বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গাব্বু (১৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (১৮৪ পয়েন্ট)



X রিফাত হাসান ভোরবেলাতেই খবর পেয়ে গেলেন ডাবল ব্রাঞ্চিং ডাটাতে পেয়ার প্রোডাকশান নেই এরকম কেসগুলো আলাদা করে তাদের ডাটা এনালাইসিসের সময় দশ ভাগের এক ভাগ করে ফেলা গেছে। যার অর্থ এখন তারা দ্রুত তাদের কাজ শেষ করতে পারবেন, ইউরোপের একটা গ্রুপের সাথে তাদের প্রতিযোগিতা, সেই গ্রুপকে তারা এখন হেসে খেলে হারিয়ে দেবেন। রিফাত হাসানের মনটা ভালো হয়ে গেল এবং ঠিক করলেন ফিরে যাওয়ার আগে গাব্বুর সাথে একবার দেখা করে যাবেন। আধপাগল এই বাচ্চা সায়েন্টিস্টের সাথে তার যদি দেখা না হত তা হলে ডাটা এনালাইসিসের এই চমকপ্রদ পদ্ধতিটার কথা তার মাথায় আসত না। তবে সমস্যা একটাই, গাব্বুর এই বিচিত্র নামটা ছাড়া তার আর কিছুই তিনি জানেন না। রিফাত হাসান তখন তখনই ইউসুফকে ফোন করলেন এবং ইউসুফ তাকে বলল সে গাব্বুকে খুঁজে বের করে ফেলবে। নাস্তা করে রিফাত হাসান বিকালে একটা ঢাউস গাড়ি নিয়ে বের হলেন, সামনে পুলিশের গাড়ি, তারা বাঁশি বাজাতে বাজাতে যাচ্ছে। গাব্বুর সাথে যেখানে দেখা হয়েছে সেই মাঠের আশেপাশে দোকানপাট বাড়িঘরে পুলিশ কথা বলল, নানা জায়গায় ফোন করল এবং তারা গাব্বুর স্কুলের নাম বের করে ফেলল। স্কুলের নাম বের করার পর কাজ খুব সহজ, রিফাত হাসান আবিষ্কার করলেন কয়েক মিনিটের মাঝে তারা স্কুলে চলে এসেছেন। রিফাত হাসান গাড়ি থেকে নামতেই বেঁটে এবং কালো মতোন একজন মানুষ তার দিকে ছুটে এল। মানুষটির গলা নেই, ধড়ের ওপর মাথাটা সরাসরি বসানো। রিফাত হাসান বুঝতে পারলেন তাকে দেখে এই মানুষটির ব্রেন শর্ট সার্কিট হয়ে গেছে এবং চেষ্টা করেও কথা বলতে পারছে না। মানুষটি তোতলাতে তোতলাতে বলল, “আ-আ-আ আমি এই স্কুলের প্রিন্সিপাল। স্যার, আ-আ-আপনি-আ-আ-আ আপনি?” রিফাত হাসান প্রিন্সিপাল স্যারকে সাহায্য করলেন, বললেন, “জি। আমি। আমি রিফাত হাসান।” “জানি স্যার। আ-আ-আপনাকে পরিচয় দিতে হবে না। স্যার। আ-আ আপনাকে সবাই চিনে স্যার। আ-আ-আপনি স্যার আমাদের স্কুলে! কী সৌভাগ্য স্যার। স্যার, আমার কী সৌভাগ্য! আমার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কী সৌভাগ্য স্যার!” “সৌভাগ্যের কোনো ব্যাপার নেই। আর সত্যি কথা বলতে কী, সৌভাগ্য যদি কারও হয় তা হলে সেটা আমার।” প্রিন্সিপাল বিনয়ে একেবারে গলে গিয়ে হাত কচলাতে কচলাতে বললেন, “স্যার স্যার আসেন স্যার। আসেন স্যার আমার অফিসে।” রিফাত হাসান প্রিন্সিপালের পেছনে পেছনে তার অফিসে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, “আমি আসলে আপনার স্কুলের একজন ছাত্রকে খুঁজতে এসেছি।” প্রিন্সিপাল স্যার অবাক হয়ে গেলেন, “আমার স্কুলের ছাত্র?” “জি। তার ভালো নাম জানি না। কোন ক্লাসে পড়ে সেটাও জানি না। তার নাম হচ্ছে গাব্বু। তার সাইজ এরকম–” রিফাত হাসান হাত দিয়ে গাব্বুর সাইজ দেখালেন। প্রিন্সিপাল স্যারের মুখ শক্ত হয়ে গেল, “কী করেছে গাবু? কোনো সমস্যা স্যার?” রিফাত হাসান জোরে জোরে মাথা নাড়লেন, বললেন, “না, না! সমস্যা হবে কেন? হি ইজ ইনক্রেডিবল। আমি তাকে কংগ্রাচুলেট করতে এসেছি। গতকাল তার সাথে আমার দেখা হয়েছে, সে তখন আমাকে এমন একটা আইডিয়া দিয়েছে যেটা ব্যবহার করে আমি আমার এক্সপেরিমেন্টের ডাটা এনালাইসিসে রীতিমতো বিপ্লব করে ফেলেছি। আমি আজ চলে যাব, তাই ভাবলাম যাওয়ার আগে তার সাথে দেখা করে যাই। তাকে কি একটু খুঁজে দেওয়া যাবে?” প্রিন্সিপালের অফিসে জড়সড়ো হয়ে দাঁড়ানো ছেলেমেয়েদের ব্যাপারটা বুঝতে একটু সময় লাগল। যখন পুলিশের গাড়ি করে লোকজন গাব্বুকে খোঁজ করতে এসেছে তখন তারা ধরেই নিয়েছিল গাব্বু আরও বড় ঝামেলায় পড়েছে। যখন দেখল গাব্বু ঝামেলায় পড়েনি, বরং উল্টো গাব্বু খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলেছে, তখন তাদের গলায় জোর ফিরে এল। তারা গাব্বুকে ধরে চিৎকার করে বলল, “এই যে! এই যে গাব্বু!” রিফাত হাসান এবার গাব্বুকে দেখতে পেলেন, সাথে সাথে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। দুই হাত ওপরে তুলে বললেন, “হ্যালো ডক্টর গাব্বু! আওয়ার ফেমাস সায়েন্টিস্ট প্রফেসর গাবু! হাউ আর ইউ?” গাব্বু বলল, “আপনি কি রাত দশটায় টেলিপ্যাথি করেছিলেন?” রিফাত হাসান মুখে গাম্ভীর্য টেনে বললেন, “অবশ্যই করেছিলাম।” “আমি আপনাকে যেভাবে শিখিয়েছিলাম সেইভাবে?” “ইয়েস স্যার, সেইভাবে।” “কোনো ম্যাসেজ কি পেয়েছিলেন?” “উঁহু। তুমি?” গাব্বু হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল, বলল, “আমিও পাই নাই। আপনি কি ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলেন?” “পাঠিয়েছিলাম।” গাব্বু গম্ভীর মুখে বলল, “আবার চেষ্টা করতে হবে।” “অবশ্যই আবার চেষ্টা করতে হবে।” রিফাত হাসান তখন গলার স্বর পাল্টে বললেন, “প্রফেসর গাব্বু, আজকে আমি অন্য কাজে এসেছি। আজকে আমি তোমাকে বলতে এসেছি যে তোমার আইডিয়াটা অলরেডি কাজে লাগানো হয়েছে। চমৎকারভাবে কাজ করছে এবং ওয়ান্ডারফুল ফিজিক্স বের হচ্ছে।” গাব্বু জানতে চাইল, “কোন আইডিয়াটা? টিকটিকির ডাবল লেজ?” “না না। সেটা এখনো শুরু করি নাই। অন্য আইডিয়াটা, যেটা আছে সেটা খুঁজে যেটা নাই সেটা খোজা।” “ও।” গাব্বু মাথা নেড়ে বলল, “টিকটিকির ডাবল লেজ থিওরিটাও কিন্তু ভালো। মনে হয় কাজ করবে।” প্রিন্সিপালের ঘরে যারা দাঁড়িয়েছিল তারা এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে গাবুর সাথে প্রফেসর রিফাত হাসানের কথা শুনছিল। গাব্বু এমনভাবে প্রফেসর রিফাত হাসানের সাথে কথা বলছে যেন দুজন সমবয়সি বন্ধু। কী সহজ একটা ভঙ্গি, কী আশ্চর্য! রিফাত হাসান এবারে ঘুরে অফিস ঘরের অন্যদের দিকে তাকালেন। একটু হাসার ভঙ্গি করে বললেন, “আপনারা নিশ্চয়ই স্কুলের টিচার?” রওশন ম্যাডাম বললেন, “জি। আমি গাব্বুর টিচার।” তারপর গালুর আব্বু-আম্মুকে দেখিয়ে বললেন, “আর এঁরা হচ্ছেন স্যার বাবা-মা।” রিফাত হাসান চোখ বড় বড় করে বললেন, “ওয়ান্ডারফুল! শুধু যে গাব্বুর সাথে দেখা হল তা না। গাব্বুর বাবা-মায়ের সাথেও দেখা হয়ে গেল! চমৎকার!” আবু-আম্মু কী বলবেন বুঝতে না পেরে হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। আম্মু বললেন, “কাল গাব্বু আপনার কথা বলছিল।” “আমিও সবাইকে গাব্বুর কথা বলেছি।” রিফাত হাসান আম্মুর দিকে তাকিয়ে গলা নামিয়ে বললেন, “ইয়াং সায়েন্টিস্ট একটা ওয়ান্ডারফুল জিনিস, কিন্তু বাবা-মায়ের বারোটা বেজে যায়!” আব্বুও গলা নামিয়ে বললেন, “আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন।” “আমার বাবা-মা প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। একটু সহ্য করেন।” আম্মু হাসার চেষ্টা করলেন, “আমরা চেষ্টা করি। কিন্তু শুধু আমরা করলে তো হয় না–অন্যেরা আছে।” রিফাত হাসান অসম্ভব বুদ্ধিমান মানুষ এবং হঠাৎ করে প্রিন্সিপালের রুমে, গাব্বু গাব্বুর বাবা-মা, গাব্বুর ক্লাস টিচার, ছাত্রছাত্রী কেন হাজির হয়েছে তার কারণটা অনুমান করে ফেললেন। তিনি গাব্বুর দিকে তাকালেন, জিজ্ঞেস করলেন, “গাব্বু, তোমার খবর কী?” গাব্বু হতাশভাবে মাথা নাড়ল, “খবর ভালো না।” “ভালো না? সে কী! কেন?” “আমাকে টিসি দিয়ে–” প্রিন্সিপাল স্যার গাব্বুকে কথাটা শেষ করতে দিলেন না, মাঝখান থেকে গলা উঁচিয়ে বললেন, “স্যার বসেন। একটু চা খান।” “না, না, চা খেতে হবে না। আমি গাব্বুর কথাটা শুনি। তার কী সমস্যা?” প্রিন্সিপাল স্যার গলা উঁচিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, “কোনো সমস্যা নাই স্যার। কোনো সমস্যা নাই। আমি থাকতে গাব্বুর এই স্কুলে কোনো সমস্যা হবে আপনি বিশ্বাস করেন?” “অবশ্যই করি না।” রিফাত হাসান ব্যাপারটা নিয়ে আর অগ্রসর হলেন না। কোনো সমস্যা হয়ে থাকলেও সেটা যে মিটে যাবে কিংবা মিটে গেছে সেটা তিনি অনুমান করে ফেললেন। বললেন, “প্রিন্সিপাল সাহেব, গাব্বুর মতো এরকম ক্রিয়েটিভ ছেলে আপনার স্কুল থেকে বের হয়েছে সেটা খুব চমৎকার একটা ব্যাপার। আমরা কী ঠিক করেছি জানেন?” “জি স্যার।” “আমি আমার ইউনিভার্সিটির সাথে কথা বলেছি। আমরা ঠিক করেছি, আপনার স্কুলে চমৎকার একটা ল্যাব করে দিব। একটা ওয়ার্কশপসহ। সবকিছু থাকবে। সম্ভব হলে ক্রিয়েটিভ ছেলেমেয়েদের জন্যে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করব।” “থ্যাংক ইউ স্যার। থ্যাংক ইউ স্যার।” প্রিন্সিপাল স্যার হাসি হাসি মুখ করে বললেন, “আমরাও চেষ্টা করি স্যার। আমরাও উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করি। এই যে দেখেন আজকেই আমরা আলোচনা করছিলাম-” প্রিন্সিপাল স্যার টেবিল থেকে গাব্বুর দুষ্কর্মের তালিকা লেখা কাগজটা তুলে রিফাত হাসানকে দেখিয়ে বললেন, “এই যে দেখেন, আজকেই আমরা আলোচনা করছিলাম। গালু একদিনে ছয়টা বিজ্ঞানের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছে। অসাধারণ! আমরা কী ঠিক করেছি জানেন স্যার?” “কী?” “আমরা স্যার স্কুল থেকে গাব্রুকে একটা মেডেল দিব। ইয়াং সায়েন্টিস্ট মেডেল।” রিফাত হাসান বললেন, “ভেরি গুড। চমৎকার।” গাব্বু জিজ্ঞেস করল, “তা হলে আমাকে আর টিসি দিবেন না স্যার! বলছিলেন যে টিসি দেবেন?” রিফাত হাসান জানতে চাইলেন, “টিসি জিনিসটা কী?” খুব একটা বড় রসিকতা হচ্ছে এরকম ভঙ্গি করে প্রিন্সিপাল হা হা করে হাসলেন, বললেন, “টিসি মানে অনেক কিছু হতে পারে স্যার। কারও জন্যে টিসি হচ্ছে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট। মানে স্কুল থেকে বিদায়, আর কারও জন্যে টিসি মানে টেন্ডার কেয়ার। মানে আলাদা করে যত্ন। আমাদের গাব্বুর জন্যে টিসি মানে হচ্ছে টেন্ডার কেয়ার। সবসময় টেন্ডার কেয়ার।” এইবার লিটন একটু এগিয়ে এল, বলল, “কিন্তু স্যার একটু আগে যে বলছিলেন–” প্রিন্সিপাল স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন, “আহ্! চুপ করো দেখি। দেখছ না আমরা কথা বলছি? বড়দের মাঝে কথা বলবে না।” মিলি বলল, “তা হলে গাব্বু আমাদের সাথে থাকবে?” “অবশ্যই থাকবে। আমরা কি গাব্বুকে অন্য কোথাও যেতে দেব? দেব না।” রিফাত হাসান এবার গাব্বুর বন্ধুদের দিকে তাকালেন, জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা সবাই গাব্বুর সাথে পড়?” সবাই মাথা নাড়ল। রিফাত হাসান বললেন, “আমার তো শুধু গাবুর সাথে পরিচয় হয়েছে, তোমাদের সাথে পরিচয় হলে হয়তো দেখতাম তোমরাও গাবুর মতো সায়েন্টিস্ট।” লিটন মাথা নাড়ল, বলল, “উঁহু। আমাদের ক্লাসে শুধু গাব্বু হচ্ছে সায়েন্টিস্ট।” “অন্যরা? অন্যরাও নিশ্চয়ই কিছু না কিছু?” লিটন মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ। এই যে রবিন, সে ফাটাফাটি ক্রিকেট খেলে। মিলি চোখ বন্ধ করে পরীক্ষা দিলেও ফার্স্ট হয়। ফারিয়া খুব সুন্দর গান গাইতে পারে। রত্না কবিতা লিখতে পারে।” “তুমি?” “আমি কিছু পারি না।” রত্না বলল, “পারে। একসাথে দশটা হাম বার্গার খেতে পারে।” লিটন রত্নার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকাল, আশেপাশে স্যার-ম্যাডামরা আছেন তাই আর কিছু বলল না। রিফাত হাসান বললেন, “সায়েন্টিস্টদের জীবন খুব কঠিন। তারা একটু অন্যরকম হয় তো, তাই তাদের বন্ধু বেশি হয় না। আমাদের গাব্বু তো খুব লাকি তার এতগুলো বন্ধু!” ফারিয়া বলল, “জি স্যার, আমরা সবসময় গাব্বুকে সাহায্য করি। সে হাইড্রোমিটার না কী একটা মেশিন বানাবে–” গাব্বু ঠিক করে দিল, “হাইব্রো না হাইগ্রোমিটার।” “ওই একই কথা। হাইগ্রোমিটার বানানোর জন্যে লম্বা চুল দরকার। তাই আমাকে বলেছে, আমি সাথে সাথে তাকে এতগুলো চুল দিয়ে দিয়েছি। এই যে দেখেন–” ফারিয়া তার মাথার চুল সরিয়ে দেখাল সেখানে এক খাবলা চুল নেই। রিফাত হাসান চমৎকৃত হলেন, বললেন, “অসাধারণ! বিজ্ঞানের জন্যে এরকম স্যাক্রিফাইস খুব বেশি নাই।” মিলি বলল, “গাব্বু নার্ভ নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছে, কাউকে চিমটি দেওয়া দরকার, তখন আমরা সবাই আমাদের হাতে চিমটি দিতে দিয়েছি।” মিলি দেখাল, “এই যে এইখানে চিমটি দিয়েছিল। লাল হয়েছিল।” রিফাত হাসান কী বলবেন বুঝতে পারলেন না, তাই জোরে জোরে মাথা নাড়লেন। রত্না বলল, “কিন্তু স্যার গাব্বু কারও কথা শোনে না। তাকে একটু বলে দেবেন সে যেন আমার কথা একটু শোনে।” “কেন? কী হয়েছে?” “স্যার আমার মাকড়সা খুব ভয় করে–” “তাই না কি? আমারও মাকড়সা খুব ভয় করে। এর একটা নামও আছে, আরকোনোফোবিয়া।” “জি স্যার। কিন্তু সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করার জন্যে গাব্বু এই এত বড় একটা মাকড়সা ধরে আমাকে ভয় দেখিয়েছে।” কথাটা বলতে গিয়েই রত্না একটু শিউরে উঠল। “তাই না কি?” রিফাত হাসান গাব্বুর দিকে তাকালেন, “সত্যি?” “কিন্তু এক্সপেরিমেন্টটা কাজ করেছে।” “কাজ করলেও বন্ধুদের ভয় দেখিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যাবে না। বন্ধু সায়েন্স থেকেও ইম্পরট্যান্ট। যার বন্ধু নেই তার কিছু নেই। ঠিক আছে?” গাব্বু মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিক আছে।” প্রিন্সিপাল স্যার পাশে দাঁড়িয়ে উশখুশ করছিলেন। এত বড় এত বিখ্যাত একজন মানুষ। যিনি প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সাথে চা-নাস্তা খান তিনি কি না এইরকম ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে মাকড়সা নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করছেন, নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয় না। একটু কাশির মতো শব্দ করে বলেই ফেললেন, “স্যার–” “জি।” “আপনি আমাদের স্কুলে এসেছেন এত বড় একটা ব্যাপার, আমাদের সব টিচারদের সাথে যদি একটু চা খেতেন—” রিফাত হাসান মাথা নাড়লেন, বললেন, “আসলে আমার একটু তাড়া আছে। দুপুরে প্লেন ধরতে হবে তো–” রওশন ম্যাডাম বললেন, “তা হলে স্যার, আপনি একটু বারান্দায় দাঁড়ান, আমরা স্কুলের সব ছেলেমেয়েকে ডাকি। তারা নিজের চোখে আপনাকে একটু দেখুক।” “লেখাপড়ার ক্ষতি করে আমাকে দেখবে?” “জি স্যার। একটু লেখাপড়ার ক্ষতি হলেও হাজার গুণ বেশি লাভ হবে।” রিফাত হাসান হাসলেন, বললেন, “ঠিক আছে!” . মিনিট দশেক পর স্কুলের ছেলেমেয়েদের ভিড় ঠেলে রিফাত হাসান যখন তার গাড়িতে উঠছেন তখন গাবুকে ডাকলেন। বললেন, “আমি যাচ্ছি। যোগাযোগ রেখো।” “ঠিক আছে।” “শুধু টেলিপ্যাথির উপর ভরসা না করে ই-মেইল করা যেতে পারে।” “ঠিক আছে।” গাব্বু কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল। রিফাত হাসান জিজ্ঞেস করলেন, গাব্বু, “তুমি কিছু বলবে?” “জি।” “বল।” “আমার আপুর খুব ইচ্ছা সে আপনার সাথে একটা ছবি তুলবে আর একটা অটোগ্রাফ নেবে!” “কোথায় তোমার আপু? ডাকো।” ইউসুফ চাপা গলায় বলল, “স্যার দেরি হয়ে যাবে।” রিফাত হাসান বললেন, “হোক!” টুনির সাথে ছবি তোলার পর আরও অনেকের সাথে ছবি তুলতে হল, আরও অনেককে অটোগ্রাফ দিতে হল। অন্য কেউ হলে ফ্লাইট মিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, গাব্বু জানে রিফাত হাসানের সেই ভয় নেই। দরকার হলে এয়াপোর্টে তার জন্যে প্লেন দাঁড়িয়ে থাকবে। . পুলিশের গাড়ি সাইরেন বাজাতে বাজাতে রিফাত হাসানের গাড়িটাকে নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর টুনি গাব্বুর কাছে ছুটে এল, তারপর সবার সামনে তাকে চেপে ধরে তার দুই গালে ধ্যাবড়া করে চুমু খেল। গাব্বু অসম্ভব বিরক্ত হয়ে বলল, “আপু, ভালো হচ্ছে না কিন্তু। তুমি এরকম করলে আমি কখনো তোমাকে নিয়ে ছবি তোলার কথা বলতাম না। তুমি জান মানুষের মুখের লালায় কত ব্যাক্টেরিয়া থাকে?” গাব্বুর কথা শুনে টুনি গাব্বুকে আরও জোরে চেপে ধরে আরও জোরে তার গালে ধ্যাবড়া করে চুমু খেল। কী একটা লজ্জার ব্যাপার। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...