঁকে রাণুদিদি বলে ডাকে। তিনি স্কুল কলেজ পাস করেছেন অনেক আগে কিন্তু কখনো কোথাও কাজ করেননি, নিজের বাচ্চাদের মানুষ করেছেন। বাচ্চারা এখন কলেজে পড়ে তাই নিজের অনেক অবসর। এলাকার সবাই জানে তিনি খুব কাজের মানুষ, সবসময় কিছু-না-কিছু করছেন। তাঁর বাসায় ফুলের টবে নানারকম শবজি গাছ লাগানো। বিচিত্র সব শবজি, শসা এবং কুমড়া একত্র করে তৈরি হয়েছে শমড়া, জিনিসটা দেখতে কুমড়ার মতো বড় কিন্তু খেতে শসার মতো। টমেটো আর বেগুন দিয়ে তৈরি হয়েছে টমেন যেটা দেখতে খানিকটা বেগুনের মতো আবার খানিকটা টমেটোর মত। সেটা ব্যবহার করে বেগুনের টক রান্না করার সময় আলাদা করে আর টক দিতে হয় না, কারণ টমেগুন খেতে টক বেগুনের মতো। রাণুদিদির আরও নানাধরনের আবিষ্কার রয়েছে, সূর্যের আলো ব্যবহার করে পানি গরম করা কিংবা রান্না করা তার মাঝে একটা। বাসার ছাদে একটা বিরাট অ্যালুমিনিয়ামের ডেকচি ঝুলিয়ে একবার উপগ্রহ থেকে কিছু সিগন্যাল ধরেছিলেন। তিনি এখন বাসার নিচে অনেকগুলি ক্যাপাসিটর জড়ো করেছেন, বজ্রপাতের সময় সেই ক্যাপাসিটর চার্জ করে সেটা ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি বিজ্ঞানের জন্যে ভালো কোনো শিক্ষক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রাণুদিদির শরণাপন্ন হয়েছেন। প্রথমে রাজি হননি কিন্তু পথচারী স্কুলের কর্মকাণ্ড শুনে শেষ পর্যন্ত ঠিক করলেন কয়েকদিন কাজ করে দেখবেন। স্কুলের জন্যে একজন ডাক্তার খুঁজে পেতে খুব অসুবিধে হল। যে-ডাক্তারের কাছেই যান সে-ই বলে, আপনাদের উদ্দেশ্য খুব মহৎ, কিন্তু এর জন্যে তো ডাক্তারের দরকার নেই। সব সুস্থ-সবল ছেলে। ডাক্তারের তো কোনো কাজ থাকবে না, বসে থেকে থেকে বিরক্ত হয়ে যাবে! ফরাসত আলি বললেন, “কিন্তু যদি অসুখ করে?” “তখন যাবে ডাক্তারের কাছে।” “যদি চেকআপ করাতে হয়?” “তখন আসবে একজন ডাক্তার।”যদি হঠাৎ করে কানো অ্যাকসিডেন্ট হয়?” ডাক্তারেরা মাথা চুলকে বলেন, “এমনভাবে স্কুলঘরটা তৈরি করবেন যেন কোনো অ্যাকসিডেন্ট না হয়। যদি তবু কিছু ঘটে যায় ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাবেন।” ফারুখ বখত মনমরা হয়ে বললেন, “ভাবছিলাম স্কুলে সব সময় ডাক্তার থাকবে–” ডাক্তারেরা মাথা নেড়ে বলেন, “কিছু দরকার নেই। একজন নার্স থাকলেই যথেষ্ট। বিলাত আমেরিকার স্কুলেও ডাক্তার থাকে না, শুধু একজন নার্স থাকে।” শেষ পর্যন্ত তা-ই ঠিক হল, স্কুলে শুধু একজন নার্স থাকবে। খুঁজে-পেতে একজন নার্স পাওয়া গেল, ভদ্রমহিলা স্থানীয় খ্রিস্টান, নাম মার্থা রোজারিও। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, হাসিখুশি মহিলা, বাংলায় একটু উত্তরবঙ্গের টান রয়েছে। মাঝে মাঝে আমার’ বলতে গিয়ে হামার’ বলে ফেলেন। দীর্ঘদিন নানা হাসপাতালে কাজ করেছেন, প্রচুর অভিজ্ঞতা, সত্যিকারের ডাক্তার না থাকলেও কোনো অসুবিধে হবার কথা নয়। তা ছাড়া রাগী-রাগী চেহারার একজন ডাক্তার থেকে হাসিখুশি একজন মহিলা ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্যে ভালো। স্কুলের কর্মচারীদের মাঝে যাকে সবচেয়ে সহজে পাওয়া গেল সে হচ্ছে বাচ্চাদের খাবার রান্না করার জন্য একজন বাবুর্চি। তার নাম চুনু মিয়া। সে স্কুল তৈরি করার সময় হারুন ইঞ্জিনিয়ারের ডান হাত ছিল। খুব কাছের মানুষ, এমন কোনো কাজ নেই যেটা করতে পারে না। স্কুলের নানারকম কাজকর্মে সে আগে থেকেই লেগেছিল, বাবুর্চির দরকার শুনে নিজেকে দাখিল করে দিল। তার বাবা এবং দাদা নাকি মুন্সিগঞ্জ এলাকার বিখ্যাত বাবুর্চি। সে নিজেও বিয়ে জন্মদিন বা বউভাত উপলক্ষে রান্না করতে যায়। শহরের কোনো কোনো অঞ্চলে তাকে লোকজন ওস্তাদ চুনু মিয়া বলে ডাকে। ফারুখ বখত চুনু মিয়ার আবেদন শুনে বললেল, “এটা কিন্তু বাচ্চাদের স্কুল। এদের জন্যে কিন্তু কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধতে হবে না।” চুনু মিয়া বলল, “কোনো অসুবিধা নাই। আমি ঢাকা শহরে সাহেবমেমদের বাসাতে কাজ করেছি, চপ-কাটলেটও তৈরি করতে পারি।” ফরাসত আলি মাথা নাড়লেন, “উঁহু। সাহেবি খাওয়া চলবে না।” “কোনো সমস্যা নাই। দেশি খাবার রাঁধতে পারি। শিঙাড়া সমুচা নিমকি–” ফারুখ বখত বাধা দিয়ে বললেন, “না না, শিঙাড়া সমুচা ভাজাভুজি চলবে না। আটার রুটি আর শবজি। সাথে ফলমূল আর কাঁচা শবজির সালাদ। সঙ্গে গোরুর দুধ এক গ্লাস।” চুনু মিয়া খানিকক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বলল, “আটার রুটি বানানোর জন্যে বাবুর্চি লাগে?” ফারুখ বখত মাথা নেড়ে বললেন, “লাগে। করতে পারলে বলো তোমাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দিয়ে দেব।” “পারব স্যার। কোনো অসুবিধা নাই।” সাথে সাথে চুন্নু মিয়ার চাকরি হয়ে গেল। সকালে দারোয়ান, স্কুল চলার সময় দপ্তরি, দুপুরবেলায় বাবুর্চি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...