বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গাব্বু (১৩)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (৭৮৯ পয়েন্ট)



X স্কুল থেকে টেলিফোন পেয়ে আব্বু আর আম্মু দুজনেই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন, তাদের তিনজন ছেলেমেয়ে এই স্কুলে পড়ে, তাই প্রথমেই তাদের মনে হয়েছে যে তাদের কারও কিছু একটা হয়েছে। স্কুল থেকে বলা হল তার ছেলেমেয়ের কারও কিছু হয়নি, তাদের ডাকা হয়েছে সম্পূর্ণ অন্য কোনো কারণে। কারণটা কী টেলিফোনে তাদের বলা হয়নি, কিন্তু আব্বু বা আম্মু কারোই কারণটা অনুমান করতে কোনো সমস্যা হয়নি। স্কুলে এসে প্রিন্সিপালের অফিসে ঢুকে দেখলেন তাদের অনুমান সত্যি। প্রিন্সিপাল তাদের দুইজনকে দেখে মুখটা কালো করে ফেললেন, তারপর হতাশভঙ্গিতে মাথা নাড়তে লাগলেন। প্রিন্সিপাল সাইজে ছোট, ধড়ের ওপর মাথাটা সরাসরি বসানো এই বর্ণনাটা তাদের ছেলেমেয়ের কাছ থেকে অনেকবার শুনেছেন, আজকে নিজের চোখে দেখলেন। আবু বললেন, “স্কুল থেকে আমাদের দুইজনকে ডেকে পাঠিয়েছেন?” “হ্যাঁ। আপনারা গাব্বুর বাবা-মা?” “জি।” “বসেন।” আব্বু আর আম্মু বসলেন। আব্বু কেশে গলাটা একটু পরিষ্কার করে বললেন, “আপনি আমাদের কেন ডেকে পাঠিয়েছেন আমরা বিষয়টা একটু অনুমান করতে পারছি। বিষয়টা নিশ্চয়ই গাকে নিয়ে তার কোনো একটা এক্সপেরিমেন্ট” প্রিন্সিপাল আব্বুকে কথার মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “না, না। আপনাদের সবকিছু জানা দরকার। নিজের চোখে দেখা দরকার, নিজের কানে শোনা দরকার। বাবা-মায়েরা সবসময় ভাবে তাদের ছেলেমেয়েরা হচ্ছে ফিরেশতা, তারা কোনো ভুল করতে পারে না। তাদের ধারণা, আমরা শিক্ষকেরা তাদের ছেলেমেয়েদের ওপর অবিচার করি।” আব্বু বললেন, “না, না। আমরা কখনোই সেটা ভাবি না।” প্রিন্সিপাল গলা উঁচিয়ে বললেন, “ভাবেন। নিশ্চয়ই ভাবেন। সেই জন্যে আমি আপনাদের ডেকে পাঠিয়েছি। নিজের চোখে দেখেন, নিজের কানে শোনেন আপনার ছেলে কী করেছে।” আম্মু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী করেছে গাব্বু?” প্রিন্সিপাল একটা কাগজ তুলে বললেন, “এই যে এখানে লেখা আছে। শুধু আজকের ঘটনা, এক দুই তিন চার পাঁচ ছয়–ছয়টা ঘটনা। বলতে পারেন ছয়টা ক্রিমিনাল অফেন্স।” আম্মু চোখ কপালে তুলে বললেন, “ক্রিমিনাল অফেন্স?” “অবশ্যই। আপনার ছেলে যদি ছোট না হয়ে বড় হত তা হলে এতক্ষণে পুলিশ ধরে নিয়ে যেত।” আম্মু খাবি খেলেন, “আমাদের গাব্বুকে পুলিশে ধরে নিয়ে যেত?” “আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। নিজের চোখে দেখেন, নিজের কানে শোনেন।” প্রিন্সিপাল স্যার তখন গলা উঁচিয়ে একজন মানুষকে ডেকে বললেন রওশন ম্যাডাম, তার ক্লাসের ছেলেমেয়ে আর গাকে ডেকে আনতে। কিছুক্ষণের মাঝেই প্রথমে গাব্বু, তার ক্লাসের বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়ে এবং সবার শেষে রওশন ম্যাডাম প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকলেন। রওশন ম্যাডাম একটা চেয়ারে বসলেন। গাব্বু এবং তার ক্লাসের সব ছেলেমেয়ে এক কোনায় জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। প্রিন্সিপাল স্যার গলা উঁচিয়ে বললেন, “গালু, তুমি মাঝখানে দাঁড়াও।” গাব্বু মাঝখানে দাঁড়াল, সে তার বড় চশমার ভেতর দিয়ে ভয়ে ভয়ে একবার আব্বু-আম্মুর দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে ফেলল। আব্বু বললেন, “এই ছেলেমেয়েদের এখানে ডেকে আনার কোনো দরকার ছিল না। আপনার যা বলার কথা সোজাসুজি আমাদেরকে বলতে পারতেন।” প্রিন্সিপাল স্যার বললেন, “না। আমি চাই সবাই শুনুক। জানুক। আমাদের কী সমস্যা হচ্ছে সেটা আপনারা সবাই জানেন।” “আমি খুবই দুঃখিত যে আমার ছেলের কারণে আপনার স্কুলে সমস্যা হচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি আমি ব্যাপারটা দেখব।” আম্মুও মাথা নাড়লেন, বললেন, “হ্যাঁ। আমরা ব্যাপারটা দেখব।” “সেটা পরের ব্যাপার। আগে দেখা যাক তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে।” প্রিন্সিপাল স্যার কাগজটা তার নাকের কাছে নিয়ে পড়লেন, “এক-দুই তিনজনকে সে ব্যথা দিয়েছে।” আম্মু চমকে উঠলেন, “ব্যথা দিয়েছে?” আম্মু গাব্বুকে খুব ভালোভাবে জানেন, তাকে নিয়ে হাজার রকম যন্ত্রণা থাকতে পারে, কিন্তু সে কাউকে ব্যথা দিতে পারে সেটা তিনি কোনোভাবে বিশ্বাস করতে পারেন না। বললেন, “গাব্বু কাউকে ব্যথা দিতে পারে সেটা আমার বিশ্বাস হয় না।” প্রিন্সিপাল স্যার বললেন, “আমার কথা বিশ্বাস না হলে আপনি নিজেই আপনার ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন।” আম্মু জিজ্ঞেস করলেন, “গাব্বু, তুই কাউকে ব্যথা দিয়েছিস?” গাব্বু দুর্বল গলায় বলল, “আম্মু, ব্যথা দিয়েছি একটা এক্সপেরিমেন্ট করার জন্যে?” “কী এক্সপেরিমেন্ট?” গাব্বু এক্সপেরিমেন্টটা ব্যাখ্যা করল, কেন কীভাবে চিমটি দিয়েছে সেটা বোঝালো। সবকিছু শুনে আব্বু বলল, “তাই বলে তুই একজনকে ব্যথা দিবি?” প্রিন্সিপাল স্যার মনে করিয়ে দিলেন, “একজনকে নয়। তিনজনকে। দুইজনকে চিমটি, একজনকে রুলার দিয়ে গুঁতো।” গাব্বু নীরবে দাঁড়িয়ে রইল। বোঝা গেল অভিযোগ সত্যি। প্রিন্সিপাল স্যার কাগজ দেখে বললেন, “দ্বিতীয় অভিযোগ অনেক গুরুতর। তুমি একটা মেয়ের মাথার চুল কেটে নিয়েছ?” গাব্বু কোনো কথা বলল না। প্রিন্সিপাল স্যার ধমক দিয়ে বললেন, “কথা বল।” গাব্বু তখন কথা বলল, “হাইগ্রোমিটার বানানোর জন্যে আমার লম্বা চুল দরকার। কেউ দিতে রাজি হয় না, তখন ফারিয়াকে অনেক কষ্ট করে রাজি করিয়েছি।” “আর তার মাথার চুল কেটে নিয়েছ?” “সব না। অল্প কয়েকটা।” “মোটেও অল্প কয়েকটা না, এক খাবলা চুল কেটে নিয়েছ। আমি নিজের চোখে দেখেছি।” গাব্বু একটা নিশ্বাস ফেলল, “যখন কাটছিলাম তখন নড়ে উঠল, তাই–” “কার চুল কেটেছ? নাম কী?” “ফারিয়া।” “ফারিয়া কোথায়? সামনে এসো।” ফারিয়া সামনে এসে দাঁড়াল। প্রিন্সিপাল স্যার হুংকার দিলেন, “তোমার মাথার কাটা চুল দেখাও।” ফারিয়া ভয়ে ভয়ে তার মাথার চুল সরিয়ে দেখাল এক জায়গায় এক খাবলা চুল নেই। গাব্বু বলল, “ফারিয়া তুই চাইলে আমি তোর চুলগুলো তোকে দিয়ে দিতে পারি।” ফারিয়া বলল, “আমি কাটা চুল দিয়ে এখন কী করব?” প্রিন্সিপাল কাগজটা আবার তুললেন, “এর পরের অভিযোগটা আরও গুরুতর। গাব্বু ক্লাসের এক ছাত্রীকে এমন ভয় দেখিয়েছে যে মেয়েটা প্রায় মেন্টাল কেস হয়ে গেছে।” আব্বু-আম্মু কথাটা শুনে এত অবাক হলেন যে বলার মতো না। তারা একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকালেন। প্রিন্সিপাল স্যার ডাকলেন, “যে মেয়েটিকে ভয় দেখিয়েছে সে কোথায়? সামনে এসো।” রত্না দুই পা এগিয়ে গেল। প্রিন্সিপাল স্যার বললেন, “এবারে বল কী হয়েছে। কোনোকিছু বাদ দেবে না।” রত্না কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে রইল। প্রিন্সিপাল স্যার হুংকার দিলেন, =!!”কী হল? কলাগাছের মতো দাঁড়িয়ে আছ কেন? কথা বল।” রত্না তখন শুরু করল, “ক্লাসের সবাই জানে আমি মাকড়সাকে খুব ভয় পাই। খু-উ-ব বেশি ভয় পাই। গাব্বু সেটা জানে। সকালবেলা এত বড় একটা মাকড়সা হাত দিয়ে ধরে আমার মুখের সামনে ধরেছে।” প্রিন্সিপাল স্যারের চোখগুলো আনন্দে জ্বলজ্বল করতে থাকে। রত্নাকে বললেন, “কী হয়েছে? থামলে কেন? বল। বলতে থাকো।” রত্না বলল, “মাকড়সাটা যখন ধরেছে তখন আমি ভয়ে চিৎকার করছি। আর গাব্বু তখন বলছে তিন দশমিক এক চার এক পাঁচ নয় দুই ছয় পাঁচ চার–” গাব্বুর মুখ হঠাৎ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল, সে হাতে কিল দিয়ে বলল, “পেরেছে! পেরেছে!” প্রিন্সিপাল স্যার ভুরু কুঁচকে তাকালেন, “কী পেরেছে?” “পাইয়ের মান দশমিকের পর নয় ঘর পর্যন্ত বলতে পেরেছে। আগে পারত না।” “আমি কিছুই বুঝতে পারছি না তুমি কী বলছ?” গাব্বু বিষয়টা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করল, “রত্না অনেক বার বলেছে সে কিছু মনে রাখতে পারে না। চেষ্টা করলেও ভুলে যায়। আমি তখন তাকে বলেছি আমি তাকে মনে রাখা শিখিয়ে দেব, পাইয়ের মান নয় ঘর পর্যন্ত সে মনে রাখতে পারবে। এখন দেখেছেন স্যার সে নয় ঘর পর্যন্ত গড়গড় করে বলে গেল।” প্রিন্সিপাল স্যার মেঘস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, “তার সাথে মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখানোর কী সম্পর্ক?” গাব্বু অনেকটা লেকচার দেওয়ার ভঙ্গি করে বলল, “মানুষ যখন ভয় পায় তখন ব্রেনের যে অংশটা কাজ করে তার নাম হচ্ছে এমিগডালা। ভয় পাওয়ার সময় যে ঘটনা ঘটে মানুষের ব্রেন সেটা খুব ভালো করে মনে রাখতে পারে। সেই জন্যে আমি রত্নাকে যখন পাইয়ের মানগুলো বলছিলাম তখন একইসাথে মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখাচ্ছিলাম। এমিগডালা কাজ করেছে স্যার, রত্নার সব মনে আছে। সাকসেসফুল এক্সপেরিমেন্ট।” প্রিন্সিপাল স্যার চোখ লাল করে বললেন, “তুমি বলতে চাও যে এত বড় একটা অন্যায় করেও তোমার ভেতরে কোনো অপরাধবোধ নেই?” গাব্বু ইতস্তত করে বলল, “স্যার, এইটা একটা সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট ছিল স্যার। অন্যায় ছিল না স্যার।” “অন্যায় ছিল না? তা হলে এই লিস্টের শেষ ঘটনাটা কী ছিল? যখন তুমি তোমার ক্লাসরুমের পর্দায় আগুন লাগিয়ে দিলে? সারা স্কুলে হইচই ছোটাছুটি কেলেঙ্কারি? আমি নিজে জানালা থেকে এই ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা উদ্ধার করেছি।” কথা শেষ করে প্রিন্সিপাল স্যার ড্রয়ার থেকে বড় একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস বের করে দেখালেন। প্রিন্সিপাল স্যার হুংকার দিলেন, “কী ছিল সেই ঘটনা?” গাব্বু বলল, “এইটাও সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট। আর একটু অ্যাকসিডেন্ট।” “কোনটা এক্সপেরিমেন্ট? কোনটা অ্যাকসিডেন্ট?” গাব্বু তখন তার নিজের মতো করে বোঝানোর চেষ্টা করল কীভাবে কনভেক্স লেন্সের বিষয়টা দেখানোর জন্যে সে একটা এক্সপেরিমেন্ট দাঁড় করিয়েছিল, আর সেটা ভুলে যাওয়ার কারণে কীভাবে লেন্সের উপর রোদ পড়ে আগুন জ্বলে গিয়েছিল। সে বার বার করে বলল সে মোটেও ইচ্ছে করে করেনি, আগুন জ্বলে যাওয়াটা একটা দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু না। প্রিন্সিপাল স্যার এরকম সময়ে গাব্বুর আব্বু আর আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনারা তো নিজের কানে শুনলেন, নিজের চোখে দেখলেন। এখন আপনারাই বলেন এরকম একজন ছেলেকে কী আমার স্কুলের ছাত্র হিসেবে রাখা সম্ভব? না কী রাখা উচিত?” আব্বু একটা লম্বা নিশ্বাস ফেলে বললেন, “আমি খুবই দুঃখিত। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতে আর কখনো এরকম হবে না।” আম্মুও সায় দিলেন, বললেন, “হ্যাঁ। আমরা কথা দিচ্ছি।” প্রিন্সিপাল স্যার শীতল চোখে কিছুক্ষণ তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর নাক দিয়ে ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, “তার জন্যে খুব দেরি হয়ে গেছে। আমি আপনাদের ডেকেছি আপনাদের ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।” আব্বু অবাক হয়ে বললেন, “নিয়ে যাওয়ার জন্যে!” “হ্যাঁ। নিয়ে যাওয়ার জন্যে। আমি অফিসে বলে রেখেছি তারা আপনার ছেলের জন্যে টিসি টাইপ করছে। টিসিসহ আপনি আপনার ছেলেকে নিয়ে যান।” প্রিন্সিপাল স্যারের ঘরে যারা ছিল সবাই একসাথে চমকে উঠল। রওশন ম্যাডাম ব্যস্ত হয়ে বললেন, “এটা আপনি কী বলছেন স্যার? টিসি দেবেন কেন? একটু বকা দিয়ে ছেড়ে দেন। গাব্বু খুব ব্রাইট। লেখাপড়াতে ভালো। শুধু সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে নিজে বিপদে পড়ে, অন্যদেরও বিপদে ফেলে দেয়। এ ছাড়া তার আর কোনো সমস্যা নেই। ওকে কোনোভাবেই টিসি দিয়ে একেবারে স্কুল থেকে বিদায় করে দেওয়া ঠিক হবে না স্যার।” রওশন ম্যাডাম যখন কথা বলছিলেন তখন সব ছেলেমেয়ে তার কথার সাথে সাথে মাথা নাড়তে লাগল। গাবুর কাজকর্মের কারণে তাদের নানারকম যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় সত্যি, কিন্তু তার জন্যে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে সেটা তারা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। প্রিন্সিপাল স্যার রওশন ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মিসেস রওশন, আপনি একটা খুব বড় জিনিস মিস করে যাচ্ছেন। আপনি তো নিজেই দেখলেন তার বিরুদ্ধে একটা দুইটা না, ছয়টা অভিযোগ। যারা অভিযোগ করেছে তারা সবাই এখানে হাজির, কোনোটাই মিথ্যা অভিযোগ না। সব সত্যি। একেবারে হাতেনাতে প্রমাণিত। অথচ আপনার এই ছাত্র সেগুলোর জন্যে দুঃখিত না। তার ভেতরে কোনো অনুশোচনা নেই। শুধু যে অনুশোচনা নেই তা নয়, পুরো ব্যাপারটা নিয়ে তার ভিতরে এক ধরনের আনন্দ। সে আনন্দে হাসছে। হাততালি দিচ্ছে। আপনি চিন্তা করতে পারেন? আমি যদি নিজের চোখে না দেখতাম তা হলে বিশ্বাসই করতাম না যে আমার স্কুলে এরকম একজন ছাত্র আছে।” রওশন ম্যাডাম আবার চেষ্টা করলেন, বললেন, “স্যার, প্লীজ ব্যাপারটা একটু। অন্যভাবে দেখেন। হি ইজ ভেরি ক্রিয়েটিভ।” রত্না, মিলি আর ফারিয়াও গলা মেলাল, বলল, “মাফ করে দেন স্যার। আমরা আর কখনো নালিশ করব না।” লিটন বলল, “জি স্যার মাফ করে দেন।” রবিন বলল, “গাব্বুর মনটা খুব ভালো স্যার। শুধু একটু পাগলা টাইপের।” প্রিন্সিপাল মাথা নাড়লেন, বললেন, “নো। হি হ্যাঁজ টু গো। তাকে এই স্কুল থেকে বিদায় হতে হবে। এখন আর তাকে রাখা সম্ভব হবে না। এই ছেলেকে আমাদের স্কুলের প্রয়োজন নেই।” রওশন ম্যাডাম বললেন, “প্লীজ স্যার। আরেকটা সুযোগ দেন। ওয়ান লাস্ট টাইম।” প্রিন্সিপাল স্যার গর্জন করে উঠলেন, “ইম্পসিবল! হি ইজ আউট। স্কুল থেকে বিদায়।” ঠিক এরকম সময় একজন পিয়ন ছুটতে ছুটতে এল, চাপা গলায় বলল, “স্যার! পুলিশ!” প্রিন্সিপাল স্যার চমকে উঠলেন, “পুলিশ? পুলিশ কেন?” পিয়ন মাথা নাড়ল, বলল, “জানি না স্যার।” প্রিন্সিপাল স্যার জানালা দিয়ে তাকালেন, দেখলেন সত্যি সত্যি তার অফিসের সামনে একটা পুলিশের গাড়ি থেমেছে। সেখান থেকে বেশ কয়েকজন পুলিশ নামছে। প্রিন্সিপাল স্যার পুলিশ দেখেই নার্ভাস হয়ে গেছেন। যদি নার্ভাস না হতেন তা হলে দেখতে পেতেন পুলিশের গাড়ির পেছনে একটা দামি গাড়ি। সেখান থেকে যারা নামছে তাদের সবাইকে না চিনলেও একজনকে ঠিকই চিনতেন, দেশের সবাই কয়েকদিনে তাকে চিনে গেছে। মানুষটি হচ্ছে বিজ্ঞানী রিফাত হাসান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার সাইন্টিস মামা (১৩)
→ পথের পাঁচালী (১৩)
→ দীপু নাম্বার টু (১৩)
→ ফটিকচাঁদ (১৩)
→ স্কুলের নাম পথচারী (১৩)
→ গাব্বু (১৪)
→ গাব্বু (১২)
→ নিতু আর তার বন্ধুরা (১৩)
→ গাব্বু (১১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...