বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (১০)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১৮৪ পয়েন্ট)



X কম্পিউটারের শিক্ষকের পর তাঁরা খেলাধুলার জন্যে একজন শিক্ষক খোঁজাখুঁজি করতে লাগলেন। ইন্টারভিউ দিতে প্রথম যে-মানুষটি এসে হাজির হল তাকে দেখে তাদের চোখ কপালে উঠে গেল। মানুষটি শুকনো হাড়জিরজিরে, গাল ভেঙে মুখের ভিতরে ঢুকে গেছে, চোখ গর্তের ভিতরে। মানুষটির গায়ের চামড়া এবং দাঁত হলুদ রঙের। ঘরে ঢুকে চেয়ারে বসে মানুষটি কাশতে শুরু করল, ফরাসত আলি আর ফারুখ বখতের মনে হতে লাগল কাশতে কাশতে এই চেয়ারেই মানুষটির দম আটকে পড়ে যাবে এবং এক্ষুনি স্ট্রেচারে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। মানুষটি শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিল, তখন ফারুখ বখত ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কোন পোস্টে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন?” “কেন, খেলাধুলার শিক্ষক!” “কিন্তু খেলাধুলার শিক্ষকদের অনেক শক্তসমর্থ হওয়া দরকার। দৌড়াদৌড়ি করতে হবে, পি.টি. স্পোর্টস, সাঁতার ফুটবল ক্রিকেট, আপনি কি পারবেন এইসব?” মানুষটি কথা বলতে গিয়ে আবার কাশতে শুরু করল এবং কাশি শেষ হবার আগেই তার হাঁপানির টান শুরু হয়ে গেল। ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি দীর্ঘ সময় চুপ করে বসে রইলেন এবং মানুষটি শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “বছরের এই সময়টা আমি মোটামুটি ভালো থাকি, এই সময়ে কোনো অসুবিধে নেই। কিন্তু—” ফারুখ বখত ইন্টারভিউয়ের খাতায় মানুষটির নামের পাশে বড় বড় করে লিখলেন, ‘বাতিল’। এর পরে যে-মানুষটি এসে ঢুকল তাকে একটা ছোটখাটো দৈত্য বলে চালিয়ে দেয়া যায়, ঘরে ঢোকার সময় তার দরজায় মাথা ঠুকে গেল। তার বুকের সিনা দুই মিটারের এক সেন্টিমিটার কম না। হাতের মাংসপেশি দেখে মনে হয় বুঝি জীবন্ত কোনো প্রাণী কিলবিল করছে। ফারুখ বখত এবং ফরাসত আলি দুজনেই তাকে দেখে অভিভূত হয়ে গেলেন। মিনি দৈত্যটি তাদের সামনে চেয়ারে বসার পর ফরাসত আলি বললেন, “আপনি নিশ্চয়ই খেলাধুলায় শিক্ষকের জন্যে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন?” “হাঁহ?” ফরাসত আলি আবার প্রশ্নটি করলেন এবং মিনি দৈত্যকে খুব বিভ্রান্ত দেখা গেল। ফরাসত আলি খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে আবার প্রশ্ন করলেন। এবারে মিনি দৈত্য সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল, “হাঁহ!” ফারুখ বখত তাঁর বলপয়েন্ট কলমটা টেবিলে ঠুকতে ঠুকতে বললেন, “ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করার ব্যাপারে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা আছে?” “হাঁহ?” ফারুখ বখত আবার প্রশ্নটি করলেন এবং মিনি দৈত্য আবার বলল, “হাঁহ?” ফরাসত আলি অনেকক্ষণ চিন্তা করে এবারে জিজ্ঞেস করলেন, “ফুটবল ক্রিকেট ভলিবল এইসব খেলা আপনি জানেন?” “হাঁহ?” এতক্ষণে তারা দুইজনে বুঝে গেছেন এই বিশাল মানুষের শক্তিশালী দেহটির নিয়ন্ত্রণে যে-মস্তিষ্কটি আছে সেটি আকারে খুবই ছোট, লবণের চামচে দুই চামচের বেশি হবার কথা নয়। ছোট বাচ্চাদের খেলাধুলর দায়িত্বে এই মানুষটিকে রাখার কোনো প্রশ্নই আসে না। ফারুখ বখত তার নামের পাশে বড় বড় করে লিখলেন, ‘বাতিল’। এরপর যে-মানুষটি ইন্টারভিউ দিতে এল সে খুব লম্বা নয় কিন্তু তার পেটা শরীর। মানুষটি শার্টের হাতা গুটিয়ে তাদের সামনে বসে দাঁত বের করে হেসে বলল, “কেমুন আছেন ওস্তাদ?” ফারুখ বখত আর ফরাসত আলিকে এর আগে কেউ ওস্তাদ বলে ডাকেনি তাই তারা একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ভালো।” ফরাসত আলি তার কাগজপত্র দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “খেলাধুলার ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা আছে?” “কী বুলেন আপনি! জেইলখানায় আমার কাবাডি টিম ছিল চ্যাম্পিয়ান।” ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি দুজন একসাথে চমকে উঠে বললেন, “জেলখানায়?” “হুঁ হুঁ।“ “জেলখানায় আপনি কী করতেন?” “জেইলখানায় কী করে মানুষে? কয়েদ খাটে। হা হা হা!” “কেন গিয়েছিলেন আপনি জেলে?” “মার্ডার কেস।” “মার্ডার কেস?” মানুষটি পিচিক করে মেঝেতে থুতু ফেলে বলল, “খামাখা কোট কাঁচারী! জজ সাহেবের লাশ ফেলে দেয়া দরকার ছেল–” ফরাসত আলি ঢোক গিলে বললেন, “আপনি জজ সাহেবকে খুন করার কথা বলছেন?” লোকটা মনে হল একটু অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, “এত অবাক হচ্ছেন কেন? খুন খারাপি করেন নাই কুনোদিন?” ফরাসত আলি আর ফারুখ বখত কোনোদিন খুন-খারাপি করেননি শুনে লোকটা খুব অবাক এবং হতাশ হল। মেঝেতে পিচিক করে আরেকবার থুতু ফেলে বলল, “যার যেইটা লাইন। ফারুখ বখত সাবধানে এই মানুষটির নামের পাশে বড় বড় করে লিখলেন, ‘বাতিল’! খেলাধুলার শিক্ষক হিসেবে শেষ পর্যন্ত যাকে নেয়া হল সে কমবয়সী একটা মেয়ে। মেয়েটি হালকা পাতলা, চেহারার মাঝে একটা উদাস-উদাস ভাব। কথা বার্তা খুব সুন্দর করে বলে শুনলে মনে হয় কেউ বুঝি টেলিভিশনে খবর পড়ছে। মেয়েটিকে দেখে ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি মনে-মনে তাকে বাতিল বলে ধরে নিয়েছিলেন, তাদের ধারণা ছিল খেলাধুলার শিক্ষক হতে হবে গাট্টাগোট্টা একজন পুরুষ। যখন কথাবার্তা শুরু হল ফারুখ বখত বললেন, “খেলাধুলার ব্যাপার, বুঝতেই পারছেন ছোটাছুটি দৌড়াদৌড়ি করতে হয়, মেয়েদের কমবয়েসী মেয়েটি–যার নাম রুখসানা হক, মিষ্টি করে হেসে বলল, “আপনি ভাবছেন মেয়েরা ছেলেদের মতো দৌড়াদৌড়ি ছোটাছুটি করতে পারে না?” ফারুখ বখত থতমত খেয়ে বললেন, “না, ঠিক তা বলছি না।” মেয়েটি আবার মিষ্টি করে হেসে বলল, “আপনারা এক সেকেন্ড টেবিল থেকে সরে বসবেন?” ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি ঠিক কী হচ্ছে বুঝতে না পারলেও টেবিল থেকে সরে দাঁড়ালেন। রুখসানা শাড়িটা কোমরে পেঁচিয়ে দুইপা পিছিয়ে গেল। ডানহাতটা উপরে তুলে বামহাতটা সে নিজের সামনে ধরে দাঁড়াল। তারপর কিছু বোঝার আগেই হঠাৎ সে গুলির মতো ছুটে আসে, ডানহাত দিয়ে টেবিলের মাঝখানে আঘাত করল আর সাথে সাথে টেবিলটা দুভাগ হয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। রুখসানা হাত ঝেড়ে শাড়িটা আবার ঠিক করে পরে ফারুখ বখতের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হেসে বলল, “সস্তা কাঠ! পাটশলার মতো ভেঙে যায়।” ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি মিনিটখানেক কথা বলতে পারলেন না। তারপর বললেন, “তুমি—মানে–আপনি, মানে–হাত দিয়ে–মানে তুমি—” রুখসানা বলল, “থার্ড ডিগ্রি ব্ল্যাক বেল্ট। বড় কথা হচ্ছে ব্যালেন্স, শরীরের উপর ব্যালেন্স রাখতে হয়। জোরটা দিতে হয় ঠিক যেখানে প্রয়োজন। ছেলে মেয়ে বলে কোন কথা নেই। ছেলেরা যেটা পারে মেয়েরাও সেটা পারে।” “অবশ্যি অবশ্যি।” “তাই খেলাধুলার শিক্ষক হতে হলে ছেলে হতে হবে সেরকম কোন কথা নেই।” রুখসানা তার ব্যাগ হাতে নিয়ে বলল, “ঠিক আছে আসি তাহলে।” ফারুখ বখত বললেন, “কো-কো-কোথায় যাচ্ছেন?” “চলে যাচ্ছি। আপনাদের কথাবার্তা শুনে বুঝে গেছি আপনারা মেয়েদের ক্ষমতায় বিশ্বাস করেন না। শুধু সময় নষ্ট করে কি হবে?” রুখসানা চলে যেতে যেতে দরজার কাছে থেমে বলল, “টেবিলটার জন্যে দুঃখিত। আপনারা তো লটারিতে অনেক টাকা পেয়েছেন, আরেকটা কিনে নেবেন?” ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি কিছু বলার আগে দরজা খুলে রুখসানা বের হয়ে গেল। সেকেন্ড দশেক পরে হঠাৎ ফারুখ বখত আর ফরাসত আলি ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। তারপর দুজনে দুদ্দাড় করে ছুটতে ছুটতে রুখসানাকে রাস্তায় গিয়ে ধরলেন। একেবারে হাতজোড় করে বললেন, “প্লিজ রুখসানা প্লিজ, তুমি যেয়ো না!” ফরাসত আলি বললেন, “তোমার মতো একজন দরকার আমাদের স্কুলে।” ফারুখ বখত বললেন, “আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার ভারটা তুমি নাও!” “যেভাবে তুমি করতে চাও, যা তুমি করতে চাও!” “তুমি বলো তোমার কী লাগবে। এই মুহূর্তে তোমাকে চেক লিখে দেব।” রুখসানা মিষ্টি করে হেসে বলল, “আপনারা এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন, আপনারা যদি চান অবশ্যি আমি খেলাধুলার শিক্ষক হব! ছোট ছেলেমেয়েদের আমার খুব ভালো লাগে।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...