গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জাদুকর এবং হপিং পট  

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ফারহান (৩০৯ পয়েন্ট)



একদা এক বৃদ্ধ দয়ালু জাদুকর ছিলেন। তিনি দয়াপরবশ হয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাঁর জাদুকে প্রতিবেশীদের উপকারে ব্যবহার করতেন। তাঁর শক্তির প্রকৃত উৎসের কথা কাউকে না জানিয়ে বরং তিনি এমন একটা ভাব করতেন যেন তাঁর পোশণ (জাদুর শরবত), জাদু এবং সুস্থ করে তোলার পানীয় এসব এমনিতেই তিনি তাঁর একটি পাতিলের ভেতর থেকে পেয়ে যান। পাতিলটিকে তিনি বলতেন ভাগ্যের পাতিল। আশেপাশের কয়েক মাইল এলাকার লোকজন তাঁর কাছে ছুটে আসতো তাদের সমস্যা নিয়ে। জাদুকর খুশির সঙ্গে তাঁর ওই পাতিলের ভেতর একটু নাড়ানাড়ি করে তারপর সমস্যার সঠিক সমাধান করে দিতেন। দীর্ঘ জীবন লাভ করে এই জাদুকর একসময় মারা যান। মারা যাবার সময় তিনি সব সম্পদ এবং ক্ষমতা তাঁর একমাত্র ছেলেকে দিয়ে যান। এই ছেলেটি ছিল তাঁর বাবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। যারা জাদু জানে না তাদের ছেলেটি কোনো মূল্যই দিত না। এমনকি তার বাবা যখন জাদুর মাধ্যমে মানুষজনকে সহায়তা করতো সেটা নিয়ে সে প্রায়ই বাবার সঙ্গে ঝগড়া বাধিয়ে দিত। বাবার মৃত্যুর পর ছেলেটি পাতিলের ভেতর লুকানো তার নাম লেখা একটি প্যাকেট দেখতে পেল। ওই প্যাকেটের ভেতর সোনা থাকতে পারে মনে করে সে তাড়াতাড়ি প্যাকেটটা খুলল। কিন্তু কই! সে হতাশ হয়ে দেখল, প্যাকেটে মোড়ানো ছিল একটি স্যান্ডেল। তাও আবার সাইজে ছোট এবং জোড়া নেই, এক পায়ের একটি। স্যান্ডেলটির একটি অংশে খোদাই করে লেখা, ‘আশা করি পুত্র, তোমার এ স্যান্ডেলটি কখনো কাজে লাগবে না।’ বয়ঃবৃদ্ধ বাবার আত্মা উদ্দেশ্য করে গালি দিয়ে তারপর স্যান্ডেলটি ছুড়ে পাতিলের ভেতর ফেলে দিল। ভাবল, এটা ঘরের কোনো ছোটখাটো কাজে লাগবে। ওই রাতেই এক কৃষক মহিলা এসে বাইরে থেকে দরজায় টোকা দিল। মহিলা বলল, ‘আমার নাতনির গায়ে অসংখ্য ফোসকা উঠেছে স্যার, আপনার বাবা রান্নার একটি পাতিলের ভেতর থেকে বিশেষ ধরনের ওষুধ তৈরি করে দিতেন-’ পুত্রটি ধমক দিয়ে বলল, ‘ভাগো! আমি তোমার ওই ফোসকা সারাতে যাবো কেন?’ সে কৃষক মহিলাটির মুখের উপর ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিল। সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘর থেকে ঝনঝন, ধুমধুম শব্দ আসতে থাকল। জাদুকর পুত্রটি তার হাতের জাদুদণ্ডটির আলো জ্বালিয়ে পাক ঘরের দরজা খুলল। বিস্ময়ের সঙ্গে সে বাবার রেখে যাওয়া পাতিলটার দিকে তাকালো। পাতিলের নিচে একটি পিতলের পা বেরিয়ে এসেছে এবং পাতিলটি মেঝের উপর এক জায়গায় দাড়িয়ে লাফাচ্ছে। এবং ভয়ানক শব্দ করছে। জাদুকর অবাক হয়ে সেটার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু পাতিলের ভেতরের দিকের গায়ে বড় বড় ফোস্কার মত দেখে সঙ্গে সঙ্গে সে পিছিয়ে গেল। ‘একেবারে বিরক্তিকর!' চিৎকার করে উঠল। সে প্রথমে জাদুর মাধ্যমে পাতিলটিকে ধবংস করতে চেষ্টা করল। তাতে সফল না হয়ে জাদু দিয়ে পাতিলটি পরিস্কার করতে চেষ্টা করল। যখন তাও পারল না, তখন পাতিলটিকে ঘর থেকে বের করতে চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। অবশেষে সে পাতিলটির লাফানো বন্ধ করতে না পেরে বিছানায় উঠে গেল। তখন পাতিলের ভেতরে আরো জোরে জোরে ধুমধাম শব্দ শুরু হলো। পুরাতন পাতিলের সেই শব্দে জাদুকর সারারাত ঘুমাতে পারল না। পরদিন সকালে পাতিলটি লাফাতে লাফাতে তার পিছু পিছু নাস্তার টেবিলের কাছে গেল। একপেয়ে পাতিল থেকে ক্ল্যাঙ ক্ল্যাঙ শব্দ হতেই থাকল। জাদুকর নাস্তা তখনো শেষ করতে পারেনি,ঠিক তখনই আবার দরজায় টোকা পড়ল। জাদুকর দরজা খুলে দেখে, একজন বৃদ্ধ লোক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। বৃদ্ধ বলল, ‘আমার বহু পুরানো গাধাটির নাম টিজ। সেটি হারিয়ে গেছে, অথবা চুরি হয়ে গেছে জনাব। ওকে ছাড়া আমার মালপত্র বাজারে নিতে পারছি না। এ কারণে আমার পরিবারকে আজ রাতে না খেয়ে থাকতে হবে।’ ‘আমি এখন খেতে বসছি!’ জাদুকর ধমক দিয়ে মুখের উপর দরজা আটকে দিল। ‘ক্ল্যাঙ ক্ল্যাঙ ক্ল্যাঙ!’ পাতিলটি এক পায়ের উপর লাফাতে থাকল। কিন্তু এবার সেই আগের শব্দের সঙ্গে গাধার ডাক যোগ হল এবং একই সঙ্গে ক্ষুধার্ত মানুষের গোঙানির শব্দ আসতে থাকল। পাতিলের ভেতর থেকে সে শব্দ প্রতিধ্বনি হয়ে বের হতে থাকল। ‘শান্ত হ! একদম চুপ!’ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে জাদুকর বলল। কিন্তু তার কোনো জাদুশক্তিই পাতিলটিকে থামাতে পারল না। সারাদিন ভরে পাতিল এক পায়ে লাফাতে থাকল। ঘরঘর শব্দ, গাধার শব্দ এবং মানুষের গোঙানির শব্দ আসতেই থাকল। সে যেখানেই যাক বা যে কাজই করতে চেষ্টা করুক না কেন, পাতিল তার পিছু পিছু যায় আর বিরক্তিকর ওইসব শব্দ করে। কান ঝালাপালা করে তোলে। ওইদিনই সন্ধ্যাবেলা আবার দরজায় টোকা পড়ল। জাদুকর দেখল, দরজার সামনেই দাড়িয়ে আছে অল্পবয়সের এক মহিলা। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। যেন তার হৃদয়টা ভেঙে গেছে। মহিলা বলল, ‘আমার মেয়েটা ভয়ানক অসুস্থ। আপনি কি দয়া করে সাহায্য করবেন না? আপনার বাবা থাকতে আমরা কোনো সমস্যায় পড়লে তার কাছে ছুটে আসতাম, তিনি আমাদের আন্তরিকভাবেই সাহায্য করতেন।’ কিন্তু জাদুকর আবার মহিলার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল। এবার দেখা গেল জাদুকরকে জ্বালাতনকারী পাতিলটিতে লবনাক্ত চোখের পানি যোগ হল এবং পাতিলের লাফালাফির সময় ঘরের পুরো মেঝে চোখের পানিতে ভিজতে থাকল। যদিও পরের এক সপ্তাহে আর কোনো লোক সাহায্যের জন্য জাদুকরের কাছে এল না, কিন্তু পাতিলটি অনেক লোকের অসুস্থতার খবর ওই বিরক্তিকর শব্দ করে জানান দিল। পাতিলের ভেতর থেকে শুধু চিৎকার এবং গোঙানির শব্দই না, একে একে আসতে শুরু করল বমি করার শব্দ, ফুপিয়ে কান্না, শিশুর মত তারস্বরে চিৎকার, কুকুরের চিৎকার। পাতিলের ভেতর থেকে বের হয়ে আসতে থাকল বমির মত, পচা মাখনের মত এবং টক হয়ে যাওয়া দুধের মত নানান নোংরা জিনিস। জাদুকর ওই পাতিল পাশে নিয়ে না পারল খেতে, না পারল ঘুমাতে। পাতিলটিকে থামাতে পারল না, দূর করতে পারল না, পারল না স্থির করতেও। জাদুকরের ধৈর্যের বাধ ভাঙলো। এই যন্ত্রণার অবসান চাই। সে রাতে পাতিলটাকে সাথে নিয়ে হাটতে হাটতে গ্রামের লোকদের উদ্দেশে বলল, ‘তোমাদের যার যা সমস্যা এবং যন্ত্রণা আছে সব নিয়ে এসো! এসো আমি তোমাদেরকে সারিয়ে তুলছি, তোমাদের দুঃখ ভুলিয়ে দিচ্ছি। আমার কাছে আমার পিতার রান্নার পাতিলটি আছে, সেটা দিয়ে আমি তোমাদের ভাল করে তুলবো।’ নোংরা পাতিলটি তখনো তার পাশে। সে গ্রামের রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে দু’ দিকে জাদুর স্পেল ছুড়তে থাকল। তখন সব কিছু পাল্টে যেতে থাকল। একটি বাড়ির ভেতরে একটি ছোট মেয়ের ঘুমে থাকা অবস্থাতেই গায়ের ফোস্কা সেরে গেল। গাধাটি ফিরে এল একটি দূরের ঝোপ থেকে। নীরবে আস্তাবলে ঢুকল। লতাপাতার চিকিৎসা দেয়া শিশুটি রোগ থেকে সেরে উঠল। প্রতিটি বাড়ির দুঃখ যন্ত্রণা যখন জাদুকর সারিয়ে তুলতে থাকল তখন পাতিলটির ভেতর থেকে পর্যায়ক্রমে সব আবর্জনা দূর হতে থাকল। ধীরে ধীরে সেটি শান্ত, পরিষ্কার এবং উজ্জল হয়ে উঠল। ততক্ষণে সূর্য উঠতে শুরু করেছে। জাদুকর কাঁপতে কাঁপতে বলল, ‘এবার ঠিক আছে পাতিল?’ পাতিলের ভেতর থেকে এক পায়ের এক পাটি সেন্ডেল বের হয়ে এল। একসঙ্গে তারা বাড়ি ফিরল। ফেরার সময় পাতিলের পা থেকে মৃদু আওয়াজ হল। কিন্তু সেদিন থেকে জাদুকর তার বাবার মত গ্রামের মানুষকে সাহায্য করতে শুরু করল। বলা যায় না, পাছে আবার যদি পাতিল থেকে পা বের হয়ে এসে লাফালাফি শুরু করে! ©জে কে রাউলিং (হ্যারি পটার সিরিজের স্রষ্টা)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঈদুল ফিতরের একাল সেকাল
→ আপনার নামের প্রথম অক্ষরই বলে দেবে আপনি কেমন স্বভাবের!
→ প্যারালাল গল্প
→ টাইম ট্রাভেল
→ রিয়া সমপর্কে একটু ধারনা
→ ডার্কম্যাটার ৪ (শেষ)
→ ডার্কম্যাটার ৩
→ ডার্কম্যাটার 2
→ রেসলিং আসল না নকল?
→ "তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র" (২:২২৩)-আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম কি নারীদের ছোট করেছে?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...