বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডার্কম্যাটার

"বিজ্ঞান " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)

X সমস্যাটা প্রথম ধরা পড়ে সেই ১৯৩৭ সালে। সুইস-আমেরিকান জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী ফ্রিৎজ জুইকি আমাদেরকে 'হারানো ভরের সমস্যা'র সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ভদ্রলোক একটি বিশাল ক্লাস্টারের (একসাথে অনেকগুলো গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ মিলে তৈরি) মধ্যকার ছায়াপথগুলোর গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। মিল্কিওয়ে থেকে অনেক দূরের এই ক্লাস্টারটিকে ‘কোমা বার্নেসিস’ তারকামন্ডল অনুসরণ করে খুঁজে বের করা যায়। তাই এর নাম দেয়া হয়েছে কোমা ক্লাস্টার। হাজার হাজার ছায়াপথ এই ক্লাস্টারের কেন্দ্রকে ঘিরে এমনভাবে ঘুরে চলেছে যে, দেখে মনে হবে বুঝি অনেকগুলো মৌমাছি একসাথে একটি মৌচাকের দিকে ছুটে যাচ্ছে। মোটামুটি কয়েক ডজন ছায়াপথের গতি ব্যবহার করে, কী পরিমাণ মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র পুরো ক্লাস্টারটিকে বেঁধে রেখেছে তা হিসাব করতে গিয়ে জুইকি আবিষ্কার করলেন, ছায়াপথগুলোর গড় গতিশক্তি অদ্ভুত রকমের বেশি! যেহেতু প্রচন্ড মহাকর্ষীয় শক্তির আকর্ষণের ফলে কোনো বস্তুর গতিবেগ অনেক বেড়ে যেতে পারে, এই প্রচন্ড মহাকর্ষের পেছনের কারণ হিসেবে কোমা ক্লাস্টারের ভরকে ধরে নিয়ে এর পরিমাণ হিসেবে জুইকি বিশাল এক সংখ্যা অনুমান করে নিলেন। এর বাস্তবতা পরীক্ষা করার জন্য ক্লাস্টারের দৃশ্যমান সকল ছায়াপথের ভর যোগ করে হিসেব করে জুইকি দেখলেন, সব কিছুর ভর মিলেও এই প্রবল গতির জন্য প্রয়োজনীয় মহাকর্ষ সৃষ্টির মতো যথেষ্ট ভর হচ্ছে না। ফিৎজ জুইকি এই কোমা ক্লাস্টার পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েই বুঝতে পেরেছিলেন, ভর নিয়ে একটা কিছু সমস্যা আছে; মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে জুইকির পরীক্ষা থেকে জানা গেল, এই ক্লাস্টারের সবগুলো গ্যালাক্সি তাদের মুক্তিবেগের চেয়েও বেশি বেগে ছুটছে। সহজ কথায়, মুক্তিবেগ মানে মহাকর্ষের বাঁধন ছিন্ন করে সরল রেখা ধরে কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বেগ। হিসাব অনুযায়ী, পুরো ক্লাস্টারটিরই অন্য কোনো দিকে ছুটে চলে যাওয়া উচিত ছিল। কয়েকশত মিলিয়ন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর, এর যে আদৌ কোনো কালে কোনো অস্তিত্ব ছিল এমন কোনো চিহ্নও অবশিষ্ট থাকার কথা নয়। অথচ ক্লাস্টারটির বয়স প্রায় দশ বিলিয়ন বছরের মতো এবং সেটি এখনো দিব্যি টিকে আছে! এভাবেই জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো অমীমাংসিত রহস্যটির জন্ম হলো। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডার্কম্যাটার ৪ (শেষ)
→ ডার্কম্যাটার ৩
→ ডার্কম্যাটার 2

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now