বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গাব্বু (১২)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (৫৪০ পয়েন্ট)



X সকালবেলা গাব্বু ক্লাসরুমে মিলি আর লিটনকে কনভেক্স লেন্স নিয়ে জ্ঞান দান করছিল এবং বিষয়টা হাতে কলমে দেখানোর জন্যে তার বিশাল লেন্সটা জানালার ওপর রেখে তাদের খুঁজতে গিয়েছিল। বাইরে নানা ধরনের উত্তেজনার কারণে তার আর লেন্সটার কথা মনে নেই। ধীরে ধীরে বেলা হয়েছে এবং সূর্যটা উপরে উঠেছে এবং মনে হয় ঠিক গাব্বুকে বিপদে ফেলার জন্যেই বিশাল কনভেক্স লেন্সের ঠিক ফোকাল পয়েন্টে জানালার পর্দাটা বসানো হয়েছে। রওশন ম্যাডামের ক্লাস যখন মাঝামাঝি পৌঁছেছে ঠিক তখন সূর্যের আলো কনভেক্স লেন্সের কারণে কেন্দ্রীভূত হয়ে জানালার পর্দায় আগুন লাগিয়ে দিল। সস্তা সিনথেটিক কাপড়, কিছু বোঝার আগে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল। ক্লাসের ছেলেমেয়েরা চিৎকার করতে করতে বের হয়ে আসে, গাব্বু সাথে সাথে বুঝে গেল কী হয়েছে, তাই লেন্সটা না নিয়ে সে বের হতে চাইছিল না, কিন্তু তাকেও ঠেলে বের করা হল। মাঠে সব ছেলেমেয়েরা গাল্লুকে ঘিরে দাঁড়াল, চিৎকার করে বলল, “গাব্বু! তুই এখন কী করেছিস? কী করেছিস বল।” এরকম একটা আগুন যে গাব্বু ছাড়া আর কেউ লাগাতে পারে না সেটা নিয়ে কারও মনে এতটুকু সন্দেহ ছিল না। গাব্বু আমতা আমতা করতে করতে বলল, “আমার কনভেক্স লেন্সটা জানালার ওপর রেখেছিলাম। মনে হয়, মনে হয়” সূর্যের আলোকে কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরিয়ে ফেলার মতো তাপ সৃষ্টি করে ফেলা যায় বিজ্ঞানের এত সুন্দর বিষয়টা কারও চোখে পড়ল না। মাঠে সব ছেলেমেয়েরা যখন চেঁচামেচি করছে ঠিক তখন দেখা গেল গাব্বুদের ক্লাসরুমের আগুন নিভিয়ে প্রিন্সিপাল স্যার বের হয়ে আসছেন, ডান হাতে যে জিনিসটা ধরে রেখেছেন গাব্বু দূর থেকেই সেটাকে চিনতে পারল, তার বড় কনভেক্স লেন্সটা, যেটা সে জানালার উপর রেখে এসেছিল। খাটো প্রিন্সিপাল লম্বা লম্বা পা ফেলে তাদের দিকে এগিয়ে এলেন, লেন্সটা উপরে তুলে জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কার?” এমনভাবে জিজ্ঞেস করলেন যে শুনে মনে হল হাতে যেটা ধরে রেখেছেন সেটা একটা গ্রেনেড কিংবা মেশিনগান কিংবা আধা কেজি পটাশিয়াম সায়নাইড। গাব্বু বলল, “আমার।” নিজের জিনিসটা নেওয়ার জন্যে সে হাত বাড়াল, প্রিন্সিপাল স্যার লেন্সটা ফেরত না দিয়ে হাত সরিয়ে নিয়ে বললেন, “ও! আমাদের রেগুলার ক্রিমিনাল! তোমার?” “জি স্যার।” “ঘরে আগুন লাগানোর জন্যে জানালায় ফিট করেছ?” “না স্যার। মিলি আর লিটন কনভেক্স লেন্স নিয়ে কথা বলছিল-” “খবরদার।” প্রিন্সিপাল স্যার খেঁকিয়ে উঠলেন, “নিজের বদমাইশির সাথে অন্যদের জড়াবে না। আর কী কী করেছ তুমি?” “কিছু করি নাই স্যার।” “নিশ্চয়ই করেছ। বল কী করেছ?” “কিছু করি নাই।” প্রিন্সিপাল স্যার এবারে ক্লাসের ছেলেমেয়েদের দিকে তাকালেন, বললেন, “কী করেছে তোমরা বল।” কেউ কোনো কথা বলল না। প্রিন্সিপাল স্যার এবার ধমক দিয়ে বললেন, “কী করেছে বল?” লিটন একটু ইতস্তত করে বলল, “গাব্বু তো একটু পাগল কিসিমের, তাই সবসময়েই কিছু না কিছু করছে।” “কী করেছে?” “এই তো–” “এই তো মানে?” মিলি বলল, “যেমন চিমটি কাটা–” প্রিন্সিপাল স্যার চিৎকার করে বললেন, “চিমটি কেটেছে? এই মিচকি শয়তান চিমটি কাটে? কত বড় সাহস? আর কী করে?” গাব্বু আবিষ্কার করল প্রিন্সিপাল স্যার ধমকাধমকি করে কিছুক্ষণের মাঝে ফারিয়ার চুল কাটা থেকে শুরু করে রত্নাকে মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখানো পর্যন্ত সবগুলো ঘটনা বের করে ফেললেন। তার মুখে এবারে কেমন যেন একটা আনন্দের ছাপ পড়ল, তার মুখের দুই পাশের ধারালো কেনাইন দাঁত দুটো বের করে হিংস্র মুখে বললেন, “মিচকে শয়তান! তোমার দিন শেষ! ফিনিস।” গাব্বু বলল, “আ-আমার?” “হ্যাঁ। তোমার কত বড় সাহস, তুমি আমাকে হাইকোর্ট দেখাও? এখন আমি তোমাকে হাইকোর্ট দেখাব।” গাব্বু বলল, “হাইকোর্ট? আমাকে?” প্রিন্সিপাল স্যার মাথা ঝাঁকালেন, কিন্তু যেহেতু তার গলা নেই, শরীরের ওপর মাথাটা সরাসরি বসানো, তাই মাথাটা খুব বেশি নড়ল না। সেই অবস্থায় হিস হিস শব্দ করে বললেন, “আমি তোমার বাবা-মা’কে ডেকে পাঠাচ্ছি, তারপর তাদের হাতে তোমাকে তুলে দিব। তারা তোমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন।” গাব্বু বলল, “যা ইচ্ছা?” “হ্যাঁ। যা ইচ্ছা।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...