বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা: কোরআন হাদীসের নির্দেশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ★ রোদেলা রিদা ‎★ (৭৫৪ পয়েন্ট)



X স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা কোরআন হাদীসের নির্দেশ। শুধু তাই নয়, দুনিয়ার জীবনে স্ত্রীকে ভালোবাসা ইবাদত ও বটে । তবে শর্ত হলো, ওই ভালোবাসা যেন স্বামীকে ইবাদত-বন্দেগি থেকে ভুলিয়ে না রাখে,গাফেল না রাখে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রদশর্নের কথা শরীয়তে বলা হয়েছে। কুরআন মাজীদের আয়াতে বলা হয়েছে, وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ. অনুবাদ: এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর এক নিদর্শন (হচ্ছে): তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন; নিশ্চয় চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন আছে। (সূরা রুম-21) এই আয়াতে দাম্পত্য জীবন (married life) সংক্রান্ত অলৌকিক নিদর্শনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলছেন: পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আমি সঙ্গী বা সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছি যাতে জীবন চলার পথে তোমরা একাকীত্বে না ভোগো এবং তাদের কাছে শান্তি ও সুখ পাও। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই মধুময় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া পারস্পরিক ভালোবাসা ও আকর্ষণের কারণে এই ভালোবাসার কারণে তারা সারাজীবন পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল থাকে। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি এই মধুর সম্পর্কের ফলস্বরূপ ধরার বুকে মানবপ্রজন্ম টিকে রয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে। এ ছাড়া, ছোট ছোট দাম্পত্য জীবনের সমষ্টিতে সমাজ গড়ে ওঠে এবং সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষ সুখে-শান্তিকে জীবন কাটায়। এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো, ১. নারী ও পুরুষ সৃষ্টির উৎস একই। এ কারণে ইসলামে নারী ও পুরুষকে সমান মর্যাদা দেয়ো হয়েছে। অথচ কোনো কোনো ধর্ম ও মতবাদে নারীকে পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২. ইসলামে এমনভাবে পরিবার গঠন করতে বলা হয়েছে যে, যেখানে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে; মতবিরোধ, উত্তেজনা ও ঝগড়া ঝাটি থাকে না। ৩. ভালোবাসা হচ্ছে স্বামী ও স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত উপহার। এটি না থাকলে পৃথিবীতে কোনো দাম্পত্য জীবন টিকে থাকত না। হাদীস শরীফে হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خيركم خيركم لأهله، وأنا خيركم لأهلي. অনুবাদ: হযরত আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাদের স্ত্রীদের জন্য উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের জন্য তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। (তিরমিযী) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَن كانَ يؤمنُ باللَّهِ واليومِ الآخرِ، فإذا شَهِدَ أمرًا فليتَكلَّم بخيرٍ أو ليسْكت، واستوصوا بالنِّساءِ، فإنَّ المرأةَ خُلِقت من ضِلَعٍ، وإنَّ أعوجَ شيءٍ في الضِّلعِ أعلاهُ، إن ذَهبتَ تقيمُهُ كسرتَهُ، وإن ترَكتَهُ لم يزل أعوَج، استوصوا بالنِّساءِ خيرًا অনুবাদ: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে’। ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী হও। কারণ, তারা পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্ট। পাঁজরের ওপরের হাড়টি সবচেয়ে বেশি বাঁকা।’ (যে হাড় দিয়ে নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে) তুমি একে সোজা করতে চাইলে, ভেঙে ফেলবে। আবার এ অবস্থায় রেখে দিলে, বাঁকা হয়েই থাকবে। তাই তোমরা তাদের কল্যাণকামী হও, এবং তাদের ব্যাপারে সৎ-উপদেশ গ্রহণ কর।’ (সহীহ বুখারি) এই আদেশ পালনের উদ্দেশ্য কেউ যখন স্ত্রীকে ভালোবাসে তখন তা আর দুনিয়া থাকে না; বরং সরাসরি দ্বীন হয়ে যায়। হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেছেন, মানুষের তাকওয়া ও খোদাভীতি বৃদ্ধি পাওয়ার দ্বারা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসাও বৃদ্ধি পায়। কেননা, সে জানে যে, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তার দায়-দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছে। আমি তা আদায় করতে বাধ্য। এই নিয়তে যখন সে তা আদায় করে তখন সওয়াবের অধিকারী হয়। পুণ্যাত্মা স্ত্রীদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যবহার عن عائشة رضي الله عنها أنها كانت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر. قالت: فسابقته فسبقته على رجلي، فلما حملت اللحم سابقته فسبقني. فقال: "هذه بتلك السبقة" অনুবাদ: হযরত আয়শা রাযিযাল্লাহু তায়ালা আনহা কোন এক সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলেন৷ তিনি বলেন,আমরা দুজন দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং আমি বিজয়ী হলাম৷ অতপর যখন আমার গড়ন ভারী হলো তখন আবার প্রতিযোগিতা করলাম এবার রাসূল বিজয়ী হলেন এবং বললেন এটা প্রথম প্রতিযোগিতায় তুমি জিতে যাওয়ার বদলা। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-২২১৪) স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে শোয়া আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সময় উম্মুল মু'মিনীন খাদিজা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর কোলে মাথা রাখতেন, এবং তাঁর মৃত্যুর পর আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর উরুর উপর মাথা রেখে শুতেন। যখন আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ঋতুবর্তী অবস্থায় উপনীত হতেন, তখন নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উরুর উপর শুয়ে কোর'আন তিলাওয়াত করতেন। হযরত আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, كَانَ النَّبِى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَرَأْسُهُ فِى حَجْرِى وَأَنَا حَائِضٌ অনুবাদ: আমার হায়েয অবস্থায় আমার কোলে মাথা রেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরআন তেলাওয়াত করতেন। ( নাসাঈ- 130) একজন পুরুষ তার বৈবাহিক জীবনে কতোবার এভাবে স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে শুয়েছেন?? একটাবার ভাবুন, মহিলাদের এই সেন্সেটিভ সময়ে আপনার একটু সুক্ষ্ম আহ্লাদ তার মনের দুঃখ নিমিষেই ভুলিয়ে দিতে পারে। একবার মাথা রেখে দেখুনই না স্ত্রী সব উজাড় করে দিয়ে দিবে, প্রমিজ। এক্ষেত্রে একজন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর কাঁধে মাথা রেখে নিজের কথাগুলো শেয়ার করা। নিশ্চিত স্বামী বেচারা পরদিন আস্ত গোলাপ বাগান নিয়ে আসতেও কুন্ঠাবোধ করবেন না। একই পাত্র হতে খাওয়ার অভ্যেস শুরু করুন যখন উম্মুল মু'মিনীন আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা গ্লাসে করে পানি খেতেন, আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক প্রিয় সহধর্মিণীর ঠোট লাগা অংশে ঠোট লাগিয়ে পানি পান করতেন। যখন আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা গোশত খেতেন, তখন আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়শা হতে গোশতটা টান দিয়ে নিয়ে নিতেন, এবং ঠিক আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা যেখানে ঠোঁট লাগিয়ে খেয়েছেন, একই স্থান থেকে নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়া শুরু করতেন। আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, كنت أتعرّق العَرْق وأنا حائض، فأعطيه النبى صلى الله عليه وسلم، فيضع فمه فى الموضع الذى وضعت فمى فيه، وأشرب الشراب فأناوله، فيضع فمه فى الموضع الذى كنت أشرب অনুবাদ: আমি হায়েয অবস্থায় হাড় চিবাতাম তারপর তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে দিতাম আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রাখতেন। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম তিনি সেখানে মুখ রাখতেন। একে অপরের মুখে হাত তুলে খাইয়ে দিন ভালোবাসা প্রদর্শনের উত্তম মাধ্যম হলো এই ক্ষুদ্র কাজটি। নিজ হাতের উপার্জন স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়াও সওয়াবের কাজ। ভালোবাসার অস্তমিত সুর্যকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে এর তুলনা নেই। আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَا أَطْعَمْتَ نَفْسَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ وَلَدَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ زَوْجَتَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ خَادِمَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ দোষ না ধরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম খাবারের ব্যপারে দোষ ধরতেন না, পছন্দ হলে খেতেন,না হলে রেখে দিতেন। হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, ما عاب رسول الله - صلى الله عليه وسلم - طعامًا قط، إن اشتهاه أكله، وإن كرِهه تركه অনুবাদ: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। পছন্দ হলে খেতেন , পছন্দ না হলে খেতেন না। সালাম বিনিময় করা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত খুশি মনে মুচকি হাসতে হাসতে গৃহে প্রবেশ করতেন এবং হৃদয়পূর্ণ সালাম দিতেন। (উসওয়ায়ে হাসানাহ) লজ্জা ফেলে মুসাহাফা করুন হযরত আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, إن الرجل إذا نظر إلى امرأته ونظرت إليه؛ نظر الله إليهما نظرة رحمة، فإذا أخذ بكفها؛ تساقطت ذنوبهما من خلال أصابعهما অনুবাদ: যখন স্বামী স্ত্রী পরষ্পর একে অপরের দিকে (ভালোবাসার নযরে) তাকায় আল্লাহ তায়ালা তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিপাত করেন। অতপর যখন মুসাফাহা করে উভয়ের সগিরা গুনাহ ঝরে পরে।নির্দেশ by সত্য প্রকাশ on অক্টোবর ২৯, ২০১৯ in নারী অধিকার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা কোরআন হাদীসের নির্দেশ। শুধু তাই নয়, দুনিয়ার জীবনে স্ত্রীকে ভালোবাসা ইবাদত ও বটে । তবে শর্ত হলো, ওই ভালোবাসা যেন স্বামীকে ইবাদত-বন্দেগি থেকে ভুলিয়ে না রাখে,গাফেল না রাখে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রদশর্নের কথা শরীয়তে বলা হয়েছে। কুরআন মাজীদের আয়াতে বলা হয়েছে, وَمِنْ آَيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ. অনুবাদ: এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর এক নিদর্শন (হচ্ছে): তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন; নিশ্চয় চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন আছে। (সূরা রুম-21) এই আয়াতে দাম্পত্য জীবন (married life) সংক্রান্ত অলৌকিক নিদর্শনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলছেন: পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আমি সঙ্গী বা সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছি যাতে জীবন চলার পথে তোমরা একাকীত্বে না ভোগো এবং তাদের কাছে শান্তি ও সুখ পাও। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই মধুময় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া পারস্পরিক ভালোবাসা ও আকর্ষণের কারণে এই ভালোবাসার কারণে তারা সারাজীবন পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল থাকে। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি এই মধুর সম্পর্কের ফলস্বরূপ ধরার বুকে মানবপ্রজন্ম টিকে রয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে। এ ছাড়া, ছোট ছোট দাম্পত্য জীবনের সমষ্টিতে সমাজ গড়ে ওঠে এবং সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে মানুষ সুখে-শান্তিকে জীবন কাটায়। এই আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো, ১. নারী ও পুরুষ সৃষ্টির উৎস একই। এ কারণে ইসলামে নারী ও পুরুষকে সমান মর্যাদা দেয়ো হয়েছে। অথচ কোনো কোনো ধর্ম ও মতবাদে নারীকে পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২. ইসলামে এমনভাবে পরিবার গঠন করতে বলা হয়েছে যে, যেখানে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে; মতবিরোধ, উত্তেজনা ও ঝগড়া ঝাটি থাকে না। ৩. ভালোবাসা হচ্ছে স্বামী ও স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত উপহার। এটি না থাকলে পৃথিবীতে কোনো দাম্পত্য জীবন টিকে থাকত না। হাদীস শরীফে হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خيركم خيركم لأهله، وأنا خيركم لأهلي. অনুবাদ: হযরত আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাদের স্ত্রীদের জন্য উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের জন্য তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। (তিরমিযী) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَن كانَ يؤمنُ باللَّهِ واليومِ الآخرِ، فإذا شَهِدَ أمرًا فليتَكلَّم بخيرٍ أو ليسْكت، واستوصوا بالنِّساءِ، فإنَّ المرأةَ خُلِقت من ضِلَعٍ، وإنَّ أعوجَ شيءٍ في الضِّلعِ أعلاهُ، إن ذَهبتَ تقيمُهُ كسرتَهُ، وإن ترَكتَهُ لم يزل أعوَج، استوصوا بالنِّساءِ خيرًا অনুবাদ: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে’। ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী হও। কারণ, তারা পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্ট। পাঁজরের ওপরের হাড়টি সবচেয়ে বেশি বাঁকা।’ (যে হাড় দিয়ে নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে) তুমি একে সোজা করতে চাইলে, ভেঙে ফেলবে। আবার এ অবস্থায় রেখে দিলে, বাঁকা হয়েই থাকবে। তাই তোমরা তাদের কল্যাণকামী হও, এবং তাদের ব্যাপারে সৎ-উপদেশ গ্রহণ কর।’ (সহীহ বুখারি) এই আদেশ পালনের উদ্দেশ্য কেউ যখন স্ত্রীকে ভালোবাসে তখন তা আর দুনিয়া থাকে না; বরং সরাসরি দ্বীন হয়ে যায়। হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেছেন, মানুষের তাকওয়া ও খোদাভীতি বৃদ্ধি পাওয়ার দ্বারা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসাও বৃদ্ধি পায়। কেননা, সে জানে যে, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তার দায়-দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছে। আমি তা আদায় করতে বাধ্য। এই নিয়তে যখন সে তা আদায় করে তখন সওয়াবের অধিকারী হয়। পুণ্যাত্মা স্ত্রীদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যবহার عن عائشة رضي الله عنها أنها كانت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر. قالت: فسابقته فسبقته على رجلي، فلما حملت اللحم سابقته فسبقني. فقال: "هذه بتلك السبقة" অনুবাদ: হযরত আয়শা রাযিযাল্লাহু তায়ালা আনহা কোন এক সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলেন৷ তিনি বলেন,আমরা দুজন দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং আমি বিজয়ী হলাম৷ অতপর যখন আমার গড়ন ভারী হলো তখন আবার প্রতিযোগিতা করলাম এবার রাসূল বিজয়ী হলেন এবং বললেন এটা প্রথম প্রতিযোগিতায় তুমি জিতে যাওয়ার বদলা। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-২২১৪) স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে শোয়া আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সময় উম্মুল মু'মিনীন খাদিজা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর কোলে মাথা রাখতেন, এবং তাঁর মৃত্যুর পর আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এর উরুর উপর মাথা রেখে শুতেন। যখন আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ঋতুবর্তী অবস্থায় উপনীত হতেন, তখন নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উরুর উপর শুয়ে কোর'আন তিলাওয়াত করতেন। হযরত আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, كَانَ النَّبِى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَرَأْسُهُ فِى حَجْرِى وَأَنَا حَائِضٌ অনুবাদ: আমার হায়েয অবস্থায় আমার কোলে মাথা রেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরআন তেলাওয়াত করতেন। ( নাসাঈ- 130) একজন পুরুষ তার বৈবাহিক জীবনে কতোবার এভাবে স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে শুয়েছেন?? একটাবার ভাবুন, মহিলাদের এই সেন্সেটিভ সময়ে আপনার একটু সুক্ষ্ম আহ্লাদ তার মনের দুঃখ নিমিষেই ভুলিয়ে দিতে পারে। একবার মাথা রেখে দেখুনই না স্ত্রী সব উজাড় করে দিয়ে দিবে, প্রমিজ। এক্ষেত্রে একজন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর কাঁধে মাথা রেখে নিজের কথাগুলো শেয়ার করা। নিশ্চিত স্বামী বেচারা পরদিন আস্ত গোলাপ বাগান নিয়ে আসতেও কুন্ঠাবোধ করবেন না। একই পাত্র হতে খাওয়ার অভ্যেস শুরু করুন যখন উম্মুল মু'মিনীন আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা গ্লাসে করে পানি খেতেন, আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক প্রিয় সহধর্মিণীর ঠোট লাগা অংশে ঠোট লাগিয়ে পানি পান করতেন। যখন আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা গোশত খেতেন, তখন আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়শা হতে গোশতটা টান দিয়ে নিয়ে নিতেন, এবং ঠিক আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা যেখানে ঠোঁট লাগিয়ে খেয়েছেন, একই স্থান থেকে নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়া শুরু করতেন। আয়শা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, كنت أتعرّق العَرْق وأنا حائض، فأعطيه النبى صلى الله عليه وسلم، فيضع فمه فى الموضع الذى وضعت فمى فيه، وأشرب الشراب فأناوله، فيضع فمه فى الموضع الذى كنت أشرب অনুবাদ: আমি হায়েয অবস্থায় হাড় চিবাতাম তারপর তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে দিতাম আর তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে মুখ রাখতেন। আমি যেখানে মুখ রেখে পান করতাম তিনি সেখানে মুখ রাখতেন। একে অপরের মুখে হাত তুলে খাইয়ে দিন ভালোবাসা প্রদর্শনের উত্তম মাধ্যম হলো এই ক্ষুদ্র কাজটি। নিজ হাতের উপার্জন স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়াও সওয়াবের কাজ। ভালোবাসার অস্তমিত সুর্যকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে এর তুলনা নেই। আল্লাহর রাসুল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَا أَطْعَمْتَ نَفْسَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ وَلَدَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ زَوْجَتَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ، وَمَا أَطْعَمْتَ خَادِمَكَ، فَهُوَ لَكَ صَدَقَةٌ দোষ না ধরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম খাবারের ব্যপারে দোষ ধরতেন না, পছন্দ হলে খেতেন,না হলে রেখে দিতেন। হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, ما عاب رسول الله - صلى الله عليه وسلم - طعامًا قط، إن اشتهاه أكله، وإن كرِهه تركه অনুবাদ: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। পছন্দ হলে খেতেন , পছন্দ না হলে খেতেন না। সালাম বিনিময় করা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত খুশি মনে মুচকি হাসতে হাসতে গৃহে প্রবেশ করতেন এবং হৃদয়পূর্ণ সালাম দিতেন। (উসওয়ায়ে হাসানাহ) লজ্জা ফেলে মুসাহাফা করুন হযরত আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, إن الرجل إذا نظر إلى امرأته ونظرت إليه؛ نظر الله إليهما نظرة رحمة، فإذا أخذ بكفها؛ تساقطت ذنوبهما من خلال أصابعهما অনুবাদ: যখন স্বামী স্ত্রী পরষ্পর একে অপরের দিকে (ভালোবাসার নযরে) তাকায় আল্লাহ তায়ালা তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিপাত করেন। অতপর যখন মুসাফাহা করে উভয়ের সগিরা গুনাহ ঝরে পরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ।। প্রতিটি কাজ হতে পারে শেষ কাজ ।।
→ করোনা প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা
→ KFC এর প্রতিষ্ঠাতা কলনেল স্যান্ডার্স
→ স্বীয় কর্মের প্রতিফল
→ স্বামী স্ত্রীর এক মিষ্টি প্রেমের গল্প
→ প্রকৃতির প্রতিশোধ
→ ♦♥ভালবাসার প্রতিদান♥♦
→ হযরত হাসান ও হুসাইন রা. এর প্রতি নবী সা. এর আদরপূর্ণ ব্যবহারের নমুনা
→ অমায়িক প্রতিশোধ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...