বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গাব্বু (১১)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (৭৮৯ পয়েন্ট)



X আজকের দিনটি অন্যরকম। কারণ ক্লাসরুমের দরজার আড়ালে গাব্বু একটা গগাবদা মাকড়সা পেয়ে গেল, বহুদিন থেকে সে একটা বড় মাকড়সা খুঁজছে। ব্ল্যাক উইডো স্পাইডার নামে এক ধরনের বিষাক্ত মাকড়সা আছে যার কামড় খেলে মানুষ মরে পর্যন্ত যায়, কিন্তু এই দেশের মাকড়সা সেরকম না। মাকড়সার আটটা পা, চোখও অনেকগুলো, বিষয়টা সে এখনো নিজে ভালো করে দেখেনি। গোবদা মাকড়সাটা একবারও সন্দেহ করেনি যে কেউ তাকে ধরে ফেলবে, তাই সেটা পালানোর চেষ্টা করল না, গাব্বু খপ করে সেটাকে ধরে ফেলল। গাব্বুর হাতের মাঝে মাকড়সাটা কিলবিল করতে লাগল, ছুটে পালানোর চেষ্টা করল, গাব্বু ছাড়ল না। পথে-ঘাটে এরকম মহামূল্যবান জিনিস পেলে সেগুলো রাখার জন্যে তার ব্যাগে নানারকম শিশি বোতল কৌটা থাকে, কাজেই গাব্বু ক্লাসরুমে ঢুকে তার ব্যাগের কাছে গেল। ঠিক তখন তার সাথে রত্নার দেখা হল এবং গাব্বু বুঝতে পারল সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পেয়েছে। রত্না মাকড়সাকে অসম্ভব ভয় পায়। ছোট থেকে ছোট মাকড়সা দেখেও সে ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে, গাব্বু যে গোবদা মাকড়সাটাকে ধরেছে সেটা দেখলে রত্না নির্ঘাত হার্টফেল করবে। গাব্বু যে মাকড়সাটাকে ধরে রেখেছে রত্না তখনো সেটা দেখেনি। গাব্বু মাকড়সা ধরে রাখা হাতটা পেছনে রেখে জিজ্ঞেস করল, “রত্না, তুই পাইয়ের মান কত পর্যন্ত জানিস?” “পাই?” “হ্যাঁ।” “বেশি না, তিন দশমিক এক চার পর্যন্ত।” “তুই কি আরও বেশি জানতে চাস?” রত্না ঠোঁট ওল্টাল, বলল, “আমি কিছু মনে রাখতে পারি না।” “আমি তোকে দশমিকের পর নয় ঘর পর্যন্ত শিখিয়ে দেব।” “কীভাবে?” “তুই শিখতে চাস কি না বল?” রত্না মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিক আছে।” গাব্বু তখন মাকড়সা ধরা হাতটা রত্নার সামনে নিয়ে আসে, আর রত্না আতঙ্কে রক্তশীতল করা একটা চিৎকার দিল। রত্নাকে দেখে মনে হল সে বুঝি ভয়ের চোটে মারাই যাবে, পেছনে ছুটে যেতে গিয়ে সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। গাব্বু মাকড়সাটাকে রত্নার নাকের সামনে ধরে বলল, “তিন দশমিক এক চার এক পাঁচ নয় দুই ছয় পাঁচ চার।” রত্না চিৎকার করে ওঠে। গাব্বু ঠাণ্ডা গলায় বলল, “চিৎকার করবি না, আমি কী বলি মন দিয়ে শোন, তিন দশমিক এক চার এক পাঁচ নয় দুই ছয় পাঁচ চার… তিন দশমিক এক চার এক পাঁচ নয় দুই ছয় পাঁচ চার…” মানুষ যেভাবে মন্ত্র পড়ে গাব্বু সেইভাবে দশমিকের পর নয় ঘর পর্যন্ত পাইয়ের মান উচ্চারণ করতে লাগল। ক্লাসের সবাই কিছুক্ষণ এই বিচিত্র দৃশ্যটি দেখল, তারপর গাব্বুকে টেনে সরিয়ে নিয়ে রত্নাকে উদ্ধার করল। গাব্বু তার ব্যাগে একটা কৌটার মাঝে আধমরা মাকড়সাটাকে রেখে কৌটার মুখ বন্ধ করল। ফারিয়া মুখ বিকৃত করে জিজ্ঞেস করল, “কী করছিস? এই মাকড়সাটাকে কৌটার মাঝে ঢুকালি কেন?” “পালব।” “পালবি? মাকড়সা পালবি?” “হ্যাঁ।” “এর মাঝে ছিঃ এর কী আছে?” “মাকড়সাও একটা পালার জিনিস হল?” “তুই যদি তোর শরীরে কোটি কোটি ব্যাক্টেরিয়া পালতে পারিস তা হলে আমি একটা মাকড়সা পালাতে পারব না?” ফারিয়া রেগেমেগে বলল, “আমি কখনো আমার শরীরে ব্যাক্টেরিয়া পালি না।” “পালিস।” “পালি না।” “সবাই পালে। মানুষের শরীরে যতগুলো কোষ তার থেকে অনেক বেশি আছে ব্যাক্টেরিয়া।” “সত্যি?” ফারিয়া অবাক হয়ে বলল, “আমাদের শরীরে ব্যাক্টেরিয়া থাকে?” “হ্যাঁ, ভালো ভালো ব্যাক্টেরিয়া আমাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।” ফারিয়া বলল, “তাই বলে মাকড়সা তো থাকে না–” তারপর মাথা ঝটকা দিয়ে চলে গেল এবং ফারিয়া যখন মাথা ঝটকা দিল তখন গাব্বু দেখল ফারিয়ার মাথায় কত লম্বা চুল। হাইগ্রোমিটার বানানোর জন্যে সে যদি একগোছা এরকম লম্বা চুল পেত কী চমৎকার হত। সে ফারিয়ার পিছু পিছু গেল, “ফারিয়া। ফারিয়া।” “কী হয়েছে?” “তোর কী সুন্দর লম্বা চুল।” ফারিয়া জানে তার সুন্দর লম্বা চুল, মেয়েরা সেটা সবসময় লক্ষ করে, কিন্তু কোনো ছেলে কখনো সেটা লক্ষ করেনি। ফারিয়া অবাক হল যে শেষ পর্যন্ত সেটা একটা ছেলের চোখে পড়েছে এবং কী আশ্চর্য সেই ছেলেটা হচ্ছে গাবু! ফারিয়া একটু লাজুক ভঙ্গিতে হেসে বলল, “হ্যাঁ। আমার চুল অনেক লম্বা।” “আমাকে একটু দিবি?” ফারিয়া গাব্বুর কথা ঠিক বুঝতে পারল না, বলল, “কী দিব?” “তোর চুল।” “চুল? চুল দিব? চুল কীভাবে দেয়?” “কেটে?” গাব্বু তার সুন্দর লম্বা চুল লক্ষ করেছে শুনে একটু আগে তার ভেতরে যে একটু ভালো অনুভূতি হয়েছিল, এখন তার পুরোটা দূর হয়ে সেখানে একটা খাট্টাভাব তৈরি হল। ফারিয়া রেগেমেগে বলল, “তুই জানিস যে তোর মাথা খারাপ?” “দে না। প্লীজ। একটু।” “দূর হ।” গাব্বু দূর হল না, সে ফারিয়ার পিছনে লেগে রইল, আর শেষ পর্যন্ত ত্যক্তবিরক্ত হয়ে ফারিয়া তাকে কয়েকটা চুল দিতে রাজি হল। সাথে সাথে গাব্বু এক দৌড়ে তার ব্যাগ থেকে একটা কাঁচি নিয়ে চলে আসে।” ফারিয়া চোখ কপালে তুলে বলল, “কাঁচি কেন?” “চুল কাটার জন্যে।” “কতগুলো কাটবি?” “বেশি না, গুনে গুনে দশটা।” চুল গুনে গুনে কাটা যায় কি না সেটা এখনো কেউ জানে না এবং আট নম্বর চুলটা কাটার সময় ফারিয়া আবার মাথায় একটা ঝটকা দিল আর তখন তার মাথার একগোছা চুল কাটা পড়ল। ফারিয়ার মাথায় অনেক চুল, কাজেই যেখানে একগোছা চুল কাটা পড়েছে সেই জায়গাটা সহজেই ঢেকে রাখা যায় কিন্তুচুল একটু সরালেই ফাঁকা জায়গাটা চোখে পড়ে। ফারিয়ার মেজাজ যা খারাপ হল সেটা বলার মতো না, কিন্তু তখন কী করবে! ক্লাসের ঘণ্টা পড়ার পর রত্না ভয়ে ভয়ে ক্লাসে ঢুকল। গাব্বু তার ব্যাগের ভেতর একটা জ্যান্ত মাকড়সা রেখে দিয়েছে, সেটা চিন্তা করেই তার বুক ধুকধুক করছে। গাব্বুর বেঞ্চ থেকে অনেক দূরে গিয়ে বসে সে চিৎকার করে বলল, “গাব্বু, তোকে আমি খুন করে ফেলব।” গাব্বু একটু অবাক হয়ে বলল, “কেন?” “তুই জানিস না কেন? তুই জানিস না আমি মাকড়সাকে ভয় পাই? আমাকে মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখাস?” গাব্বু আরও একটু অবাক হয়ে বলল, “কিন্তু আমি তো ভয় দেখানোর জন্যে মাকড়সা দেখাইনি। মানুষ ভয় পাওয়ার সময় তার সামনে যেটা হয় সেটা মনে রাখে। সেই জন্যে দশমিকের পর নয় ঘর পাইয়ের মান বলছিলাম, লক্ষ করিসনি?” পাইয়ের মান নিয়ে রত্নার খুব একটা মাথা ব্যথা দেখা গেল না। সে হিংস্র গলায় বলল, “আমি প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে নালিশ করব।” গাব্বু বলল, “কিন্তু কিন্তু–” “আমি থানায় তোর বিরুদ্ধে মামলা করব।” গাব্বু বলল, “কিন্তু আমি–” “তোর আব্বু-আম্মুর কাছে নালিশ করব।” গাব্বু বলল, “আসলে হয়েছে কী জানিস, মানুষের ব্রেনের মাঝে-” ভয় পেলে মানুষ কেমন করে সেটা মনে রাখে বিষয়টা গাব্বু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার মাঝে ক্লাসে রওশন ম্যাডাম ঢুকে গেলেন বলে সে আর ব্যাখ্যা করতে পারল না। ক্লাস শুরু হওয়ার পর গাত্তু হঠাৎ করে বুঝতে পারল একদিনের জন্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বেশি হয়ে গেছে, সত্যি সত্যি যদি রত্না কিংবা ফারিয়া কিংবা মিলি কিংবা আর কেউ স্যার-ম্যাডাম কিংবা প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ করে দেয় তা হলে সে বিপদে পড়ে যাবে। গাব্বু তখনো জানত না যে সে আসলে বিপদে পড়ে গিয়েছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আঁখি এবং আমরা ক'জন (১১)
→ আঁখি এবং আমরা ক'জন (১১)
→ আমার সাইন্টিস মামা (১১)
→ পথের পাঁচালী (১১)
→ ফটিকচাঁদ (১১)
→ দীপু নাম্বার টু (১১)
→ স্কুলের নাম পথচারী (১১)
→ গাব্বু (১৪)
→ গাব্বু (১৩)
→ গাব্বু (১২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...