বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রেমের নেশা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান কাশপিয়া মেহজাবিন (guest) (২২৯২ পয়েন্ট)



X বেলকনিতে দাড়িয়ে প্রেমা ভাবছে তার সাথে কি হয়ে গেলো। তার আজ মিরাজের কথা খুব মনে পড়ছে। একটা ঝড় তার জীবনটাকে পাল্টে দিলো।কি হতো যদি মিরাজ তার জীবনে না আসতো? হঠাৎ প্রেমা তার কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করল। পিছনে ফিরে দেখে ফারানকে।ফারান আর কেউ নয় প্রেমার হাজবেন্ড। . অতীত সেদিন ফারান কলেজ যাওয়ার পথে দেখল কিছু মানুষের ভিড়,একটা এক্সিডেন্ট। ভিড় দেখে সামনে যায় সে। দেখল একটা মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে আছে। মেয়েটির মাথায় আঘাত লাগার কারনে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।মেয়েটাকে যখন ঘুরালো তখন ওকে চিনতে একটুও কষ্ট হয়নি ফারানের।ও যে প্রেমা। তখন ফারান সবাইকে বলে ওকে সে চিনে। ফারান তারাতারি প্রেমাকে কোলে তোলে নেয়। হসপিটালে নিয়ে যায় প্রেমাকে। প্রায় দু'ঘন্টা মতো সময় লাগলো প্রেমার ট্রিটমেন্টের জন্য।ফারান ততক্ষণ হসপিটালেই ছিল।ফারান প্রেমার বাসায় ফোন করে সব জানায়। প্রেমার আম্মু-আব্বু ও একটু পরই চলে আসবে। প্রেমার এখনো জ্ঞান ফেরেনি। ডাক্তার বলল মাথায় ব্যাথা একটু বেশিই লেগেছে,তবে চিন্তার কিছু নেই!ওকে কিছুদিন টেইক কেয়ার করলে ঠিক হয়ে যাবে। একদিন পর ওকে রিলিজ দেয়। তাই ওকে বাসায় নিয়ে যায়। . . বর্তমান প্রেমা পেছনে ফিরে ফারানকে দেখে বলে, -ওহ তুমি? কখন এসেছো? ফারান-কি ব্যাপার? কি এমন চিন্তা করা হচ্ছে হুম? যে আমি আসছি সে ঠেরই পেলো না? প্রেমা-তেমন কিছু নয়,কিছু পুরনো স্মৃতি মনে পড়লো। ফারান আর কিছু না বলে চলে গেলো।ফারান জানে প্রেমার কি মনে পড়ছে। কিন্তু ফারানের তো আর করার কিছুই ছিল না,সে প্রেমাকে পাওয়ার জন্য সব করতে পারে! সে যে তার #প্রেমের_নেশায় আসক্ত! . . অতীত ফারান আর প্রেমা একই কলেজেই পড়ে।প্রেমা বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে।দেখতে আহামরি সুন্দরীদের তালিকার একজন না হলেও অতিব মায়াবতীদের একজন।গায়ের রং শ্যামলা,ঘন লম্বা কালো চুল,চোখ দু'টু টানা টানা।ওকে দেখলে যে কেউ-ই প্রেমে পড়তে বাধ্য। ফারান ও বড়লোক বাবার দুইমাত্র ছেলে।ফারান বড় আর ওর একটা ছোটভাই আছে। প্রতিদিনের মতো প্রেমা কলেজে গেলো। পার্পল রঙের একটা কুর্তি পড়েছে সাথে ব্রাউন রঙের সফট কটন কাপড়ের হিজাব। আজ প্রেমার বান্ধবী সামিয়াও আসেনি। তাই ওকে একাই আসতে হলো। প্রেমা কলেজে ঢুকতে যাবে অমনি একজন ছেলে প্রেমার গায়ের ওড়না টা এক টানে ফেলে দিলো।সাথে ছিলো আরও কিছু ছেলে। প্রেমার ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়। ছেলেগুলোর কাজের প্রতিবাদ করবে এমন বুকের পাঠান এই কলেজের করোরই নেই। তাদের মধ্যে একজন বলে উঠলো, -ফিগার তো সেই লেভেরের সুন্দর, উড়না পরার দরকার কি? প্রথম ছেলেটির সাথে তাল মিলিয়ে অন্য আরেকজন বলে উঠলো, -ঠিক বলেছিস দোস্ত, আমাদেরও একটু আকটু সুযোগ দিতে পারতে। ছেলেগুলো আরও বাজে কথা বলতে লাগলো প্রেমাকে। প্রেমার এবার রাগ সামলাতে না পেরে তাদের মধ্যে একজনকে কষে একটা থাপ্পর মেরে চলে আসলো। প্রেমার ইচ্ছে করছে ছেলেগুলোকে খুন করতে। না জানি আরও কত মেয়ে এভাবে হেনস্তা হয়েছে। পরেরদিন প্রেমা কলেজে এসে জানতে পারলো ছেলেগুলো কে বা কারা জানি খুব মেরেছে,তারা এখন হসপিটালে এডমিটেড।খুব বাজে অবস্থা ওদের। কথাগুলো শুনে প্রেমা মনে মনে অনেক খুশি। যে বা যারা ওদের মেরেছে তাকে প্রেমা মনে মনে অসংখ্য বার ধন্যবাদ জানিয়েছে। ওইদিকে মিরাজ নামের একটা ছেলে প্রেমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। প্রেমার কলেজে আসা যাওয়ার পথে প্রায়ই তাকে দেখে প্রেমা।মিরাজ ইনিয়েবিনিয়ে অনেকবার প্রেমার সাথো কথা বলার চেষ্টা করেছিলো। যত রোদ বৃষ্টি হোক,ছেলেটি আসবেই। প্রেমার ও আস্তে আস্তে মিরাজকে ভালো লেগে যায়। জানা গেলো মিরাজও প্রেমাদের কলেজে পড়ে। প্রেমা আর সামিয়া কলেজের ক্যান্টিনে বসে নাস্তা করছে। তখনই মিরাজ এসে প্রেমার দিকে তাকিয়ে বলল, -হাই আমি কি এখানে বসতে পারি? -আসেপাশে তো বসার সিট অনেক আছে, চোখে পড়ছেনা আপনার?(বলল সামিয়া) সামিয়ার কথায় বেশ লজ্জা পেয়ে গেলো মিরাজ। একটু কেশে গলা পরিষ্কার করে বললো, -একটু কথা ছিলো। -কি কথা বলুন।(সামিয়া) -আসলে হয়েছে কি আমি.... -এখন এখনে চুপ থাকা শ্রেয় বলে মনে করছিনা। যা বলার জলদি বলুন (সামিয়া) -আমি কি তোমাদের বন্ধু হতে পারি? কথাটা শোনার পর প্রেমা বিষম খেয়ে উঠলো। ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি নিমিষেই খেয়ে ফেললো। -আমাদের সম্পর্কে জানেন আপনি?(সামিয়া) -হ্যাঁ জানি। -কিন্তু আমরা তো আপনাকে চিনি না।(সামিয়া) সামিয়ার কথা শুনে প্রেমা ওর দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকায়।কারন ওরা দুজনে মিরাজকে চিনে এবং তা গতকাল থেকেই। তাহলে সামিয়া এখন মিথ্যা বলল কেনো? -আরে সামু আমরা তো উনাকে.... সামিয়া প্রেমাকে বাকি কথাটুকু শেষ করতে দিলো না। তার আগেই মুখ চেপে ধরেছে। ইশারা দিয়ে প্রেমাকে বলে চুপ থাকতে। প্রেমার কি আর করার, চুপই থাকলো। মিরাজ প্রেমার দিকে তাকানোর অবস্থায় বলে, -চিনো না তো কি হয়েছে, এখন থেকে চিনবে। সেদিনের পর থেকে মিরাজের সাথে ওদের ভালোই বন্ধুত্ব জমে উঠে। সামনে প্রেমার বার্থডে, ৯জুন। মিরাজ ঠিক করে সেদিনই সে তার মনের কথা প্রেমাকে জানাবে। তবুও সে ভয় পায় কারন সে একজন গরিব ঘরের ছেলে। যদি প্রেমা ভালোবাসার কথা শুনার পর ওর সাথে আর বন্ধুত্ত্ব না রাখে? ওকে যদি ছেড়ে চলে যায়? তাহলে তো সব শেষ। দেখতে দেখতে চলে আসলো ৯জুন। প্রেমার জন্মদিন। সেদিন সাহস করেই মিরাজ প্রেমাকে প্রপোজ করে। মিরা হাটু গেড়ে প্রেমার সামনে বসে,হাতে আংটি। প্রেমা আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। এই ভালোবাসার সাক্ষী আকাশ, বাতাস, আমার মনের প্রতিটা কোণা। তুমি আমার ভালোবাসা গ্রহন করো। জানি আমি তোমার যোগ্য না কিন্তু ভালোবাসা তো যোগ্য অযোগ্য দেখে হয় না।প্লিজ তুমি আমাকে ছেড়ে যেওনা,আমি কথা দিচ্ছি আমি পড়াশোনা শেষ করে একটা ভালো জব করবো,আর তোমাকে খুব সুখে রাখবো। মিরাজ এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে হাঁপিয়ে উঠে।তা দেখে প্রেমার হাসি যেনো বন্ধই হয় না।প্রেমাও মিরাজকে ভালোবেসে ফেলে।তাই সেদিন প্রেমা রাজি হয়ে যায় আর হাত বাড়িয়ে দেয় মিরাজের দিকে।মিরাজ আংটিটা প্রেমার হাতে পড়িয়ে দেয়। সেদিন রাত্রে প্রেমার মোবাইলে একটা আননোন নাম্বার থেকে একটা ম্যাসেজ আসে, "তাড়াতাড়ি নিচে আসো" প্রেমা কি যেন মনে করে নিচে গেলো। আর দেখলো ইয়া বড় এক টেডি বিয়ার, এক বাক্স কাচের চুড়ি,শাড়ি,আর অনেকগুলো চকোলেট।এগুলো দেখে প্রেমা হেসেই ফেলে।ছেলেটা এত যে পাগলামো করে। পরেরদিন প্রেমা মিরাজকে ধন্যবাদ জানাতেই মিরাজ অবাক হয় আর কারন জিজ্ঞেস করলে প্রেমা গতরাতের সব ঘটনা বলে।এতে মিরাজ অবাকের উপরের অবাক হয়,তবুও ঠোঁটে হাসির রেখা টেনে বলেসে "তোমার খুশির জন্য এটুকু তো করতেই পারি" ওদের প্রেম খুব ভালোভাবেই চলতে লাগলো। অন্যদিকে ফারানকে আজকাল তেমন কারো সাথে মিশতে দেখা যায়না বন্ধুদের সাথেও তেমন কথা বলেনা। আগে যে ছেলে রাতদিন আড্ডা, হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকতো, আর এখন হঠাৎ করে কি হলো তার? প্রেমাকে ইদানিং ঘর থেকে বিয়ের জন্য প্রেসার দিচ্ছে।প্রেমার জন্য ভালো একটা প্রস্তাব আসে। প্রেমার মা-বাবা চায় এবকর মেয়ে ধুমধাম করে সেরে ফেলতে। পরেরদিন কলেজে কথাটা প্রেমা মিরাজকে জানায়।মিরাজ কথাটা শুনে ঘাবড়ে যায়। আর মিরাজ বলে পালিয়ে যাওয়ার কথা।প্রেমাও এতে সায় দেয়। এবং পরদিনই তারা পালায়। . . -হ্যালো স্যার এদিকে সব ঠিকটাক।এখন ম্যাডাম আসলেই কাজ হয়ে যাবে। -অকে,কিন্তু ওর যেনো বেশি আঘাত না লাগে। -ঠিক আছে স্যার ভরসা করতে পারেন। . . বর্তমান পেছন থেকে প্রেমা এসে ফারানকে জড়িয়ে ধরে,আর ফারান তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে নেও।এরপরে ফারানও প্রেমাকে জড়িয়ে ধরে তার চুলে মুখ ডোবায়!তাদের সংসারটা ভালোই কাটছে।খুব সুখেই।ফারানের কেয়ারিং যেনো আরও ভালো লাগে প্রেমার। . . হ্যাঁ সেদিনই পালানোর সময় প্রেমার এক্সিডেন্ট হয়।প্রেমার জ্ঞান ফেরার পর সে জানতে পারে মিরাজকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।কারন সে একজন ঠক,একজন গুন্ডা।যে মেয়েদের ভালোবাসার টানে ফাঁসিয়ে তাদের ভোগ করে।প্রেমা এও জানতে পারে সেদিন প্রেমার সাথেও সেটা করতো মিরাজ।কিন্তু এক্সিডেন্টের জন্য প্রেমা বেঁচে যায় মিরাজের হাত থেকে। . . ফারান-চলো আজ একটা যায়গায় ঘুরে আসি। প্রেমা-কোথায় যাবে শুনি? ফারান-যাবে? প্রেমা-সে তো যাবোই,কিন্তু কোথায়? ফারান-তবে সেটা সারপ্রাইজ থাক। . . হ্যাঁ ফারান প্রেমাকে খুব ভালোবাসে।কিন্তু সে দূর থেকেই ভালোবেসে গেছিলো। কলেজে প্রেমাকে ইভটিজিং করা ছেলেগুলাকে ফারানই মারে।এবং মিরাজের আসল রুপ জানতে পারে ফারানই। উপরের ফোনালাপ ফারানের সাথেই হয়েছিল একটা ভাড়াটে ঘুন্ডার সাথে।এক্সিডেন্ট টা ফারানই করিয়েছে প্রেমাকে বাঁচাতে!আর প্রেমার কাছে সেদিন রাতে বার্থডে গিফট ফারানই দেয়। . . সন্ধ্যায় ফারান আর প্রেমা বেড়িয়ে পড়ে। প্রেমা একটি হলুদ রঙের শাড়ি পড়ে।ফারানের হলুদ রং ভীষণ পছন্দের। ফারান খেয়াল করে প্রেমার এলোকেশী চুলগুলো খোলা,চোখে ঘন কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক এতেই ওকে হুরপরীর মতো লাগছে।ফারান যেনো চোখ'ই ফেরাতে পারছে না। ওরা পৌছে দুজনে একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকলো।প্রেমা ঢুকতেই অবাক। সেখানে বেলুন দিয়ে বড় বড় করে লেখা শুভ জন্মদিন সুইটহার্ট।আজ তার জন্মদিন সেটা সে ভুলেই গেলো। আস্তে আস্তে সব লাইট জ্বলে উঠলো,সেখানে উপস্থিত ওদের দুই পরিবারের সবাই।ফারান সবার সামনে হাটু গেঁড়ে বসে হাতে একগাদা হলুদ গোলাপ নিয়ে ১৯ বারের মতো প্রপোজ করে প্রেমাকে।এর আগেও সে ১৮ বার প্রপোজ করেছে প্রেমাকে,তবে বিয়ের পর। প্রেমারা অনেক মজা করলো,রাত ১ টার দিকে সবাই বাড়ি এসে পৌছলো। প্রেমা ফ্রেশ হয়ে বের হতে যাবে তখন ফারান তাকে তার বাহুডোরো আবদ্ধ করে ফেলে। প্রেমা-এই ছাড়ো তো,এখন এসব কি করছো? ফারান-ওমা আবার পারমিশন নিতে হবে নাকি,দেখতেই তো পারছো আমি আমার বউকে আদর করছি। প্রেমা-দেখাচ্ছি মজা... বলে ফারানকে দৌড়ানি দিতে লাগলো,অবশেষে প্রেমা ফারানকে ধরে পেলে।ফারান ও প্রেমাকে আরও শক্তকরে জড়িয়ে ধরে বলে ফারান-পৃথিবীর কোনো নেশায় মানুষ এতটা আসক্ত হয়না,যতটা আমি তোমার প্রেমের নেশায় আসক্ত। আমি তোমাকে আমার থেকে দূরে কোথাও যেতে দিবো না। আমি তোমার #প্রেমের_নেশায় খুব করে আসক্ত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৬৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রেমের নেশা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...