বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আইনস্টাইনের মিথ্যাচারপূর্ণ ড্রাইভার কাহিনী

"শিক্ষা উপকরন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আবু আলী হুসাইন ইবনে সিনা (০ পয়েন্ট)



X আইনস্টাইন যে কত সহজ সরল ছিলেন তা বোঝা যায় তাঁর আরেকটি মজার ঘটনায়। আপেক্ষিকতা তত্ব আবিষ্কার করে তিনি তখন বিখ্যাত ও বিতর্কিত। সত্যি কথা বলতে কি, বিজ্ঞানী-অবিজ্ঞানী কারোর মগজের এন্টেনাই ব্যাপারটা ক্যাচ করতে পারছিল না। তিনি বিভিন্ন সভা সেমিনারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর উদ্ভাবিত তত্ত্বটি বোঝাতে লেকচার দিতে যেতেন। প্রায় সব সেমিনারে তিনি একই ধরনের আলোচনা করতেন। একবার এমনি এক সেমিনারে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছেন, লেকচার দেবার জন্য। পথিমধ্যে তাঁর ড্রাইভার করে বসল এক আজব আবদার।বলল, ‘স্যার, আপনার লেকচারগুলো শুনতে শুনতে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে। আজ একদিনের জন্য আমি আইনস্টাইন সেজে সেমিনারে বক্তব্য চাই।’ মজার মানুষ আইনস্টাইনেরও কথাটা খুব মনে ধরল। তিনি এক কথায় রাজি। দেখাই যাক না, ব্যাপারটা কী হয়? তো, ড্রাইভার বিজ্ঞানী আইনস্টাইন সেজে অনুষ্ঠানে গেল বক্তব্য দিতে আর স্বয়ং আইনস্টাইন দর্শক সারিতে বসে রইলেন আইনস্টাইনেরই ড্রাইভার হয়ে। তখন তো আর মিডিয়ার এত দৌরাত্ন্য ছিল না। তাই ব্যপারটা কেউ বুঝতে পারল না। আইনস্টাইনরূপী ড্রাইভার মঞ্চে বক্তব্য রাখল এবং চমৎকার বক্তব্য রাখল।দর্শক সারিতে বসে মুগ্ধ আইনস্টাইন বার বার হাত তালি দিতে লাগলেন।অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত একজন আইনস্টাইনের ড্রাইভারের কাছে যেয়ে বললেন, ‘আপনার বক্তব্যটি আমার খুব ভাল লেগেছে। কিন্তু কি জানেন, আমি এই অমুক অমুক বিষয়গুলো একদম বুঝতে পারিনি। আপনি কি অনুগ্রহ করে আমাকে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেবেন?’ আইনস্টাইনের ড্রাইভার বিন্দু মাত্র না ঘাবড়ে উত্তর দিল, ‘ওহ! এই ব্যাপার? এই ব্যাপারটা তো আমার ড্রাইভারই বুঝিয়ে দিতে পারবে। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করুন ।’ বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের এই মজার গল্পটি আপনি নিশ্চয়ই আপনি কোথাও পড়েছেন বা শুনেছেন। একেক লেখায় বর্ণনা খানিকটা এদিক সেদিক হলেও, সবখানেই মূল ঘটনা এমনই থাকে। ইন্টারনেট ও বিভিন্ন মাধ্যমে বহুল প্রচলিত এই ঘটনাটি কিন্তু কখনোই আইনস্টাইনের সাথে এমনটা ঘটেনি। ১৮৭৯ সালে জার্মানিতে জন্ম নেয়া আইনস্টাইনকে ১৯০৫ সালের আগে তেমন একটা কেউই চিনতেন না। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন যখন সুইজারল্যান্ডে কেরানির চাকরি করতেন তখন ‘আনালেন ডার ফিসিক’ জার্নালে তার স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে আইনস্টাইন তার থিওরির সাথেই বিখ্যাত হতে থাকেন। জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটির চতুর্থ এবং শেষ পেপার ‘Does the Inertia of a Body Depend Upon Its Energy Content?’, ঐ জার্নাল ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রহণ করে, যা প্রকাশিত হয় ২১ নভেম্বর। এই পেপারটিতেই ছিল নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচাইতে বিখ্যাত সূত্র E=mc2. ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হয় জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি। আর তার কিছুদিন পর ১৯২১ সালে আইনস্টাইন নোবেল পুরষ্কার পান আলোক তড়িৎ সম্পর্কিত গবেষণায়। নোবেল প্রাপ্তির পর থেকে তিনি রীতিমত সেলিব্রেটি হয়ে যান। এই আলবার্ট আইনস্টাইন একটি সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে যাচ্ছেন তার থিওরি অফ রিলেটিভিটি নিয়ে অথচ সেখানে তাকে কেউই চিনছে না, এমন কথা বিশ্বাস করার কোন মূর্খতা বৈকি যৌক্তিক কারণ নেই । তাছাড়া এই ধাচের গল্পটির বেশ অনেকগুলো ভার্শন বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে চালু ছিল অনেক দিন ধরেই। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে এই গল্পটির একটি রূপ পাওয়া যায়। সেখানে আইনস্টাইনের জায়গায় ছিলেন একজন ইহুদী ধর্মগুরু। এরপর ২০০৪ সালে রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত এই গল্পটিতে আইনস্টাইনের স্থলে ছিলেন কয়েকজন মেরিনার। ব্যক্তিগত জীবনে খানিকটা ভুলোমনা, পাগলাটে বলে খ্যাতি আছে আলবার্ট আইনস্টাইনের। এই কারণেই আইনস্টাইনকে নিয়ে নানা ধরনের চমকপ্রদ গল্প খুব সহজেই সবার মাঝে জনপ্রিয় হয়ে যায়। এছাড়াও আইনস্টাইনের নামে নানান উক্তি ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ায়, যা আসলে আইনস্টাইন বলেননি। আর এমনিতেই ইন্টারনেটের সবকিছু বিশ্বাস করা নিয়ে আব্রাহাম লিংকনের সেই বিখ্যাত উক্তিটি তো আমরা সবাই জানি- 'ইন্টারনেটে ছবি ও লেখা যাই দেখবেন, সব বিশ্বাস করবেন ।" -আইজ্যাক নিউটন(১৯৮৮-বর্তমান)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...