বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাগল প্রেমিকা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (৫ পয়েন্ট)



X মেয়েটির ছদ্ব নাম কবিতা !! . মেয়েটির একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল । স্কুল লাইফে তাদের ভালবাসার সম্পর্ক হয় । বছর দুই ভালই চলছিল তাদের ভালবাসার দিন কাল গুলো । মেয়েটি খুব করে তাকে ভালবাসত । তাকে এত টাই ভালবাসত যে সে অন্য কোন ছেলের সাথে কথাও বলত না । শুধু ওর সাথে কথা বলার জন্য পাগল ছিল । . ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত ওর সাথে একটু কথা বলার জন্য । কিছু দিন থেকে মেয়েটি ছেলেটাকে কল এর পর কল দিয়ে যাচ্ছে । শত শত কল দিত প্রতিদিন । কিন্তু ওপাশ থেকে ছেলেটি কল ধরে না । কি হল কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি কবিতা । এমন তো হওয়ার কথা না । . তাহলে এখন কেন এমন করছে দিন পার হয়ে যায়, সপ্তাহ পার হয় যায়, মাস পার হয়ে যায় কিন্তু ছেলেটির কোন আগ্রহ নাই মেয়েটির প্রতি । মাঝে মাঝে একবার কল রিসিভ করতো । তাও শুধু কল ধরে বলতো আমি ব্যাস্ত । আমাকে কল দিয়ে ডির্ষ্টাব কর না । এই বলে কলটা কেটে দিত । . ফোন টা কেটে দেওয়ার সাথে সাথে এপাশে থাকা কবিতা ফোন টা কানের সাথে লাগিয়ে রাখত আর ছেলেটির কথা গুলো ভাবত আর কেঁদে দিত । কিন্তু ওপাশের ছেলেটি সেই কান্না গুলো শুনতে পেত না । মেয়েটি ছেলেটার সাথে কথা না বলে থাকতে পারে না । প্রতি রাতে কল করেই যেত । . মাঝে মাঝে অটো ডায়াল দিয়ে রাখত ! সারা রাত কল দিয়েই চলত । কল দিতে দিতে এক সময় দেখা যেত ফোনের চার্জ শেষ । আবার চার্জ দিয়ে কল দিয়েই যেত কিন্তু ওপাশে থাকা নিষ্ঠুর ছেলেটা কল ধরতো না । মেয়েটি একটি রাত ও ঘুমাতে পারত না । ছেলেটির কথা ভেবে রাতে কান্না করে বালিশ ভিজিয়ে দিত । . খাটের এপাশ থেকে ওপাশ করে কিন্তু চোখে ঘুম নাই । ঘুমানোর আকুল চেষ্টা । ঘুম আসবে কিভাবে মনের ঘুম নিয়ে যে অন্য একজন খেলা করছে । দিনেও অনেক কান্না করত । কবিতার বোন কবিতার কান্না দেখে ঠিক থাকতে না পেরে কান্না করে দেয় । ভালবাসার এ কি নির্মম পরিহাস শুধু কান্না আর কান্না । . কিভাবে ঠিক থাকবে তা আগে জানা থাকলেও এখন জানা নেই । এই কান্না আর সহ্য হয় না । নিজের কান্না করাটা মানা যা কিন্তু বোনের কি দোষ । আর নিজের জন্য বোন কে কেন কাঁদাবো । ওর তো কোন দোষ নেই । খুব ভালবাসে আমাকে তাই আমার কান্না সহ্য করতে না পেরে নিজেও কান্না করে । . ফ্যামিলির সবাই আমাকে ভালবাসে । আমার কিছু হলে তারাও ঠিক থাকতে পারে না । আমাকে ভালবাসে তাই বলে তাদের কে কেন আমার জন্য কাঁদাবো । কখনোই আমার জন্য তাদের কে কাঁদাবো না । আর আমার কান্না ও আমি থামিয়ে রাখতে পারবো না । তাই ভাবচ্ছি ওকে সুখি করে আমিই চলে যাব অজানা পথে পারি দিতে । . তাই প্ল্যান করলো কাউকে আর বিরক্ত করবে না । আর কতদিন সহ্য করবো । ভালবাসার কষ্ট যে সহ্য করার মত না । এই কষ্ট গুলো মানুষের জীবনকে নষ্ট করে দেয়, শেষ করে দেয় । ভালবাসার কষ্ট গুলো এতটাই খারাপ যা না পারা যায় সহ্য করা না পারা যা কাউকে বলা । যার জন্য এত স্বপ্ন ছিল জীবনে সেই আজ আমার কথায় বিরক্ত বোধ করে । . সেই স্বপ্নের নেই কোন মানে । বোনকে হাজার বার বলেছি কিন্তু বোনটা আমার কান্না দেখে আর ঠিক থাকতে পারে না । পারবেই বা কিভাবে আমি যে ওর একটা মাত্র বড় বোন । তাই প্ল্যান মত কাজ করবো কাল সকালে । আজ রাত দুইটা বেজেছে আর কাঁদবো না । বালিশের অবস্থা অনেক খারাপ । . বালিশ আর রাগ করিস না আজকেই কান্না করা শেষ । এই বালিশটার সাথে ওর জীবনের অনেক না বলা কথা শেয়ার করেছে । বালিশটা অনেক পুরনো কিন্তু বালিশটাকে কখনোই ফালায়নি কারণ বালিশ টার প্রতি তার একটা মায়া জন্মে গেছে । বালিশটা ও হয়তো ওর কান্নায় কান্না করত, . কিন্তু কেউই সেই কান্নার জল গুলো দেখেনি । আর শোনেনি কান্নার আওয়াজ গুলো । পরের দিন সকাল ১০টা বাজে । কবিতা বোনকে কলেজের জন্য এগিয়ে দিয়ে এসে ঘরে ঢুকলো । এরপর নিজের রুমে গেল । গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল । কারন এখন আব্বু-আম্মু চাকরিতে আছে ছোট বোন কলেজে । . এখন কেউ দেখবে না । এই তো সুযোগ সাথে সাথে চেয়ার টা টেনে ফ্যানের নিচে আনলো । তারপর চেয়ারের উপরে উঠে দাঁড়ালো, বুক থেকে ওড়না টা টান দিয়ে গলা থেকে নামিয়ে ফ্যানের সাথে দুইটা প্যাচ দিল । ভয় ও করছে ? না ভয় পেলে কিছু করতে পারবো না । সাথে সাথে বাকি ওড়না নিজের গলায় বাধলো । . চেয়ার টা পা দিয়ে ধাক্কা দিবে, এমন সময় ছোট বোন এসে দরজা ধাক্কাছে । সাথে সাথে নেমে গেল । তারপর চেয়ার টেবিলের নিচে রেখে গিয়ে দরজা খুলে দিল । বোন ভিতরে ঢুকে কবিতা কে জিজ্ঞাস করলো, কিরে আপু ? তোর গলায় কিসের দাগ । দেখি দেখি খুব লাল হয়ে আছে । কবিতা সাথে সাথে ওড়না টেনে বলল ও কিছু না । . আচ্ছা তুই কলেজ থেকে এত আগে আসলি কেন আজ । আপু তোর জন্য মনটা কেমন যেন করছিল তাই চলে আসলাম ? কবিতা বুঝতে পারলো ফ্যামিলির ভালবাসা টা কত গভীর সেই ভালবাসা ফেলে সামান্য একটা ছেলের জন্য মারা যাবে । না ! আর কখনো ফাঁসি দেওয়ার চিন্তা মাথায় আনবো না । . ও বাঁচতে পারলে আমি কেন পারবো না । আমিও বাঁচতে চাই । তাই ভাবলো আর কখনো ওর কথা মনে করে কান্না করবে না । তবে একা থাকাটা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না । একাকিত্ব থাকা যাবে না তাহলেই শুধু ওর কথা মনে পরবে । আমার একাকিত্ব টা দূর করতে হবে । একাকিত্ব দূর করার জন্য কিছু বন্ধু প্রয়োজন । . যাদের সাথে হাসি-খুশি থাকতে পারি । তাহলে কষ্টের থেকে কিছু টা হলেও দূরে থাকতে পারবো । কিন্তু কিভাবে । তার কিছু দিন পর কবিতা একটা ফেসবুক একাউণ্ট খুলল, একাকিত্ব দূর করতে । সেখানে প্রতিদিন আসে কিন্তু তেমন কাউকেই খুঁজে পায় না, যে তার মনের দুঃখ গুলো বুঝবে, . তার কথা গুলো কারো সাথে শেয়ার করবে । কাউকে পায় না তাই বেশি সময় ফেসবুকে থাকে না । কিছু দিন পর আবার ফেসবুকে আসলো । এসে দেখে অনেক গুলো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসছে সেগুলো কনফার্ম করলো । সেদিনের মত ও কাউকে পেল না । কিছু সময় থেকে চলে গেল । . পরের দিন ফেসবুকে এসে গল্প পড়ছে এমন সময় "দূর আকাশের চাঁদ" নামের একটা আই ডি থেকে ম্যাসেজ আসলো-- --হ্যাঁলো ! কেমন আছেন ? আমি কি আপনার সাথে কিছু সময় কথা বলতে পারি ? --কী কথা বলতে চান ? আর কেন ? --মানুষের মনে কত কথাই না থাকে । --হুম টা ঠিক । --কেমন আছেন ? --ভাল । . আজকের দিনের মত এখানেই কথা শেষ । আর কথা বারালো না । পরের দিন আবার ফেসবুকে ঢুকতেই ম্যাসেজ দিল ছেলেটি-- -- আচ্ছা আপনি এত চুপ-চাপ থাকেন কেন ? মন খারাপ নাকি ? -- কিছুটা ! তবে আপনি যেনে কি করবেন ? -- আর কিছু না পারলে ও একটা জিনিস করতে পারবো, সেটা হল আপনার মনের কষ্ট কিছুটা হালকা করতে । -- তাই নাকি ! তা কিভাবে করবেন বলেন তো ? -- আপনার মনে জমে থাকা কষ্টের কথা গুলো সব আমাকে বন্ধু ভেবে বলতে পারেন ? তারপর আমি আপনাকে বলছি ? -- আচ্ছা তাই ? -- হুম ! বলেন আপনার এত কষ্ট কেন ? . ছেলেটির নাম আকাশ !! . এরপর আসতে আসতে তাকে অনেক কিছুই বলছি । ছেলেটি কে যে কথা বলি তার উত্তর দিয়েই চলছে ? অন্য সব মানুষের মত বোর হয়নি কখনো কোন কথাতেই । শুধু আমার কথা শোনে আর তার সঠিক উত্তর দেয় । ভাল লাগতো ছেলেটির সাথে কথা বলে । খুব করে আমাকে কথা গুলো বুঝাত । . মাঝে মাঝে অবাক হতাম । আবার মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলতো যে, সেই কথা শুনে মনে হয় আমার বয়ফ্রেন্ডেই হয়তো ওকে আমার সাথে রিলেশন করতে বলছে । তাই আবার একা একা কান্না করত । আমার বয়ফ্রেন্ড ওকে দিয়ে আমাকে আবার দুঃখ দিবে নাকি । . না এই দুঃখ বার বার নিতে পারবো না । তার চেয়ে আমিই ওর থেকে দূরে চলে যাব । আবার মরার জন্য প্ল্যান করলো । রাতে বিষ খাবে । বিষের বোতল টেবিলের উপর রাখা আছে । রাত দু'টো বাজে । কিছু সময় পর বিষ খাবে । বিষের বোতলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকে ছেলেটি কে শেষ বারের মত একবার জিজ্ঞাস করলো । --ছেলেটি বলে না আমি এমন কাউকে চিনিনা । --তাহলে আপনি আমার কিছু কিছু কথা বলেন কিভাবে যে গুলো শুধু আমার বয়ফ্রেন্ড যানে । --আমি কারো সাথে কথা বললে তার কিছু কিছু মনের কথা বুঝতে পারি ? --ও আচ্ছা ! . তারপর আর বিষ খাওয়া হল না । আমার ও বিশ্বাস হয় ছেলেটির উপর । আবার মাঝে মাঝে মনে হত ছেলেটি আমার খুব কাছের কেউ । আমার মনের কথা গুলো না বলতেই বুঝে যায় । এভাবে অনেক দিন কথা হল হঠাৎ এক সপ্তাহ ফেসবুকে আসেনি খুব খারাপ লাগতো খুব জেদ লাগতো কিন্তু বলতে পারতাম না । . তারপর প্রতিদিন কথা হত । এভাবে পাঁচ মাস কেটে গেল । অনেকটা ফ্রি হয়ে গিয়েছি ছেলেটির সাথে । অনেক মজা করতাম প্রতিদিন । হঠাৎ একদিন আমাকে বলল-- --আমি প্রেম করবো । একা একা আর ভাল লাগে না । একটা মেয়ে খুঁজে দিয়েন তো ? --কেন আমি আছিনা ? ( ফাজলামো করে বলেছিলাম ) --সত্যি বলছেন আপনি আমাকে ভালবাসবেন তো ? ( খুশীতে লাফানোর অবস্থা । ইমো ) --আপনার কি মনে হয় ? --কি মনে হয় তা জানি না কিন্তু আমি আপনার ব্যাপারে সব জানি । তবে এটা বলতে পারবো আপনাকে কখনোই দুঃখ দিব না ? কারণ আপনার জীবনটা দুঃখে ভরা । আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন ? আমি আপনাকে সুখ না দিতে পারলে ও কখনো দুঃখ দিব না । . আমার মন অনেক দুঃখে ভরা । ছেলেটি সব যেনেও আমাকে ভালবাসতে চায় । তাহলে রিলেশন টা করে দেখি । . আজ রিলেশনের তিন মাস পার হল । খুব ভালই কাটছে আমাদের দিন গুলো । ওকে পেয়ে খুব সুখে আছি । মানুষটা আমাকে খুব ভালবাসে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাগলী প্রেমিকা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...